The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার, ০৩ মার্চ ২০১৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪২০, ০১ জমা. আউয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ প্রাণনাশের হুমকিতেও লাভ হবে না: রিজভী | এশিয়া কাপ: আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ১২৯ রানের জয় পেল শ্রীলঙ্কা | পাকিস্তানে আদালতে হামলা, বিচারকসহ নিহত ১১

হঠাত্ দ্বন্দ্ব

সামিহা সুলতানা অনন্যা

সেদিন ও যে হঠাত্ এত রেগে যাবে আমি বুঝতেই পারিনি। বহুদিন পর গিয়েছিলাম আমার ভাবীর বাসায়। ঢাকা শহরে বেড়াতে বের হওয়াই এক সংগ্রাম, কয় মিনিটের রাস্তা যেতে যে কয় ঘণ্টা লাগবে বলার উপায় নেই। আমরা রাতে খাব দেখে ভাবী অনেক আয়োজন করেছিল। ভাবীর সব রান্নার মধ্যে নিরামিষ আর কোরমার তুলনা হয় না। সেদিন রান্না যে কি মজা হয়েছিল বলে বুঝাতে পারব না। আমি খাচ্ছি তো খাচ্ছি, আর প্রশংসা করে যাচ্ছি। এত মজার রান্না প্রশংসা না করলে কি হয়! মনে হচ্ছিল এমন রান্না যদি সবসময় খেতে পারতাম। এমন সময় ওর চেহারা দেখে খুব অবাক লাগল। কেমন গম্ভীর হয়ে গেল। খেতে বসতে না বসতেই উঠে চলে গেল, রীতিমত অভদ্রতা। ভাবী যে কি মনে করল! বোধহয় ভাববে আমরা সবসময় এমন ঝগড়াই করি। এমনকি পরে আর কারও সাথে কথাই বলল না। পরের বাসায় বেড়াতে গিয়ে এমন দৃশ্য তৈরি করলে খুবই খারাপ লাগে।

বলছিলেন ব্যাংকার কামাল হোসেন। তার কাছে এধরনের পরিস্থিতিতে কি সমাধান জানতে চাইলে তিনি বলেন একজনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছি, ভদ্রতাবশত হলেও তার দাওয়াতের মূল্যায়ন করতে হবে। আর আমরা প্রশংসা পরেরই করি। আপনজনকে তো বলার কিছু নেই। সে আপন বলে আমার মনের প্রতিটি অনুভূতি তার কাছে স্পষ্ট। এতে এত রেগে যাবার কিছু নেই। দু'জন মিলে চেষ্টা করলে তার রেসিপি অনুযায়ী রান্না আমরাও করতে পারব। কারও বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে এধরনের সমস্যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। এধরনের ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী দু'জনকেই একটি অস্বস্তিকর পরিবেশে পড়তে হয়। তাই দু'জনের পক্ষ থেকেই চেষ্টা থাকতে হবে যেন বেড়ানোর মত আনন্দদায়ক অনুভূতি সামান্য এক কারণে নিতান্ত নিরানন্দের ঘটনায় পরিণত না হয়।

সেরকমই কলেজ শিক্ষিকা শিলা তার মনের দুঃখের কথা বলছিলেন। রোজ রোজ বেড়াতে যাওয়া নিয়ে আমাদের এত সমস্যা হয় যে আমার এখন বেড়ানোর নাম শুনলে ভয় লাগে। ওর সবসময় অভিযোগ, আমি কখনই সময়মতো তৈরি থাকতে পারি না। ওর বিকাল পাঁচটা মানে পাঁচটাই। নিজেরা যাব একটু এদিক ওদিক তো হতেই পারে। কোথাও দাওয়াত খেতে যাচ্ছি, গিয়ে দেখব হয়ত একজনও আসেনি, তারপরও ওর সময় মানে ওই সময়ই। সবসময়ই সময়মতো যাওয়া উচিত সেটা আমিও চাই। আমার দুই ছেলে-মেয়ে একজন ক্লাস ফোরে পড়ে, আরেকজন প্লেগ্রুপে। দুপুর দুইটায় খাওয়া হলে ওদের ঘুম পাড়ানো। ঘুম থেকে উঠিয়ে ওদের তৈরি করে নিজের তৈরি হওয়া। একটু দেরিতো হবেই। আর এক মিনিট দেরি হলেই শুরু হবে চিল্লাচিল্লি। আশ-পাশের সব বাসার লোকজনও শুনতে পায়, এমন অবস্থা। কখনও রাগ করে বাসা থেকে বের হয়ে যাবে, একাই চললাম বলে। দাওয়াত খেতে গিয়েও একই অবস্থা, সেই রাগ চলতেই থাকে। ফেরার সময়ও সন্তানদের খাইয়ে আমার খাওয়া-দাওয়া শেষ করতে দেরি হয়ে যায়, আর তার ফেরার তাড়াহুড়া। মাঝে মাঝে মনে হয়, দাওয়াতে গিয়ে নিজে না খেয়ে সন্তানদের খাইয়েই চলে আসি। শান্তিমত গল্পও করতে পারি না। এমনভাবে বেড়াতে যেতে ভাল লাগে? তার মেয়ে মোনা বলছিল, বাবা-মায়ের এধরনের ঝগড়া-ঝাটির জন্য আমাদের বেড়ানোর সম্পূর্ণ মজাই নষ্ট হয়ে যায়।

শিলা বলেন, এরকম ক্ষেত্রে স্বামীদেরও আমাদের সমস্যা বুঝতে হবে। আমাদের দু'জনে মিলেই সন্তানদের বেড়ানোর জন্য প্রস্তুত করতে হবে। পথে খাওয়ার জন্য পানি থেকে শুরু করে সবই ছোট ছেলের জন্য রাখতে হয়, সেসব সাথে নিতে সাহায্য করতে হবে। আমার প্রস্তুত হতে খুব বেশি সময় লাগে না, যা দেরি হয় ওদের জন্যই। কেনো আমার দেরি হচ্ছে সে কারণটা তো বুঝতে হবে। দু'জন মিলে কাজ ভাগাভাগি করে নিলে আর দেরি হবে না। তাই এধরনের ক্ষেত্রে স্বামীকেও অবস্থা বিচার করে, স্ত্রীর সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে এবং স্ত্রীর পক্ষ থেকেও দ্রুত করার চেষ্টা থাকতে হবে।

অনেক সময় দেখা যায়, বেড়াতে গিয়ে বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় মতামতের পার্থক্যের ভিত্তিতে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। যা নিজেদের সম্পর্কের ভিত্তিকে অনেক দুর্বল করে দেয়। সেলিনা বলছিলেন, গত একুশে ফেব্রুয়ারি আমরা দু'জন মিলে ওর বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুর বাসায় বেড়াতে গিয়েছি। ওর বন্ধু মিজান কলেজের শিক্ষক। গিয়ে দেখি পরীক্ষার খাতা দেখছেন। কথায় কথায় আমার স্বামী অভিযোগ করলেন যে, আমি তাকে বাড়িতে অফিসের কোনও কাজ করতেই দেই না। তার বন্ধু কি সুন্দর খাতা দেখছে। তিনি বেশ আগেই কলেজ থেকে আসেন, তার সন্তানকে সময় দিতে পারেন।

আমার স্বামী ব্যাংকার। আমি চাই যে সে আমাদের সন্তানদের একটু সময় দিক। বাবাকে ওরা পাক। আসতে আসতেই ওর রাত আটটা বাজে। তবু আমি কখনও বাধা দেইনি কাজ করতে। এভাবেই ওর বন্ধুর সামনে, ওদের বাসায় আমাদের ঝগড়া শুরু হল। ওর মনে নানা অভিযোগ থাকতেই পারে, কিন্তু বেড়াতে গিয়ে এভাবে সরাসরি কখনও আক্রমণ করা উচিত না। সামান্য কথা থেকে নিজেদের এবং অন্যদেরকেও এক অস্বস্তিকর পরিবেশে ফেলার কোন অর্থ হয় না। আমার মনে হয়েছিল ওদের কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের গল্প শুনব, আর কি হল?

এভাবে বেড়াতে গিয়ে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি বা সাধারণ কথা থেকে নিজেদের মাঝে নানা ঝগড়ার উদ্ভব হয় যা বেড়ানোর মত আনন্দের ঘটনাকে বিষাক্ত করে তুলে। তাই নিজেদের বোঝাবুঝির মধ্যে দিয়ে এধরনের সমস্যা যেন তৈরি না হয় সে ব্যাপারে সচেতন হতে হবে এবং উভয়ের পক্ষ থেকেই বেড়ানোর পূর্ণ আনন্দকে উপভোগের চেষ্টা করতে হবে।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেছেন, 'এখন আমরা অনেক সুসংগঠিত। আমাদের পতন ঘটবে না।' আপনি কি তার সাথে একমত?
6 + 7 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১৮
ফজর৪:৫৬
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৫সূর্যাস্ত - ০৫:১০
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :