The Daily Ittefaq
ঢাকা, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ৯ ফাল্গুন ১৪২০, ২০ রবিউস সানী ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ নাটোরে বাস-লেগুনা সংঘর্ষে নিহত ৩ | শাহ আমানতে সাড়ে ১০ কেজি সোনা আটক | একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন

'একুশে ফেব্রুয়ারী'

সৃষ্টিশীল ও সংগ্রামী বাংলার প্রথম অগ্নিশিখা

মারুফ রায়হান

১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে হাসান হাফিজুর রহমান এবং অলি আহমদ মধুর কেন্টিনে বসে ছিলেন। অলি আহমদ হাসানকে বললেন, মেডিকেল কলেজের ওখানে ছেলেরা ইট-পাটকেল ছুড়ছে তুমি গিয়ে তাদের নিষেধ করো, নতুবা গুলি চলতে পারে। হাসান গিয়ে তাদের নিষেধ করলেন, কিন্তু কেউ তাঁর কথা শুনল না। কতক্ষণ পর দেখলেন, তিনি নিজেও ইট মারতে শুরু করেছেন। তারপর একটা টিয়ার গ্যাসের শেল তাঁর কাছে পড়ল, কিন্তু সেটা ফাটেনি। হাসান সেটা ঘুরিয়ে উল্টোদিকে মারলেন, তিন চার হাত দূরে সেটা পড়ল।

এর তিন/চার মিনিট পরেই গুলি চলল। কারা করছে বুঝতে পারলেন না হাসান। বরকত ব্যারাকের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তাঁর উরু ভেদ করে গুলি চলে গেল। লম্বা মানুষ। বসে থাকলে গুলি তাঁর মাথায় লাগত। হাসান এবং বরকত এক সাথেই অনার্সে ভর্তি হয়েছিলেন পলিটিক্যাল সায়েন্সে। বরকত বেশ লম্বা, ছয় ফিট তিন ইঞ্চি, খুব চুপচাপ থাকতেন। হাসান তখন গেটে—যখন বরকত গুলিবিদ্ধ হলেন। হাসান এবং মুর্তজা বশীর অন্য একজন আহতকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। 'অমর একুশে' কবিতাটি তিনি ১৯৫২-এর মার্চ/এপ্রিলের দিকে লেখেন। জুন মাসে কুমিল্লা সাহিত্য সম্মেলনে প্রথম জনসম্মুখে পাঠ করেন কবিতাটি। তাঁর সম্পাদিত 'একুশে ফেব্রুয়ারি' সংকলনেই সেটা প্রথম ছাপা হয়। ১৯৫৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের একুশ তারিখেই 'একুশে ফেব্রুয়ারি' সংকলন প্রথম প্রকাশিত হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। মূলত সব লেখা জোগাড় না হওয়ায় এবং কিছুটা আর্থিক অসংগতির কারণে পত্রিকাটি বেরুতে বেরুতে মার্চ হয়ে যায়। এবং তা বাজেয়াপ্ত হয় প্রকাশের কয়েক সপ্তাহের ভেতরেই।

এতক্ষণ যা বললাম—এই হচ্ছে ইতিহাস। আমাদের সবারই জানা। আমি ভাবি হাসান হাফিজুর রহমান কেন প্রকাশ করেছিলেন তাঁর সেই অনবদ্য ও তাত্পর্যপূর্ণ অসামান্য সংকলনটি। অন্য কেউ কেন বের করেননি, হাসান করলেন এবং এর যাবতীয় পরিকল্পনা তাঁরই ছিল। যদিও সহযোগী হিসেবে পেয়েছিলেন সেই সময়কার বেশকিছু প্রগতিশীল তরুণ ছাত্র ও লেখককে। পরবর্তীকালে আমরা দেখব এঁদের ভেতর থেকেই আমরা পেয়ে গেছি দেশের শীর্ষসারির কবি, কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, শিল্পী ও শিক্ষাবিদ। হাসান হাফিজুর রহমান ছিলেন জাত সম্পাদক ও সংগঠক। বাহান্নর পর বাংলাদেশের এক আশ্চর্য আবেগ-থরথর সময়ে দূর ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে বাংলা শব্দসম্ভারে এবং বাঙালি চিত্রকরদের ছবির সমন্বয়ে একটি পত্রিকার প্রকাশ যেন ইতিহাসনির্ধারিতই ছিল। আর অনিবার্যভাবেই সেটির নাম হয়ে উঠেছিল 'একুশে ফেব্রুয়ারি'। আমরা আরো জানব ওই তারিখটি মাত্র দুই দশকের ভেতরে আরেকটি তারিখকে আবাহন করবে, সেটি হলো ষোলই ডিসেম্বর—বাংলাদেশের বিজয়দিন। ভাষার জন্যে সংগ্রাম স্বাধিকারের জন্যে সশস্ত্র লড়াইয়ের দিকে দেশের মানুষকে নিয়ে যাবে।

কিন্তু ১৯৫৩ সালের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে আমরা বুঝব একুশে ফেব্রুয়ারির মতো একটি সংকলন প্রকাশ করা কতখানি ঝুঁকিপূর্ণ এবং কাজটি করে ওঠা সহজও নয়। পশ্চিমাদের শাসন-শোষণ-শ্যেনদৃষ্টির মধ্যে একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম বার্ষিকীতে প্রতিবাদী, প্রকৃত বিদ্রোহী ও প্রগতিশীল, এবং সত্যিকারের সৃষ্টিশীল সংকলন প্রকাশ করা একটা বড় চ্যালেঞ্জই ছিল বটে। মুসলিম লীগের শাসন, চতুর্দিকে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প, বামপন্থি মাত্রই রাষ্ট্রদ্রোহী, সরকারের গণবিরোধী শাসনের স্টিমরোলার—এমন পরিস্থিতিতে 'একুশে ফেব্রুয়ারি' সংকলনের প্রকাশ একটি দুঃসাহসিক কাজই বটে। শুধু পরিবেশই বৈরী ছিল না, নতুন লেখকরাও সেভাবে শনাক্ত হন নাই; তাঁদের রচনার সাহিত্যমানও সেভাবে তৈরি হয়নি। তবু একুশের চেতনা এবং নবপর্যায়ে যাত্রা করা একটি ভূখণ্ডের সাহিত্যিক-সাংস্কৃতিক প্রাণশক্তি ও প্রণোদনাকে যুগপত্ ধারণ করার জন্য ওই সংকলনের কোনো বিকল্প ছিল না। কয়েক বছর আগেই বাংলায় দাঙ্গার মতো মানবতাবিরোধী ঘটনা ঘটে গেছে। দায়িত্বশীল সাহিত্যকর্মী হিসেবে হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদনা করলেন দাঙ্গার পাঁচটি গল্প। আবারও দেখুন, অন্য কেউ এই কাজে এগিয়ে আসেননি, হাসান এসেছিলেন। তাঁকে আসতেই হতো। কারণ, গভীর দেশপ্রেম ছিল তাঁর ভেতরে, আর দেশসেবার এবং একইসঙ্গে দেশের মানুষকে জাগাবার উত্কৃষ্ট পথ তাঁর সামনে ছিল একটাই—সাহিত্য সম্পাদনা। 'একুশে ফেব্রুয়ারি' সংকলনের মূল পরিকল্পনাকারী তিনি ছিলেন সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য-অভিমুখী এবং জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী। ব্যক্তিগত তুষ্টি বা কোনো গোষ্ঠীর অভিপ্রায় চরিতার্থ নয়, তিনি পত্রিকা করেছিলেন দেশেরই প্রয়োজন মেটাতে। মানুষ ইতিহাস সৃষ্টি করে বটে, আবার কখনো কখনো ইতিহাসই যেন ব্যক্তির মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে; ব্যক্তিকে অনুসরণ করে।

কী ছিল একুশে ফেব্রুয়ারি সংকলনে? প্রবন্ধ, গল্প, কবিতা, গান, একুশের নকশা, চিত্রমালা—সকল কিছুই একুশকেন্দ্রিক, ভাষা আন্দোলনের সাহিত্যিক দলিল। সেইসঙ্গে বাংলা ভাষা আন্দোলনের ঘটনাক্রমকে তুলে ধরা। একুশের মূল চেতনা হচ্ছে, মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা এবং তার মর্যাদা সমুন্নত রাখা। মায়ের ভাষায় বাংলা মায়ের জন্যে শাব্দিক উচ্চারণ এবং সৃষ্টিশীলতা। তাই সেই ১৯৫৩ সালে বাংলায় কিছু রচনা করার অর্থই ছিল একুশের চেতনাটিকেই ঊর্ধ্বে তুলে ধরা। সংকলনটিতে বাহান্নর একুশে ফেব্রুয়ারির ঘটনাপঞ্জি দিনতারিখসহ লিপিবদ্ধ হয়েছিল। এই সংকলনের ভেতর দিয় হাসান হাফিজুর রহমান দেশের শিল্পী-সাহিত্যিকদের সঙ্গে পাঠকসমাজ তথা দেশবাসীর সম্পর্কসাঁকো প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। আবার নতুন লেখক তৈরির অঙ্গীকারবোধটিও বিস্মৃত হননি। সংকলনটি অনেক কবিতার সঙ্গে ধারণ করেছিল আজকের সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের কবিতা, যেটি তাঁর জীবনের প্রথম প্রকাশিত কবিতা। সংকলনের একমাত্র প্রবন্ধ যা আলী আশরাফের নামে মুদ্রিত হয়েছিল সেটি ছিল কমিউনিস্ট নেতা খোকা রায়ের লেখা। এ প্রসঙ্গে আনিসুজ্জামান তাঁর স্মৃতিকথা 'কাল নিরবধি'তে লিখেছেন, '...পরিচিত সবার কাছেই হাসান লেখা চাইলেন। এমন সময়ে জেলখানার ভেতর থেকে কমিউনিস্ট নেতা খোকা রায়ের চোরাপথে পাঠানো প্রবন্ধ 'সকল ভাষার মর্যাদা' আবদুল্লাহ আল মুতীর কাছে পৌঁছাল। অতি ক্ষুদ্রাক্ষরে লেখা প্রবন্ধটি আমি হাতে কপি করি। স্থির হয়, হাসানের পরিকল্পিত সংকলনে এটাই যাবে একমাত্র প্রবন্ধ হিসেবে—লেখকের নাম দেওয়া হয় আলী আশরাফ'।

হাসান হাফিজুর রহমানের জন্য একটি গল্প লিখে দেন তরুণ আনিসুজ্জামান। গল্পটি প্রথমবার পড়ে হাসান বলেন, আরম্ভটা খুব ভালো হয়েছে, কিন্তু সমাপ্তিটা নিরাশ করে। পরে গল্পের সমাপ্তিটা পরিবর্তন করে দেন লেখক। ড. আনিসুজ্জামানের কাছ থেকে আরো জানা যায়, একুশের প্রথম সংকলনে শামসুর রাহমানের যে কবিতাটি ছাপা হয়, সেটি ঠিক ওই সংকলনকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়নি। কবিতাটি পুনর্মুদ্রিত হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'ভাষা আন্দোলন উপলক্ষে শামসুর রাহমানের কোনো কবিতা ছিল না; তাগাদা দিয়েও যখন তা পাওয়া গেলো না, তখন কলকাতার 'পরিচয়' পত্রিকায় প্রকাশিত তার একটি কবিতা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিলেন হাসান।' উল্লেখ্য, সংকলনে প্রকাশিত কবিতাগুলোর পৃথক কোনো শিরোনাম ছিল না। সংকলনের 'একুশের কবিতা' বিভাগে গ্রন্থিত হয়েছিল সব কবিতা। 'একুশে ফেব্রুয়ারি' সংকলনটিতে ভাষা আন্দোলন নিয়ে 'রক্তাক্ত একুশে' শিরোনামে শিল্পী মুর্তজা বশীরের আঁকা লিনোকাটটি প্রথম মুদ্রিত হয়। সংকলনের জন্য বেশ কয়েকটি রেখাচিত্রও তিনি আঁকেন। এই সংকলনে তুলির মোটা রেখার আঁচড়ে বেশকিছু ড্রইং রয়েছে, যেগুলো বিজন চৌধুরীর আঁকা। সেই সময়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণেই তাঁর নাম 'একুশে ফেব্রুয়ারি' সংকলনটিতে উল্লেখ করা হয়নি।

হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত একুশে ফেব্রুয়ারি সংকলনটি প্রকাশিত হয় মোহাম্মদ সুলতানের পুঁথিপত্র প্রকাশনী থেকে। এমএ মুকিতের পক্ষে পাইওনিয়ার প্রেস থেকে এ সংকলনটি ছাপা হয়। ব্লক তৈরি করেছিল বাদামতলীর এইচ ম্যান কোম্পানি। ১৮৩ পৃষ্ঠার ক্রাউন সাইজের এ সংকলনটির মূল্য ছিল দুই টাকা আট আনা। উত্সর্গপত্রটি এখানে হুবহু উদ্ধৃত করা হলো : 'যে অমর দেশবাসীর মধ্যে থেকে জন্ম নিয়েছেন একুশের শহীদেরা, যে অমর দেশবাসীর মধ্যে অটুট হয়ে রয়েছে একুশের প্রতিজ্ঞা-তাঁদের উদ্দেশ্যে।'

এতে কোনো সংশয় নেই যে 'একুশে ফেব্রুয়ারি' সংকলনটি এই ভূখণ্ডের মানুষের সামজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক চেতনা ও সার্বিক আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রথম গ্রন্থিত রূপ। কথাশিল্পী হাসান আজিজুল হক আমার সম্পাদনায় প্রকাশিত 'একুশের সংকলন'-এর এক দশক পূর্তিতে হাসান হাফিজুর রহমানের সংকলনটি সম্পর্কে লিখেছেন, 'গুণে-মানে কেমন ছিল এই সংকলন? এ কথা তোলাই মুশকিল, একশ' রকম মাপকাঠি লাগবে সে বিচারের জন্য। প্রচলিত সাহিত্যের মান, কবিতা গল্পের মান, শিল্পের চলতি মান এখানে চলবে না। এই সংকলনের গুরুত্ব পর্বততুল্য, তার আলোর বিচ্ছুরণছটা দিগন্ত-পেরুনো। বাঙালির জাতিত্ব ও বিশ্ববোধের নিয়ামক, স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য মহাকর্মযজ্ঞের প্রথম অগ্নিশিখা।'

'একুশে ফেব্রুয়ারি' সংকলন প্রেরণা জুগিয়েছে পরবর্তী প্রজন্মের সাহিত্যকর্মীদের। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে একুশে ফেব্রুয়ারি পালন মানেই ছিল একুশের সংকলন প্রকাশ। দু-চার টাকা চাঁদা তুলে বা দোকান-প্রতিষ্ঠান থেকে সামান্য বিজ্ঞাপন নিয়ে সেই সংকলন প্রকাশ করা হতো। এসব সংকলন প্রকাশে প্রগতিশীল লেখক-শিল্পীরা যুক্ত থাকতেন। প্রতিটি সংকলন থেকে বিচ্ছুরিত হতো বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা। চিত্রশিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর স্মৃতিচারণে বিষয়টি উঠে এসেছে এভাবে : '...প্রতি একুশেতে শত শত সংকলন প্রকাশিত হতো লেখা ও আঁকা নিয়ে সারা বাংলাদেশ থেকে। শহীদ মিনারের পাদদেশে, সামনের ফুটপাতে চাটাই বিছিয়ে সেই সংকলনগুলো বিক্রি হতো। ... এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমরা জড়িয়ে পড়েছিলাম সমসাময়িক সবাই। নান্দনিকতাকে প্রাধান্য দিয়ে প্রচ্ছদ, ভেতরের সজ্জা, হরফ নির্বাচন—সবই করে দিতাম একটি সুন্দর সংকলনের জন্য। এই সংকলনগুলো শহীদ মিনারের পাদদেশে বিক্রি হতো। আমার ধারণা, এটাই ছিল একুশের বইমেলার প্রথম বীজ রোপণ।'

পরিতাপের বিষয় হলো পরবর্তীকালে, বিশেষ করে আশির দশক থেকে এধারা প্রায় স্তিমিত হয়ে আসে। যদিও অমর একুশে গ্রন্থমেলা বিকশিত পত্রপুষ্পশোভিত হয়ে চলেছে ফিবছর। নবপর্যায়ে প্রকাশিত একুশের সংকলনে তাই একুশের বইমেলার নানা দিকের সংযুক্তি অবধারিত হয়ে উঠেছে।

সম্পাদক হাসান হাফিজুর রহমানের কর্মস্পৃহা, নিষ্ঠা ও ত্যাগের কথা জাতি স্মরণ রাখবে সুনিশ্চিতভাবে। ইত্তেফাকের মতো প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী সংবাদপত্র সেই দায়বোধ থেকেই প্রাসঙ্গিক রচনার পরিকল্পনা করেছে। বাস্তবিকই তাঁর মতো সম্পাদক আর পায়নি জাতি। অন্যান্য সকল ক্ষেত্রের মতো সাহিত্য শাখাটিতেও আজ কোনো না কোনোভাবে নীতিহীনতা, কলুষতা, মানহীনতা এসে যুক্ত হয়েছে। এখানে প্রকৃত প্রতিভার অবস্থা বোঝাতে কবি জীবনানন্দ দাশেরই শরণ নিতে হয়। তাঁর কবিতায় আছে—'যাদের গভীর আস্থা আছে আজো মানুষের প্রতি,/ এখনো যাদের কাছে স্বাভাবিক বলে মনে হয়/ মহত্ সত্য বা রীতি, কিংবা শিল্প অথবা সাধনা/ শকুন ও শেয়ালের খাদ্য আজ তাদের হূদয়।'

আমরা তবু আশা হারাই না। সাহিত্যবোধহীন ও খ্যাতিলোভী অযোগ্য কূপমণ্ডুক, যারা পুঁজির শক্তিতে আজ সম্পাদক হয়ে বসেছেন তাদের পতন অবশ্যম্ভাবী। শতভাগ নিবেদিত প্রতিশ্রুতিশীল সত্ নবীন সম্পাদকদের জন্য প্রেরণা জ্বালিয়ে রেখেছে সৃষ্টিশীল ও সংগ্রামী বাংলার প্রথম অগ্নিশিখা 'একুশে ফেব্রুয়ারি'।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, 'উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি প্রমাণ করেছে শেখ হাসিনার অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
7 + 3 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
আগষ্ট - ২৩
ফজর৪:১৮
যোহর১২:০২
আসর৪:৩৫
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৪
সূর্যোদয় - ৫:৩৭সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: ittefaq.adsection@yahoo.com, সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: ittefaqpressrelease@gmail.com
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :