The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ১২ ফাল্গুন ১৪২০, ২৩ রবিউস সানী ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ পুলিশ হত্যা মামলায় রাজশাহীর মেয়র বুলবুল ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মিনুকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ | সালাউদ্দিন-মিজানের সন্ধান দিলে পুরস্কার ৫ লাখ টাকা করে ঘোষণা

বাঁধ ভাঙার গল্পকার

সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন মোহাম্মদ মোর্শেদ নাসের

দেশের প্রথম ও ব্যাপক জনপ্রিয় ব্লগ সাইট 'সামহোয়ার ইন ব্লগ'। যেখানে এ প্রজন্ম শুধুমাত্র মতপ্রকাশ ও সৃজনশীলতার এক নতুন অধ্যায় রচনা করছে। জনপ্রিয় এই ব্লগ সাইটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দা গুলশান ফেরদৌস জানা। বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির জগতে তার বিচরণকাল প্রায় ১৬ বছর। এরই মাঝে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পেয়েছে সাফল্যের স্বীকৃতি। ২০১০ সালে চীনের সাংহাইতে অনুষ্ঠিত রেড হেরিং পুরস্কার পায় ব্লগ সাইটটি। সৈয়দা গুলশান ফেরদৌস জানা নিজেও একজন সক্রিয় ব্লগার। ডয়চে ভেলের আন্তর্জাতিক ব্লগ পুরস্কার বা ববস্-এর জুরি বোর্ডের সদস্যও ছিলেন তিনি। সামহোয়ার ইন ব্লগের যাত্রা শুরুর গল্প ও এ প্রজন্মকে নিয়ে সৈয়দা গুলশান ফেরদৌস জানার নানা ভাবনার কথা উঠে এসেছে আমাদের

এবারের আয়োজনে। সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন মোহাম্মদ মোর্শেদ নাসের

ব্লগিং এবং স্যোশাল নেটওয়ার্ক—এই কনসেপ্টটি আপনাদের ভাবনায় কী করে এলো?

স্যোশাল নেটওয়ার্ক বিষয়টি তখন আমাদের কাছে অপরিচিত ছিল। ইন্টারনেটের সাথে কিছুটা সখ্যতা থাকলেও এখানে লেখালেখি করা যেতে পারে, সেটার মাধ্যমে মানুষের কাছাকাছি যাওয়া সম্ভব—এটা তখনও ওভাবে বোঝা হয়ে ওঠেনি। প্রথম সন্তান হওয়ার পর সন্তানকে সময় দেওয়ার ইচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলাম। তখন নিজের শখের বিষয়গুলোতেও কিছুটা নজর দিলাম। লেখালেখি শুরু করলাম। সেই সময় আমার স্বামী বিভিন্ন বিষয়ে আমাকে সহায়তা করছিলেন। একজন ব্রিটিশ হওয়া সত্ত্বেও আমাদের দেশের বিভিন্ন বিষয়গুলো তার ভাবনায় ছিল সবসময়। আর আমাদের দেশের সবার মাঝে ঐক্যের মানসিকতা তার খুব ভালো লাগত। তাই তিনিও আর নরওয়েতে যেতে চাননি। তার অনুপ্রেরণাতেই দেশের সংস্কৃতি এবং ভাষা নিয়ে কাজ করতে চাইলাম দেশে থেকেই। সংস্কৃতি ও ভাষার জন্য অভিজ্ঞতা-চিন্তা-ভাবনার পারস্পরিক বিনিময়টা খুব জরুরি। এরই মাধ্যম হিসেবেই শুরুতে ব্লগের কথা আমাদের মাথায় আসে। কিন্তু বাংলা টাইপিংও সহজ নয় তখন। আমরা টুকটাক ইংরেজিতে ব্লগ লিখি। তবুও চিন্তাটা এগোতে থাকে। এমন একটা ব্লগের স্বপ্ন দেখি, যেখানে লেখালেখিটা শুধুই একজনের মাঝে থাকবে না। তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হবে, বিতর্ক হবে, মূল্যায়ন হবে। তখন আমি আর আমার স্বামী মিলে ২০০৫ সালে শুরু করলাম ছোট্ট একটা কোম্পানি। খুব কম পরিসরে আমাদের যাত্রা শুরু। আমাদের ক্ষুদ্র সামর্থ্যের মধ্যে নতুন প্রজন্মের যে তরুণরা সেদিন কাজ করতে এসেছিলেন, তারাও আমাদের স্বপ্নের সাথে একমত হয়েছিলেন। তাদের চোখেও আশার আলো দেখেছিলাম। এটাও বুঝতে পেরেছিলাম, তাদের সুযোগ-সুবিধা দিলেই তারা অনেক কিছু করতে পারবেন। নানারকম প্রতিকূলতার মাঝেই সামহোয়্যার ইন ব্লগের যাত্রা শুরু হয়। আর সেটা ইংরেজিতে নয়, অবশ্যই বাংলাতে।

অনলাইনে বাংলায় লেখার উদ্ভাবনের শুরুটা কেমন ছিল? সকলের মাঝে এই ব্লগ সাইটটি ছড়িয়ে দেওয়ার গল্পটা জানতে চাই।

শুরুতে আমাদের ডেভেলপাররা বাংলাতে লেখার জন্য চেষ্টা করতে থাকেন। হাসিন হায়দারের উদ্যোগে ফনেটিক লেখার উদ্ভাবন ঘটে। ইংরেজি কিবোর্ডে কিভাবে সহজে বাংলা লেখা যায়, এমনকি ইংরেজি না জানাদের জন্য কত সহজে টাইপ করা যায় তার জন্য কিবোর্ডের ডিজাইন করা হলো। রাতদিন কাজ করা হলো। ২০০৫ সালে ১৫ ডিসেম্বর প্রথম একটি পোস্ট দিলাম। ১৬ তারিখে আমাদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। আমাদের নামটা তখন দিলাম, 'বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ'। আমাদের দেশে তখন ব্লগ সম্পর্কে খুব বেশি মানুষের ধারণা ছিল না। তাই কিভাবে আমাদের ব্লগটিকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তা আমাদের চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়াল। আমরা তখন যারা ইংরেজিতে ব্লগিং করেন, তাদের খুঁজতে লাগলাম। বিশ্বজুড়ে ১৫-২০ জনকে খুঁজে পাওয়া গেল। তখন দেশে যারা ছিলেন, তাদেরকে অফিসে ডাকলাম। তারা অনেক খুশি হলেন। নিজের ভাষাতে লেখা যাবে ব্লগে, এর চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে! তখন মিউজিশিয়ান মাকসুদ ভাই ইংরেজিতে ব্লগ করতেন। তিনিও শুনে খুশি হলেন, ব্লগের সাথে জড়িত সবাইকে ডাকলেন বাসায়। অনেকেই রেজিস্ট্রেশন করলেন। পরের বছর ফেব্রুয়ারিতে আমরা একটা সেমিনার করলাম। বেশ কয়েকজন লেখক আমাদের সাথে সেখানে যোগ দিয়েছিলেন, ছিলেন সাহিত্যিকরাও। ততদিনে এক হাজার ব্লগার নিবন্ধন করে ফেলেছেন। কোনোরকম বিজ্ঞাপন ছাড়াই এই অর্জন আমাদের জন্য অনেক বড় সফলতা ছিল। আর এভাবেই গুটি গুটি পায়ে শুরু হলো আমাদের যাত্রা।

সংবাদের উত্স হিসেবে ব্লগ সাইটটির ভূমিকা কেমন ছিল?

ব্লগেই সিটিজেন জার্নালিজম পূর্ণাঙ্গভাবে হয়। পেপারে তো একই খবর বারবার ভিন্নভাবে ছাপা হয় না। কিন্তু এখানে কে কী দেখেছে সেটা সঠিকভাবে জানাচ্ছে। এটা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। সব মিলিয়ে আসল ঘটনার স্বরূপ সন্ধানের চেষ্টা হচ্ছে। খুব ভালোলাগে যে এখন অনেক গণমাধ্যমই বিভিন্ন সংবাদের সোর্স আমাদের এখানে পেয়ে যাচ্ছেন।

বাংলা ভাষায় ব্লগ হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কেমন সাড়া পেয়েছেন?

২০০৭ সালে যখন সিডর হয়, তখন নরওয়ে থেকে একটা টিম আসে এই এলাকাতে। আর আমি যেহেতু বাংলা, ইংরেজি, নরওয়ে—তিন ভাষাতেই কথা বলতে পারি, অ্যাম্বাসেডর আমাকে তাদের সাথে যেতে অনুরোধ করেছিলেন। অনেক বিদেশি সাংবাদিকরাও সেখানে এসেছিল। সেখানেই আমাদের আরেকজন বাঙালি ছেলের সাথে পরিচয় হয়। সেই পরে যোগাযোগ করে ডয়েচে ভেলেতে আমাদের সম্পৃক্ত করে নেয়। সেখানে ব্লগিং প্রতিযোগিতাতে দশটা দেশ অংশ নেয়। আমরাও আমাদের ব্লগ নিয়ে সেখানে যুক্ত হই। আর সেই সম্মেলনে আমাদের দেশ আর ভাষার ইতিহাস নিয়ে বলার সুযোগ হয়। কাজের সুবাদে এবং ব্লগিংয়ের কারণেই গুগল আমাকে আমন্ত্রণ জানায় এক সম্মেলনে। বিভিন্ন দেশের প্রায় ৪০০ জন আমন্ত্রিত হন গুগলের সেই সম্মেলনে। আর এভাবেই গুগলের সাথে সম্পৃক্ততা বাড়ে। আমার অনুরোধেই তারা গুগলের ডুডলে বাংলাদেশকে সম্পৃক্ত করে।

কমিউনিটি ব্লগিংই নিজেকে প্রকাশ করার একমাত্র জায়গা নাকি এটার পাশাপাশি পারসোনাল ব্লগিংটাও শুরু হওয়া উচিত?

দুটোর মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। একটায় একা কথা বলা, আরেকটায় কয়েকজন মিলে কথা বলা। এমন যদি হয়, আপনি কথা বলছেন কিন্তু কেউ শুনছে না। কেমন হবে ব্যপারটা! আবার চিন্তা করে দেখুন, আপনি কথা বলছেন, আরও একজন সেটার ভিত্তিতে কথা বলছেন, তার মতামত দিচ্ছেন। তাদেরও কেউ একমত হচ্ছেন, কেউ আবার দ্বিমত করছেন—এ সবকিছু মিলেই তো গণতন্ত্র। একজন মানুষের অনেক কিছু বলার থাকে। সেগুলো সবার সামনে হয়তো বলা হয় না। মানুষ একা একা ব্লগ লেখে, নিজের মনের কথা প্রকাশ করে কিন্তু অনেক সময় সেগুলো থেকে যায় অজানা। আর অপরদিকে কমিউনিটি ব্লগে দেখা যায়, কোনো পোস্ট দিলে সেটা দেখার জন্য কাউকে ডেকে নিয়ে আসতে হয় না। বরং সবার আলোচনা আর মতামতের মধ্যে দিয়ে অনেক কিছুই বলা কিংবা জানা আরও সহজ হয়ে যায়। দেখা যায়, আমাদের দেশের মানুষের কাছে কমিউনিটি ব্লগিংটাই হলো ব্লগিং। ফলে ব্যক্তিগত ব্লগিং হচ্ছে না।

বর্তমানে স্মার্ট সিটিজেন যারা তারা সকলেই স্মার্ট হ্যান্ডসেট ব্যবহার করেন। সামহোয়্যার ইন ব্লগ এক্ষেত্রে মোবাইলের জন্য কোনোরকম সফটওয়্যার কিংবা অ্যাপস তৈরি করছে কি?

অ্যান্ড্রয়েডের জন্য এই ধরনের অ্যাপস নিয়ে কাজ করা হচ্ছে অনেকদিন ধরেই। এরই মধ্যেই অনেকেই মোবাইল থেকে ব্লগ পড়ার অভ্যাসটি শুরু করে দিয়েছেন। তারপরও সব মোবাইলের জন্যই সুইটেবল এমন অ্যাপস খুব শিগগিরই আনা হবে।

ব্লগারদের অনেক সময় দেখা যায়, একে অন্যের অনুভূতিকে আঘাত করছেন। এমন পরিস্থিতিতে সামহোয়্যার ইন ব্লগ কিভাবে ভূমিকা রাখে?

এটি কর্তৃপক্ষের সাথে সাথে ব্যক্তিগত দায়িত্বশীলতারও ব্যাপারটিও জড়িত। কেউ যদি কোনো অশালীন কথা বলেন, তবে আরও একটা তীব্র অশালীন কথা বলে তাকে পর্যুদস্ত করার একটা প্রয়াস প্রায়ই লক্ষ করা যায়। আবার ঠিক এর বিপরীতও হতে পারে। যেমন, কেউ কোন অশালীন কথা বললে তাকে ঠিক তেমনই শালিন কথা দিয়েও পর্যুদস্ত করা যায়। কৌশল নির্বাচনের মধ্যে আসলে থাকে শিক্ষা ও রুচির পার্থক্য। একটি পরিবারে বড়দের শ্রদ্ধা করা, ছোটদের স্নেহ করা এসব ব্যাপারে অলিখিত একটা আইন থাকে। পরিবারের গুরুজনেরা যেমন পরিবারের উপর খেয়াল রাখে ঠিক তেমনই ব্লগটিতে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

সবশেষে বর্তমান প্রজন্ম সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন জানতে চাই।

আমাদের এই প্রজন্ম অনেক মেধাবী, অনেক শক্তিশালী। তরুণদের এই শক্তিরই প্রমাণ পাওয়া যায় গণজাগরণ মঞ্চের মুভমেন্ট থেকে। যেমন স্বাধীনতাযুদ্ধ ও গণতন্ত্রের মতো বিষয়কে ভালোবেসে তৈরি হয় গণজাগরণ মঞ্চ। ওখানে তো শুধু ব্লগারা বসে থাকেননি, সকল বয়সী সকল পেশার মানুষ সেখানে সম্পৃক্ত হয়েছেন। শুধুমাত্র তারুণ্যের শক্তির প্রতি তাদের সম্মতি জানাতে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে নতুন প্রজন্মের এ ধরনের কর্মকাণ্ডগুলোই সবচেয়ে বড় অবদান রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করতে উনি (খালেদা জিয়া) আন্তর্জাতিক চক্রান্তে লিপ্ত'। আপনি কি তার এই বক্তব্য সমর্থন করেন?
5 + 6 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১৬
ফজর৫:১২
যোহর১১:৫৪
আসর৩:৩৯
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩৫
সূর্যোদয় - ৬:৩৩সূর্যাস্ত - ০৫:১২
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :