The Daily Ittefaq
ঢাকা, শুক্রবার ২৭ জুন ২০১৪, ১৩ আষাঢ় ১৪২১, ২৮ শাবান ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ সাভারে শিশুকে বিষ খাইয়ে বাবার আত্মহত্যা

আহমদ ছফার 'বিশ্ববিদ্যালয়ের আত্মা'

সিদ্দিকুর রহমান খান

ছিপছিপে গড়নের ছাত্রটি বলতে থাকলেন ওই যে ছফা চত্বর, ওখানে ছফা স্যারের অনেক স্মৃতি। প্রখর চাহনির ছোটখাটো গড়নের ছাত্রটির চোখে চোখ রেখে জানতে চাইলাম ছফা তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন না তবু তাঁকে স্যার বলছেন কেন? অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জবাব, দু-একজন ব্যক্তিবিশেষের বিরোধিতার কারণে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। কিন্তু ছফা স্যার দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ছাত্রাবাসে অবস্থানকালে ছাত্র হিসেবেই বিশ্ববিদ্যালয়কে অনেক কিছু দিয়েছেন, আলোকিত করেছেন এ ক্যাম্পাস, তাঁর মতো ছাত্র পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ই সমৃদ্ধ হয়েছিল। ছাত্র হিসেবে তিনি যা দিয়েছেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বুড়ো শিক্ষকও অনেক বছর অধ্যাপনা করেও তা দিতে পারেননি। আমরা তাঁকে স্যারই বলি।

ছাত্রটি আরো বলতে থাকলেন, চারুকলার সামনের এ বইয়ের দোকানটিতে দেখেন, সরদার ফজলুল করিম স্যার, আহমদ শরীফ স্যার, হুমায়ুন আজাদ স্যার ও আহমদ ছফা স্যারের বই-ই সবেচয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। এক নাগাড়ে বলতে থাকা ছাত্রটির দিকে অপলক তাকিয়ে থাকলাম।

উপর্যুক্ত কথামালা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের এক ছাত্রের। বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার সামনের ফটুপাতের বইয়ের দোকানটিতে গিয়েছিলাম আহমদ ছফার 'গাভী বিত্তান্ত' উপন্যাসটি কিনতে। ওখানেই ছাত্রটির সঙ্গে পরিচয়। তাঁর হাতে ছফার লেখা 'যদ্যপি আমার গুরু' বইটি। তিনি ছফাকে স্যার সম্বোধন করে নানা হূদয়স্পর্শী কথা বলছিলেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এ ছাত্রটির যা বয়স, আমার অনুমান তাতে তিনি আহমদ ছফাকে নিজ চোখে দেখেননি। অনুমানটা ঠিক কিনা তা জানার জন্য প্রশ্ন করি। না-বাচক জবাব এল। স্কুলজীবনে নাম শুনেছেন চট্টগ্রামের গাছবাড়িয়ার অজপাড়াগাঁয়ে জন্মানো ছফার। বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে শুরুতেই বড় ভাইদের পরামর্শে ছফার 'গাভী বিত্তান্ত' উপন্যাসটি পড়েছেন। তারপর গোগ্রাসে বেবাক রচনাবলি।

প্রিয় পাঠক, 'গাভী বিত্তান্ত' কিনতে ফুটপাতের ওই দোকানটিতে কেন গিয়েছিলাম তা ব্যাখ্যা করে নিই। আগেরদিন টেলিফোনে আমার এক অনুজপ্রতিম সাংবাদিক জানতে চান আহমদ ছফার 'গাভী বিত্তান্ত' উপন্যাসটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে। তাঁকে বললাম পরের সন্ধ্যায় ওই দোকনটির সামনে আসতে। উদ্দেশ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়নায় সমাজ ও জাতিকে নিয়ে লেখা নিরীক্ষাধর্মী কালজয়ী এ উপন্যাসটি তাঁকে উপহার দেওয়া। ১৯৯৫ সালের বাংলা একাডেমি বইমেলায় প্রকাশিত এ উপন্যাসেই ছফা বলেন : 'আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়টির ছিলো গৌরবময় অতীত। অনেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে গোটা দেশের আত্মার সঙ্গে তুলনা করে গর্ববোধ করতেন। ... অতীতের গরিমার ভার বইবার ক্ষমতা বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেই। সাম্প্রতিককালে নানা রোগব্যাধি বিশ্ববিদ্যালয়টিকে কাবু করে ফেলেছে। মাছের পচন যেমন মস্তক থেকে শুরু হয়, তেমনি যাবতীয় অসুখের জীবাণু শিক্ষকদের চিন্তা-চেতনায় সুন্দরভাবে স্থান করে নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বরজারি, ধনুষ্টংকার নানা রকমের হিষ্টিরিয়া ইত্যাকার নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাধিগুলো শিক্ষকদের ঘায়েল করেছে সব চাইতে বেশি। এখন শিক্ষক সমাজ বলতে কিছু নেই। ...বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে বেশি পেঁচাল পাড়লে মিয়া মুহম্মদ আবু জুনায়েদের উপাচার্য হওয়ার উপাখ্যানটি অনাবশ্যক লম্বা হয়ে যায়।' ছফার এ উপন্যাসটির রচনাকাল ১৯৯৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৫। রাষ্ট্র ক্ষমতায় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। উপন্যাসটি প্রকাশের পরপরই প্রায় সবগুলো বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল ছাত্র-শিক্ষকরা রীতিমতন পাঠ্যবইয়ের মতো এটি পড়ে ফেলেন। ওই সময় পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বলতে মূলত সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতাসহ নানা খরচাদি জোগান দিয়ে চালানো 'তথাকথিত' স্বায়ত্ত্বশাসিত বা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে বোঝানো হতো। আর বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতি তথা উচ্চশিক্ষার সার্বিক পচন নিয়ে লেখা ওই সময় পর্যন্ত এটিই একমাত্র উপন্যাস। এর প্রায় ১১ বছর পর অর্থাত্ ২০০৬ সালে ছফার বন্ধু ও সুহূদ জনপ্রিয় সাহিত্যিক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কর্মকাণ্ড ঘিরে লেখা উপন্যাস 'মহব্বত আলীর একদিন' প্রকাশিত হয়। প্রকাশের দিনেই কিনে নিয়ে একনাগাড়ে পড়তে থাকি। কিছুটা পড়ার পর মনে হলো, ছফার পথেই হেঁটেছেন তাঁর শিষ্য জাফর ইকবাল। 'গাভী বিত্তান্ত' উপন্যাসের রচনাকালও খালেদার জমানা, 'মহব্বত আলীর একদিন'ও, মাঝখানে শুধু এক দশকের ব্যবধান। 'গাভী বিত্তান্ত' উপন্যাসের নায়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আর 'মহব্বত আলীর একদিন' উপন্যাসের নায়ক শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের। দুই উপাচার্যই গাভী পুষতেন। জাফর ইকবাল বর্ণিত শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে খালেদার দ্বিতীয় মেয়াদের সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই প্রেষণে নিয়োগ দিয়েছিলেন। এ উপন্যাসের আরো কিছুটা পড়ার পর মনে হলো, আলাদা কোনো উপন্যাস পড়ছি, নাকি বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতির আলোকে নতুন করে আহমদ ছফার 'গাভী বিত্তান্ত' শিরোনামের কোনো সাহিত্য সমালোচনা পড়ছি।

পাঠক, এ লেখাটি যখন লিখছি তখন মুহম্মদ জাফর ইকবাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রশ্নফাঁস বন্ধে ব্যবস্থা ও শিক্ষামন্ত্রী কর্তৃক প্রশ্নফাঁস স্বীকার করে নেওয়ার দাবিতে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করে চলছেন। শহীদ মিনারটিও ছফাবর্ণিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য মহোদয় বাছবিচারহীনভাবে সভা-সমাবেশে হাজির হলেও শিক্ষার ধ্বংস ঠেকাতে জাফর ইকবালের অবস্থান কর্মসূচিতে থেকেছেন গরহাজির।

বেশ কয়েকবছর ধরে এসএসসি ও এসইচএসসিতে ডাবল প্রথম বিভাগ বা জিপিএ ফাইভ পাওয়া শিক্ষার্থীরাও মৌলিক বিষয়ে অতি দুর্বলতা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করছেন বলে জাফর ইকবাল তাঁর লেখায় প্রকাশ করেছেন। তিনি যেসময়ের কথা বলেছেন তখন প্রশ্নফাঁস বা নকল প্রায় ছিল না। তুলনামূলক গ্রহণযোগ্য সেসময়ের পাবলিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়াদের যোগ্যতা নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে শিক্ষকদের চোখ কপালে উঠত। অযোগ্য শিক্ষার্থী নিয়ে খাবি খেতেন শ্রেণিকক্ষে। এখন আগের রাতে প্রশ্ন পেয়ে পরের দিন পরীক্ষা হলে গিয়ে জিপিএ ফাইভ পাওয়াদের শিক্ষার্থী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পেয়ে কী অবস্থা দাঁড়াবে তা নিয়ে মহাচিন্তিত জাফর ইকবালসহ সত্যিকারের শিক্ষাবিদগণ। অনৈতিক কারবার দিয়ে জীবনের সবগুলো পাবলিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এ কচি আত্মাগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের জন্যও ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন বা বিকল্প পথ খুঁজতে চেষ্টিত হবেন। হয়তো পেয়েও যাবেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীও হবেন, কয়েক বছর বাদে শিক্ষকও বনে যাবেন নানা পরিচয়ে। 'গাভী বিত্তান্ত' উপন্যাসে বিশ্ববিদ্যালয়কে গোটা দেশের আত্মার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। আমার মনে হয় যদি দেশের আত্মা হয় বিশ্ববিদ্যালয় তবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীই বিশ্ববিদ্যালয়ের আত্মাকে ধারণ করে। বিশাল ক্যাম্পাস বা বড় বড় দালানকোঠা না। ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পেয়ে ভালো জিপিএ পেয়ে কলুষিত আত্মা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করবেন লাখ লাখ শিক্ষার্থী। উত্তীর্ণ হয়ে দেশ চালানোর জন্য বড় বড় দায়িত্বও নেবেন! এসব ভেবে শিহরিত জাফর ইকবালরা মাঠে নেমেছেন প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে। প্রশ্নফাঁসের প্রতিকার দাবি উপেক্ষা করে শিক্ষামন্ত্রীর নেয়া বিতর্কিত অবস্থান নিয়ে বেশ কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে জাফর স্যারের লেখা ছাপা হয়েছে। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ৬ জুনের লেখাটির এক জায়গায় তিনি আক্ষেপ করে বলেছেন, 'যেসব সংবাদপত্র এতদিন ভুলেও প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে একটি লাইনও লেখেনি তারা সম্পাদকীয় লিখতে শুরু করল।' যে প্রধান পত্রিকার বিরুদ্ধে জাফর ইকবালের বক্তব্য সেটিই কিন্তু প্রশ্নফাঁস নিয়ে জাফর ইকবালের লেখা একটি নিবন্ধও ছাপেনি। এমনকি ৬ জুনেরটাও না। অথচ ওই পত্রিকায় একই দিনে উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত একটি ভয়াবহ খবর ছাপা হয়েছে। খবরটির সারমর্ম মোটামুটি এরকম :দীর্ঘদিন যাবত্ অবৈধভাবে চালু থাকা বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস খোলার অনুমতি দেওয়ার লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি বিধিমালা জারি করেছে। মোটাদাগে এর সম্ভাব্য ভয়াবহতা এরকম :বর্তমানে টাকা দিয়ে দেশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট কেনা যায়, কিন্তু বিধিমালা জারির ফলে দেশে বসেই বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট আরো কম দামে কেনার সুযোগ তৈরি হবে! প্রশ্নফাঁসে এসএসসি/এইচএসসি পার আর ঘরে বসেই ডলারে মিলবে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএ/এমএ/এমমফিল/পিএইচডি সার্টিফিকেট!

আমার লেখাটি শেষ করার আগে আহমদ ছফার উপন্যাস প্রসঙ্গে কেন সংবাদপত্র ও জাফর ইকবালকে নিয়ে এত কথা বললাম তার একটা কৈফিয়ত দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করছি। ১৯৯৭ থেকে ২০০০ সাল—এই সময়ে প্রকাশিত কয়েকটি পত্রিকায় দেদার লিখে চলছেন জাফর ইকবাল। এর মধ্যে একটি পত্রিকায় নানা বিষয়ে প্রায় প্রতিদিন লিখতেন। এক বিকেলে ইহা, ৭১, আজিজ সুপার মার্কেট, ঢাকায় আহমদ ছফার সাহিত্য আড্ডাখানায় এলেন জাফর ইকবাল। কুশলাদি বিনিময়ের সঙ্গে সঙ্গেই জাফর ইকবালকে উদ্দেশ করে ছফা বলতে থাকলেন : 'সদ্য প্রকাশিত পত্রিকাগুলো নিজেদের কাটতি বাড়াতে তোমার মতো জনপ্রিয় লেখকদের দিয়ে লিখিয়ে নিচ্ছেন শুধু্ই তাদের প্রয়োজনে। পত্রিকাটি জনপ্রিয় হওয়ার পর যখন নিজেদের ব্যবসায় ক্ষতি হবে তখন তোমার কোনো গুরুত্বপূর্ণ লেখা অথবা খবর না-ও ছাপতে পারে। পত্রিকায় লিখে সময় নষ্ট না করে বরং এ সময়টা তোমার ছাত্রদের পেছনে ব্যয় করো। তুমি তো দেশের টানে আমেরিকার বিলাসী জীবন ছেড়ে মাতৃভূমির বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে এসেছ। সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের/ ক্যাম্পাসে যত সময় দিবে ততই ভালো।' এ জুন মাসের ৩০ তারিখ মনীষী ছফার জন্মদিন। দেশ-জাতি রক্ষায় এ মাসেই জাফর ইকবাল বৃষ্টি উপেক্ষা করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। কতিপয় সংবাদমাধ্যম জাফর ইকবালের কর্মসূচির খবর উপেক্ষা বা প্রায় উপেক্ষা করছেন। প্রাজ্ঞ ও ভবিষ্যত্দ্রষ্টা ছফার সেই সতর্কবাণীটি মনে পড়ছে আমার।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরির কারণে সিলেটেই থাকেন জাফর ইকবাল। শিক্ষামন্ত্রীর বাড়িও সিলেটে। দুজনের মধ্যে মিলও দারুণ। প্রায় ২০০৭ সাল থেকে শুরু করে গত বছর পর্যন্ত সরকার গঠিত শিক্ষা ও বিজ্ঞান বিষয়ক প্রায় সব কমিটিতেই জাফর ইকবালকে রাখা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে সারাদেশের সচেতন পক্ষ হই-চই করছে। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা খোলার অনুমতির বিরোধিতা করে হয়তো দেশীয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকরা হই-চই করবেন, মন্ত্রী যথারীতি নির্বিকার থাকবেন! কিন্তু যেটি নিয়ে কোনো হই-চই নেই, হয়নি—সেটি হলো স্বতন্ত্র ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস ও তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপাচার্য নিয়োগ। গত বছর যখন এটি পাস হলো তখন সংসদে দাঁড়িয়ে শিক্ষামন্ত্রী এর পক্ষে সাফাই গাইলেন। বললেন, এ আইন পাসের মাধ্যমে প্রায় ৭৫ বছরের পুরোনো একটি দাবি পূরণের পথ উন্মুক্ত হলো। আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিমধ্যে একজন উপাচার্য নিয়োগ করা হয়েছে। তিনিও ছফার 'গাভী বিত্তান্ত' উপন্যাসের উপচার্যের মতো একই প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই একজন শিক্ষক। প্রেষণে আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পেয়েছেন। এখানে ভর্তি হবেন দাখিল, আলিম উত্তীর্ণরা। তাঁরাই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আত্মার অংশীদার হবেন।

পাঠক, ১৯৯৭ সালের নভেম্বরে আওয়ামী লীগ শাসনকালে ইসলামি নেতা হাফেজি হুজুর ঢাকার কামরাঙ্গীর চরে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকল্পে ইসলামি সম্মেলনের আয়োজন করেন। ওই সম্মেলনে ছফাকে অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করতে নিমন্ত্রণ করেন হাফেজি হুজুর। বন্ধু রতন বাঙালিকে নিয়ে ছফা হাজির হলেন ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা অনুষ্ঠানে। এক ঘণ্টার বক্তৃতা সবাই মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন, আশ্চর্যজনকভাবে মাইক কেড়ে নিয়ে ছফাকে সভাস্থল থেকে বের করে দেননি! ছফার বক্তৃতার সারাংশ ছিল এরকম :বিশ্ববিদ্যালয় একটি গালভরা শব্দ। ...বিশ্ববিদ্যালয় ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া জিনিস নয়। টাকা দিয়ে আসবাবপত্র কেনার মতো করে বিশ্ববিদ্যালয় সৃষ্টি সম্ভব নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আত্মা থাকতে হয়। ইট, কাঠ, লোহালক্কড় দিয়ে ইমারত বানালে সেখানে আত্মার সঞ্চার হয় না। কামরাঙ্গীর চরের নরম মাটি ভেদ করে হঠাত্ করে একটা বিশ্ববিদ্যালয় জেগে উঠবে এরকম অসম্ভব প্রত্যাশা আমাদের নেই।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেছেন, 'তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সইয়ের ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।' আপনি কি মনে করেন এ সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে?
6 + 2 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১৬
ফজর৫:১২
যোহর১১:৫৪
আসর৩:৩৯
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩৫
সূর্যোদয় - ৬:৩৩সূর্যাস্ত - ০৫:১২
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :