The Daily Ittefaq
ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ২ ফাল্গুন ১৪২০, ১৩ রবিউস সানী ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ গোপালগঞ্জে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১৫, আটক ১১ | ২-০ তে সিরিজ জিতল লঙ্কানরা | লন্ডনে বাংলাদেশি নারী খুন, ছেলে গ্রেফতার | যশোরের অভয়নগরে চৈতন্য হত্যার আসামি 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত

গণজোয়ার দেখে ভীত হয়ে পড়ে সরকার

মাহবুব রনি

হরফ ষড়যন্ত্রের মধ্যেই ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি খাজা নাজিমউদ্দিন ঘোষণা করেন, 'উর্দুই পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হবে'। তিনি এও বলেন, 'উর্দু হরফে বাংলা লেখার প্রচেষ্টা সাফল্যমণ্ডিত হয়ে উঠেছে'। দীর্ঘদিন বাঙালির মনে জমে থাকা ক্ষোভের বারুদে আগুন ধরিয়ে দিল তার এই ঘোষণায়। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ছাত্র-জনতা রাস্তায় নামলো।

অবাঙালি শাসকগোষ্ঠী পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় ভাষাগোষ্ঠী বাঙ্গালিদের ওপর উর্দু চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালায় প্রাদেশিকতা ও ধর্মীয় মর্যাদার প্রশ্ন তুলে। অথচ ১৯৫১ সালে পরিচালিত পাকিস্তানের প্রথম আদমশুমারি অনুযায়ী- পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৫৪ দশমিক ৬০ ভাগ বাংলা, ২৮ দশমিক চার ভাগ পাঞ্জাবি, পাঁচ দশমিক আট ভাগ সিন্ধি, সাত দশমিক এক ভাগ পশতু, সাত দশমিক দুই ভাগ উর্দু এবং বাকি এক দশমিক আট ভাগ ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষাভাষী নাগরিক। এরমধ্যে অনেক নাগরিক ছিলেন দ্বিভাষী। এর ফলে উর্দু পাকিস্তানি ভাষাভাষীর দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে ছিল। তখনকার পূর্ববঙ্গের চার দশমিক ৪০ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে চার দশমিক ১৩ কোটিই ছিল বাংলা ভাষাভাষী। গোটা পাকিস্তানে সংখ্যা গরিষ্ঠের ভাষা বিবেচনায় বাংলা ছিল শীর্ষে। বাংলাভাষী বিদগ্ধজন এরকম নানা তথ্য বিশ্লেষণ করে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার দাবি জানালেও তা মেনে নেয়নি শাসকগোষ্ঠী। অন্যদিকে রাষ্ট্রভাষা বাংলার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে সংকল্পবদ্ধ হয়ে সংগ্রামে নামেন এ অঞ্চলের ছাত্র-জনতা। নানা কর্মসূচিতে দাবি আদায়ের আন্দোলন তীব্রতর হতে থাকে।

তত্কালীন পত্র-পত্রিকা থেকে জানা যায়, নাজিমউদ্দিনের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও বক্তব্যের প্রতিবাদে এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২৯ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি প্রতিবাদসভা অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতীকী ধর্মঘট পালিত হয়। এদিন ২১ ফেব্রুয়ারি সারা পূর্ব-পাকিস্তানে সাধারণ হরতাল, সভা এবং বিক্ষোভ মিছিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ৩১ জানুয়ারি ঢাকা বার লাইব্রেরিতে বিভিন্ন সংগঠন-দলের ৪০ জনের বেশি সদস্য নিয়ে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।

পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগের সাবেক নেতা কাজী গোলাম মাহবুব এর আহ্বায়ক নির্বাচিত হন। তমদ্দুন মজলিসের অধ্যাপক আবুল কাসেম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক আবদুল মতিনও এ পরিষদের সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হন (১৯৫১ সালের ১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি গঠিত হয়)। এ পরিষদকে কেন্দ্র করেই পরবর্তীকালে আন্দোলন পরিচালিত হয়। ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালিত হয়। প্রায় দশ হাজার ছাত্র-ছাত্রী রাস্তায় নেমে মিছিল করে। শ্লোগান দেয় 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই', 'আরবি হরফে বাংলা লেখা চলবে না', 'উর্দু হরফে বাংলা লেখা চলবে না'। ৫ ফেব্রুয়ারি আপসহীন সংগ্রাম পরিচালনার ঘোষণা দেয় পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ। ৬ ফেব্রুয়ারি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে এক সভায় ২১ ফেব্রুয়ারি হরতালের পাশাপাশি রাষ্ট্রভাষা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

একুশে ফেব্রুয়ারির কর্মসূচি সফল করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন সংগ্রাম কমিটির সদস্য-সমর্থকরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও হলগুলো ছিল প্রস্তুতি গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দুতে। হরতাল ও রাষ্ট্রভাষা দিবস সফল করতে জনসংযোগে ও অর্থ সংগ্রহে নামেন সংগঠকরা। এ লক্ষ্যে ১২ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি পতাকা দিবস হিসাবে ঘোষণা করা হয়। তবে ঐ দুইদিনসহ ১৩ তারিখেও ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে সাফল্যের সাথে হরতাল পালিত হয়। এ কর্মসূচি চলাকালে একদিকে যেমন কিছু অর্থ সংগ্রহ হয় অন্যদিকে আন্দোলনে নতুন কর্মী-সমর্থকও যুক্ত হয়। বিভিন্ন স্থানে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে পোস্টার সাঁটানো হয়।

এ সময়েই ১৯৫২ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে কারাগার থেকে গোপনে আন্দোলনকারীদের কাছে একটি চিঠি আসে। তাতে জানানো হয়, মুক্তির দাবিতে ইতিমধ্যে বন্দি তখনকার আওয়ামী মুসলিম লীগের যুগ্ম সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান এবং মহিউদ্দিন আহমদ কারাগারে অনশন ধর্মঘট শুরু করেছেন। ১৯ ফেব্রুয়ারি জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক ছাত্রসভায় বিশ্ববিদ্যালয় রাজবন্দি মুক্তি আন্দোলন কমিটি গঠিত হয়। কমিটির আহ্বায়ক হন ভাষা সংগ্রামী গাজীউল হক। পাকিস্তান সৃষ্টির পর এটিই প্রথম রাজবন্দি মুক্তি আন্দোলন।

এদিকে ১৯৫২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নাজিমউদ্দিনের সমালোচনা করে পাকিস্তান অবজারভার 'ছদ্ম ফ্যাসিজম' শিরোনামে একটি সম্পাদকীয় প্রকাশ করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ১৩ ফেব্রুয়ারি সরকার পাকিস্তান অবজারভার প্রকাশনা বন্ধ করে দেয়। একুশে ফেব্রুয়ারির কর্মসূচি পালনে ছাত্র-জনতার প্রস্তুতি আতঙ্কিত করে তোলে শাসকগোষ্ঠীকে। ফলে ২০ ফেব্রুয়ারি এক মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে জনসভা, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, 'উপজেলা নির্বাচনেও ভাগ বাটোয়ারার ষড়যন্ত্র করছে আওয়ামী লীগ।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
5 + 8 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
মার্চ - ২১
ফজর৪:৪৬
যোহর১২:০৬
আসর৪:২৯
মাগরিব৬:১৩
এশা৭:২৬
সূর্যোদয় - ৬:০২সূর্যাস্ত - ০৬:০৮
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :