The Daily Ittefaq
ঢাকা, মঙ্গলবার ১০ জুন ২০১৪, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২১, ১১ শাবান ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ বিদেশি বন্ধুদের সম্মাননা স্মারক হিসেবে দেয়া ক্রেস্ট নতুন করে দেবে সরকার | বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অনুসন্ধানে বাংলাদেশ সফর করুন : প্রধানমন্ত্রী | বাউল শিল্পী করিম শাহের ইন্তেকাল | মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় গার্মেন্ট পল্লী নির্মাণে বাংলাদেশ-চীন সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষর | সিলেটে দেয়াল চাপায় ৩ ভাই-বোনের মৃত্যু

ইতিহাসের পাতা থেকে

এ কে এ ম মু জি ব

জাতিসংঘের সদস্য সংখ্যা ১৯৩ হলেও ফিফার সভ্য ২০৯! ছোট্ট এ তথ্যটাই ফুটবলের বিশালত্ব বুঝিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। এক বিশ্বকাপেই তো খেললো ৩২ টি দল। অথচ একটা সময় স্রেফ শখের বশে খেলা হতো ফুটবল। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর উন্নতি হয় ১৮৮২ সালে। গ্ল্যাসগোতে প্রথম ম্যাচটি খেলে ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড।

বিশ্বকাপ আয়োজনের মত অবস্থায় যেতে সময় লেগেছে আরও অনেক দিন। ফিফা যাত্রা শুরু করার আগ পর্যন্ত এই অপেশাদার রূপটা বলবত্ ছিল। আনুষ্ঠানিক ভাবে ফিফা যাত্রা করে ১৯০৪ সালের ২১ মে প্যারিসে। প্রথমে সদস্য ছিল কেবল সাতটা ইউরোপিয়ান দেশ — বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও জার্মানী।

একটা সময় এখনকার দিনের বিপুল জনপ্রিয় ফুটবলের গণ্ডি ছিল কেবল অলিম্পিক গেমস। তাও আবার ১৯০০ ও ১৯০৪ সালে অলিম্পিকে ফুটবল পেতো কেবল প্রদর্শনীমূলক খেলার মর্যাদা। মানে হলো, খেলা হবে ঠিকই কিন্তু কোন পদক থাকবে না। কিন্তু 'দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ' বলে কথা। ফিফার যাত্রা শুরু করার পর ধীরে-ধীরে নিজেদের বিস্তৃত করতে শুরু করলো ফিফা।

সেই লক্ষ্যে ১৯০৬ সালে সুইজারল্যান্ডে আয়োজন করা হয় একটি প্রতিযোগিতার। এই টুর্নামেন্টটির ব্যাপারে খুব বেশি কথা শোনা যায় না। কথিত আছে, আন্তর্জাতিক ফুটবলের বয়স খুব কম বলে সেই প্রতিযোগিতাকে ব্যর্থ বলে ঘোষণা দেয় ফিফা।

১৯০৮ সালে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে ফুটবলের মর্যাদা খানিকটা বৃদ্ধি পায়। লন্ডনে সেবার গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে ফুটবল প্রতিযোগিতা আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) ছিল এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক। তবে এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয় শুধুমাত্র অপেশাদার ফুটবলারদের জন্য। প্রথম দফায়, গ্রেট ব্রিটেন স্বর্ণ পদক পায়।

ঠিক এক বছর পরই ১৯০৯ সালে, স্যার থমাস লিপটন ইতালির তুরিনে 'স্যার থমাস লিপটন ট্রফি' আয়োজন করেন। সেখানে কোনো জাতীয় দল অংশ না নিলেও বিভিন্ন দেশের ক্লাবগুলো তাদের নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করে। এতে অংশগ্রহণ করে ইতালি, জার্মানি, সুইজারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের খ্যাতনামা পেশাদার দল। তখনকার সময় এটাকে বিশ্বকাপ বলেই দাবি করা হতো। এমনকি ক্লাবগুলোও নিজেদের বিশ্বজয়ী বলে দাবি করে। প্রথমবার এই টুর্নামেন্টটির শিরোপা জয় করে ওয়েস্ট অকল্যান্ড টাউন ফুটবল ক্লাব।

অনেক চেষ্টার পর ১৯১৪ সালে ফিফা, অলিম্পিক প্রতিযোগিতায় ফুটবলকে 'অপেশাদার বিশ্ব ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ' হিসেবে স্বীকৃতি দিতে রাজি হয় এবং এই প্রতিযোগিতা পরিচালনার দায়িত্ব তারা নিজেরাই নেয়। এর মধ্য দিয়েই বিশ্বের প্রথম আন্তঃমহাদেশীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজনের দ্বার উন্মোচিত হয়। ১৯২০ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে প্রথম নতুন এই পদ্ধতির প্রচলন হয়। এতে অংশ নেয় মিসর ও ১৩টি ইউরোপিয়ান দল। এরপর ১৯২৪ সাল থেকে ফিফা পেশাদার ফুটবল খেলা শুরু করে।

১৯২৮ সালে ফিফা, অলিম্পিকের বাইরে আলাদাভাবে একটি বিশ্বকাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়। ইতালি, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, স্পেন ও উরুগুয়ে এই বিশ্বকাপ আয়োজনের ইচ্ছা প্রকাশ করে। ইউরোপিয়ান দেশগুলোর অনেক আগ্রহ সত্ত্বেও প্রথম বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় দক্ষিণ আমেরিকায়। ফিফা ১৯২৯ সালে বার্সেলোনায়- একটি সেমিনারে এই ঘোষণা দেয়। সে বছরই উরুগুয়ে তাদের স্বাধীনতার শতবর্ষে পা দিয়েছিল। আর এর এক বছর আগের সফল অলিম্পিক আয়োজনের কল্যাণে ফিফাও তাদের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

প্রথম বিশ্বকাপে ছিল না কোন বাছাইপর্ব। পরের কোন বিশ্বকাপেই আর সেই ঘটনা ঘটেনি। এটা ছিল আমন্ত্রণভিত্তিক টুর্নামেন্ট। ফিফা তার সহযোগী সব দেশকেই অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানায়। শেষ পর্যন্ত ১৩টি দল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে আমেরিকা অঞ্চলের নয়টি এবং ইউরোপের চারটি।

১৯৩০ সালে বেলজিয়াম, ফ্রান্স, রোমানিয়া ও যুগোস্লাভিয়া দলের খেলোয়াড়রা জাহাজে করে রওনা দেন। একই জাহাজে জুলে রিমে ট্রফিসহ তিনজন ইউরোপীয় রেফারিকেও নেয়া হয়। একই বছর ২৯ জুন রিও ডি জেনিরো থেকে ব্রাজিল দলকে নৌকাতে উঠানো হয় এবং দলটি ৪ জুলাই উরুগুয়েতে পৌঁছায়। মার্সেই থেকে যুগোস্লাভিয়া দল বাষ্পীয় ইঞ্জিনের জাহাজে করে ফ্লোরিডা হয়ে উরুগুয়েতে পৌঁছায়। অলিম্পিকে সাফল্য পাওয়া মিসর দলের আসার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তারা জাহাজ মিস করে।

বিশ্বকাপের প্রথম গোল করেন ফ্রান্সের লুসিয়েন লরেন্ত। ফাইনালে উঠে প্রতিযোগিতার ফেভারিট উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনা এবং ৯৩,০০০ দর্শকের সামনে উরুগুয়ে ৪-২ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে। এর আগে ১৯২৪ সালে ফিফা আয়োজিত প্রথম অলিম্পিক ফুটবলেই বাজিমাত্ করেছিল উরুগুয়ে। ৬০ হাজার দর্শকের সামনে ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সোনা জিতে তারা। ১৯২৮ সালে আমস্টার্ডামে তারা সোনা জিতে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে। একই ধারাবাহিকতায় আসে বিশ্বকাপ।

১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে ইতালি প্রথম দেশ হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জিতলো। কিন্তু এরপরই শুরু হলো দীর্ঘ সময় ধরে ফিফার এক অন্ধকার যুগ। আসলে পৃথিবীই তখন এক অন্ধকার যুগে আচ্ছন্ন ছিল বিশ্বযুদ্ধের কারণে। এই দাপটে ১৯৪২, ১৯৪৬ সালের দুটি বিশ্বকাপ মাঠেই গড়াতে পারেনি। বিশ্বযুদ্ধ শেষেও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে টানাপড়েনের ফলে বন্ধই ছিল বৈশ্বিক এ আয়োজন।

বিশ্বযুদ্ধের পর আবার বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করতেই পর পর দুটি বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে গেল ফুটবল। ফুটবলতীর্থ ব্রাজিলে প্রথম বিশ্বকাপে, ১৯৫০ সালে শিরোপা জিতলো সেই উরুগুয়ে। তবে এবার ফেবারিট ব্রাজিলকে মারাকানায় কাঁদিয়ে। আর পরের বিশ্বকাপেই ১৯৫৪ সালে সর্বকালের অন্যতম সেরা দল হাঙ্গেরিকে কাঁদিয়ে বিশ্বকাপ জিতলো পশ্চিম জার্মানি।

মারাকানাজোর সেই দুঃখ ব্রাজিলিয়ানদের আজো কাঁদিয়ে বেড়ায়। দেশের বাইরে অবশ্য ১৯৫৮ সাল থেকেই ব্রাজিল সৃষ্টি করেছে একের পর এক বিস্ময়। দেশের মাটিতে ফাইনাল খেলেও হতাশ দলটি অবশেষে নিজেকে ফিরে পেল ১৯৫৮ সালে। টানা দুটি বিশ্বকাপ জিতে বুঝিয়ে দিল, তারা ফুটবল বিশ্ব শাসন করতে এসেছে।

ফিফায় যোগ দিতে সবচেয়ে টালবাহানা করা ইংল্যান্ড ১৯৬৬ সালে জিতে নিলো নিজেদের প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র শিরোপা। তবে সত্তরের দশকে ফুটবল বিশ্বে আসল আলোচিত ব্যাপার ব্রাজিলের জুলে রিমে ট্রফি একেবারে নিয়ে যাওয়া এবং ফিফা বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু। ১৯৭০ সালে তৃতীয়বারের মতো জুলে রিমে ট্রফি জেতায় সেটা একেবারেই দিয়ে দেয়া হয় ব্রাজিলকে। আর ১৯৭৪ সালে বিজয়ী জার্মানিকে দেয়া হয় বর্তমান ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি। বলা হয় এই সময় থেকেই আধুনিক হয়ে উঠলো ফুটবল।

১৯৭৮ বিশ্বকাপ দিয়ে প্রথমবারের মত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের গুছিয়ে নিতে শুরু করে আর্জেন্টিনা। সেই প্রথম ১৯৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার পর থেকে সেরা খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে না পাওয়ার দুঃখ ঘুচিয়ে অবশেষে আর্জেন্টিনা এই সময় তিনটি আসরের দুটিই জিতে নেয়।

এর মধ্যেই, ব্রাজিল তার ইতিহাসের সেরা ফুটবলটা খেলেও আগের দশক ধরে ট্রফি শূন্য থাকায় এক অদ্ভুত হাহাকার তৈরি হয়েছিল। এমনকি 'জোগা বোনিতো' বা সুন্দর ফুটবলের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠে গেল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই সুন্দর ফুটবল থেকে সরে এসেই জিতলো তারা ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ।

পরের বিশ্বকাপেই অবশ্য সেলেচাওদের জন্য দুঃস্বপ্ন নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন জিনেদিন জিদান। জিজু ও তার ফরাসি সতীর্থদের জাদুকরী ইউরোপীয় ফুটবলের জয় হলো ১৯৯৮ সালে। ফ্রান্স বিশ্বকাপ জিতলো। এর চার বছর বাদেই এশিয়াতে প্রথমবারের মতো আয়োজিত বিশ্বকাপে আগের মতো ছন্দোবদ্ধ ফুটবল খেলে ব্রাজিল জিতলো তাদের পঞ্চম ট্রফি। সর্বশেষ দুটি টুর্নামেন্টে তাদের জন্য লড়াইটা শেষ হয়ে গিয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনালে। ২০০৬ ও ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল যথাক্রমে ইতালি ও স্পেন।

এবার আবারও ফুটবল বিশ্বকাপ সেই সুন্দর ফুটবলের দেশ ব্রাজিলে। এর মধ্যে ফুটবলটাও হয়ে উঠেছে আরও সুন্দর, আরও গতিশীল এবং আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ফিফাও এর মধ্যে পার করে ফেললো বর্ণিল ১১০ টি বছর।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
ব্যাংক জালিয়াতি রোধে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে পরিচালক নিয়োগে মানদণ্ড নির্ধারণের ওপর বিশেষ নজর দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। জালিয়াতি রোধে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে কি?
9 + 5 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১৫
ফজর৫:১২
যোহর১১:৫৪
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩৫
সূর্যোদয় - ৬:৩৩সূর্যাস্ত - ০৫:১২
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: ittefaq.adsection@yahoo.com, সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: ittefaqpressrelease@gmail.com
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :