The Daily Ittefaq
ঢাকা, বুধবার ৭ মে ২০১৪, ২৪ বৈশাখ ১৪২১, ৭ রজব ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন: সাত দিনের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ | বিএসএমএমইউ পরিচালকের কক্ষের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, গ্রেফতার ১

প্রো গ্রা মি ং প্র তি যো গি তা

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্যের সোপান

ড. সৈয়দ আকতার হোসেন

অনন্ত সম্ভাবনার দেশ বাংলাদেশ। উর্বর এই মাটির সয্পর্শে উর্বর আমাদের মন ও প্রাণ। স্বভাবতই সৃষ্টিশীল আমাদের তরুণ সমাজ। একই সজীব প্রাণের স্পন্দনে আলোকিত কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের অফুরন্ত আনন্দ। কম্পিউটার প্রোগামিং, আরও পরিষ্কার করে বললে গাণিতিক সমস্যার সমাধানে কম্পিউটারের সফল প্রয়োগ, আজ বিজ্ঞানমনষ্ক তরুণ প্রজন্মের ভাবনার খোরাক। ১৯৯৭ সালে প্রথমবারের মতো জাতীয় প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের অগ্রযাত্রা এবং অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে বিগত ১৭ বছরে। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রথম জাতীয় প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার পর একই বছর যুক্তরাষ্ট্রের বেইলর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বিল পাউচারের সহযোগিতায় ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু লাইস হকের ব্যবস্থাপনায় প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। আইবিএম ও অ্যাসোসিয়েশন অব কম্পিউটিং মেশিনারির এই প্রতিযোগিতার নাম 'ইন্টারন্যাশনাল কলেজিয়েট প্রোগ্রামিং কনটেস্ট' যা আইসিপিসি নামে পরিচিত। আন্তর্জাতিক এই প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় বিশ্বের সকল দেশ অংশগ্রহণ করে। দেশগুলো মোট ৬টি উপমহাদেশে বা অঞ্চলে বিভক্ত। প্রথম স্তরে অঞ্চল ভিত্তিক প্রতিযোগিতা হয়। বাংলাদেশে এশিয়ার অঞ্চলের প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় যারা শীর্ষস্থান, অর্থাত্ চ্যাম্পিয়ন ও প্রথম রানার আপ অর্জন করে তারা পরবর্তীকালে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পায়। আমাদের মেধাবী তরুণেরা ১৯৯৮ সাল থেকেই আইসিপিসি বিশ্ব আসরে মেধার স্বাক্ষর রেখে আসছে। বাংলাদেশ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর কায়কোবাদের নেতৃত্বে মেধাবী প্রজন্ম স্বাক্ষর রেখেছে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে। ১৯৯৮ সালে বুয়েটের সুমন কুমার নাথ, রেজাউল আলম চৌধুরী ও তারিক মেজবাউল ইসলাম বেঙ্গল টাইগার দল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আইসিপিসি বিশ্ব আসরে প্রতিযোগিতা করে এবং ২৪তম স্থান দখল করে এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে একই অবস্থান নেয়। একই বছর নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দলও বিশ্ব আসরে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতার ধারাবাহিকতায় সকল পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় তত্পর হয়ে ওঠে। ১৯৯৮ সালের পর থেকে বুয়েট প্রতি বছর আইসিপিসি বিশ্ব আসরে অংশগ্রহণ করার জন্য উত্তীর্ণ হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ২০০৬ এবং ২০০৯ সালে আইসিপিসি বিশ্ব আসরে প্রতিযোগিতা করে। ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় ২০০৮ সালে আইসিপিসি বিশ্ব আসরে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয় ২০০২ সালে আইসিপিসি বিশ্ব আসরে অংশগ্রহণ করে। বুয়েট ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা রাজ্যে ২৪তম আইসিপিসি বিশ্ব আসরে এমআইটি, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ভার্জিনিয়া টেক, কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেক খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়কে পেছনে ফেলে ১১তম স্থান দখল করে, যা বাংলাদেশের জন্য শ্রেষ্ঠ অর্জন। একই সাফল্যের স্রোতধারায় শাহরিয়ার মনজুর ২০০৩ সাল থেকে আইসিপিসি বিশ্ব আসরে বিচারকের অনন্য ভূমিকা রেখে আসছে। এখানে একটি বিষয় উল্লেখযোগ্য, এসব প্রতিযোগিতায় যারা অংশগ্রহণ করেছে, তাদের বেশিরভাগই কর্মজীবনে মাইক্রোসফট, টুইটার, ফেসবুক, গুগলের মতো বিশ্বখ্যাত সব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন।

আইসিপিসি ঢাকা আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় দেশব্যাপী প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতাকে আরও ব্যাপক প্রসারে ২০১২ সালে ড্যাফোডিল আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রথমবারের মতো ঢাকা আঞ্চলিক প্রিলিমিনারি পর্যায়ে অনলাইন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। ড্যাফোডিল আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় এশিয়া অঞ্চলের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক আইসিপিসি আয়োজন করে ২০১২ সালের ৬ ডিসেম্বর। বাংলাদেশ ছাড়াও এই আয়োজনে ভারত, চীন এবং অন্যান্য দেশ থেকে প্রোগ্রামিংয়ের দল অংশ নেয়। এবার আসি টপকোডার (www.topcoder.com) প্রসঙ্গে, যা আরও একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। সমগ্র বিশ্ব থেকে ৬ লক্ষ ২৬ হাজার ২ শত ৭৬ জন মেধাবী প্রতিযোগী প্রতিদিন তথ্যপ্রযুক্তির নির্মাণকৌশল, গ্রাফিক্স ডিজাইন, উদ্ভাবন,

প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং উপাত্ত রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলের ওপর প্রতিযোগিতা করছে। টপকোডারের মূল লক্ষ্য হলো, তথ্যপ্রযুক্তির নকশা প্রকৌশল, উন্নয়ন, উদ্ভাবন এবং উপাত্ত প্রকৌশল বিশেষজ্ঞদের এক জায়গায় এনে বিশ্বের তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধান করা এবং এই সমাধানের ভিত্তিতে জ্ঞান আহরণ, দক্ষতা অর্জন এবং পুরস্কার অর্জনের পাশাপাশি প্রযুক্তি উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করা। এই টপকোডার জগতে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিং হয় বিভিন্ন সমস্যার সফল সমাধানের ভিত্তিতে। বর্তমান র্যাংকিংয়ে বুয়েট ৩০ সদস্য নিয়ে ১৬১৮.২২ পয়েন্ট পেয়ে ৩৪তম স্থানে আছে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১০ সদস্য নিয়ে আছে ৬২তম স্থানে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ২৩ সদস্য নিয়ে আছে ৮০তম স্থানে, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ২৭ সদস্য নিয়ে আছে ৮২তম স্থানে। একইসাথে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিয়ত টপকোডারে অংশগ্রহণ করছে এবং বিশ্বের প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সরাসরি অংশগ্রহণ করছে। টপকোডারের পাশাপাশি গুগল ২০০৩ সালে শুরু করে গুগল কোড জ্যাম (code.google.com/codejam)। এই আন্তর্জাতিক প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা মূল উদ্দেশ্য গুগলে চাকরির উপযোগী প্রকৌশলী নির্ধারণ করা। এই প্রতিযোগিতায় বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেক পাবলিক এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় সফলভাবে অংশগ্রহণ করেছে। উন্মুক্ত প্রযুক্তির আবহে গুগল শুরু করে গুগল সামার অব কোড (developers.google.com/open-source/soc)। এটি একটি বিশ্বব্যাপী কর্মসূচী যার আওতায় ১৮ বছর বা তদুর্ধ্ব শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ওপেন সোর্স সফটওয়্যার প্রকল্পের জন্য কোড লেখে। এসব প্রতিযোগিতাতেও বাংলাদেশি প্রোগ্রামাররা অংশ নিচ্ছেন সফলভাবে। কম্পিউটার প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা এবং বিশ্বব্যাপী অনেক সফল কর্মকাণ্ডে আমাদের তরুণ মেধাবী প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার কোনো বিকল্প নেই। দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ, সফটওয়্যার প্রকৌশল বিভাগ এবং এতদসংক্রান্ত নানামুখী কার্যক্রম চলছে। পাঠ্যক্রমের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এবং পরিবর্ধন হচ্ছে এবং ক্ষেত্রবিশেষে এই পরিবর্তন বা পরিবর্ধন গতানুগতিক স্রোতধারায় আশানুরূপ ফল বয়ে আনছে না। আমাদের সকল সম্ভাবনাকে সাফল্যে রূপান্তর করার জন্য শিক্ষকদেরকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মধ্যে দিয়ে সকল শিক্ষার্থীদের আরও উদ্যোগী করে তোলা সম্ভব।

কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, আইসিপিসি, গুগল কোড জ্যাম, গুগল সামার অব কোড, কোড সেফসহ সকল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য আনতে হলে আমাদের সকল শিক্ষাকার্যক্রমের পাশাপাশি প্রয়োজন—

শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, বিষয়বস্তুর সাথে বাস্তবমুখী প্রকল্পের সফল সন্নিবেশ, শিক্ষার্থীদের সঠিক দিক নির্দেশনা ও সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী করে তোলা, শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ, আভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার।

সর্বোপরি প্রয়োজন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনসহ সরকারের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা।

লেখক :পরিচালক, ঢাকা আঞ্চলিক আইসিপিসি (২০০৭, ২০১২); অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ, ড্যাফোডিল আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
নারায়ণগঞ্জে ৭ খুনের ঘটনায় র্যাবের মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান বলেছেন, 'র্যাবের কেউ জড়িত থাকলে তাকে রক্ষার চেষ্টা করব না, বিভাগীয় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হবে।' তিনি কি এ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারবেন?
9 + 4 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুলাই - ২৭
ফজর৪:০২
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৪৭
এশা৮:০৮
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:৪২
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: ittefaq.adsection@yahoo.com, সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: ittefaqpressrelease@gmail.com
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :