The Daily Ittefaq
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ১ ফাল্গুন ১৪২০, ১২ রবিউস সানী ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ মানিকগঞ্জে বাসে ধর্ষণ : চালক-সহকারীর যাবজ্জীবন | লক্ষ্মীপুরে যুবলীগ কর্মীকে গুলি করে হত্যা | বাতিল হওয়া সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ১৪ মার্চ | কোপা দেল রে'র ফাইনালে বার্সেলোনা

মহান ভাষার মাসে জেলাভিত্তিক বিশেষ আয়োজন

আমাদের শহীদ মিনার : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা

মোহাম্মদ আরজু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

১৯৫২ সনের মহান একুশে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৫২'র ভাষা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নায়ক ছিলেন অলি আহাদ। যার জন্ম স্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। অলি আহাদের অক্লান্ত প্রচেষ্টার ফলেই ১৯৫২ সনের ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিল ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। আর এই ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার ফলেই সংঘটিত হয় ২১ ফেব্রুয়ারির ঐতিহাসিক ঘটনা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইংরেজ রাজত্বকাল থেকেই অত্যন্ত রাজনীতি সচেতন জনপদরূপে সমগ্র ভারত উপমহাদেশেই সুপরিচিত একটি নাম। তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানে ১৯৫২ সন থেকেই রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন মুখর হয়ে উঠে। তার ঢেউ এসে লাগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজ এবং বিভিন্ন হাই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা বিভিন্ন সময়ে ধর্মঘট পালন করে। মিছিলে মিছিলে রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই শ্লোগানে মুখরিত করে তোলে।

১৯৫২ সনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কোনো থানায় কলেজ প্রতিষ্ঠা হয়নি। স্বাভাবিক কারণেই ১৯৫২ সনের ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজ। ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্বে কেন্দ্র যেহেতু ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজ, সেহেতু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সমস্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের সমাবেশ হওয়ার কেন্দ্র ছিল কলেজ সংলগ্ন নিয়াজ মুহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ। ১৯৫২ সনের ৭ ফেব্রুয়ারি মতিউর রহমানকে আহবায়ক এবং মহিউদ্দিন আহমদ ও সামিউল আহমদ খান ফটিককে যুগ্ম আহবায়ক করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। কমিটির সদস্যের মধ্যে ছিলেন সগীর আহাম্মদ খান, নিজাম উদ্দিন আহাম্মদ, শফিউদ্দিন আহাম্মদ, আবিদুর রহমান, সৈয়দ মিজানুর রহমান, মুহম্মদ মুসা, শওকত হায়দার, ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, লুত্ফুর রহমান প্রমুখ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায় শুরু হয় ১৯৫২ সনের ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে। ২১ ফেব্রুয়ারি বিকালেই ঢাকায় ছাত্র জনতার উপর পুলিশের গুলির খবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। যোগাযোগের অভাবে ঢাকার সঠিক খবর জানা যায়নি। সঠিক খবর জানার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত দেড়টায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম মেইল আসা পর্যন্ত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র বার্তাবাহক হয়ে নিয়ে আসে একখন্ড ছেঁড়া কাপড়ের টুকরো। এটি ছিল শহীদ বরকতের রক্তাক্ত শার্টের একটি টুকরো। এটি দেখে সকলেরই রক্ত টগবগ করে উঠল। ছাত্র-ছাত্রীদের মিছিল আর মিছিলে মুখরিত ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর। তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্য মন্ত্রী ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার শাহবাজপুর গ্রামের নুরুল আমীন। অথচ ছাত্র-ছাত্রীদের কমন শ্লোগান ছিল "শহীদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না, নুরুল আমীনের কল্লা চাই।"

১৯৫২ সনের ৫ মার্চ ছিল দেশব্যাপী ছাত্র ধর্মঘটের দিন। সেই দিন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতা সামিউল আহমেদ খান ফটিক মিছিল থেকে গ্রেফতার হন। ২২ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া কোর্ট বিল্ডিং হতে রাষ্ট্রীয় পতাকা নামানোর অপরাধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি জেলখানা থেকেই অন্নদা হাই স্কুল পরীক্ষা কেন্দ্রে মেট্রিক পরীক্ষা দিতে আসতেন পুলিশ প্রহরায় হাতে হ্যান্ডকাপ লাগানো অবস্থায়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রথম ১৯৬২ সনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজ সংলগ্ন স্থানে শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৬১-৬২ সনে কলেজের ভিপি ছিলেন মুহম্মদ মুসা। তিনি বর্তমানে একজন প্রবীণ সাংবাদিক ও গবেষক। তিনি জানান, তার ঘনিষ্ঠ সহপাঠী আবদুল খালেককে আহবায়ক করে প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি চাঁদা তুলে প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ করে।

পরে ১৯৭২ সনে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তত্কালীন কলেজের ভিপি হুমায়ুন কবির ও জিএস শেখ কুতুব হোসেনের নেতৃত্বে স্থানান্তর করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজ সংলগ্ন নিয়াজ মুহাম্মদ স্কুল মাঠে দ্বিতীয়বার বড় আকারে শহীদ মিনার নির্মাণ করে। ২০০৯ সনে তত্কালীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান খান মুহম্মদ মুসাকে একটি আধুনিক শহীদ মিনার নির্মাণের প্রস্তাব দেন। মুহম্মদ মুসা তখন জেলা প্রশাসক আবদুল হাইকে প্রস্তাবটি জানালে তিনিও উত্সাহিত হন। শহীদ মিনার নির্মাণের প্রস্তাবটি নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র তত্কালীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মিজানুর রহমানকে জানালে তিনি খুবই আগ্রহ প্রকাশ করেন। তার একান্ত প্রচেষ্টায় প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে গড়ে উঠে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আধুনিক শহীদ মিনার।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, ৫ বছর পর একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে এবং তা হবে বর্তমান সংবিধান আলোকেই। আপনি কি তার সাথে একমত?
4 + 9 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১৬
ফজর৫:১২
যোহর১১:৫৪
আসর৩:৩৯
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩৫
সূর্যোদয় - ৬:৩৩সূর্যাস্ত - ০৫:১২
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :