The Daily Ittefaq
ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি ২০১৪, ১১ মাঘ ১৪২০, ২২ রবিউল আওয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ বিশ্ব ইজতেমা শুরু, তুরাগ তীরে মুসল্লিদের ঢল | ইজতেমা প্রাঙ্গণে ২ মুসল্লির মৃত‌্যু | বিএনপিকে নাকে খত দিতে হবে : আমু | দশম জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ হলেন আ স ম ফিরোজ | দখলকারী শক্তি পরাভূত হবেই: খালেদা জিয়া

বাংলাদেশে ইসলাম প্রচার ও তাবলিগ জামাত

ফাইজুল ইসলাম

২০১০ সালের হিসাব অনুযায়ী ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও ভারতের পর বিশ্বে অধিক সংখ্যক মুসলমান বসবাস করেন আমাদের এই সবুজ শ্যামল বাংলাদেশে। যার যার ধর্মের প্রতি অনুরাগ, ভক্তি ও ভালবাসা এই দেশের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। বর্তমানে বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৯০ ভাগেরও বেশি মুসলমান। এই সংখ্যাগরিষ্ঠতার পেছনে আরব ও পারস্য মিশনারি ও বণিকদের সপ্তম ও অষ্টম শতাব্দীর নীরব ও নিরলস ধর্ম প্রচারের প্রচেষ্টা পালন করেছে মুখ্য ভূমিকা। পরবর্তীতে এতদঞ্চলে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এই ধারা আরও বেগবান হয়েছে।

আরব ইতিহাস ও ভূগোলবিদদের বর্ণনায় পাওয়া যায়, রাসূলের (স.) জীবিতকালেই সাহাবী হযরত আবু ওয়াক্কাস ইবনে ওহাইব (রা.) ৬১৮ খ্রিস্টাব্দে ধর্মপ্রচারের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম আসেন। সাহাবী হযরত আবু ওয়াক্কাস মালিক, তামিম আনসারি, আবু কায়েস ইবনে হারিসাও একই সময় চট্টগ্রামে আসেন বলে জানা যায়। নবীজীর (স.) মৃত্যুর পর আব্দুল্লাহ ইবনে উতবা, ইবনে আমর তামিমি ও সাহিল ইবনে আবদিসহ আরও দু'এক জন সাহাবী চট্টগ্রামে আসেন। তাবেয়িদের মধ্যে মোহাম্মদ মামুন ও মোহাম্মদ মোহাইমেনের দল বাংলাদেশে ইসলাম প্রচার করেন। আরব ভূগোলবিদ আলি ইদ্রিস, আল মাসুদি ও ইয়াকুব ইবনে আব্দুল্লাহ উল্লেখ করেছেন, চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর, চাঁদপুর নদী বন্দর, রামু, কক্সবাজার, সন্দ্বীপ প্রভৃতি স্থানে আরবদের বাণিজ্য স্থাপন, আনাগোনা ও বসবাসের প্রমাণ পাওয়া যায়। মূলত তিনভাবে ইসলাম প্রচারকগণ এসেছেন এই দেশে। প্রথমত উপরোক্ত চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে। পৃথিবীর পূর্বাঞ্চল তথা চীন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় যোগাযোগের অন্যতম প্রবেশমুখ বঙ্গোপসাগরের সন্নিহিত স্থানে অবস্থিত চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর। ইসলামপূর্ব যুগ থেকেই আরবরা এই রুট ব্যবহার করেন। দ্বিতীয়ত মালাবা দ্বীপপুঞ্জের উপকূলবর্তী তামিলনাডুর রাজা চেরুমল পেরুমল রাসূলের (স.) জীবিতকালেই ইসলামগ্রহণ করলে তা এতদঞ্চলে ইসলাম প্রচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়। সেখান থেকেও অনেক ধর্মপ্রচারক বাংলাদেশে এসে ইসলাম প্রচার করেন। তৃতীয়ত ৭১২ সালে মোহাম্মদ বিন কাশিমের সিন্ধু বিজয়ের পর আরব, ইরান, ইরাক ও তুরস্ক থেকে অনেক ধর্মপ্রচারক আসেন বাংলাদেশে।

উল্লেখ্য, পাহাড়পুর ও রাজশাহীতে খলিফা হারুন অর রশিদের (৭৮৮ খ্রিস্টাব্দের) এবং ময়নামতি ও কুমিল্লায় আব্বাসিয়া আমলের মুদ্রা পাওয়া যায় যা সে সময় থেকে মুসলমানদের এই দেশে ছড়িয়ে পড়ার ইংগিত বহন করে। তবে ব্যাপকভাবে ইসলাম প্রচার শুরু হয় ওলি-আওলিয়া ও সুফিদের কল্যাণে। ৮৬৬ থেকে ৮৭৪ সাল পর্যন্ত ইরানের বিখ্যাত দরবেশ বাইজিদ বোস্তামি (র.) চট্টগ্রামে ধর্মপ্রচার করেন।

১০৫৩ সালে শাহ মোহাম্মদ সুলতান বলখি (রহ.) মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে আসেন। তিনি বগুড়ার মহাস্থানগড়সহ বিভিন্ন স্থানে ধর্মপ্রচার করেন। একই সময় শাহ মোহাম্মদ সুলতান রুমি (রহ.) নেত্রকোনায় ধর্মপ্রচার করেন। এখানে মদনপুরের রাজা ইসলাম গ্রহণ করেন। ১১৭৯ সালে বাবা শাহ আদম (রহ.) বিক্রমপুরে ধর্মপ্রচার আরম্ভ করেন। ১১৮৪ সালে শাহ মাখদুম রুপোশ রাজশাহী অঞ্চলে প্রথমবারের ন্যায় ধর্মপ্রচার শুরু করেন। ১৩৯৮ সালে খুলনায় ধর্মপ্রচারের জন্য আসেন খান জাহান আলী (রহ.)। তিনি এই এলাকায় ৩৬০টি মসজিদ নির্মাণ ও পুকুর খনন করেন। যাট গম্বুজ মসজিদ তারই অনন্য কীর্তি। তার আগে ১৩০৩ সালে দিল্লী হয়ে সিলেটে আসেন হযরত শাহ জালাল (রহ.)। এখানে তিনি ১৪৪৬ সালে মৃত্যুর দিন পর্যন্ত অবস্থা্ন করে ধর্মপ্রচার করেন । তার সাথে ভারতে ব্যাপকভাবে ধর্মপ্রচারকারী খাজা গরীবে নেওয়াজ মইনুদ্দিন চিশতি ও নিজামুদ্দিন আউলিয়ার (র.) দেখা-সাক্ষাত্ হয়। ধর্ম প্রচারে সুফিদের মধ্যে কাদেরি, মাইজভান্ডারি, নকশেবন্দি, চিশতি, মুজাদ্দেদি, আহমদি, মোহাম্মদি, সোহরাওয়ার্দি ইত্যাদি তরিকার ভূমিকা অগ্রগণ্য।

অন্যদিকে ১৯২০ সালে দিল্লীর নিকটবর্তী নিজাম উদ্দিন আউলিয়ার (রহ.) মাজার সংলগ্ন মসজিদকে কেন্দ্র করে মাওলানা ইলিয়াস (র.) নতুন পদ্ধতিতে যে দ্বীন প্রচার শুরু করেন তাই এক সময় তাবলিগ আন্দোলনে রূপ নেয়। বাংলাদেশের টঙ্গীতে আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্ব ইজতেমা তারই অংশ। তাবলিগ জামাত বিশেষত গ্রামীণ মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তাবলিগের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল, দ্বীনের মেহনতে জামাত আকারে একচিল্লা (৪০দিন), তিন চিল্লা এমনকি ছয় মাস বা এক বছরের জন্য দেশ-বিদেশে বের হওয়া। তাকওয়া অর্জন, দ্বীনের তালিমে অংশগ্রহণ ও আমল-আখলাক সুন্দর করার এক অপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি করে তাবলিগ জামাত। সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত এই জামাতকে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইসলামি আন্দোলন।

লেখক : সাংবাদিক

[email protected]

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, 'এই সরকারের আয়ু এক বছরও হবে না।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
1 + 8 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
মার্চ - ২৩
ফজর৪:৪৪
যোহর১২:০৬
আসর৪:২৯
মাগরিব৬:১৪
এশা৭:২৬
সূর্যোদয় - ৬:০০সূর্যাস্ত - ০৬:০৯
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :