The Daily Ittefaq
ঢাকা, শনিবার, ৪ মে ২০১৩, ২১ বৈশাখ ১৪২০, ২২ জমাদিউস সানি ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নির্দলীয় সরকার ঘোষণা দেয়ার আল্টিমেটাম : মতিঝিলে ১৮ দলের সমাবেশে খালেদা জিয়া | প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অন্তসারশূন্য, অবরোধ হবেই: হেফাজত | দয়া করে আর মানুষ হত্যা করবেন না: খালেদা জিয়ার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী

টেকসই উন্নয়নে সবুজ ব্যাংকিং :প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ

ড. মুহাম্মদ ওমর ফয়সল

সভ্যতার উষালগ্ন থেকে পরিবেশ ও মানবজীবন অচ্ছেদ্য বন্ধনে আবদ্ধ। দু'য়ের মাঝে পরস্পর নির্ভরশীলতা এবং সংঘাত চিরন্তন ব্যাপার। উন্নয়নের জন্য যে কাঙ্ক্ষিত বিধি-বিধান বা ব্যবস্থা তার সমগ্র ব্যাপারটিই পরিবেশের সাথে মানুষের ভারসাম্যগত দিক অর্থাত্ ইকোলজিক্যাল ব্যালেন্সের মধ্য দিয়েই আবর্তিত। তাই পরিবেশ ও উন্নয়ন একটি মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। শিল্প বিপ্লবোত্তর উন্নয়নের নেশায় মত্ত হয়ে মানুষ পৃথিবীর বুকে বল্গাহীন উন্নয়নের প্রশ্নাতীত বিজয় অর্জন করে আত্মতৃপ্তিতে ভুগছিল ঠিকই; কিন্তু গভীরতম উপলব্ধি দিয়ে পরিবেশ ও উন্নয়নের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করার সুযোগ হয়নি তাদের। উত্পাদকদের মনে রাখা উচিত ছিল শিল্প-কারখানায় ব্যবহূত কাঁচামাল ও উপকরণ পরিবেশেরই দান। তাই প্রকৃতি আজ চড়া দামে এর প্রতিশোধ চাইছে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য পরিবেশকে অবহেলা করা যে কতটা মারাত্মক তা বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষা থেকে সহজেই অনুমেয়। 'চীনে প্রতিবছর বায়ু ও পানি দূষণের কারণে ৫৪ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের গচ্চা দিতে হচ্ছে, যা তাদের জিডিপির ৮ শতাংশ'। অর্থনীতিবিদ এবং পরিবেশ বিজ্ঞানীরা অবশেষে গোলটেবিলে বসে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, এ ধরিত্রীর মাটিকে সংরক্ষণ করতে, উন্নয়ন পরিকল্পনার পূর্বে পরিবেশ সংরক্ষণের কথা সর্বাগ্রে ভাবতে হবে। আর এ সমন্বিত পরিকল্পনার ফলে যে উন্নয়ন হবে সেটাই হবে টেকসই উন্নয়ন। গ্রাহারলেম ব্রান্টল্যান্ড ১৯৮৭ সালে বলেছেন, 'আমরা সেই উন্নয়ন চাই যে উন্নয়ন আমাদের আগামী প্রজন্মের সম্ভাবনাকে আমাদের চেয়ে খাটো করবে না, উন্নয়ন প্রচেষ্টার ফলে আমরা যে জীবন ভোগ করবো আগামী প্রজন্ম তারচেয়ে কোনক্রমেই কম ভোগ করবে না। এ উন্নয়নই হলো টেকসই উন্নয়ন।' একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টেকসই উন্নয়নের অন্যতম পলিসি হলো অধুনা সবুজ ব্যাংকিং। বর্তমানে আন্তঃব্যাংকিং অঙ্গনে সবুজ ব্যাংকিং বেশ আলোচিত, ব্যাপক অনুশীলিত।

পরিবেশ সচেতনতাই সবুজ ব্যাংকিং কৌশলের মূলমন্ত্র। এটা স্বাভাবিক ব্যাংকের মতোই, যা পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষার লক্ষ্যে সব ধরনের সামাজিক ও পরিবেশগত বিষয়গুলোর উপর গুরুত্ব দেয়া হয়। একে নৈতিক অথবা টেকসই ব্যাংকিংও বলা হয়ে থাকে। একই কর্তৃপক্ষ এগুলো নিয়ন্ত্রণ করে, তবে পৃথিবীর পরিবেশ, জীবজন্তু ও সম্পদের প্রতিও ক্ষেত্রবিশেষ যত্ন নেয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সুযোগ্য নেতৃত্বের ফলে এ টার্মটি আমাদের ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় ধাপে ধাপে অনুশীলিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের এক সার্কুলার-এর মাধ্যমে সবুজ ব্যাংকিং কার্যাবলী পরিচালনার জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে। অর্থনৈতিক ন্যায়পরায়ণতা, নৈতিকতা, পরিবেশ জ্ঞানও সবুজ ব্যাংকিং-এর অন্যতম লক্ষ্য। জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি সনদ পরিপালন এবং মানুষ, গ্রহ ও টেকসই উন্নয়নের জন্য মুনাফা এই তিনটি 'পি' অনুসরণে পরিবেশ সুরক্ষার উপর জোর দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিশেষ তাগিদ দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উক্ত নীতিমালা অনুযায়ী সবুজ ব্যাংকিং কার্যক্রমসমূহকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিন ধাপে ভাগ করা হয়, যা পর্যায়ক্রমে এ বছরের শেষ নাগাদ ব্যাংকগুলো বাস্তবায়ন করতে বাধ্য থাকবে। সবুজ ব্যাংকিং বলতে মূলত পরিবেশবান্ধব, টেকসই, সুষম, সুস্থ-সুন্দর, দুর্নীতিমু্ক্ত নৈতিক ব্যাংকিংকেই বুঝায়।

এ কথাটি ভাবতে গিয়ে গা শিউরে উঠে যে, একবিংশ শতাব্দীর শেষ নাগাদ বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে যদি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এক-দুই মিটার বৃদ্ধি পায় তাহলে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে এসে পরিবেশ বিপর্যয় একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্যহীনতায় আজকের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বসভ্যতা ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। বন্যা, খরা, ভূমিকম্প, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, টাইফুন, এসিড বৃষ্টি প্রভৃতি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে পৃথিবী ক্রমেই অশান্ত হয়ে উঠেছে। মহামারী, দুর্ভিক্ষ, যুদ্ধ-বিগ্রহ, এইডসের মতো হিংস্র থাবায় সভ্যতাগর্বী বনি আদম ঝাঁকে ঝাঁকে অকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। বহতা নদীর মতো বেড়ে চলা গ্রীন হাউজ এফেক্ট, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে ওজোন স্তরে ভারসাম্যতা, শব্দ দূষণ, বাযু দূষণ, পানি দূষণ, আর্সেনিকসহ নানাবিধ বিপর্যয় শুধু মানব অস্তিত্বের স্বচ্ছন্দ গতিই কেড়ে নেয়নি, বরং সমগ্র পরিমণ্ডলকে করে তুলেছে ধ্বংসের মুখোমুখি। এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো সবুজ প্রকৃতি, সজীব বাতাস এবং সহমর্মী আর্থ-সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলা। আজ প্রকৃতি আমাদেরকে জানান দিয়েছে যে, প্রকৃতিকে উজাড় করে দিয়ে নয়, বরং প্রকৃতির সাথে খাপ খাইয়ে আমাদের চলতে হবে। আমরা যদি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখবো পবিবেশ দূষণের অধিকাংশ কারণই অর্থনীতির সাথে জড়িত। দেশের অর্থনীতি ব্যাংকের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে সম্পৃক্ত। ব্যাংকের কার্যক্রমে যদি সবুজের বিপ্লব ঘটানো যায় তাহলে পরিবেশের প্রভূত উন্নয়ন সাধিত হবে। সবুজ গ্রহ পৃথিবী আবার সবুজে সবুজে ভরে যাবে। মহানবী (সা.) বলেছেন- 'কারো কাছে যদি একটি চারা গাছ থাকে আর কিয়ামত যদি অত্যাসন্নও হয় তবে সে যেন চারা গাছটি মাটিতে রোপণ করে'।

বর্তমানে ব্যাংক একটি আর্থ-সামাজিক ও আর্থ-পরিবেশগত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। একদিকে সমাজের কেউ ব্যাংকে চাকরি করে, কেউবা ব্যাংকে টাকা জমা রাখে, কেউ বিনিয়োগ গ্রহণ করে শিল্প-কারখানা স্থাপন করে। আর সেই শিল্প-কারখানায় চাকরি করে হাজার হাজার জনশক্তি। কেউবা ব্যাংকিং চ্যানেলে বিদেশ থেকে টাকা পাঠান। অপরদিকে ব্যাংক হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ, মেডিক্যাল কলেজ, সিকিউরিটিজ কোম্পানি, ফাউণ্ডেশন গঠন, শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, গ্রামীণ উন্নয়ন কর্মসূচি প্রভৃতি গণমানুষকে ব্যাংকের সাথে সম্পৃক্ত করেছে। এভাবে সমাজের প্রতিটি মানুষ কোন না কোনভাবে ব্যাংকের সাথে জড়িত। এখন ব্যাংক আর সমাজব্যবস্থা একই সূত্রে গাঁথা, একটি অপরটির সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে রয়েছে। পারস্পরিক সহযোগিতার ফলে মানুষের জীবনযাত্রার মান এবং ব্যাংকব্যবস্থা ক্রমশ উন্নতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। সভ্যতার ছোঁয়া লেগে উভয়ে হয়ে উঠেছে আলোকোদ্ভাসিত ও দীপ্তিময়।

মানবজীবনের অন্যান্য বিষয়ের মতো পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন বিষয়েও যথার্থ নির্দেশনা রয়েছে। মানুষ প্রকৃতির সম্পদসমূহ কাজে লাগিয়ে সভ্যতার চূড়ান্ত বিকাশ ঘটিয়েছে। সভ্যতার বিস্ময়কর উন্নয়নের ফলে মানবসভ্যতার অকল্পনীয় অগ্রগতি হওয়া সত্ত্বেও অদৃশ্য এক মহাশক্তির নিকট মানুষ এখনও অসহায়। গত শতাব্দীর ত্রিশ শতকে আমেরিকাতে পাহাড়-পর্বত ভেঙেচুরে নতুন নতুন শহর তৈরি করতে গিয়ে ইকোলজিতে গড়বড় টের পেয়ে তারা বুঝতে পারলেন যে, পারিপার্শ্বিক স্বাভাবিকতা বিনষ্ট করলে অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়। আর তখনি পারিপার্শ্বিক বিজ্ঞানের জন্ম হয়। তাদের অনুধাবনে এ বিষয়টি আসে যে, প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম অগ্রাহ্য করে জবরদস্তিপূর্বক একে ভেঙে নতুন নিয়মে কিছু করতে যাওয়া নেহাত বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। সবুজ ব্যাংকিং বলে দিয়েছে বিনিয়োগ প্রদানের পূর্বে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে, যাতে পরিবেশের কোন প্রকার ক্ষতি না হয়।

সমাজের প্রতিটি জীব ও জড় একে অন্যের সাথে গভীরভাবে নির্ভরশীল। কোন একটির অস্তিত্বে টান পড়লে এর প্রভাব অন্যটির উপর পতিত হয়। সহজভাবে উদাহরণ দেয়া যায় এভাবে— যদি ব্যাংকে কাগজের ব্যবহার বেশি করা হয় তাহলে এর প্রভাব পড়বে গাছপালার উপর। কারণ গাছ থেকেই কাগজ উত্পন্ন হয়। কাজেই ব্যাংক যদি কাগজবিহীন ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে তাহলে লক্ষ লক্ষ গাছ বেঁচে যাবে। আর এতে সবুজের সৌন্দর্য রক্ষা পাবে। সবুজ ব্যাংকিং কার্যাবলী মূলত অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম, সিএসআর কার্যক্রম, প্রোডাক্ট ও মার্কেট ইকোলজির মধ্যে কেন্দ্রীভূত। সমপ্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক ৬টি কোর রিস্কের সাথে নতুনভাবে পরিবেশগত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে। প্রতিটি ব্যাংক দেশে বিদ্যমান ড্রেনেজ ও সেনিটেশন সমস্যা, নদীদূষণ, পানিদূষণ দূর করার মত কার্যকর সবুজ প্রকল্প হাতে নিতে পারে যা পরিবেশের ভারসাম্য বজায়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। অতি সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের দশটি ব্যাংকের তালিকা প্রকাশ করছে, যেগুলো সবুজ ব্যাংকিং অনুশীলনের ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা পুরোপুরিভাবে পালন করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবুজ ব্যাংকিং পলিসিতে পরিবেশ উন্নয়নের উপর বেশ জোর দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে দেশের ব্যাংকগুলো বিনিয়োগকৃত প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে যাতে পরিবেশ দূষিত না হয় সেজন্য সম্ভাব্য সকল প্রকার উদ্যোগ নিচ্ছে। দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের কথা বিবেচনা করে গ্রীন এনার্জি তথা নবায়নযোগ্য শক্তিখাতে অর্থাত্ সৌরশক্তি, ইটিপি, বায়োগ্যাস, এসএমই, কৃষি বিনিয়োগ ইত্যাদি প্রকল্পগুলোতে বিশেষ জোর দিচ্ছে। পরিবেশগত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য বিভিন্ন ধরনের অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপ নিচ্ছে। যেমন: অনলাইন যোগাযোগ, কাগজের অপচয় রোধে উভয় পৃষ্ঠায় ছাপানো, নোটপ্যাড হিসাবে স্ক্র্যাপ পেপারের ব্যবহার, ডিজপোজেবল কাপ/গ্লাস এর ব্যবহার পরিত্যাগ করা, সিএফএল বাতির ব্যবহার, সোলার প্যানেলের ব্যবহার ইত্যাদি।

আজকাল সবুজ ব্যাংকিং-এর ছোঁয়া লেগে উন্নত বিশ্বে ব্যাংকিং সেবায় যেসব সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহূত হচ্ছে আমাদের ব্যাংকিং খাতও দিন দিন সেদিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সবুজ ব্যাংকিং এর আশীর্বাদে সেবাকে দ্রুত এবং নিখুঁত করার লক্ষ্যে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে দিন দিন। চালু হচ্ছে ইলেক্ট্রনিক কিউ টোকেন সিস্টেম; যা টোকেনের উন্নততর বিকল্প হিসেব ক্যাশ কাউন্টারে ব্যবহত হচ্ছে। দেখা যায় নোট কাউন্টিং মেশিনের ব্যবহার; যা চার সেকেন্ডে ১০০টি নোট গুণে দিতে পারে অনায়াসেই। কাগজে মুদ্রার বিকল্প হিসাবে এমক্স কার্ড, ভিসা কার্ড, মাস্টার কার্ড, গোল্ড, সিলভার কার্ড প্রভৃতি নামে প্লাস্টিক কার্ড ব্যবহূত হচ্ছে। জাল নোট সনাক্তের জন্য ফেক নোট ডিটেক্টর গ্রাহক সেবায় এনেছে বাড়তি নিরাপত্তা। টেলি ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, আই ব্যাংকিং, এম ব্যাংকিং, এটিএম, সুইফট, কিউসিডি এবং এস.এম এস ব্যাংকিং-এর কার্যক্রম বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যার মাধ্যমে গ্রাহক ব্যাংক থেকে একটি ব্যক্তিগত পরিচিতি নম্বর নিয়ে তার হিসাবের স্থিতি, সর্বশেষ লেনদেনের বিবরণ, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার এবং ব্যাংকিং কার্যক্রমের অন্যান্য তথ্য জানতে পারে। লেজারের পরিবর্তে সর্বস্তরে কম্পিউটারের ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে দিন দিন। ব্যাংকগুলো নিজস্ব সফটওয়্যার ব্যবহার করে যাবতীয় ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ইন্টারনেট ও অন-লাইন-এর ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশে বা বহিঃবিশ্বের যেকোন স্থানে অবস্থান করেও যে কোন ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন, ফান্ড ট্রান্সফার, বিজনেস প্রকিউর, অর্ডার প্রদান, অর্ডার গ্রহণ ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। এ সকল উদ্যোগ সবুজ ব্যাংকিং-এর সফল ও বাস্তব নমুনা। সবুজ ব্যাংকিং মূলত তথ্য-প্রযুক্তিকে খোশ আমদেদ জানিয়ে প্রকৃতির কোলে ফিরে যাওয়ারই একটি আর্থ-ব্যাংকিং পদ্ধতির নাম। সবুজ ব্যাংকিং-এর অনুপম সৌন্দর্যের গহীনে পুরো ব্যাংকিং জগত্টাকে বন্দী করে রাখা হয়েছে। সবুজ ব্যাংকিং বিশ্বঅর্থনীতিকে স্থিতিশীল গন্তব্যের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। এ টার্মটি তৃষ্ণার্ত দুনিয়ার জন্য এক বাটি বিশুদ্ধ পানি এবং রুগ্ন দুনিয়ার জন্য এক শিশি মোক্ষম ওষুধতুল্য বলে বিবেচিত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংগঠনের নীতিমালা এবং বিশ্বপরিবেশ সম্মেলনের সনদ বিবেচনায় এনে এবং উন্নত দেশের সবুজ ব্যাংকিং থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের সবুজ ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত। আমাদের উচিত সম্পদের যত্নসহ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং আমাদের আরো মনে রাখা দরকার সম্পদের যথেচ্ছ ব্যবহার ও অপচয় আমাদের ভবিষ্যত্ জেনারেশনের জন্য বিপদ ডেকে আনবে। পরিবেশ সংবেদনশীল সেক্টরগুলো-যেমন: কৃষিপণ্য, পোল্ট্রি ও ডেইরি, কৃষি খামার, চামড়া, মত্স্য, টেক্সটাইল ও এপারেলস, নবায়নযোগ্য শক্তিসম্পদ, পাল্প ও পেপার, নির্মাণ ও গৃহায়ণ, কেমিক্যাল, প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রি, হাসপাতাল, ইটভাটা, জাহাজভাঙ্গা ইত্যাদি শিল্পে বিনিয়োগ দেয়ার প্রাক্বালে সবুজ ব্যাংকিং পলিসি বাস্তবায়ন করতে হবে। ওয়েব সাইটে বার্ষিক রিপোর্ট, গুরুত্বপূর্ণ সার্কুলার প্রকাশ করতে হবে। প্রকল্পসমূহের তদারকির জন্য পরিবেশ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ম্যানুয়েল বা নীতিমালার উন্নয়ন সাধন করতে হবে। গ্রাহক ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানসূহকে পরিবেশ নীতিমালা মানার ব্যাপারে উত্সাহ প্রদান করতে হবে। গভীর রাতে ব্যাংকিং করার মানসিকতা পরিহার করতে হবে। নৈতিকতাসম্পন্ন লোক লোকবল নিয়োগ নিতে হবে; যারা জনগণের অর্থের প্রকৃত আমানতদার হিসেবে বিবেচিত হবে। গবেষণা ও পরিকল্পনা বিভাগকে অত্যধিক শক্তিশালী করতে হবে। পণ্যের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণকল্পে গোডাউনের ব্যবস্থা করতে হবে। গ্রামীণ জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে গ্রামীণ গৃহনির্মাণ বিনিয়োগ স্কিম চালু করতে হবে। মানিলণ্ডারিং কার্যক্রমে সুষ্ঠুভাবে তদারক করতে হবে। ব্যাংকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে উচ্চতর ডিগ্রীধারী ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। দেশে বিদ্যমান ব্যাংকগুলো আমাদের সম্পদ। সম্পদের কোন ক্ষতি সাধন করা হলে এর ভোগান্তি আমাদেরকেই পোহাতে হবে।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিএনপি বলেছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নিলে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় বসার আহ্বানে সাড়া দেবে। দলটির এই সিদ্ধান্ত যৌক্তিক বলে মনে করেন?
8 + 8 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
মার্চ - ১৯
ফজর৪:৪৮
যোহর১২:০৭
আসর৪:২৮
মাগরিব৬:১৩
এশা৭:২৫
সূর্যোদয় - ৬:০৩সূর্যাস্ত - ০৬:০৮
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :