The Daily Ittefaq
ঢাকা, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ৯ ফাল্গুন ১৪২০, ২০ রবিউস সানী ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ নাটোরে বাস-লেগুনা সংঘর্ষে নিহত ৩ | শাহ আমানতে সাড়ে ১০ কেজি সোনা আটক | একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন

ভাষাশহীদদের নিজ গ্রামে

'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' এই দাবিতে যাঁরা জীবন উত্সর্গ করেছিলেন, তাঁদের অন্যতম আব্দুস সালাম, রফিক উদ্দিন আহম্মেদ, আব্দুল জব্বার। রাষ্ট্রীয়ভাবে তাঁদের নিজ নিজ গ্রামে জাদুঘর ও পাঠাগার নির্মাণের কথা থাকলেও তা পূর্ণাঙ্গরূপে আজও বাস্তবায়ন হয়নি। আমাদের এ আয়োজনের জন্য ভাষাশহীদদের স্মৃতিবিজড়িত জন্মস্থান ঘুরে এসে সংবাদ পাঠিয়েছেন ইত্তেফাকের স্থানীয় প্রতিনিধিগণ

ভাষাশহীদ আব্দুল জব্বার

 শেখ মহিউদ্দিন আহাম্মদ ও আতাউর রহমান মিন্টু

১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাঁচুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ভাষাশহীদ আব্দুল জব্বার। এই মহান ভাষাশহীদের স্মৃতি রক্ষার্থে সরকারিভাবে তাঁর নিজগ্রামের নাম পরিবর্তন করে জব্বারনগর করার সিদ্ধান্ত হলেও গত ৭ বছরেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। জানা গেছে, ২০০৭ সালের ২৫ মার্চ তারিখে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভায় ভাষাশহীদ আব্দুল জব্বারের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের লক্ষে তার গ্রামের নাম (জন্মস্থান) পাঁচুয়ার পরিবর্তে জব্বারনগর করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। কিন্তু এখনও নাগরিকত্ব সনদসহ ইউপি থেকে দেওয়া নানা কাগজপত্রে গ্রামটিকে পাঁচুয়া হিসেবেই লেখা হচ্ছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন জানান, তারা কোনো গেজেট পাননি। এ কারণেই গ্রামের নাম পাঁচুয়া লিখছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী জানান, ভাষাশহীদের গ্রামের নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র কিংবা অফিস আদেশ তার কার্যালয়ে নেই। ভাষাশহীদ আব্দুল জব্বারের পুত্র মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম বাদল জানান, তাঁর পিতার স্মৃতি বিজড়িত পৈতৃক ভিটা স্থানীয় আসাদ নয়ন জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে। ১৯৯৮ সালে ভাষাশহীদের পৈতৃক ভিটা সংলগ্ন স্থানে ভাষাশহীদের নামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়। দীর্ঘদিন পর বর্তমানে সেটি সরকারিকরণ হয়েছে। ২০০২ সালে উদ্যোগ নিয়ে ২০০৫ সালে ভাষাশহীদ জব্বারের বাড়িতে পূর্ণাঙ্গ শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়। সরকারিভাবে মহান শহীদ দিবস পালন করা হয় এখানে। ২০০৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি তারিখে এলজিইডির তত্ত্বাবধানে ৬২ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভাষাশহীদ আব্দুল জব্বার স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থাগার উদ্বোধন করেন ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন, ড. হালিমা খাতুন, বেগম রওশন আরা বাচ্চু। লোকবলের অভাবে ভাষাশহীদ আব্দুল জব্বার স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থাগার এলাকাবাসীর চাহিদা মেটাতে পারছে না। লাইব্রেরিয়ান, সহকারী লাইব্রেরিয়ান, পিয়নসহ ৫টি পদের মধ্যে শুধু লাইব্রেরিয়ান, কেয়ারটেকার ছাড়া অন্য কোনো পদে লোক নিয়োগ করা হয়নি। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এখানে লোকবল বাড়ানো প্রয়োজন বলে স্বীকার করেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকা। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন বলে তিনি জানান।

ভাষাশহীদ রফিক উদ্দিন আহম্মেদ

 মো. এ.কে. আজাদ

রফিকের ভগ্নিপতি মোবারক আলী খানের মতে, রফিকের জন্ম ১৯২৬ সালের ৩০ অক্টোবর। মানিকগঞ্জ সিংগাইর উপজেলায় বলধারা ইউনিয়নের রফিকনগরে (পারিল গ্রামে) তাঁর জন্ম।

বাংলাদেশ সরকারের অনুমতিক্রমে গত ২০০৮ সালের ১৫ মে ভাষাসৈনিক রফিক উদ্দিন আহম্মেদের স্মৃতিকে চিরজাগ্রত রাখতে তাঁর জন্মস্থান সিংগাইর উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের 'পারিল' গ্রামের নাম পরিবর্তন করে রফিকনগর নামকরণ করা হয়েছে এবং সেখানে এক বিঘা জায়গার ওপরে গড়ে উঠেছে শহীদ রফিক আহম্মেদ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। উল্লেখ্য, এই এক বিঘা জায়গাটি দান করেন লে. কর্নেল (অব.) মজিবুল ইসলাম (পাশা)। জাদুঘরটি উদ্বোধন করেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং উদ্যোগ গ্রহণ করেন—তত্কালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্থানীয় সরকার, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন উপদেষ্টা আনোয়ারুল ইকবাল। বেসরকারি সংস্থা প্রশিকা শহীদ রফিক জাদুঘর স্থাপন করে ভাষাশহীদ রর্িফকের নিজ বাসভবনে। রফিকের বেশকিছু দুর্লভ ছবি রয়েছে এখানে। এছাড়া বাংলা একাডেমি, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এবং প্রশিকাসহ বিভিন্ন সংগঠন থেকে দেওয়া দশ হাজারের মতো বই রয়েছে এ জাদুঘরে।

মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক জনাব মো. মাসুদ করিম বলেন, ভাষা আন্দোলনের শহীদদের পরিবারকে সরকার থেকে সম্মানী ভাতা প্রদান করা হয়। যেহেতু শহীদ রফিক অবিবাহিত ছিলেন, তাই তাঁর মাকে এই সম্মানী ভাতা দেওয়া হতো। এখন মায়ের মৃত্যুতে তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের রাষ্ট্র প্রদত্ত এই সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে।

বীরমুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার ইঞ্জিনিয়ার তোবারক হোসেন লুডু জানান, ভাষা সৈনিকদের একজনের স্মৃতি মানিকগঞ্জে থাকায় আমরা মানিকগঞ্জবাসী গর্বিত। তিনি আরো বলেন, এই চার বীর শহীদের জন্মভূমিতে একটি গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর এবং একটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সরকারি উদ্যোগে হয়েছে। আমাদের এখানে শহীদ রফিকের জাদুঘর হলেও কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারটি এখনো হয়নি। জাতীয় পার্টি জেপি কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মানিকগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আবুল খায়ের সিদ্দিকী আবু বলেন, ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতি কখনো ভুলবার নয়।

ভাষাশহীদ আব্দুস সালাম

 হাবিবুর রহমান খান

ভাষাশহীদ আব্দুস সালাম ফেনী জেলার দাগনভূঞাঁ উপজেলার লক্ষণপুর গ্রামে ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে লক্ষণপুর গ্রামে শহীদ সালামের বাড়ি যাওয়ার রাস্তাটি স্থানীয় সিলোনিয়া নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে যাতায়াতের অনুপযোগী হয়ে আছে। জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে ভাষাশহীদ সালামের স্মৃতি রক্ষার জন্য তাঁর গ্রামের বাড়ি সংলগ্ন স্থানে ৭০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ভাষাশহীদ সালাম স্মৃতি গ্রন্থাগার ও জাদুঘর নির্মাণ করা হলেও সেখানে কোনো লোক সমাগম ঘটে না। প্রতিবছর ২১ শে ফেব্রুয়ারি এলে জেলা প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলো দায়সারা গোছের আনুষ্ঠানিকতা পালন করে। এ ছাড়া গ্রন্থাগারটি সবসময় তালাবদ্ধ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে সিলোনিয়া নদী। নদীর ভাঙ্গনে বর্তমানে গ্রন্থাগারটি হুমকির সম্মুখীন। অপরদিকে ফেনী শহরের মিজান রোডের মাথায় জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে ভাষাশহীদ সালামের স্মৃতি রক্ষার্থে একটি কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ করা হলেও সেখানে সালামের নামে কোনো গ্রন্থকেন্দ্র জাদুঘর না করে ভবনটিকে বাত্সরিকভাবে বিয়ে অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়েছে।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, 'উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি প্রমাণ করেছে শেখ হাসিনার অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
7 + 3 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
সেপ্টেম্বর - ২৫
ফজর৪:৩৩
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৫
এশা৭:০৮
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৫০
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: ittefaq.adsection@yahoo.com, সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: ittefaqpressrelease@gmail.com
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :