The Daily Ittefaq
ঢাকা, রবিবার, ২৬ জানুয়ারি ২০১৪, ১৩ মাঘ ১৪২০, ২৪ রবিউল আওয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ নাদালের স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন ওয়ারিঙ্কা | তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরীকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নিয়োগ | শাবিতে শিবির-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ, ভাংচুর | সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিচার বিশেষ ক্ষমতা আইনেই: আইনমন্ত্রী | যুক্তরাষ্ট্রের শপিং মলে হামলা, নিহত ৩ | মওদুদসহ বিএনপির ৪ নেতার জামিন

জেনে রাখো ভালোফল লাভের নিয়ামকসমূহ

মোস্তাফিজুর রহমান লিটন

সিনিয়র শিক্ষক

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, পিলখানা, ঢাকা।

সামনে এসএসসি পরীক্ষা ২০১৪। পরীক্ষা জীবনেরই একটি অংশ। সে হিসেবে শিক্ষা একটি চলমান প্রক্রিয়া। শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ তার সামাজিক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে আমরা যে শিক্ষা ব্যবস্থার উপর দাঁড়িয়ে, তা সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতি। সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতি আমাদের দেশে আজ আর নতুন কোনো বিষয় নয় বরং বিষয়টি আমাদের সামনে এখন সহজ সরল একটি যুগান্তকারী প্রক্রিয়া। সৃজনশীল নিয়ে ভয়ের বিষয়টি আমাদের নিজেদের সৃষ্টি। সনাতন প্রশ্নোত্তর পদ্ধতির চেয়ে সৃজনশীল সহজ, প্রাঞ্জল ও বৈজ্ঞানিক শিক্ষা পদ্ধতি। যা আমাদেরকে করবে বিজ্ঞানমুখী ও আধুনিক। শিক্ষার্থীরা বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে বেশি ভয়ে থাকে না, তারা সৃজনশীল বিষয়ে এখন দক্ষ। তারা আনন্দের সাথে বৈজ্ঞানিক ও নিরীক্ষণধর্মী এ পদ্ধতিটি গ্রহণ করেছে।

পরীক্ষা ফলাফলের বিষয় নয় মানসিকতার বিষয়

তুমি যেভাবে পরীক্ষা পদ্ধতি নিজের ভেতর ধারণ করবে ঠিক ফলাফলও সেভাবে হবে। সামনে পরীক্ষা ভেবে তোমরা অনেকেই ভীতিতে পড়ো, আত্ম-সংশয়ে ভোগো। আমরা গভীরভাবে লক্ষ্য করে দেখেছি, ভীতির কারণেই পরীক্ষা হলে জানা বিষয়ও ভালো শিক্ষার্থীই শুধু নয় সকলেই ভুলে যায়। তাই পরীক্ষাকে ভীতি হিসেবে দেখবে না, পরীক্ষা ভীতির নয়, পরীক্ষা আনন্দের, উত্সবের। তোমরা অষ্টম শ্রেণিতে জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে দেখিয়েছো পাবলিক পরীক্ষা ভয়ের জন্য নয় বরং এটি একটি ধাপ পার হওয়ার একটি প্রক্রিয়া মাত্র। যে কয়েকদিন হাতে আছে ব্যবহার করো নিজের মতো করে; সাজিয়ে নাও তোমার পড়ার রুটিন দেখবে পরীক্ষা কত সহজ ও আনন্দের হয়ে উঠেছে। চলো জেনে নিই সামগ্রিক পরীক্ষা ভালো করার কিছু প্রয়োজনীয় টিপ্স :

পরীক্ষার আগে

এসএসসি পরীক্ষা সমাগত। পরীক্ষার আগে অনেকেই তাড়াহুড়া করে, কোনটি রেখে কোনটি করবো ভাবনায় বাজে সময় কাটায়, অন্যের মধ্যেও এই দিকটি ছড়িয়ে দিয়ে সে পরিবেশকে ভারি করে ফেলে। এগুলো করার দরকার নেই। সৃজনশীল পদ্ধতিতে তোমারাতো আর মুখস্থের কোনো সুযোগ নেই। পড়া হয়নি কিন্তু বিষয়টি তুমি তোমার শিক্ষক বন্ধুর কাছ থেকে বুঝে নিতে পারো। মনে রাখবে সৃজনশীল পদ্ধতিতে অধ্যায়ভিত্তিক ধারনাও পরীক্ষা দারুণ করে তুলতে পারে। তাই তড়িঘড়ি না করে সাজিয়ে নাও পড়ার রুটিন, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের সান্নিধ্যে যাও না জানা জিনিসটি বুঝে ওঠার চেষ্টা করো। এসময় কোচিং বা টিউশনির বাসায় বারবার যাওয়ার দরকার নেই।

পরীক্ষার আগের দিন

বিষয়ভিত্তিক পরীক্ষার আগের দিন সবারই মনে সংশয় জাগে কোন ধরনের প্রশ্ন আসতে পারে বা কেমন হতে পারে প্রশ্নগুলো! কিন্তু মনে রাখা প্রয়োজন কী আসবে পরীক্ষায় সেটা মূখ্য নয় মূখ্য হলো বিষয় সম্পর্কে তোমার বাস্তব জ্ঞান। পরীক্ষার আগের রাতে অবশ্যই যথাসম্ভব রিভিশন করে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়বে।

পরীক্ষার দিন সকালে

ঘুম থেকে তাড়াতাড়ি উঠে সকালের খাবার অবশ্যই খাবে। পরীক্ষার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নিবে। পরীক্ষা কেন্দ্রের দূরত্ব অনুযায়ী অবশ্যই নির্দিষ্ট সময়ের আগেই পরীক্ষা হলে উপস্থিত হতে হবে। মানসিক মনোবল নিয়ে পরীক্ষা হলে গেলে কোনোরুপ পরীক্ষাখারাপ হওয়ার সম্ভাবনা মোটেও থাকে না।

পরীক্ষা হলে

পরীক্ষার হলে সবসময় প্রশ্ন বাছাই করা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি বিষয়েরই প্রশ্ন বাছাইয়ে বেশি সতর্ক হতে হবে। ধরো বাংলা বিষয়ের কথা : বাংলার ক্ষেত্রে অনেক সময় প্রবন্ধ থেকে প্রশ্নের উত্তর করতে দ্বিধায় ভুগতে হয়। এ ধরনের প্রশ্নের মূল ভাবার্থগত উত্তর ভালো নম্বর পাওয়ার ব্যাপারে সহায়ক। যদি গল্প থেকে উত্তর করতে চাও তবে অবশ্যই তা গুছিয়ে নেবে। খুব দীর্ঘ উত্তরের দরকার নেই। সব সময় মাথায় রাখবে, প্রশ্নে কী চাওয়া হয়েছে। এটা যে কোন বিষয়ের জন্যই কার্যকর। আবার ধরো ইংরেজি বিষয় : ইংরেজিতে শব্দভাণ্ডার যার যত বেশি সে তত লাভবান হবে। তোমরা কেউ কেউ এতে আশাহত হবে না। কেননা এমন অসম্ভব কোন প্রশ্ন আসবে না তুমি যার উত্তর দিতে পারবে না। মাথা ঠাণ্ডা রেখে প্রশ্নের উত্তর বুঝে সহজ-সরল ভাষায় উত্তর করবে। অতি প্রাঞ্জল কিংবা কঠিন ভাষায় উত্তর দিয়ে ভালো করার আশা করা যায় না। এতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং পরীক্ষক বিরক্ত হতে পারেন যা তোমার নম্বর কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হয়ে উঠতে পারে। অনেক সময় খাতার অপরিচ্ছন্নতা নম্বর কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে। হাতের লেখা যাই হোক, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এই স্বল্প পরিসর সময়ে অভ্যাস করাটা কষ্টকর নয়।

যেমন হবে উত্তরপত্র :কভার পৃষ্ঠার তথ্য পূরণ পরীক্ষা সংক্রান্ত তথ্য পূরণ পরীক্ষার্থীর প্রথম কাজ। রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড, পরীক্ষা কোড, অতিরিক্ত খাতার নম্বর ইত্যাদি অত্যন্ত যত্নসহকারে পূরণ করতে হবে। পূরণকৃত তথ্যগুলো নির্ভুল কিনা তা যাচাই করতে হবে। কোন প্রকার ভুলত্রুটি হলে অবশ্যই দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষককে জানাতে হবে।

মার্জিন

প্রতিটি পৃষ্ঠার উপরে এবং বাম দিকে এক ইঞ্চি স্পেস রেখে মার্জিন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পেন্সিল ব্যবহার করতে হবে।

পৃষ্ঠার নম্বর বসানো

পৃষ্ঠায় নম্বর বসানোর কাজটি উত্তর দেয়ার আগে করতে হবে এবং অতিরিক্ত খাতা নিলে তার নম্বর বসাতে হবে। এতে খাতা পিনআপ করতে এবং পরীক্ষকের খাতা দেখতে সুবিধা হয়।

রঙিন কালির ব্যবহার

রঙিন কালির ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। লাল ও সবুজ কালি ব্যবহার করা যাবে না। হাল্কা কালি (যথা : নীল) ব্যবহার করা যেতে পারে।

ওভাররাইটিং

পরীক্ষার খাতায় অবশ্যই ওভাররাইটিং থেকে বিরত থাকতে হবে। কোন বাক্য বা শব্দ ভুল হলে তা একটানে কেটে সঠিক বাক্যটি লিখতে হবে।

লাইনের মাঝে ফাঁক

লাইনের মাঝে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফাঁক রাখতে হবে। তবে তা যেন অতিরিক্ত বা অপেক্ষাকৃত কম না হয়। এতে পরীক্ষক বিরক্ত হতে পারেন।

পয়েন্টের ক্রমিক নং ও আন্ডারলাইন

পয়েন্টভিত্তিক উত্তরগুলোতে পয়েন্টের ক্রমিক নং বসাবে এবং পয়েন্টগুলোর নিচে আন্ডারলাইন করতে ভুলবে না। পয়েন্টগুলো স্পষ্ট করতে ভিন্ন ভিন্ন প্যারা করে উপস্থাপন করতে হবে।

প্রশ্নের ক্রমিক নম্বর

সঠিকভাবে প্রশ্নের উত্তরগুলো প্রাসঙ্গিক, স্পষ্ট, সহজবোধ্য করার চেষ্টা করবে। অপ্রাসঙ্গিক/ অতিরিক্ত/ অবাস্তব মন্তব্য বর্জন করবে। প্রশ্নের ক্রমিক নম্বর স্পষ্ট করে লিখতে হবে। কোন প্রশ্নের উত্তর পৃষ্ঠার অর্ধেকের বেশি হলে, পরবর্তী প্রশ্ন অপর পৃষ্ঠা থেকে শুরু করবে।

হাতের লেখা

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত হাতের লেখার ধরন একই রকম রাখবে। লেখার স্পষ্টতা পরীক্ষকের একান্ত কাম্য। কাগজের অপচয় না করে প্রথম পৃষ্ঠার সুনির্দিষ্ট স্থান থেকে লেখা আরম্ভ করবে।

খাতায় খালি পৃষ্ঠা

কোন কোন পরীক্ষার্থী ভুলে এক পৃষ্ঠা বাদ দিয়ে অন্য পৃষ্ঠায় চলে যায়। এ ক্ষেত্রে করণীয় হলো, খালি পৃষ্ঠায় ক্রস চিহ্ন দিয়ে P.T.O লিখা অথবা পরিদর্শকের স্বাক্ষর নেয়া।

প্রশ্নের ধারাবাহিকতা রক্ষা

পরীক্ষার খাতার প্রশ্নোত্তর ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে।

যেমন : ১-এর ক, খ, গ ধারাবাহিকভাবে লিখবে।

উপরিউক্ত নিয়মগুলো ছাড়াও প্রশ্ন বুঝে উত্তর প্রদান করতে হবে। যেমন : প্রশ্নে যদি কে, কি, কেন থাকে। তাহলে প্রথমে কে'র উত্তর, দ্বিতীয় প্যারায় কি'র উত্তর এবং তৃতীয় প্যারায় কেন-এর উত্তর। উত্তর সংশ্লিষ্ট চিত্র বক্সের মধ্যে রাখতে হবে। সময়ের কথা মাথায় রেখে সকল প্রশ্নের উত্তর যেন সমমানের হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। খাতায় বৈচিত্র্য এবং উত্তরে নতুনত্ব থাকতে হবে। তা হলেই পরীক্ষার উত্তরপত্র হবে আকর্ষণীয়। যা বেশি নম্বর প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সহায়ক।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন না হলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটবে না। এতে অর্থনীতি দীর্ঘ মেয়াদি সংকটে পড়বে।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
4 + 2 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জানুয়ারী - ২০
ফজর৫:২৩
যোহর১২:১০
আসর৪:০১
মাগরিব৫:৪০
এশা৬:৫৬
সূর্যোদয় - ৬:৪২সূর্যাস্ত - ০৫:৩৫
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :