The Daily Ittefaq
ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি ২০১৪, ১১ মাঘ ১৪২০, ২২ রবিউল আওয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ বিশ্ব ইজতেমা শুরু, তুরাগ তীরে মুসল্লিদের ঢল | ইজতেমা প্রাঙ্গণে ২ মুসল্লির মৃত‌্যু | বিএনপিকে নাকে খত দিতে হবে : আমু | দশম জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ হলেন আ স ম ফিরোজ | দখলকারী শক্তি পরাভূত হবেই: খালেদা জিয়া

ধর্মীয় উদ্দীপনা সৃষ্টিতে বিশ্ব ইজতেমা

 ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

প্রকৃতপক্ষে বিশ্ব ইজতেমা মানুষের মধ্যে ব্যাপক ধর্মীয় উত্সাহ-উদ্দীপনা ও ভাবগাম্ভীর্যময় আবেগ তৈরী করে আধ্যাত্মিক প্রেরণার উম্মেষ ঘটায়। বিশ্ব ইজতেমা মূলত তাবলীগ জামাতের মহাসম্মেলন হলেও সর্বস্তরের মুসলমান, যারা বছরের অন্য কোনো সময় তাবলীগ জামাতের কাজে ও কাফেলায় অংশগ্রহণ করতে পারেন না তারাও স্বতস্ফূর্ত এই বার্ষিক জমায়েতে শামিল হন। লাখো মুসলমানের এই মহাসমাবেশে এমন অনেক মুসল্লি আসেন, যারা আল্লাহর পথে সম্পূর্ণ নিবেদিতপ্রাণ ও আত্মসমর্পিত। অনেকে হয়তো সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির জন্য ও আল্লাহর পথে মানুষকে আহবানের কাজে সারা জীবনের জন্য বেরিয়ে পড়েছেন। এমন অনেকে এখানে শামিল হন যারা আল্লাহর প্রেমে মশগুল থেকে, ত্যাগ ও সাধনার মাধ্যমে সালেহীন অর্থাত্ পুণ্যবানদের মর্যাদায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। বিশ্ব ইজতেমার প্রতি ওয়াক্ত নামাজের শেষে মুনাজাত এবং আখেরী মুনাজাতে এসব পুণ্যবানেরা আল্লাহর দরবারে হাত উঠাবেন। সেসব অচেনা-অজানা নেককার মানুষের সাথে এক জামাতে সালাত আদায় এবং তাদের সাথে পরম করুণাময় আল্লাহর দরবারে প্রার্থনার হাত উত্তোলনের আশায় মুসলমান মাত্রই আবেগাপ্লুত বোধ করেন।

বিশেষ করে শেষ দিনের আখেরী মুনাজাতে অংশ নেওয়ার জন্যে যেভাবে মানুষ টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানের দিকে ছুটে যায় তা সত্যিই এক প্রচন্ড আবেগ ও ধর্মীয় চেতনার বহিঃপ্রকাশ। সে কারণেই বাঁধভাঙ্গা জোয়ারের মত মানুষ এসে ভিড় করেন ইজতেমার ময়দানে। অন্যান্য বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, আখেরি মুনাজাতের দিন ইজতেমা ময়দান ছাপিয়ে টঙ্গির পথ-অলিগলি সবখানে, এমনকি হজরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। মুসল্লিদের আল্লাহ নামের জিকিরে মুখরিত হয়ে ওঠে তুরাগের তীর। ইজতেমার দিনগুলোতে টঙ্গী পরিণত হয় মুসলমানদের উত্সব নগরীতে। যে যেখানে পারেন দু'হাত তুলে জায়নামাজ কিংবা খবরের কাগজ বিছিয়ে বসে পড়েন। আল্লাহর দরবারে 'আমিন' 'আমিন' বলে কায়োমনোবাক্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

মানুষের মনের গহীন কোণে গভীর আশা, পুণ্যবান মানুষের উছিলায় দয়াময় আল্লাহ পাক হয়তো ঐশীপ্রেমের ঝরে পড়া অশ্রুধারায় সবাইকে ক্ষমা করে দিবেন। ন্যূনতম ইসলামী মূল্যবোধ সম্পন্ন লোকজন পর্যন্ত এতে অংশ নেওয়ার জন্যে তাগিদ অনুভব করেন। যেহেতু বৃহত্ মজমা এবং মজমার অধিকাংশ মানুষ মুসাফির আর মুসাফিরের দোয়া কবুল হয়। তাছাড়া দেশের প্রধান প্রধান ব্যক্তিদের উপস্থিতি ও মজমার সামগ্রিক বিবেচনায় দীর্ঘ আখেরী মুনাজাত করা হয়। যেখানে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করা হয়। যেহেতু সবার কথাই মুনাজাতে বলা হয়। সেহেতু সকল পেশার মানুষ আখেরী মুনাজাতে শরীক হওয়ায় এর গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। কাজেই বিশ্ব ইজতেমা যে প্রচন্ড ধর্মীয় ভাবাবেগ তৈরীর কারখানা ও মুমিন-মুসলমান তৈরীতে সত্যিই অতুলনীয় ও অনন্য তা বলাইবাহুল্য।

বিশ্ব ইজতেমা আমাদের সংস্কৃতির ধর্মীয় ভিতটিকে মজবুত করেছে। তার মধ্যে সৃষ্টি করছে সচেতনতা, সতেজ সজীবতা। বিশ্ব ইজতেমার শেষ দিন কার্যত টঙ্গী- কেন্দ্রিক এলাকা জুড়ে জাতীয় উত্সবে পরিণত হয়েছে। এ দিনটিকে সরকারী ছুটির দিন ঘোষণা না করা হলেও মানুষের স্বতস্ফূর্ততায় তা বাস্তবে ছুটির দিনে পরিণত হয়। এর প্রভাব এতটুকু গড়িয়েছে যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা-নেত্রীসহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ কমপক্ষে একবার সেখানে বিশেষ করে আখেরী মুনাজাতের দিনে হলেও হাজির হন। ভ্রাতৃত্ববোধ ও সমগ্র মানব জাতির চিরকল্যাণ আর মুসলিম উম্মাহর শান্তি এবং উন্নয়ন কামনায় তাবলিগ জামাতের অন্যতম বিশ্বইজতেমা আখেরী মুনাজাতের মধ্য দিয়ে পরিসমাপ্ত হয়। মুসল্লিদের সঠিক সংখ্যা নিরূপণ না করা গেলেও আয়োজকদের ধারণা, প্রতি বছর ৪০ লাখের বেশি মুসল্লির সমাগম ঘটে। একদিনের জন্যে হলেও গোটা দেশকে ইজতেমা অভিমুখী করার একটি প্রতীকী মূল্য অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় ইমেজ গঠনেও তাবলিগ ও বিশ্ব ইজতেমার ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ও অনস্বীকার্য। পরম সৌভাগ্যের বিষয় এই যে, তাবলীগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমার জন্য বাংলাদেশকে বেছে নেওয়া হয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে টঙ্গির তুরাগ পাড়ে। বাংলাদেশসহ মোট ৬৬টি দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ ইতোপূর্বে বিশ্ব ইজতেমায় শরিক হন। বিদেশী মেহমানদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪/৫ হাজার। পাঁচ মহাদেশ থেকেই মুসল্লিরা ইজতেমায় আগমন করেন। পৃথিবীর যেসব দেশে মুসলমানদের বসবাস রয়েছে প্রায় সব দেশ থেকেই অন্যান্য বছরের মত ব্যাপক লোক সমাগম হয়। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, চীন, সৌদি আরব, ওমান, কাতার, সুদান, সেনেগাল, আলবেনিয়া, তুরস্ক, মিয়ানমার, পর্তুগাল, ব্রাজিল, জার্মানী, আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রসহ অর্ধশতাধিক মুসলিম দেশের তাবলিগ জামাতের পুণ্যবান মুসল্লিগণ অংশগ্রহণ করে থাকেন এই জমায়েতে। তাই বিশ্ব ইজতেমার মাধ্যমে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের একটি ইতিবাচক ও ধর্মীয় ইমেজ গড়ে উঠেছে এবং তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের মতো দেশের জন্য তা কম কথা নয়। মোটকথা, দেশের পরিচিতি সম্প্রসারণে ইজতেমার একটি ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে।

ইসলামী সমাজ গঠনের ক্ষেত্রেও তাবলিগ ও বিশ্ব ইজতেমার একটি ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। যদিও চরিত্র, কর্মসূচী ও বক্তব্যের দিক থেকে তাবলিগ একটি নিছক অরাজনৈতিক ধর্মীয় আন্দোলন তবুও তার প্রভাবে সমাজে ইসলামী চিন্তা-চেতনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইবাদত-বন্দেগীর প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। সাধারণ জনগণের মধ্যে ইসলামের প্রাথমিক শিক্ষা প্রসারে তাবলীগের রয়েছে অন্য ভূমিকা। তাছাড়া আধুনিক শিক্ষিত শ্রেণির একটি অংশের মধ্যে দ্বীন পালনের আগ্রহ জোগাতে তাবলিগ জামায়াতের অবদানকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। পৃথিবীতে মানবতার কল্যাণে মুসলমানদেরকে দুনিয়াতে পাঠানো হয়েছে, তারই মহড়া ও দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয় এই বিশ্ব ইজতেমার মাধ্যমে। তাই একথা নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে, ইসলামের প্রচার ও প্রসারে তাবলিগ জামাত অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে এবং বিশ্ব ইজতেমার মাধ্যমে দ্বীন ইসলামের ব্যাপক বিস্তার লাভ হচ্ছে ও দ্বীনি দাওয়াত সব দেশেই পৌঁছে যাচ্ছে।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, 'এই সরকারের আয়ু এক বছরও হবে না।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
1 + 6 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১১
ফজর৫:১০
যোহর১১:৫২
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৬
এশা৬:৩৩
সূর্যোদয় - ৬:৩০সূর্যাস্ত - ০৫:১১
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: ittefaq.adsection@yahoo.com, সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: ittefaqpressrelease@gmail.com
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :