The Daily Ittefaq
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ ২০১৪, ১৩ চৈত্র ১৪২০, ২৫ জমা.আউয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে দক্ষিণ অফ্রিকার কষ্টার্জিত জয় | যদি লাভজনক না হয় বিমান টিকবেই না: বিমানের কর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী | টঙ্গীতে বাসায় ঢুকে ব্যবসায়ীকে হত্যা

খুঁড়িয়ে চলছে দেশের ১৬ কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট

সিলেবাসে 'অচল' বিষয়, শিক্ষক সংকট

নিজামুল হক

সিলেবাসে শর্টহ্যান্ড (সাঁটলিপি) ও টাইপরাইটিং (মুদ্রাক্ষর লিখন) বিষয় দুটি বাধ্যতামূলক। কিন্তু এ বিষয়ে পড়ানোর জন্য কোন শিক্ষক নেই। অন্যান্য সাধারণ বিষয়ে শিক্ষক সংকটতো আছেই। এমনও রয়েছে যে মাত্র ৩ জন শিক্ষকই একটি কলেজ চালাচ্ছেন, অন্য কোন কর্মচারী নেই। শিক্ষককেই পিয়নের কাজ করতে হয়। আর পুরনো সিলেবাসে শিক্ষাদানের কারণে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হচ্ছে না। অন্যদিকে শর্টহ্যান্ড এবং টাইপরাইটিং শিক্ষা নিয়ে বেকার থাকতে হচ্ছে, চাকরির বাজারে পিছিয়ে পড়ছে পাস করা শিক্ষার্থীরা। দেশের ১৬ টি সরকারি কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউটের বর্তমান চিত্রটা এমনই।

প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান ও শিক্ষকরা কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউটের সিলেবাসকে 'অচল সিলেবাস' বলে মন্তব্য করেছেন। তারা বলেছেন, ১৯৫৯ সালের চিন্তাভাবনার আদলে এই প্রতিষ্ঠানগুলো চলছে। অন্যান্য সাধারণ বিষয়ের সাথে দুই বর্ষে চার পর্বে বাংলা মুদ্রাক্ষর লিখন বিস্তারিত পড়ানো হয়, যা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এখন দেশের কোথাও সাঁটলিপি ও মুদ্রাক্ষর লিখন এর ব্যবহার নেই। অথচ ইনস্টিটিউটের সিলেবাসে বিষয়গুলো রয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, এ বিষয়গুলো পড়ানোর জন্য কোন শিক্ষকও নেই। প্রতিষ্ঠাকালীন যারা ছিলেন তারা অনেক আগেই অবসরে গেছেন। এরপর এই পদে আর কোন শিক্ষক পাওয়া যায়নি। একারণে ধারণা ছাড়াই সাধারণ বিষয়ের শিক্ষকরা সাঁটলিপি ও মুদ্রাক্ষর লিখন বিষয়ে পড়াচ্ছেন। শিক্ষকরা বলছেন, বর্তমানে মুদ্রাক্ষর যন্ত্র তেমন একটা পাওয়া যায় না। ফলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৫৯ সালে জাতীয় শিক্ষা কমিশন দক্ষ অফিসকর্মী সৃষ্টির লক্ষ্যে তত্কালীন ১৬ জেলায় ১৬টি কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট স্থাপন করে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে এসএসসি পরবর্তী দুই বছর মেয়াদী 'ডিপ্লোমা ইন বিজনেস স্টাডিজ' (বিআইডিএস) কোর্স পড়ানো হয়। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষার সাথেই বিআইডিএস পরীক্ষা হয়। সার্টিফিকেটের মান উচ্চ মাধ্যমিক সমমান।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সাতমসজিদ রোডে ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা সরকারি কমার্শিয়াল কলেজ। প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে ৩২টি ক্লাসরুম। কিন্তু শিক্ষার্থী সংখ্যা মাত্র ১০০ জন। আর সংশ্লিষ্ট সব বিষয় শিক্ষক না থাকায় প্রতিষ্ঠানের পুরনো দুই ছাত্রকে দিয়ে শিক্ষাদান করা হচ্ছে। আবাসিক হলটি র্যাবের কার্যালয় হিসাবে ব্যবহারের কারণে প্রতিষ্ঠানটি যেন আরো সংকুচিত হয়ে গেছে। তবে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কোন গাড়ি না থাকলেও দু'জন ড্রাইভার রয়েছেন। যারা গাড়ি চালান শিক্ষা ভবনের কোন কোন কর্মকর্তার।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ রেজাউল করিম জানান, খুঁড়িয়ে চলছে সবগুলো কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট। তবে সবচেয়ে সমস্যা বেশি ঢাকায়। এই ইনস্টিটিউটে ৯০ দশক পর্যন্ত শিক্ষার্থী ছিল ১ হাজার ৪শ', ২০০২ সালে কমে গিয়ে দাঁড়ায় ৮শ'। এখন কাগজে-কলমে ২শ শিক্ষার্থী থাকলেও প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত আসছে শ'খানেক শিক্ষার্থী। কোর্স কারিকুলাম আধুনিক না হওয়ায় এমনটি হচ্ছে। কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউটগুলোকে 'কলেজ' নামকরণ করে বিবিএ-এমবিএ প্রোগ্রাম চালু করা হলে কমার্স শিক্ষা আরো একধাপ এগিয়ে যাবে বলে তিনি মনে করেন।

শুধু ঢাকা নয়, দেশের অন্য ১৫টি কমার্শিয়াল কলেজেরও একই অবস্থা। ইনস্টিটিউটগুলোতে ৭ টি শিক্ষকের পদ থাকলেও কোথাও সব শিক্ষক নেই। নেই দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কোন পদ। প্রতিষ্ঠানের আয় থেকে প্রতিষ্ঠানের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ইলেকট্রিক্যাল কাজসহ অন্যান্য সকল ব্যয়ভার বহন করতে হয়। এ কারণে কয়েকটি কলেজে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় করা হয়।

ফেনী কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ জসীম উদ্দিন বলেন, জনবল খুবই কম। কলেজের ৭ টি পদের মধ্যে ৪ টি প্রভাষকের পদ। অথচ একজন প্রভাষকও নেই। এই প্রতিষ্ঠানটিতে আসন অনুযায়ী শিক্ষার্থী থাকলেও খুলনা কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউটে ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এখানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা তুলে পার্টটাইম শিক্ষক, কর্মচারীদের বেতন দেয়া হয়।

সিলেট কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ভুষন চন্দ্র সরকার বলেন, আসন সংখ্যা ২শ হলেও ১৬০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। অধ্যক্ষসহ শিক্ষকের ৮টি পদ থাকলেও রয়েছেন মাত্র ৩ জন। সম্প্রতি একজন প্রভাষক যোগদান করায় তিনজন হয়েছে। এর আগে অনেকদিন দুইজন শিক্ষক দিয়ে কলেজটি পরিচালনা করতে হয়েছে। শিক্ষকের পদ ছাড়া অন্যকোন পদের বেতন সরকার থেকে দেয়া হয় না। নিয়োগ দেয়া হলে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয় থেকে বেতন দিতে হবে। কিন্তু এ প্রতিষ্ঠানের আয় কম থাকায় ছাত্রদের কাছ থেকে বছরে ৮শ' টাকা করে নেয়া হয়, যা দিয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন দেয়া হয়।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, 'লাখো কণ্ঠে' সোনার বাংলা—মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইতিহাসের সাথে কোটি মানুষের কোলাকুলি।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
9 + 9 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১৬
ফজর৫:১২
যোহর১১:৫৪
আসর৩:৩৯
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩৫
সূর্যোদয় - ৬:৩৩সূর্যাস্ত - ০৫:১২
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :