The Daily Ittefaq
ঢাকা, বুধবার ৭ মে ২০১৪, ২৪ বৈশাখ ১৪২১, ৭ রজব ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন: সাত দিনের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ | বিএসএমএমইউ পরিচালকের কক্ষের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, গ্রেফতার ১

বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তির ৫০ বছর

মোস্তাফা জব্বার

বাংলাদেশে কম্পিউটার আসার পঞ্চাশ বছর পুরো হচ্ছে এবার ২০১৪ সালে। সঠিক তারিখটা জানি না বলে এরই মাঝে ৫০ বছর পুরো হয়ে গেছে কি না বা কোন দিন সেটি পূর্ণ হবে—সেটিও বলতে পারব না। পরমাণু শক্তি কমিশনসহ অনেকের সাথে বারবার যোগাযোগ করেও এখনও জানতে পারিনি যে, পরমাণু শক্তি কমিশন কোন তারিখে সেই কম্পিউটারটি স্থাপন করেছিল। তবে ১৯৬৪ সালে পরমাণু শক্তি কমিশনে যে একটি আইবিএম ১৬২০ স্থাপিত হয়েছিল, সেই বিষয়ে কারও কোনো সন্দেহ নেই। এই কম্পিউটারের ব্যবহারকারী মো. হানিফউদ্দিন মিয়ার সাথে কথা বলে আমি সেটি নিশ্চিত করেছি। খুব সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশের প্রথম কম্পিউটার স্থাপনের পর পার হয়ে যাওয়া এই পঞ্চাশ বছরে কেমন ছিল এই দেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি—পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে এসব বিষয় পর্যালোচনা করা তো যেতেই পারে। আমার নিজের বিশ্লেষণে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তির এখন পর্যন্ত তিনটি অধ্যায় রয়েছে।

ক) প্রথম অধ্যায়টি ১৯৬৪ থেকে ১৯৮৭ সালের। এটি আমাদের আদি ও প্রাথমিক যুগ।

খ) দ্বিতীয় অধ্যায়টি ১৯৮৭ থেকে ১৯৯৬ সময়কালের। এটি ডেস্কটপ প্রকাশনা ও বাংলা ভাষার বিপ্লবের যুগ।

গ) আর পরের অধ্যায়টি এর পর থেকে এখনকার। এটি আমাদের সুবর্ণ সময়।

তবে এর মাঝেও সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিভাজন রেখা আছে। যেমন ১৯৮৭ থেকে ১৯৯৬ সময়কালের মাঝে ১৯৯১ পর্যন্ত সরকারের ভূমিকা একরকম ছিল, আর ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সময়কালে সরকারের ভূমিকা আরেক রকম ছিল। এমনি করে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সময়কালের সাথে ২০০১ থেকে ২০০৮ সময়কালের কোনো তুলনা করা যাবে না। অন্যদিকে ২০০৯ থেকে ২০১৪ সময়কালটি বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি বিকাশের মধ্য গগণের সময়কাল। সামনের দিনগুলো হয়তো হবে আরও ভিন্ন মাত্রার।

আদি ও প্রাথমিক যুগ ১৯৬৪-১৯৮৭

বাংলাদেশে কম্পিউটার আসার পর থেকে শুরু করে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত যে সময়টি ছিল তাতে কম্পিউটার প্রযুক্তির সাথে সাধারণ মানুষের তেমন কোনো সম্পর্কই ছিল না। যারা কম্পিউটারে প্রোগ্রাম লিখতে পারতেন তারাই কম্পিউটার স্পর্শ করতেন। একেবারে শুরুতে কম্পিউটারের প্রসারও খুবই সীমিত ছিল। আদমজি জুট মিলের মতো বড় প্রতিষ্ঠান, ইউনাইটেড বা হাবিব ব্যাংক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েট ইত্যাদি বড় বড় প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার বসতে থাকে। কম্পিউটারের কাজও ছিল সীমিত। প্রধানত গণনার কাজ করাই ছিল একমাত্র কাজ। তবে এটি উল্লেখ করা উচিত যে, ১৯৭৬ সালের আগে দুনিয়াতে ছোট কম্পিউটার তো ছিলই না। ফলে সারা দুনিয়ার চিত্রটাই এমন ছিল যে, বিশেষত গণনা কাজের জন্য কম্পিউটার ব্যবহূত হতো এবং কেবলমাত্র প্রোগ্রামাররাই এসব যন্ত্র পরিচালনা করত। তবে ১৯৭৬ সালের পর দুনিয়াতে পিসির আবির্ভাব ঘটলেও তার প্রভাব বাংলাদেশে পড়েনি। অ্যাপল সিরিজের কম্পিউটারগুলো এদেশের সাধারণ মানুষের হাতে যায়নি। কেবলমাত্র ঢাকার আমেরিকান স্কুলে ব্যবহূত হতো এগুলো। এমনকি ১৯৮১ সালে আইবিএম পিসি বাজারে আসার পরও এদেশে পিসির ব্যবহার মোটেই বাড়েনি। কিছু কিছু লোক ওয়ার্ডস্টার, লোটাস আর ডিবেজ ব্যবহার করতেন বটে। তবে একে কোনভাবেই জীবনের মূলস্রোতের সাথে যুক্ত বলে ধরা যেত না। ফলে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত আমাদেরকে অপেক্ষা করতে হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ কম্পিউটার যন্ত্রটির ব্যবহারের সাথে যুক্ত হয়। এই সময়টাকে আমরা আদি বা প্রাথমিক যুগ হিসেবে সূচনা পর্বও বলতে পারি। এমনকি সেই সময়ে যারা বড় কম্পিউটারের বদলে পিসি ব্যবহার করতেন তারাও সংখ্যায় এত কম ছিলেন যে সমাজে, রাষ্ট্রে বা অন্য কোনো স্তরে তার কোনো প্রভাব ছিল না। এই সময়ে সরকারের কোনো নীতিমালাই তথ্যপ্রযুক্তি বিকাশের জন্য সহায়ক ছিল না। কেউ ভাবেইনি যে তথ্যপ্রযুক্তি নামক কোনো বিষয়ে সরকারের কিছু করার আছে। অথচ ভারত ১৯৮৬ সালে তাদের তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা প্রস্তুত করে ফেলে।

ডেস্কটপ প্রকাশনা ও বাংলা ভাষার পিসি বিপ্লব ১৯৮৭-১৯৯৬

শুরুটা একেবারেই সাদামাটাভাবে হয়েছিল। ১৬ মে ১৯৮৭ কম্পিউটারে কম্পোজ করা একটি বাংলা পত্রিকা যার নাম আনন্দপত্র সেটি প্রকাশ করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে একটি বিপ্লবের সূচনা হয়। যদিও ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশে কম্পিউটারে বাংলার জন্ম হয় এবং সেই বছরেই ডেস্কটপ পাবলিশিং প্রযুক্তিতে ঢাকা কুরিয়ার নামের পত্রিকা প্রকাশিত হয় তবুও আনন্দপত্র ডিটিপি বিপ্লবের আগুনের স্ফূলিঙ্গ সৃষ্টি করে। তার চাইতেও বড় ঘটনা ঘটে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৮৮। সেই দিন বিজয় বাংলা কিবোর্ড ও সফটওয়্যার প্রকাশিত হয় এবং এরপর বাংলাদেশের কম্পিউটার প্রযুক্তি আর কখনও পেছনে ফিরে তাকায়নি। এই বিপ্লবের যে কয়েকটি বৈশিষ্ট্য ছিল, তার মাঝে প্রধান কয়েকটি হচ্ছে; সাধারণ মানুষের হাতে কম্পিউটার পৌঁছানো, সহজে কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারা, বাংলা ভাষায় কম্পিউটার চর্চা করতে পারা, সৃজনশীল কাজে কম্পিউটারকে ব্যবহার করতে পারা এবং শিক্ষায় কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারা। স্টিভ জবসের অ্যাপল কম্পিউটার কেবল বাংলাদেশেই এই বিপ্লবটি করেনি—কার্যত দুনিয়ার সর্বত্র এই বিপ্লবের সূচনা হয় ম্যাকিন্টোশ কম্পিউটারের হাত ধরে। আমাকে যদি বাংলাদেশে কম্পিউটার চর্চার সময়টিকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে বলা হয় হবে ১৯৮৭ সালকেই আমি এর সূচনালগ্ন বলে চিহ্নিত করব।

সুবর্ণযুগের উষালগ্ন ১৯৯৬-২০০৮

বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি বিকাশের সুবর্ণ সময়টির সূচনা হয় ১৯৯৬ সালের পর। এর আগে তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লবের একটি বড় ঘটনা ঘটে যায় ডেস্কটপ বিপ্লবের মধ্য দিয়ে। তবে এর আগে বাংলাদেশের সরকার ১৯৯২ সালে একটি চরম ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সেই সময়ে আমাদের বঙ্গোপসাগর দিয়ে সি-মিউ-উই-৩ নামক সাবমেরিন ক্যাবল লাইন স্থাপিত হয়। তখন বাংলাদেশকে সেই সংযোগ গ্রহণ করার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু বিনামূল্যে সেই সংযোগ আমরা গ্রহণ করিনি। এর ফলে বাংলাদেশকে একটি দ্রুতগতির সংযোগ পাবার জন্য ২০০৬ সালের মে মাস অবধি অপেক্ষা করতে হয়। এটি বাংলাদেশকে দারুণভাবে পিছিয়ে দেয়। অন্যদিকে ইন্টারনেটের আগমন, উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের প্রসার এবং দ্রুতগতির প্রসেসরের জন্য তথ্যপ্রযুক্তির একটি নতুন দিগন্ত প্রসারিত হয়। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ প্রথম অনলাইন ইন্টারনেটের যুগে প্রবেশ করে। এরপর ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ মোবাইলের মনোপলি ভাঙে। ১৯৯৬ সালেই দাবি ওঠে শুল্ক ও ভ্যাটমুক্ত কম্পিউটারের। ১৯৯৮ সালে সরকার কম্পিউটারের ওপর থেকে সকল প্রকারের শুল্ক ও ভ্যাট তুলে নেয়। একই সময়ে সরকার জেআরসি কমিটির ৪৫টি সুপারিশ গ্রহণ করে এবং সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে। সেই সুপারিশের অংশ হিসেবে ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বরে সরকার, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সেমিনারের আয়োজন করে যেখান থেকে বাংলাদেশ সফটওয়্যার ও সেবাখাত রপ্তানির এক নতুন পথে যাত্রা শুরু করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ২০০১ সালের বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদল হওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তির প্রতি সরকারের মনোযোগে ভাটা পড়ে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের নামের সাথে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শব্দটি যোগ করা, ২০০৩ সালের জেনেভায় তথ্যসমাজ সম্মেলনে যোগদান এবং ২০০৬ সালে সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হওয়া ছাড়া সেই সময়কার সরকার কেবল শুল্ক ও ভ্যাটমুক্ত কম্পিউটারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে। এই পাঁচ বছরেও যদি ১৯৯৬-২০০১ সালের মতো তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি গুরুত্ব পেত, তবে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তির অভিযাত্রা আরও মসৃণ হতে পারত। ২০০৭ ও ২০০৮ সালে অন্তবর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার তুলনামূলকভাবে বেগম জিয়ার সরকারের চাইতে অনেক বেশি গুরুত্ব দিলেও বিষয়টিতে তাদের সর্বোচ্চ নজর ছিল না। এই সরকারের আমলের সবচেয়ে বড় কাজের একটি হচ্ছে ছবিসহ ডিজিটাল ভোটার তালিকা প্রণয়ন। এই সরকার একটি আইসিটি নীতিমালার খসড়াও তৈরি করে। এই আমলেই কম্পিউটারকে বাধ্যতামূলক করার সুপারিশও করা হয়।

ডিজিটাল বাংলাদেশ একুশ শতকের সোনার বাংলা

বাংলাদেশের পঞ্চাশ বছরের তথ্যপ্রযুক্তি যাত্রার সবচাইতে উজ্জ্বল সময় হচ্ছে ২০০৯ সালের পরের সময়টি। যদিও ২০১৩ সালে একটি সরকারের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তথাপি একই সরকারের ধারাবাহিকতা বহাল থাকায় ২০০৯ সালের কর্মসূচিসমূহ এখনও অব্যাহতভাবেই চলছে। আমি এই ধারণা পোষণ করতে পারি যে এই সরকার দেশ পরিচালনা করলে তাদের কর্মসূচিও অব্যাহত থাকবে। এবার ২০১৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগ অবশ্য জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেছে। ২০০৭ সালে আমরা প্রথমবারের মতো ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করি। ২০০৮ সালেও আমরা একই বক্তব্য প্রকাশ করি। সেই বছরের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা তার দলের ইশতেহার প্রকাশ করেন। তিনি তাতে ২০২১ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ও কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সেই নির্বাচনে জয়ী হবার পর শেখ হাসিনার সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কর্মসূচি বাস্তবায়নে উদ্যোগী হয়। ২০০৯ সালের শুরুতেই গ্রহণ করা হয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতিমালা। এরপর গত পাঁচ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার অনেকগুলো মাইলফলক কাজ করেছে। তবে এই সময়ে আমরা আরও কিছু বড় উদ্যোগ আশা করেছিলাম। সবচেয়ে বড় যে উদ্যোগটি আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম সেটি হচ্ছে ডিজিটাল সরকার। আমরা একটি কাগজবিহীন সরকারের কথা ভেবেছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ যদি গড়তে হয় তবে সরকারকে কাগজবিহীন হতে হবে এই বিষয়ে কোনো সংশয় নেই। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে শেখ হাসিনা সরকারের ২০০৯-২০১৩ সময়কালে ডিজিটাল সরকার প্রতিষ্ঠার বড় কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। সরকারের কাজ করার পদ্ধতির পরিবর্তনের জায়গাটি জেলা পর্যায়ের উপরে উঠেনি। ফলে যে কাঙ্ক্ষিত ডিজিটাল রূপান্তর আমরা সরকারের সকল অঙ্গে দেখতে পেতে পারতাম, সেটি দেখিনি। অন্যদিকে বেসরকারি খাতের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের কৌশলে তেমন কোনো নতুনত্ব না আসায় এই খাত থেকে যে ধরনের আর্থিক সফলতা আসার কথা এবং যতটা দ্রুত এই খাতের প্রসার ঘটার কথা তা ঘটেনি। আমরা লক্ষ করেছি আমাদের আভ্যন্তরীণ বাজারের প্রতি এই শিল্পখাতের নজর ছিল না। একই সাথে আমরা লক্ষ করেছি যে মেধাসম্পদ সুরক্ষার বিষয়টিও উপেক্ষিত হয়ে রয়েছে। একদিকে আমরা জ্ঞানভিত্তিক সমাজের কথা বলছি, অন্যদিকে জ্ঞান সুরক্ষার কোনো আয়োজন করছি না—সরকার ও বেসরকারি উভয় খাতের জন্যই এটি এক ধরনের অবজ্ঞা ও ভুল রণনীতি বলে আমি মনে করি। যা হোক, ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশ যেভাবে তার তথ্য ও যোগযোগ প্রযুক্তি বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে সামনে যাচ্ছে, তাতে আমরা এই কথাটি নিঃসন্দেহে বলতে পারি যে সামনের দিনে আমরা এই অঞ্চলের আইসিটি খাতের নেতৃত্ব দেব।

বিগত ৫ বছরে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে উল্লেখযোগ্য কাজ

 'জনগণের দোরগোড়ায় সেবা' এই স্লোগানটি অনেক পুরোনো হলেও এবারই প্রথম ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য ও সেবাকেন্দ্র স্থাপন করে সেখান থেকে গ্রামের মানুষকে সরকারি সেবা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 জেলা পর্যায়ের সরকারি অফিসসহ উপজেলা স্তরের অফিসগুলোর ডিজিটাল রূপান্তর ঘটানো হচ্ছে। জেলায় ডিজিটাল পদ্ধতির সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 এই সময়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা মাত্র ১২ লাখ থেকে ৪ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। মোবাইলের গ্রাহক সাড়ে ৪ কোটি থেকে ছাড়িয়েছে ১১ কোটি। এসেছে থ্রিজি। জেলা শহরগুলো চলে এসেছে থ্রিজির আওতায়। ব্যান্ডউইথের দাম কমে হয়েছে ২,৮০০ টাকা।

 মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গড়ে উঠেছে কম্পিউটার ল্যাব ও ডিজিটাল ক্লাসরুম। তৈরি হচ্ছে ডিজিটাল কনটেন্টস। প্রশিক্ষিত হচ্ছে শিক্ষকগণ।

 সফটওয়্যার ও সেবাখাতে রপ্তানি বেড়েছে। প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানিকে ১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে। অন্তত ৩০ হাজার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার কর্মসূচি হাতে নিয়ে সফটওয়্যার পার্ক, হাইটেক পার্ক ও ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যাপক প্রসারের পাশাপাশি মোবাইলভিত্তিক সেবার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে।

 ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি মন্ত্রণালয় নামে ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নামক দুটি মন্ত্রণালয়কে একীভূত করে এই খাতের গুরুত্বকে অনুধাবন করে সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ ঘটানো হয়েছে। আইসিটি ডিভিশন নামক একটি নতুন ডিভিশন চালু করা হয়েছে।

লেখক :বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সাবেক সভাপতি;

বিজয় কিবোর্ড ও সফটওয়্যার এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রণেতা

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
নারায়ণগঞ্জে ৭ খুনের ঘটনায় র্যাবের মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান বলেছেন, 'র্যাবের কেউ জড়িত থাকলে তাকে রক্ষার চেষ্টা করব না, বিভাগীয় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হবে।' তিনি কি এ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারবেন?
3 + 9 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুলাই - ২৭
ফজর৪:০২
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৪৭
এশা৮:০৮
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:৪২
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: ittefaq.adsection@yahoo.com, সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: ittefaqpressrelease@gmail.com
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :