The Daily Ittefaq
ঢাকা, শনিবার, ৪ মে ২০১৩, ২১ বৈশাখ ১৪২০, ২২ জমাদিউস সানি ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নির্দলীয় সরকার ঘোষণা দেয়ার আল্টিমেটাম : মতিঝিলে ১৮ দলের সমাবেশে খালেদা জিয়া | প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অন্তসারশূন্য, অবরোধ হবেই: হেফাজত | দয়া করে আর মানুষ হত্যা করবেন না: খালেদা জিয়ার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী

চেতনায় রবি

তারুণ্যের কাছে রবীন্দ্রনাথ ধরা দিয়েছেন বহুভাবে। শিল্পের বিশাল ভাণ্ডারে রবীন্দ্রনাথকে কেউ ভালোবাসেন গানে, কেউ কবিতায়, কেউ নাটকে, কেউ উপন্যাস-গল্পে। তরুণরা বরাবরই তাকে স্থান দিয়েছে হূদয়ে, কেননা রবীন্দ্রনাথ প্রতিটি বাঙালিকে শিখিয়েছে ভালোবাসা, সৌন্দর্যবোধ, শুদ্ধতা। তারুণ্যের চেতনায় রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার ও ছ্বি তুলেছেন সাফাওয়াত খান সাফু

রবীন্দ্রনাথ 'কী ছিলেন' এর চেয়ে বরং জিজ্ঞেস করা ভালো 'তিনি কী ছিলেন না'। তবে সকল কীর্তি ছাপিয়ে তারুণ্যের চেতনায় রবীন্দ্রনাথ হলেন এক অদ্বিতীয় শক্তিমান গীতিকার ও প্রাণপ্রাচুর্যে উচ্ছল সুরস্রষ্টা। পৃথিবীতে এ মাপের সুরকার আর ছিলেন কিংবা আছেন কি না, বলা যায় না। নিভৃত মুহূর্তগুলো রবীন্দ্রসংগীতের অন্তর্প্লাবী মূর্ছনার সঙ্গে লীন হয়ে যায়, বা ব্যস্ত প্রহর কোথায় উবে যায় টেরও পাওয়া যায় না, সে কেবল যন্ত্রস্থ নয়—বেজে চলে মাথার ভেতর অনুক্ষণ... 'আমার পরান যাহা চায়', 'আমার প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে, তাই হেরি তায় সকল খানে', 'দিনগুলি মোর সোনার খাঁচায় রইল না'.... কত গান, কী আশ্চর্য আকুলতা, বিচিত্র বৈভব, শুনতে শুনতে চোখের সমুখ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মহাজীবন, অবলীলায়। কোথায় নেই তিনি, সব জায়গাতেই তিনি রেখেছেন ছাপ।

রবি ঠাকুরের সাথে পরিচয়টা হয় হয়তো খুবই বেরসিকভাবেই। স্কুলের পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে। কবিতা, ছোটগল্প পড়ে পাতার পর পাতা উত্তর লেখায় খুব রসাত্মক কিছু নেই হয়তো। পরীক্ষার খাতায় লিখতে না পারলে হয়তো রবি ঠাকুরের সাথেও শত্রুতা হতে দেরি হয় না। পাঠ্যবইয়ের রবীন্দ্রনাথকে কঠিন মনে হলেও হয়তো তারুণ্যের কোনো প্রান্তরে রবিকে আবার পাওয়া 'শেষের কবিতা' মলাটে। এ ছাড়া 'ফ্যাশন' আর 'স্টাইল'-এর টানাহেঁচড়া তো আছেই। হয়তো রকপ্রেমীর কাছে রবি এলেন দার্শনিকরূপে। ধীরে ধীরে একেকটি গানের প্রতিটি লাইন একটু একটু করে আপন হতে থাকল মনের ঠিক কেন্দ্রে। সামান্য বিরহবেলায় মনে আসে 'মাঝে মাঝে তব দেখা পাই চির দিন কেন পাই না'। ভালোবাসার মতো অলীক একটি বিষয়কে তিনি বললেন, 'লোকে তবে করে কি সুখের তরে এমন দুঃখেরও আশ'... সত্যিই তো। এমন কি কেউ আছে যে ভালোবেসে কষ্ট পায়নি! এমনকি হয়তো ভরা ফাল্গুনে শত হাসি আনন্দের মাঝেও যখন একাকিত্ব ভর করে, সেই অনুভূতিটাও তিনি বললেন এভাবে, 'কি জানি কিসের লাগি লাগি প্রাণ করে হায় হায়...'। সত্যিই তো মানুষের মাঝে অনেক পাওয়ার পরও 'হায়' বেদনা থেকেই যায়। যা মনে কড়া নাড়ে ঠিক সুখসময়ের পরপরই।

এমন কী আছে যা নিয়ে রবি লিখেননি। প্রশ্ন নিজের কাছেই। মনের যে কোণে প্রশ্ন সেখানেই উত্তর হয়ে আসেন রবি ঠাকুর আর তার গান, ছোটগল্প বা উপন্যাস। তাই আজ কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলা যায় 'আমি আকাশে পাতিয়া কান, শুনেছি শুনেছি তোমারই গান... আমি তোমারে সঁপেছি প্রাণ'। একটা সময় ছিল যখন তরুণদের বুক পকেটে শোভা পেত পকেট সাইজের 'গীতাঞ্জলি', তার ভেতরের প্রথম পাতায় রবীন্দ্রনাথের একটা ছবি। তিনি বসে আছেন শান্তিনিকেতনের একটা বাধানো বেদীতে। বেদীটির সাথে একটা স্তম্ভ, তাতে লেখা, 'তিনি আমার আত্মার শান্তি'।

রবীন্দ্রনাথ প্রকৃতিপ্রেমী ছিলেন। প্রকৃতির বুকে তিনি বারবার ফিরে গেছেন। গাছপালা-নদী-পাখি সব উঠে এসেছে তার কবিতায়-গানে। তার কবিতায় লিখেন, 'আজ বিকালে কোকিল ডাকে,/শুনে মনে লাগে/বাংলাদেশে ছিলেম যেন/তিনশ বছর আগে।/সে দিনের সে স্নিগ্ধ গভীর/গ্রামপথের মায়া/আমার চোখে ফেলেছে আজ/অশ্রুজলের ছায়া'। কী চমত্কার কবিতা। ঠিকই যেন চলে যাই গ্রামপথের মাঝে। রবীন্দ্রনাথ এমনই। যিনি চেতনার ভেতর ঢুকে যেতে পারেন। তার সৃষ্টিশীলতা মানুষকে শত বছরেরও বেশি কাল বছর ধরে আনন্দ দিয়ে বেড়াচ্ছে, এ-ই বা কম কি! চেতনা তো তৈরি হয়েই আছে রবীন্দ্রনাথের জন্য।

রবীন্দ্রনাথ হলেন একজন অসামান্য গীতিকার। তিনি সুরের যে অপার ভাণ্ডার বাংলা সংগীতে দিয়ে গেছেন সে জন্য বাঙালির তার প্রতি চিরজীবন কৃতজ্ঞ থাকতে হবে। পৃথিবীতে এমন সুরকার ছিলেন কি, কিংবা একাধারে শিল্পের এতগুলো শাখায় বিচরণ পৃথিবীর অন্য কোনো শিল্পী করেছেন কি? আমাদের ভাবের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে তিনি প্রবেশ করেননি। তার প্রতিটি গানে রয়েছে আকুলতা, বেদনা, জীবনের কথা। 'আমার প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে, তাই হেরি তাই সকল খানে'। কী অসাধারণ গঠনশৈলী। তার প্রতিটি গানের সুর আমাদের ছুঁয়ে যায়। আমাদের চেতনা মানেই তো সুখ-দুঃখমাখা জীবন। আর সে জীবনে রবীন্দ্রনাথ প্রতিটি প্রান্তে আছেন।

তিনি প্রথম বাঙালি হিসেবে নোবেল প্রাইজ জিতেছিলেন। তিনি আমাদের গর্বের স্মারক। কোনো বাঙালির কখনও হয়তো মনেই হয়নি তিনি বাংলাদেশের না ভারতের, তিনি কি এ বাংলার না ওপার বাংলার। তিনি আমাদের সকল সৃষ্টিশীল চিন্তাধারার ধারক-বাহক-অনুপ্রেরণা। বর্তমান যুগ ফেসবুক আর ব্লগের। এ প্রজন্ম কবিগুরুকে নিয়ে এসেছে ফেসবুক এবং ব্লগের জগতে। তাই এর মাধ্যমে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। রবীন্দ্রনাথের বহু না-জানা গল্প আমরা জানতে পারি তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে। বহু ছেলে-মেয়ে আছে যারা হয়তো জানতই না রবীন্দ্রনাথের জন্মদিনটি কবে। কিন্তু আজ ফেসবুকের কল্যাণে জানতে পারছে তার সম্পর্কে। এগুলো তো আমাদের প্রজন্মকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। রবীন্দ্রনাথ আরও অলংকৃত হবেন। ছড়িয়ে যাবেন সারা বিশ্বের নতুনদের মাঝে। রবীন্দ্রনাথ যেমন ধর্ম-কাল-জাতপাতের ঊর্ধ্বে ছিলেন, ঠিক তেমনি তার সুরে বলা যায়, মানবতাই পৃথিবীর আসল ধর্ম। মনুষ্যত্বই মানুষের আসল জাত।

মডেল রাহি

মেকআপ

আমব্রিন এ বিউটি লাউঞ্জ

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিএনপি বলেছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নিলে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় বসার আহ্বানে সাড়া দেবে। দলটির এই সিদ্ধান্ত যৌক্তিক বলে মনে করেন?
1 + 2 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
মার্চ - ১৯
ফজর৪:৪৮
যোহর১২:০৭
আসর৪:২৮
মাগরিব৬:১৩
এশা৭:২৫
সূর্যোদয় - ৬:০৩সূর্যাস্ত - ০৬:০৮
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :