The Daily Ittefaq
ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ২ ফাল্গুন ১৪২০, ১৩ রবিউস সানী ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ গোপালগঞ্জে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১৫, আটক ১১ | ২-০ তে সিরিজ জিতল লঙ্কানরা | লন্ডনে বাংলাদেশি নারী খুন, ছেলে গ্রেফতার | যশোরের অভয়নগরে চৈতন্য হত্যার আসামি 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত

তারকাদের ভালোবাসার কাব্য

দুই হূদয়ের চাওয়া-পাওয়া একই সুতায় গাঁথতে পারলেই অনিন্দ্য ভালোবাসার জন্ম হয়। তাই ভালোবাসার অনুভূতিটা স্থান-কাল-পাত্রভেদে ভিন্ন রকম হয়। মানুষ হিসেবে ব্যক্তি জীবনে ভালোবাসার মধুর কাব্য আছে আমাদের তারকাদেরও। অনেকে ভালোবাসার মানুষটিকে পেয়েছেন জীবনের অমর সঙ্গী হিসেবে। সুখে-দুঃখে রচনা করে চলেছেন জীবন সংসার। তেমনি কিছু ভালোবেসে বিয়ে করা তারকা দম্পতিদের নিয়ে এবারের আয়োজন। লিখেছেন খালেদ আহমেদ

আলী যাকের ও সারা যাকের

সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আস্থা রেখে তারা পার করে দিয়েছেন দাম্পত্য জীবনের দীর্ঘ সময়। আনন্দ ও বেদনার মাঝে জীবন পার করে পরিণত হয়েছেন শোবিজের আইকন তারকা দম্পতি। তারা হলেন আলী যাকের ও সারা যাকের। মঞ্চের মানুষ হিসেবেই অভিনয়ের পথে তাদের যাত্রা শুরু। কাজ করতেন দু'জনে একই নাটকের দলে। সেই সুবাদে প্রতিদিন দেখা হওয়া। নাটকের মহড়ার ফাঁকে ফাঁকে দৃষ্টিতে দৃষ্টি হারিয়ে যাওয়া। বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ছুঁতোয় খানিকটা সময় একান্তে থাকা। এভাবেই অন্তরের গহীনে জন্ম নিয়েছিল ভালোবাসার। কিন্তু মুখ বাড়িয়ে বলা হয়নি কারও। কিন্তু প্রেমতো এমনই। বলে কয়ে আসেনি কখনো। প্রয়োজনের তাগিদেই হয়ে গেছে। তেমনি হয়ে গিয়েছিল আলী যাকের ও সারা যাকেরের। ভালোবাসার পায়রা হয়ে দু'জনে উড়ে বেরিয়েছেন মধুর সেই দিনগুলোতে। এক পর্যায়ে সম্পর্ক রূপ নিল দাম্পত্যে। সুন্দর বোঝাপড়া, সংসারের যাবতীয় লেনদেনে ক্লান্তিহীন ভালোবেসে চলেছেন নিজেদের। ফেলে আসা দিনের হাজারো মধুর স্মৃতি তাড়া করে বেড়ায় মনের ক্যানভাসে। সে তো অনেক আগের কথা। সমাজ তখনও সভ্যতা নিয়ে এতটা বিকশিত হতে পারেনি। হানিমুন বলে শব্দটিরও এত জনপ্রিয়তা ছিল না। তা ছাড়া সে সময়ে মানুষের আয় ছিল খুব কম। হঠাত্ করে বৌ নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাওয়া দু'চারটি কথা নয়। আর দেশের বাইরে যাওয়া তো দুঃস্বপ্নের মতোই ছিল। তবুও ভালোবাসার মানুষটিকে নিয়ে মধুচন্দ্রিমায় ঘুরে আসতে কোনো বাঁধাই মানলেন না আলী যাকের। বিয়েতে নানা জনের উপহার দেওয়া টাকা দিয়েই তিনি স্ত্রীর মন জয় করতে ছুটলেন কক্সবাজার। দিগন্তজোড়া নীল আকাশের নিচে ঢেউয়ের গুঞ্জনে মুখরিত সমুদ্র সৈকতের ওপর দাঁড়িয়ে একে অপরের কাছে পৌঁছে দিলেন নিখাদ ভালোবাসার বার্তা। সেই বার্তা ছিল সারাজীবন পাশে থাকবার। কক্সবাজার জয় করে নবদম্পতি ঘুরে বেড়ালেন রাঙামাটি, চিটাগাং আর কাপ্তাইয়ে। একজন অন্যজনকে মাতিয়ে রাখতে চেষ্টা ত্রুটি ছিল না কারও। সেই চেষ্টার খেসারত মাঝে মাঝে হয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতায়। যা আজ মন ভালো করা মধুর স্মৃতি। আলী যাকের ছিলেন ভালো সাঁতারু। এটা তার পরিচিতরা সবাই জানতেন। কিন্তু তিনি চাইলেন নববধূকে বিষয়টি পরখ করে দেখাতে। সারা যাকেরকে ঘাটে দাঁড় করিয়ে আলী যাকের লাফ দিলেন কাপ্তাইয়ের পানিতে। সাঁতরাতে সাঁতরাতে চলে গেলেন বেশ খানিকটা দূরে। সেখান থেকে ফিরে আসতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন আলী যাকের। পা নিয়ে বেশ কয়েকদিন ভুগতে হয়েছে তাকে। তাতে কি! বৌকে স্বামীর বাহাদুরিটা তো দেখানো গেল! এমনই মজা আর পাগলামিতে প্রাণবন্ত ছিল জীবনের প্রথম প্রহরের দিনগুলো। আজও তারা একে অপরের প্রতি গভীর ভালোবাসা জিইয়ে রেখেছেন।

শহীদুজ্জামান সেলিম ও

রোজী সেলিম

আমাদের শোবিজের যে কয়জন তারকা দম্পতি সুখের পায়রা হয়ে দিন পার করে চলছেন তাদের অন্যতম শহীদুজ্জামান সেলিম ও রোজী সেলিম। এই দুজনের ভালোবাসা রঙিন প্রজাপতি হয়ে রাঙিয়ে দিয়েছে তাদের জীবন-সংসারকে। একসাথে কাজের সূত্র ধরে কাছে আসা, ভালোবাসার বন্ধনে জড়ান তারা। হূদয়ের তাগিদে এবং ভালোবাসার স্বীকৃতি দিতেই সম্পর্ক গড়ায় বিয়েতে। তারপর থেকেই দু'জনে রচনা করে চলেছেন বোঝাপড়ার সংসার। এই নিয়ম ও শৃঙ্খলার মারপ্যাঁচের ক্লান্তি যাতে অনুভূতি থেকে আনন্দ-উপভোগ কেড়ে নিতে না পারে, তা জন্য দারুণ এক টনিক আছে এই দম্পতির। তা হলো ঘুরে বেড়ানো। রোজীর ভাষ্যে, 'বছরে অন্তত দু'বার করে হানিমুনে যাই আমরা।' এমনকি হানিমুন নিয়ে রোজী জানালেন মজার এক তথ্যও। বিয়ের রাতেই নাকি সেলিমের কাছে রোজীর বায়না ছিল সমগ্র ভারত ঘুরে দেখানোর। আর এই শর্ত পূরণ করতে সেলিম রাজি হয়েছিলেন এই শর্তে যে, রোজী কোনোদিন মশারি টানাতে পারবে না। এমনই মজার শর্ত আর দুষ্টামিমাখা ভালোবাসার সুতোয় অপূর্ব এক দাম্পত্য জীবনের বুনন শুরু হয়েছিল দুই দশক আগে। বিয়ের প্রথম দিনটি থেকে আজ অবধি ভালোবাসার এতটুকু কমতি নেই তাদের কাছে।

জাহিদ হাসান ও মৌ

যৌবনের সোনামাখা উজ্জ্বল দিনগুলোতে জাহিদ হাসানের কাছে ভালোবাসাকে জীবনের একটি অপরিহার্য বিষয় বলে মনে হতো। জাহিদ চেয়েছিলেন সুন্দর মনের একজন মানুষ। যার সহমর্মিতা তাকে ভালোবাসতে শেখাবে প্রতিনিয়ত। আমরা সবাই সুন্দরের পূজারি। কিন্তু জাহিদ কখনো সুন্দর বা অসুন্দর নিয়ে ভাবেননি। তিনি শুধু ভেবেছেন যাকে ভালোবাসব তার মনটাই যদি সুন্দর না হয় তাহলে তার সুন্দর চেহারা দিয়ে কী হবে? ভাবনার ঠিক ওই সময় জাহিদের স্বপ্নে সমাধান দেয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান 'ইত্যাদি'। মৌয়ের সঙ্গে জাহিদের প্রথম পরিচয় হয় 'ইত্যাদি'তে প্রচারিত আমার 'গরুর গাড়িতে বউ সাজিয়ে' গানটির মিউজিক ভিতিও শুটিংয়ে। প্রথম দেখাতেই মৌয়ের মাঝে অন্যরকম কিছু খুঁজে পেয়েছিলেন জাহিদ হাসান। আর তাই তিনি প্রথম দেখাতেই মৌকে বলেছিলেন, 'আপনাকে আমার ভালো লেগেছে। আপনাকে আমি বিয়ে করতে চাই।' প্রথম পরিচয়ে এমন কথা শুনে মৌ এত বেশি আশ্চর্য হয়েছিলেন যে মুহূর্তের মধ্যেই তিনি জাহিদের সামনে থেকে হাওয়া। জাহিদ তখন কীভাবে এই কথাগুলো বলতে পেরেছিলেন মৌকে সেই কথা আজ তিনি যখন ভাবেন, নীরবে শুধুই হাসেন। চোখের এক্সপ্রেশন যেন মনের কথা বলে দেয়, এটা জাহিদ বুঝেছিলেন মৌয়ের প্রতি তার ভালোবাসার নির্দশন স্বরূপ। তাদের দু'বছরের প্রেমময় জীবন শেষে জাহিদ নিজেকে আত্মসমর্পণ করেন মৌয়ের কাছে জীবনসঙ্গীরূপে। এরপর রঙিন স্বপ্নে মৌয়ের ভালোবাসায় কেটে গেছে বেশ কয়েকটি বছর। এতদিনে দু'জনই বুঝতে পেরেছেন ভালোবাসার মাঝেই লুকিয়ে থাকে জীবনের সব চাওয়া-পাওয়া। সংসার জীবনে এসে উপলব্ধি করেছেন অদৃশ্যের মতো কেউ তাদের পাশে থেকে। তাদের কর্মকাণ্ড অনুপ্রেরণা দিচ্ছে। জাহিদ হাসান মৌয়ের স্বভাব নিয়ে বলেন, 'মৌ অনেক গুণী নারী। ও যখন যে কাজটি করে ভালো করে করার চেষ্টা করে। মৌ যেমন একজন আদর্শ স্ত্রী, তেমনি আদর্শ মা।' আর প্রেমিক ও স্বামী জাহিদ সম্পর্কে মৌ বলেন, 'জাহিদ স্পষ্টবাদী একজন মানুষ। ওর মাঝে কোনো ভণিতা নেই। কাজের প্রতি সে অনেক সত্। একজন আদর্শ স্বামী ও বাবা। তবে ওর সবচাইতে বড় গুণ ও ভালোবাসতে জানে, অন্যকেও ভালোবাসাতে পারে।' ব্যস্ততার মাঝেও একটুখানি অবসর মিললেই দু'জনে কাছাকাছি থাকেন, চেষ্টা করেন একে অপরকে ভালোবেসে মুগ্ধ করতে।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, 'উপজেলা নির্বাচনেও ভাগ বাটোয়ারার ষড়যন্ত্র করছে আওয়ামী লীগ।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
9 + 1 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
মে - ২৭
ফজর৩:৪৬
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৫
মাগরিব৬:৪২
এশা৮:০৫
সূর্যোদয় - ৫:১২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৭
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: ittefaq.adsection@yahoo.com, সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: ittefaqpressrelease@gmail.com
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :