The Daily Ittefaq
ঢাকা, রবিবার ২৭ জুলাই ২০১৪, ১২ শ্রাবণ ১৪২১, ২৮ রমজান ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ দুই মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ ৩ সেপ্টেম্বর | বিএনপির সাথে কোন সংলাপ হবে না : নাসিম | খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা | হামাস ২৪ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতিতে রাজি | কুমিল্লার চান্দিনায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩

সাংবিধানিকভাবেই আগামী নির্বাচন হবে :প্রধানমন্ত্রী

মেহেদী হাসান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতে সাংবিধানিকভাবেই হবে। এখানে অস্পষ্টতার কিছু নেই। যারা অগণতান্ত্রিক কোন কিছু খুঁজছে তাদের কাছে এটা অস্পষ্ট লাগছে। বিএনপির আন্দোলনকে মাঠেই প্রতিরোধ করার প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির আন্দোলন মানে জ্বালাও-পোড়াও ও মানুষ হত্যা করা। নতুন করে অশান্তি সৃষ্টি করতে বিএনপি ঈদের পর আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, তাদের সঙ্গে মাঠে দেখা হবে। মাঠে আওয়ামী লীগসহ সবাই রয়েছে, দেশের সাধারণ জনগণও আছে। তাই মাঠের দেখা মাঠেই হবে। ফুটবল মাঠে কে কয়টা গোল দেয়, সেটা সেখানেই দেখা যাবে। তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে দেশের মানুষের এতটুকু ক্ষতি করার চেষ্টা করা হলে তা বরদাশত করা হবে না, কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় গণভবনে আহূত এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রীর সদ্য সমাপ্ত তিন দিনের লন্ডন সফরের অর্জন ও অভিজ্ঞতা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরতে এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। লিখিত বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী প্রায় ৫৫ মিনিট সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

বিএনপির সংলাপ প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কার সঙ্গে সংলাপ করবো? যারা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, আন্দোলনের নামে শত শত মানুষকে হত্যা করেছে, দেশের সম্পদ ধ্বংস করেছে- তাদের সঙ্গে কীভাবে সংলাপ হবে? গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপি যে রাজনৈতিক ভুল করেছে, তার খেসারত তাদেরই দিতে হবে। জামায়াত নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা হওয়ায় বিএনপি নির্বাচনে আসেনি। এটা তাদের ভুল সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, যদি দেশ চালাতে ব্যর্থ হতাম, তাহলে সংলাপ বা নির্বাচনের প্রশ্ন আসতো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ এখন শান্তি ও স্বস্তিতে আছে, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। দেশের অর্থনীতি সচল রেখেছি। দেশ আজ সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক বিশ্বে সুনাম অর্জন করছে। তবে নতুন করে অশান্তি সৃষ্টি করতে বিএনপি আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে। আরেকটি ১৫ আগস্ট ঘটানোরও হুমকি তাদের কাছ থেকে আসছে। এটা সরাসরি হত্যার হুমকি। মূলত তারা হত্যার পরিকল্পনা করে হুমকি দেয়। অতীতেও এ ধরনের হুমকির পরে আমার ওপর আঘাত এসেছে। একবার নয় বার বার। এই হুমকির মধ্য দিয়ে তারা প্রমাণ করেছে, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জিয়াউর রহমান ও তার পরিবার জড়িত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ট্রেন মিস করেছে। ট্রেন ছুটে চলে গেছে। এখন পরবর্তী ট্রেনের জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হবে।

উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা কী চাচ্ছেন তাদের (বিএনপির) আন্দোলনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা তাদেরকে সহায়তা করুক। যাতে আরো বেশি করে বাস পোড়াতে পারে, ট্রেন পোড়াতে পারে, মানুষ খুন করতে পারে। 'গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাজ্য সরকার অস্বস্তিতে আছে' মর্মে সম্প্রতি কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি (ডেভিড ক্যামেরন) তো সরকারকে নাকচ করেননি। বলেননি আমি প্রধানমন্ত্রী নই। যুক্তরাজ্য সরকারের যদি বাংলাদেশ সরকার সম্পর্কে কোনও দ্বিধা থাকতো, তাহলে আমাকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বারবার ফোন করে দাওয়াত দিতেন না। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইলেকশন নিয়ে আলোচনা হবেই। পার্টিসিপেটরি ইলেকশন, আনকনটেসটেড...এসব নিয়ে আলোচনা থাকতেই পারে। আলোচনার সময় যেকোন বিষয় উঠতেই পারে। কিন্তু বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ফরোয়ার্ড লুকিং। তিনি বলেছেন, যা হওয়ার হয়েছে ফিরে তাকাতে চাই না। সামনের দিকে তাকাতে চাই। ডেভেলপমেন্ট পার্টনার হিসেবে কাজ করে যেতে চাই। কিন্তু তারা (বিএনপি) খণ্ডিত কথা বলছেন।

কথিত সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, আসলে তারা কী চান? ঘরের বদনাম বাইরে ফলাও করে প্রচার করলে লাভ কী? মূলত পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচনের পর দেশের মানুষ শান্তি ও স্বস্তিতে আছে-এটা এক শ্রেণীর মানুষের পছন্দ হচ্ছে না। গণতান্ত্রিক ধারা ব্যাহত ও অসাংবিধানিক শক্তি ক্ষমতায় আসলে তাদের ভালো লাগতো। তারা চেয়েছিলেন থাইল্যান্ডের মতো পরিস্থিতি হোক। অগণতান্ত্রিক শক্তি ক্ষমতায় আসুক। এলে হয়তো তাদের গাড়িতে পতাকা উড়বে। এ কারণেই বর্তমান সরকারের কোন কিছুই তাদের ভালো লাগে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণত প্রতিবছর বাজেটের পর সব কিছুর দাম বাড়লেও এবার বাড়েনি। গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালেও জিনিসের দাম বৃদ্ধি পায়নি। তিনি বলেন, আমরা মূল্যস্ফীতি ১৩ থেকে ৬ দশমিক ৯ ভাগে নামিয়ে এনেছি। মৃত রেলকে তাজা ও নৌপথ ড্রেজিং করেছি। সড়ক পথ মেরামত করা হয়েছে। রাজধানীতে পানি সমস্যা দূর করা হয়েছে। দ্রব্যমূল্য ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রেখেছি, মানুষের আয় বাড়িয়েছি। মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও শান্তি যে ফিরে এসেছে ঈদ উপলক্ষে দেশজুড়ে কেনা-কাটার চিত্রই তা প্রমাণ করে। প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে ঈদের অগ্রিম শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে নিয়মিত তদারকি করছেন তিনি। যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সরেজমিন পরিদর্শন করেই মোবাইলে এসএমএস'র মাধ্যমে তাকে সব জানাচ্ছেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয়েছে, এদেশেই এ বিচার শেষ হবে। এজন্য ধৈর্য ধরতে হবে।

জামায়াতের সাথে আওয়ামী লীগের আঁতাত হয়েছে কিনা একজন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ আঁতাতের রাজনীতি করে না। তাছাড়া জামায়াতের কাছ থেকে কী পাওয়ার আছে? তিনি বলেন, জামায়াতকে কেউ কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পেরেছে? পারলে আমিই পারবো।

উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণে বাহাত্তরের সংবিধানে থাকা '৯৬ অনুচ্ছেদ পুনরায় ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে এখন সংসদীয় গণতন্ত্র বিদ্যমান। তাই জনগণের প্রতিনিধিদের হাতেই এ সংক্রান্ত ক্ষমতা থাকা উচিত। তিনি বলেন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল সামরিক শাসকরা করেছিল। পাকিস্তানের সময় প্রথমে আইয়ুব খান এবং স্বাধীনতার পর জেনারেল জিয়া সামরিক ফরমান দিয়ে এটা করেছিলো। কিন্তু গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার সঙ্গে এটি খাপ খায় না বলেই আলোচনাটা উঠেছে। হওয়াটাও সমীচীন। ১৯৭২ সালের সংবিধানে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকলেও পরে সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান এক সামরিক ফরমানে ওই অনুচ্ছেদ বাতিল করেন। বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা পরে দেয়া হয় 'সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের' কাছে। এ প্রসঙ্গ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, জিয়াউর রহমান সামরিক ফরমান দিয়ে ক্ষমতায় বসে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করেন। ইতিমধ্যে জিয়ার শাসনামল ও সামরিক ফরমানগুলো সর্বোচ্চ আদালত থেকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যেহেতু দেশে সংসদীয় গণতান্ত্রিক ধারা চলছে। সেজন্য বাহাত্তরের সংবিধানের ধারা ফিরিয়ে আনার কথা বলছেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। জনগণের প্রতিনিধিদের হাতেই ক্ষমতা থাকা উচিত।

১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগ-আপ্লুত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় শেখ রেহানা প্রথমে সুইডেনে যান। ১৯৮০ সালে লন্ডনে গিয়ে আমি পার্লামেন্ট গ্রুপ তৈরি করি। বঙ্গবন্ধুর হত্যার তদন্তে টিম গঠন করি। কিন্তু এই তদন্ত টিমকে জিয়াউর রহমান সরকার দেশে আসতে দেয়নি। শেখ হাসিনা বলেন, সম্মান দেয়া ও নেয়ার মালিক আল্লাহ। জন্মেছি যখন একদিন মরতে হবে। কিন্তু মরার আগে আমি মরি না। দেশের জন্য আমি কাজ করে যাবো, কোন হুমকিই আমাকে থামাতে পারবে না।

উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে বলেন, আপনারা কার সঙ্গে ডায়ালগ করতে বলছেন আমাকে? যে ১৫ আগস্ট ভুয়া জন্মদিন পালনের নামে উত্সব করে! আপনাদের বাবা-মা'র হত্যার দিন কেউ যদি মিথ্যা জন্মদিন পালন করে উত্সব করে, তাদের সঙ্গে কী আলোচনা করতেন? তারপরও পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে আমি আলোচনার উদ্যোগ গ্রহণ করি। বিএনপি নেত্রীকে নিজে ফোন করি। কিন্তু তার ফোন ধরতেই লেগে যায় আড়াই ঘণ্টা। তারপর আমার সাথে কী আচরণ করেছে তা সবার জানা। ওই সময় ডায়ালগের সব চেষ্টাই করেছিলাম। তবে সংলাপের সব চেষ্টাই উনিই (খালেদা জিয়া) ব্যর্থ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, কেন বারবার খুনীদের সঙ্গে বসতে হবে? জনগণের স্বার্থে যথেষ্ট করেছি, এখন আর নয়। যারা ক্ষমতায় থেকে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করেছে, যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে রক্তস্নাত জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছে, দুর্নীতি-সন্ত্রাস ও মানুষ হত্যা করেছে- তাদের সঙ্গে সংলাপে বসতে এক শ্রেণীর মানুষের এতো উতলা কেন? যদি তাই-ই চান তবে স্পষ্ট করে বলুন, ৭১, ৭৫ ও ২১ আগস্টের খুনীরা ভালো, দুর্নীতি-জঙ্গিবাদই শ্রেয়। এসবই আপনারা চান! সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা কেন বারবার সংলাপের কথা বলছেন, আমাকে এত অত্যাচার কেন, এত টর্চার কেন? আবেগজড়িত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামরিক স্বৈরতন্ত্রের অবসান ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্যই সবকিছু হারিয়ে ছোট ছেলেকে মাতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত করে দেশে ফিরে এসে রাজনীতিতে নেমেছি। অন্য কেউ এই সাহস দেখাতে পারতো না।

তিনি বলেন, গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াত যাদের পুড়িয়ে মেরেছে তারা এখনো দুর্বিষহ যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। সেই অবস্থা আর সৃষ্টি হতে দেয়া হবে না।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ওমরাহ পালনের সময়ে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) প্রেসিডেন্ট আহম্মেদ মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে সাক্ষাত্ হয়। এ সময় তারেক রহমান সেখানে ছিলেন। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, এটা তো তাদেরকেই (আইডিবি) প্রশ্ন করতে হবে। একজন ফেরারি আসামির সঙ্গে দেখা করে তারা কতোটা স্বস্তি বোধ করলো? তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এমনিতে তো কেস রয়েই গেছে। গ্রেনেড হামলা, মানিলন্ডারিং মামলা চলছে। আইন তার আপন গতিতে চলবে। এখন একটু গতি পাবে। 'জাতীয় পার্টি (জাপা) সত্যিকারের বিরোধী দল হতে পারেনি' এমন অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বরং এখন সংসদ অনেক ভালো আছে। মাইক ভাঙ্গা, গালি-গালাজ, মারামারি এগুলো আর নেই। আর বিএনপি যখন বিরোধী দলে ছিলো তখন এগুলো লেগেই থাকতো।

দণ্ডপ্রাপ্ত বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে একজন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নূর (নূর চৌধুরী) আছে কানাডায়, রাশেদসহ (রাশেদ চৌধুরী) কয়েকজন আমেরিকায় রয়েছে। আমরা তাদের ফেরত আনার উদ্যোগ নিয়েছি। তবে এটা তাদের (যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা) ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, তারা গণতান্ত্রিক দেশ। নির্বাচন হলো কী, হলো না- তা তারা নিক্তি দিয়ে মাপে। আবার খুনিদের আশ্রয় দেয়। এটাই তাদের দ্বৈতনীতি। আরেক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের কয়েকটি প্রচার মাধ্যমের দ্বৈতনীতিরও সমালোচনা করে তিনি বলেন, একদিকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে না, আর অন্যদিকে বিএনপি কেন ক্ষমতায় আসছে না— তা নিয়ে মায়াকান্না। এই দ্বৈতনীতি পরিহার করতে হবে।

লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী যা বলেন

সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্বের আগে প্রধানমন্ত্রী তার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। লিখিত বক্তব্যে লন্ডন সফর প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে তার লন্ডন সফর অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন মাত্রায় উন্নীত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, লন্ডনে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে তার বৈঠক হয়। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও নারী উন্নয়ন, বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়ন, নারী স্বাধীনতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমাদের উদ্যোগ ও অর্জনের প্রশংসা করেন। তিনি জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের মূলোত্পাটনে আমাদের সরকারের কঠোর অবস্থানেরও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করে এদেশের অর্জনের কৌশল নিজ চোখে দেখতে চান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃটেনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ডেসমন্ড সোয়ানে আমাদের নারী উন্নয়ন, কন্যা শিশুর শিক্ষা ও দারিদ্র্য দূরীকরণে যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী লিখিত বক্তব্যে তার সাম্প্রতিক চীন ও জাপান সফরের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, উন্নয়নের সুপারওয়েতে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘসহ বিশ্বের অনেক দেশ আমাদের উন্নয়নকে এখন রোলমডেল হিসেবে দেখছে। আমরা দেশে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছি বলেই বাংলাদেশ আজ শক্ত অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু এখন আর স্বপ্ন নয়। নিজস্ব তহবিল থেকেই পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। দেশে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিপ্লব হয়েছে। মোবাইলে থ্রি জি চালু হয়েছে, অচিরেই ফোর জি চালু হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করেছি। আমাদের আমলে ৩২ টি টেলিভিশন, ২২ টি রেডিও অনুমোদন দিয়েছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সকলকে সাথে নিয়ে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করবো। ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ। আর এর মধ্যে জাতির পিতার সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন্ন পূরণ করবো। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড বানানোর স্বপ্ন দেখতেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু সদ্যপ্রয়াত সাংবাদিক ও সাবেক সংসদ সদস্য বেবী মওদুদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী বলেছেন, 'ভোটারবিহীন নির্বাচনে ক্ষমতায় এসে সরকার এখন অস্থিরতায় ভুগছে।' আপনিও কি তাই

মনে করেন?
3 + 3 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১৩
ফজর৫:১১
যোহর১১:৫৩
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩৪
সূর্যোদয় - ৬:৩২সূর্যাস্ত - ০৫:১২
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :