The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার ২৮ জুলাই ২০১৪, ১৩ শ্রাবণ ১৪২১, ২৯ রমজান ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ তোবায় আটকা শ্রমিক, বেতন দিচ্ছে বিজিএমইএ

অন্যদিগন্ত

রবীন্দ্রনাথ ও মিস্ত্রাল

রাজু আলাউদ্দীন

লাতিন আমেরিকার অন্য দেশগুলোর তুলনায় রবীন্দ্রনাথের প্রতি চিলের সাড়া ঘটেছে খানিকটা বিলম্বে। অন্তত আর্হেন্তিনার কথা বিবেচনায় রাখলে দেখা যাবে যে চিলেতে রবীন্দ্রনাথের প্রবেশ ঘটেছে ১৯১৭ সালে। তবে বিলম্বে হলেও রবীন্দ্রনাথের প্রভাব সেখানে ছিলো অপেক্ষাকৃত গভীর এবং বিতর্কে বহুবর্ণিল। বিতর্কের বিষয় নিয়ে আমার আরেকটি প্রবন্ধে বিস্তারিত আলোচনা থাকায় এখানে আর সে বিষয়ে উল্লেখ করছি না। বরং প্রভাব কতটা গভীর ছিলো সে নিয়ে আমরা কিছু তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখতে পারি।
প্রথমেই দেখা যাক, চিলেতে রবীন্দ্রভোগের সেই সূচনা মুহূর্তটি যার সূত্রপাত ঘটেছিলো রাউল রামিরেসের মাধ্যমে:“চিলেতে রবীন্দ্র-ধারার আনুকূল্য লাভ করেছিলো রবীন্দ্রনাথের প্রতি জনাব রাউল রামিরেসের আগ্রহ প্রকাশের মাধ্যমে যিনি ইংল্যান্ডে অল্প সময় থাকার পর ভারতীয় কবি সম্পর্কে বিপুল মুগ্ধতা নিয়ে দেশে ফেরেন। জনাব রামিরেস ইনস্তিতুতো পেদাগোহিকোতে রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে দুটো বক্তৃতা দেন। Liric offering, The Gardener এবং Crescent Moon থেকে কিছু কবিতার অনুবাদসহ বক্ততা দুটো ১৯১৭ সালে প্রকাশিত হয়” (Rabindranath Togore, Poeta y filosofo hindu, Imprenta Universo, 1917)। সব শেষে জ্ঞাতব্য বিষয় হিসেবে জনাব রামিরেস লেখেন, “আমার উষ্ণ এবং আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই চিলের শিল্পীদের মধ্যে যিনি সবচেয়ে উদ্দীপ্ত ও গভীর সেই গাব্রিয়েলা মিস্ত্রালের প্রতিও, এই কাজে তার সহযোগিতার জন্য।”
“Favorecio la boga de Tagore en Chile el interes que por el demostro el señor Raul Ramirez quien, despues de breve estada en Inglaterra, volvio a su patria con una gran admiracion por el poeta hindu. El señor
Ramirez dio dos conferencias sobre Tagore en el Instituto Pedagogico. Estas conferencias, con algunas traducciones de El jardinero, La luna nueva y Ofrenda lirica, fueron publicadas en 1917. Al fin de la advertencia escribe el señor Ramirez: ‘Vayan mis agradecimientos tambien, y muy calurosos y sinceros, a la mas inspirada y la mas honda de las artistas chilenas, a Gabriela Mistral, por su colaboracion en esta obra’.” (Arturo Torres Rioseco, La Hebra en la Aguja, cultura, Mexico, 1965, p 24-25)

প্রাবন্ধিক অনুবাদক রাউল রামিরেস ছাড়া চিলির আরও কয়েকজন প্রধান ও গৌণ লেখক উদ্দীপ্ত হয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথের দ্বারা। লাতিন আমেরিকার প্রথম সারির সাহিত্য সমালোচক ও অধ্যাপক আর্তুরো তররেস রিওসেকোর ভাষ্য থেকে আমরা জেনে নিতে পারি সেই নামগুলো:
“ভীষণ গণ্যমান্য সম্মানিত লেখকরাও প্রাচ্যরীতির প্রলোভনে আকৃষ্ট হয়েছিলেন যেমন পেদ্রো প্রাদো যিনি ১৯২৩ সালে Kerez-i-Roshan নামে যে বইটি লেখেন তার সাহিত্যিক কণ্ঠস্বরের জন্য রবীন্দ্রনাথের প্রকরণের কাছে রয়েছে ব্যাপক ঋণ। ক্রুচাগা সান্তা মারিয়ার নব্যপেত্রার্কবাদ, আর. এচেবেররিয়া ও মেসা ফুয়েন্তেসের নব্যরোমান্টিসিজম এবং অন্যান্য গৌণ কবিরা ভারতীয় কবির অভিব্যক্তির সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিয়েছিলেন। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক ঘটনাটি ছিলো পাবলো নেরুদার কুড়িটি প্রেমের কবিতা যার উপর রবীন্দ্রনাথের প্রভাব অভিযোগ আকারে চিহ্নিত হয়ে আছে।”
“Escritores de fuerte prestigio se dejaron tetar por la manera orientalista como en el caso de Pedro Prado, que en 1923 escribe sus libro Kerez-i-Roshan, torno literario que debe bastante a la tecnica de Tagore. El neopetrarquismo de Cruchaga Santa Maria, el romanticismo de R. Echeverria, de Meza Fuentes y otros poetas moneros, se orienta hacia la expresion de poeta hindu. El caso de mas interes es el de Pablo Neruda que en sus Veinte poemas de amor acusa marcada influencia de Tagore.” (Arturo Torres Rioseco, La Hebra en la Aguja, cultura, Mexico, 1965, p 26-27),

পাবলো নেরুদার প্রথম দিককার মনোগঠনে রবীন্দ্রনাথের কাব্যিক প্রক্ষেপের কথা এখন আমরা মোটামুটি সবাই জানি। কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে চিলির আরেক লেখক লুসিলা গদোই আলকাইয়াগা যিনি বিশ্বব্যাপী কেবল গাব্রিয়েলা মিস্ত্রাল নামেই বেশি পরিচিত হযে উঠবেন, তার লেখক-জীবনে এই প্রক্ষেপ ছিলো আরও গভীর এবং দীর্ঘস্থায়ী, তার কবিতায়, গদ্যে এবং শিক্ষাদর্শনে ছিলো এই প্রভাবের ত্রিমুখী বিস্তার। ক্যাথলিকবাদের প্রচলিত বিশ্বাস আর পশ্চিমী দর্শনের যুক্তিবোধের সাংস্কৃতিক আবহে মিস্ত্রাল মুক্তি খুঁজতে চেয়েছিলেন স্বজ্ঞা আর সার্বজনীন এক ধর্মবোধের মধ্যে যা তাকে রবীন্দ্রনাথের কাছাকাছি নিয়ে আসে। রবীন্দ্রনাথের প্রতি মিস্ত্রালের এই নৈকট্যের কথা স্পানঞল ভাষায় বহুল আলোচিত, বিশেষ করে মেহিকোতে এমমা গদই, এনরিকে এসপিনোসা ১, রাউল সিলবা কাস্ত্রো, গ্রোরিয়া রিয়েস্ত্রা এবং চিলের প্রাবন্ধিক অধ্যাপক আর্তুরো তররেস রিওসেকো গভীর পর্যবেক্ষণ ও ব্যাখ্যাসহ হাজির করেছেন তাদের প্রবন্ধে। আমরা যথাস্থানে তাদের ব্যাখ্যা ও পর্যবেক্ষণের সহযোগিতা গ্রহণ করবো। অন্যদিকে, ইংরেজি ভাষায়ও যখন মিস্ত্রালের জীবন ও কর্মের মূল্যায়ন হয়েছে তখনও অনিবার্যভাবে এসে হাজির হয়েছে আলোচকদের গ্রন্থে বা নিবন্ধে এই সম্পর্কের স্বরূপ। বিশেষ করে মার্টিন সি. টেইলর এই সম্পর্কের গভীরতাকে সবচেয়ে গুরুত্বের সঙ্গে অনুভব করেছেন। মার্টিন লক্ষ করেছেন যে কেবল কাব্যজীবনের উন্মেষ পর্বেই নয়, এমনকি মিস্ত্রালের কর্মজীবনের পরিপক্বতা অর্জনের ক্ষেত্রেও রবীন্দ্রনাথ সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। মিস্ত্রালকে নিয়ে লেখা Gabriela Mistral’s Struggle with God and Man: A Biographical and Critical study of the Chelean poet গ্রন্থে তাদের সম্পর্ক নিয়ে যে দুটো অধ্যায় (Tagore Catalyzes changes এবং Tagore and Universal Harmony) রয়েছে তার প্রথমটিতেই মার্টিন আমাদেরকে জানাচ্ছেন যে :
“লস আন্দেসে লুসিলা শিক্ষকতার প্রথম বর্ষে ছাত্রদের প্রতি তাঁর শিক্ষাদানের দায়িত্বসমূহের অন্তর্গত আগের উদাসীন রীতিটাই অনুসরণ করেছিলেন। যাইহোক, পরের বছর একটা পরিবর্তন ঘটে।”
“In Lucila’s first year of teaching in Los Andes, she displayed the same aloofness to students fostered in earlier teching assignments. In the second year, however, a transformation took place.” (Martin C. Taylor, Gabriela Mistral’s Struggle with God and Man: A Biographical and Critical study of the Chelean poet, McFarland, July 30, 2012, p -63)

এই পরিবর্তনটি ঘটেছিলো রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাদর্শের সাথে পরিচয়ের পরপরই। শুধু শিক্ষাদর্শনই নয়, রবীন্দ্রনাথের কাব্যাদর্শই ছিলো মিস্ত্রালের দীর্ঘকালের কাব্যজীবনের সঙ্গী। সমালোচক টেইলরের গভীর পর্যবেক্ষণ থেকে আমরা লক্ষ করবো যে মিস্ত্রালের মধ্যে দুটো ধারা ছিলো। একটা তাঁর শিক্ষকতা জীবনের, আরেকটা তার কাব্যজীবনের— এই দুই ধারাতেই রবীন্দ্রনাথের উপস্থিতি লক্ষ করে টেইলর বলেছেন যে:
“প্রথম ধারাটি ছিলো সাহিত্যিক এবং তা দীর্ঘস্থায়ী। লেখক গাব্রিয়েলা কবিতা ও গদ্যের ধরনটি রাবীন্দ্রিক ধারণাকে ঘিরেই গড়ে তুলেছিলেন। ১৯১৭ সালে, রবীন্দ্রনাথের নোবেল পুরস্কার পাওয়ার চার বছর পরে, রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে রাউল রামিরেসের গ্রন্থের জন্য ভারতীয় কবিকে নিয়ে তিনি ছয়টি মন্তব্য লিখেছিলেন।”
The first current was long-range and literary. Gabriela, the writer, fashioned her poetry and prose around Tagore’s ideas. In 1917, four years after his Nobel Prize, she wrote six commentaries on the Hindu poet for Raul Ramirez’s book on Tagore. (Martin C. Taylor, Gabriela Mistral’s Struggle with God and Man: A. Biographical and Critical study of the Chelean poet, McFarland, July 30, 2012, p -64)

আর এর পরের ধারাটি হচ্ছে শিক্ষা বিষয়ে, সে সম্পর্কে টেইলরের মন্তব্য হচ্ছে:

“শিক্ষিকা লুসিলা গোদোই দ্বিতীয় ধারাটিকে গতিশীল করে তোলেন। রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাচিন্তা এবং শান্তি নিকেতনের মতো উন্মুক্ত শিক্ষালয়ে তা প্রয়োগের কারণে যেসব শিক্ষাবিদ রবীন্দ্রনাথে মুগ্ধ ছিলেন লুসিলাও তাদের সাথে আত্মিকভাবে একাত্ম হয়েছিলেন। এক সময়কার অসফল শিক্ষক রবীন্দ্রনাথের বৈপ্লবিক পদ্ধতিসমূহ গ্রহণ করেন। ছাত্রছাত্রীদের প্রতি তার শীতলতা কাটতে থাকে। ওদেরকে তিনি Mis chiquillas (ছোট্ট সোনারা) বলেন, এবং তিনি আনন্দদায়ক শিক্ষাপদ্ধতি গড়ে তোলেন, কেউ কেউ যাকে ‘আকর্ষণীয়’ বলে অভিহিত করেছেন।”
“Lucila Godoy, the teacher, set in motion the second current. She communed spiritually with educators worldwide who were as fascinated as she with Tagore’s educational ideas and practices in Santineketan, his outdoor school. The formarly dismissive teacher adopted Tagore’s radical techniques. Her coldness to her students thawed; she called them “mis chiquillas”(“my little girls”), and began developing pleasant, some called them “captivating” teaching patterns.” (Martin C. Taylor, Gabriela Mistral’s Struggle with God and Man: A. Biographical and Critical study of the Chelean poet, McFarland, July 30, 2012, p -64)

অর্থাত্ রবীন্দ্রনাথের মতো তিনিও শান্তিনিকেতনের ধরনে উন্মুক্ত বিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষাদানের প্রাণবন্ত পদ্ধতির সুফল ভোগ করেছিলেন এবং এই ধারাটি তিনি অব্যাহত রেখেছিলেন তার শিক্ষক
জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত।
কিন্তু মিস্ত্রালের যে সাহিত্যিক দীর্ঘস্থায়ী (‘Long-range and literary’) ধারাটির কথা টেইলর উল্লেখ করেছেন সেখানে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব ছিলো আরও গভীর।
মেহিকোর লেখক এবং মিস্ত্রাল-গবেষক এমমা গোদোই (যিনি গান্ধীর জীবনী লিখেছিলেন এবং প্রাচ্য বিষয়ে লেখালেখি করেছেন) মিস্ত্রাল নিয়ে এক প্রবন্ধে বরীন্দ্রনাথের সাথে তার সাহিত্যিক সম্পর্কের বিষয়ে বলেছিলেন:
“গাব্রিয়েলা মিস্ত্রালের রচনায় সুগভীর চিন্তাভাবনাকে খুঁজে পাওয়ার জন্য যে দার্শনিক অনুসন্ধান করা হয় তাও আসলে এক ভুল পদক্ষেপ। তিনি ছিলেন রবীন্দ্রনাথের মতো যার স্বজ্ঞাময় প্রতিভা ঘৃণা করতো বুদ্ধিবৃত্তিকে (Intelectual)। আসুন শোনা যাক কী বলেছিলেন তিনি রাজা আর কবির কাল্পনিক কথোপকথনে:
রাজা : কিন্তু, যা বলছ তা কী? তোমার কাজে কোনো দর্শন নেই?
কবি : না, একদমই না, এ জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।
রাজা : তাহলে এর মানে?
কবি : এর মানে ‘আমি আছি’। আপনি কি জানেন না নবজাতকের প্রথম কান্নার মানে? শিশু যখন জন্ম নেয় তখন সে অনবরত শুনতে পায় তাকে ঘিরে পৃথিবীর চিত্কার। আর আকাশের কল্লোল। তারা সবাই বলে, ‘আমরা আছি!’ এর বিপরীতে তার ছোট্ট হূদয় বলে, ‘আমি আছি!’ আমার কবিতা হচ্ছে এই নবজাতকের চিত্কার; বিশ্বজগতের কান্নার প্রতি এক সাড়া।
রবীন্দ্রনাথের মতোই, গাব্রিয়েলা হচ্ছেন মহাজাগতিক স্বজ্ঞা, কোনো ভাবনা নয়। তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক হতে চাননি।”
Mas tambien se colocaria en falso enfoque el filosofo que hurgara en la obra de Gabriela buscando pensamientos profundos. Ella fue como Tagore, ese genio de intuicion que execraba lo intelectual. Oigamos lo que el nos dice in una supuesta conversacion entre el Rey y el Poeta:
REY—Pero que es lo que dices? No hay folosofia en tu obra?
POETA—No , en absoluto, y gracias a Dios.
REY—Pues que significa entonces?
POETA—Significa Existo! No sabes lo que quiere decir el primer grito del recien nacido? El niño cuando nace, al punto oye el grito de la tierra, del agua y del cielo que, rodeandole, gritan: Existmos! y su corazon pequeño responde a su vez gritando: Existo! Pues bien, mi poesia es el grito del recien nacido: una respuesta al grito universal.
Como Rabindranath Tagore, Gabriela es intuicion cosmica, no pensamiento. Desdeño ser una intelectual. (Emma Godoy, Gabriela Mistral, abside (revista de cultura mejicana, xxxii, 2, 1968, p128-29)

রবীন্দ্রনাথের সাথে তার তুলনাকে আরও প্রামাণ্য করতে গিয়ে এমমা এই প্রবন্ধের অন্যত্র বলেছেন:
“উপযোগিতাবাদবিরোধী ও উন্মাদ জনগোষ্ঠীকেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গান গাওয়াতে পারেন এভাবে:
আমাদের পথ সোজা এবং প্রশস্ত, শূন্য পকেটে আমাদের বোঝা হাল্কা! কে পারে করিতে তশরুপ বলো আমাদের পাগলামিকে? আমরা জিরাতে চাই না, চাই না প্রাচুর্যও: সফলতা নয়, চাই না তারিফ; নিয়তির সাথে আমরা নাচবো উঠে বসে!
গাব্রিয়েলা মিস্ত্রাল ঠিক এইভাবেই বুদ্ধিসর্বস্বতার (Intelectualismo) প্রতি তার বিরাগকে তুলে ধরেন,”
Rabindranath Tagore hace cantar asi a una multitud tambien antiutilitaria y demente:
Nuestro camino es recto y ancho, ligera nuestra carga de bolsillos vacios! Quien nos podra robar nuestra locura? No queremos descanso, ni abundancia, ni exito, ni elogio: danzamos subiendo y bajando con la fortuna!(Emma Godoy, Gabriela Mistral, abside (revista de cultura mejicana, xxxii, 2, 1968, p-132)
মিস্ত্রালে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব কতটা গভীর ছিলো তা এই উদ্ধৃতি থেকেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কেবল কবি মানসের অন্দর মহলেই রবীন্দ্র-কিরণ ছড়িয়ে পড়েনি, লক্ষ করলেই দেখা যাবে, কবিতার বিষয় নির্বাচন এবং শৈলীর ক্ষেত্রেও ছিলো এই দূরাগত আলোর বিস্তার। গাব্রিয়েলা নিজেই বলেছিলেন যে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন তার কাছে গুরুর মতো। রাউল সিলবা কাস্ত্রোর ভাষায়:
“১৯১৫ ও ১৯২০ সালের মধ্যে ব্যাখ্যাতীত এক কারণে চিলিতে ঠাকুর-প্রীতি (Culto) তারিফের (Adoracion) পর্যায়ে পৌঁছায়। গাব্রিয়েলা মিস্ত্রাল ছিলেন তার প্রধান শিষ্য। বাংলার কবি কিভাবে তাকে আচ্ছন্ন করেছিলো তার স্বীকারোক্তি রয়েছে এই শব্দপুঞ্জে: “জীবনকে প্রভাবিত করার লক্ষ্যে শিল্পে যারা আমার গুরু ছিলেন তারা হলো বাইবেল, দান্তে, রবীন্দ্রনাথ এবং রুশ লেখকরা। ১৯১৬ সালে ইউহেনিয়া লাবার্কাকে লেখা এক চিঠিতে গাব্রিয়েলা (আমাদো) নের্বো সম্পর্কে বলতে গিয়ে লেখেন: ইনি হচ্ছেন আমেরিকার রবীন্দ্রনাথ”।”
Por enexplocables causas en Chile fue donde el culto de Tagore llego a la adoracion entre 1915 y 1920. Gabriela Mistral fue su principal discipula. Estas palabras de Gabriela reconocen el ascendiente que sobre ella tuvo el poeta de Bengala: “Mis maestros en el arte para regir la vida fueron La Biblia, el Dante, Tagore y los rusos. En 1916, en carta a Eugenio Labarca, dice Gabriela hablando de Nervo: este es el Tagore de America.” ( R. Silva Castro, Estudio sobre Gabriela Mistral, Santiago, 1935, p-8)

গাব্রিয়েলার লেখকজীবনের প্রায় উন্মেষপর্ব থেকে রবীন্দ্রনাথের যে সম্পর্কের সূচনা তা অটুট ছিলো জীবনের প্রায় মধ্যপর্যায় পর্যন্ত। উত্তরকালের লেখক, সাহিত্য সমালোচক এবং ‘বাবেল’ (Babel) পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক এনরিকে এসপিনোসা (আসল নাম স্যামুয়েল গ্লুসবার্গ (Samuel Glusberg) রাজনৈতিক বিশ্বাসে ছিলেন ট্রটস্কীপন্থী, জন্ম রাশিয়ায় তবে বড় হয়েছেন বুয়েনেস আইরেসে, পরে ১৯৩৫ সাল থেকে চিলিতে থাকতে শুরু করেন) এই সম্পর্ক স্পষ্ট করে তুলেছেন তার এক প্রবন্ধে এইভাবে:
“উল্লেখযোগ্য শেষ সম্পর্কটি ছিলো আমাদো নের্বোর সাথে আর স্পানঞা থেকে প্রকাশিত সুখপাঠ্য অনুবাদে চিনেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে।”
“Tuvo por ultimo relacion espistolar con Amado Nervo y conocio en buenas traducciones españolas a Rabindranath Tagore.” (Enrique Espinoza, Gabriela Mistral y el espiritu de la Biblia, Anales CXV, 106, (1957), p-100)
সাহিত্য সমালোচকদের পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্লেষণে যেমন, তেমনি গাব্রিয়েলার নিজের জবানীতেও রবীন্দ্রনাথের সাথে তার সম্পর্কটি স্পষ্ট হয়ে আছে। যদি তাকে একটি পাখির সাথে তুলনা করা যায় তাহলে তার একটি ডানা মেহিকোর কবি আমাদো নের্বো আর অন্যটি রবীন্দ্রনাথ। প্রাণবান সবকিছুর মধ্যে ঐকতানের যে বৌদ্ধবাদী বিশ্বাস, তার সাথে উপনিষদের বিশ্বজনীনতা এবং তুরীয়বাদের (Transcendentalism) এক অপূর্ব সমন্বয় লক্ষ করা যায় রবীন্দ্রনাথে। প্রচলিত ধর্মাচার ও ধর্মবিশ্বাসকে তিনি অনুসরণ করেননি। তিনি ছিলেন এক মুক্ত আত্মা। গাব্রিয়েলার মতোই বিশ্ব-বিহারী বহুবিধ অভিজ্ঞতার স্বাদে, আগ্রহে ও সক্ষমতায় বিশিষ্ট তার চরিত্র। আবেগ আর অনুভূতির মধ্য দিয়ে ভালোবাসার গভীর সত্য এবং একের সঙ্গে অন্যের যে বিশ্ব ঐকতান তাকে তিনি উপলব্ধি করেছিলেন। উপনিষদ ও বৌদ্ধচিন্তার সমন্বয় তার ভাবনাকে এক বৃহত্তর আয়তন দিয়েছিলো। এই সূত্রে সোনার তরীর ‘বসুন্ধরা’ কবিতাটির কথা আমাদের মনে পড়বে যেখানে বিশ্বচরাচরের প্রাণবান ও প্রাণহীন সবকিছুর সঙ্গে নিজের আত্মার সংযোগের সৌন্দর্যকে তিনি তুলে ধরেছেন। গাব্রিয়েলা রবীন্দ্রনাথের কবিতায় এই ঐকতানকে খুঁজে পেয়েছিলেন এবং নিজের রচনায় এই চেতনাকে আত্মস্থ করেছেন।
মিস্ত্রালের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ Desolacion (১৯২২),
Ternura (১৯২৪), Tala (১৯৩৮) এবং Lagar (১৯৪৫)। মূলত Desolacion গ্রন্থটিই তাকে ব্যাপক পরিচিতি এবং খ্যাতি এনে দেয়। এটি তার অন্য কাব্যগ্রন্থগুলোর তুলনায় তার কবিসত্তার অনেক বেশি প্রতিনিধিত্বশীল। এই গ্রন্থের কবিতাগুলো লেখা হয়েছিলো ১৯১২ সাল থেকে ১৯১৮ সালের মধ্যে।

গাব্রিয়েলা মাতৃভাষা স্পানঞল ছাড়াও ইংরেজি ভাষায় ছিলেন স্বচ্ছন্দ্য। রবীন্দ্রনাথ তিনি কোনো ভাষায় প্রথম পাঠ করেছিলেন তার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া মুশকিল, তবে সপানঞলে যে তিনি হিমেনেথের অনুবাদ পড়েছিলেন তার কথা আমরা চিলের লেখক এনরিকে এসপিনোসার জবানীতেই জানতে পারছি। গাব্রিয়েলার পাঠ করা হিমেনেথের অনুবাদ বেরিয়েছিলো ১৯১৫ সালে। তবে যে ভাষায়ই প্রথম পড়ে থাকুন না কেন, পাঠমাত্রই যে রবীন্দ্রনাথে তিনি তার অস্ফুট আত্মার আশ্রয় খুঁজে পেয়েছিলেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। প্রাসঙ্গিকভাবে স্মরণ করা যাক রাউল রামিরেসের Rabindranath Tagore, Poeta Y Filosofo hindu বইটির কথা যা প্রকাশিত হয়েছিলো ১৯১৭ সালে।
রামিরেসের এই বইটিতেই রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে তার ছয়টি লেখা অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলো যার তিনটি গদ্যে আর তিনটি পদ্যে। এই ছয়টি লেখাই পরে তার Desolacion গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলো। কিন্তু আমরা নিশ্চিতভাবে কেবল তিনটি গদ্যমন্তব্যকেই এ পর্যন্ত শনাক্ত করতে পেরেছি। বাকি তিনটি যেহেতু পদ্য আকারে এবং খুবই অপ্রত্যক্ষভাবে উল্লেখিত হয়েছে রবীন্দ্রনাথের প্রসঙ্গ, তাই সেগুলো আমাদের কাছে এতকাল নজরের বাইরে ছিলো। এই ছয়টি লেখার বাইরে আরও একটি কবিতা আছে এই Desolacion গ্রন্থে যার শিরোনাম হচ্ছে Elogio de la Cancion যেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (‘Tagore’) প্রত্যক্ষভাবে উপস্থিত। দীর্ঘ এই কবিতাটির শেষ স্তবকে এসেছে রবীন্দ্রনাথের প্রতি তার প্রগাঢ় অনুরাগের কথা:

নাম ছিলো তার পেত্রার্কা,
নাম যে তার ঠাকুর :
গভীর ভালোবাসার যত
গণনাতীত নাম
Se llamo Petrarca,
Se llama Tagore:
Numerosos nombres
Del inmenso amor

অন্য যে তিনটি কবিতায় রবীন্দ্রনাথের উপস্থিতির কথা বলা হয় সেগুলো হচ্ছে ‘Intima’ (অন্তরঙ্গ) ‘Desvelada’ (নিদ্রাহীনা) এবং ‘Fl amor Que calla’ ( যে প্রেম নীরব করে)। সাহিত্য সমালোচক সিলবা কাস্ত্রো তার Estudios গ্রন্থে বলেছেন যে ‘Intima’ কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের ‘Thy Body’ কবিতার সারাত্সারকে ভিত্তি করে গড়ে ওঠা আর অন্য দুটি কবিতা রবীন্দ্রনাথের The Gardener-এর অনুকরণে। ‘Thy Body’ নামে রবীন্দ্রনাথের আদৌ কোনো কবিতা আছে কিনা আমার জানা নেই আর অন্য দুটি কবিতা দ্য গার্ডেনার-এর নির্দিষ্ট কোনো কবিতা নয়, বরং গার্ডেনার পাঠের সামগ্রিক অভিঘাত থেকে রচিত বলে মনে হয়। এই তিনটি কবিতাতেই রবীন্দ্রনাথের বাচনভঙ্গি, ভাবনা আর শৈলীর উদ্বোধন লক্ষ করা যায়।

গাব্রিয়েলার কোন কোন কবিতায় রবীন্দ্রনাথের কোন গ্রন্থের কোন কবিতাগুলো ছায়া ফেলেছে তার অন্য একটা তালিকা দিয়েছেন আর্তুরো তররেস এভাবে:
আসলে তার ‘অন্তরঙ্গ’ কবিতায় উল্লেখ করেন The Gardener-এর সেই কবিতাটি যার শুরু ‘আমার হাতে তার দুহাত’ (৮৯ নং কবিতা), আর গীতাঞ্জলি থেকে এসেছে গাব্রিয়েলার ‘আমার বিশ্বাস’, ‘জগতের রহস্য’ এবং ‘ছোট্ট এই ফুলটি ছিঁড়ে নাও’ শীর্ষক কবিতাগুলো, এগুলো গদ্যে ও পদ্যে রচিত, ‘অনিদ্রিতা’ ও ‘যদি আমি তোমায় ঘৃণা করতাম’ শীর্ষক কবিতায় প্রতিধ্বনিত হয় ‘মালির অস্থিরতা’। যেহেতু এই কবিতাগুলো, রবীন্দ্রনাথের উল্লেখ ছাড়াই, নানান পরিবর্তনসহ এবং কোনো কোনো স্তবক গ্রহণ-বর্জনের মাধ্যমে Desolacion-এ প্রকাশিত হয়েছিলো, তাই এখানে কবিতা দুটোর পূর্ণাঙ্গ উদ্ধৃতি হাজির করছি:
En efecto Gabriela glosa de El jardinero el poema que empieza: “Tengo sus manos en las mias”; en su poema “Intima”; y de Ofrenda lirica, los intitulados “Creo”, “El misterio del mundo”, y Arranca esta “Florecilla”. Estos, en porsa y en verso; glosa tambien “La inqeuietud de jardinero” en “Desvelada” y “ Si yo te odiara”. Como estos poemas fueron publicados, sin referencia a Tagore, con variantes y con suppression de varias estrofas, en Desolacion, los doy aqui completes. (Arturo Torres Rioseco, La Hebra en la Aguja, cultura, Mexico, 1965, p 25)
আর্তুরোর এই তালিকার সাথে সিলবা কাস্ত্রোর তালিকাটি যুক্ত করলে দেখা যাবে আসলে সাতটি নয়, মোট এগারোটি কবিতায় রবীন্দ্রনাথের পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ ছায়া ফেলেছেন। তার যে তিনটি কবিতায় রবীন্দ্রনাথের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি রয়েছে সেগুলোর দিকে আমরা একটু তাকাবো।
রবীন্দ্রনাথের যে তিনটি কবিতার গদ্যভাষ্য (Comentarios a Poemas de Rabindranath Tagore) আমরা দেখতে পাই সেগুলো রবীন্দ্রনাথের অনুবাদে Gitanjali-এর ‘৬’, ‘৯৫’ এবং ‘১০২’ নং কবিতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা। রবীন্দ্রনাথের এই কবিতাগুলো সম্পর্কে গাব্রিয়েলার মন্তব্যগুলো আসলে যতটা না মন্তব্য তার চেয়ে বরং এগুলোকে তার গদ্য কবিতা হিসেবেই গণ্য করা হয়। তিনি নিজেও তা মনে করতেন বলেই সেগুলো তার কোনো আলোচনা গ্রন্থে নয়, ঠাঁই পেয়েছে তার কাব্যগ্রন্থেই। আরও একটি বিষয় হলো এই যে, এগুলো রবীন্দ্রনাথ অবলম্বনে হলেও আসলে এগুলো তার নিজেরই ভাবনার উন্মীলন। রবীন্দ্রনাথের কবিতাগুলোর পাশাপাশি তার কবিতাগুলো মিলিয়ে পড়লেই আমরা তা দেখতে পাবো।

Gitanjali-এর ‘৯৫’ নং কবিতাটি ছিলো এ রকম :
I was not aware of the moment when I first crossed the threshold of this life.

What was the power that made me open out into this vast mystery like a bud in the forest at midnight!

When in the morning I looked upon the light I felt in a moment that I was no stranger in this world, that the inscrutable without name and form had taken me in its arms in the form of my own mother.

Even so, in death the same unknown will appear as ever known to me. And because I love this life, I know I shall love death as well.

The child cries out when from the right breast the mother takes it away, in the very next moment to find in the left one its consolation.
(English writings of Rabindranath Tagore, Vol- 3, Ed: Sisirkumar Das, Sahitya Academy, p-75)

এই কবিতার প্রতিক্রিয়ায় গাব্রিয়েলার মন্তব্য কবিতাটি হচ্ছে:

জানি মৃত্যুকেও আমি ভালোবাসবো
না, আমি বিশ্বাস করি না মৃত্যুর পরে আমি হারিয়ে যাবো।
কেন তুমি আমায় করবে ফলবান, যদি আমায় হতে হবে শূন্য আর থাকতে হবে চিপড়ানো আখের মতো? কেন তবে ফেলবে আলোর প্লাবন প্রত্যহ ভোরে আমার কপালে আর অন্তরের মাঝে; যদি না আমায় তুমি তুলে নিতে আসবে, যেভাবে হেমন্তের মাঝামাঝি কেউ এসে তুলে নেয় সূর্যালোকে সুমিষ্ট কালো দ্রাক্ষারাশি?
মৃত্যু আমার কাছে হিমও নয়, প্রেমহীনও নয়, যেমনটা অন্যদের কাছে মনে হয়। বরং আমার কাছে মনে হয় তাপ, এতটাই তীব্র উত্তাপ যা মাংসকে ফাটিয়ে টুকরো টুকরো করে ফেলে আত্মাকে পুরোপুরি সমর্পিত করার জন্য।
তীব্র, ঝাঁজালো আর সুকঠিন মৃত্যুর আলিঙ্গন। এ তোমার প্রেম, প্রভু, এ তোমার ভয়ংকর প্রেম! হাড়গোড় ভেঙেচুরে অকেজো করে এইভাবে; আশংকায় বিবর্ণ মুখ আর জিহ্বাকে নিস্তজ করে!

দুজনের বলার ধরন, বলার বিষয় এবং দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যেও রয়েছে দূরত্ব। রবীন্দ্রনাথের কবিতা থেকেই যদিও শিরোনামটি (‘জানি মৃত্যুকেও আমি ভালোবাসবো’ I know I shall love death as well) নেওয়া এবং রবীন্দ্রনাথের কবিতাকে অবলম্বন করেই এই কবিতা, তবু এটি রবীন্দ্রনাথ থেকে ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের হয়ে উঠেছে। রবীন্দ্রনাথের আবেগ ও দর্শন থেকে এটি লক্ষণীয়ভাবে ভিন্ন পথে চলে গেছে। অভিব্যক্তিতে রবীন্দ্রনাথ যেখানে মৃদু ও নম্র, গাব্রিয়েলা সেখানে তীব্র, বলিষ্ঠ এবং অতিরঞ্জনে উত্তাল। মৃত্যুকে তিনি বলছেন, “...তীব্র উত্তাপ যা মাংসকে ফাটিয়ে টুকরো টুকরো করে ফেলে আত্মাকে পুরোপুরি সমর্পিত করার জন্য” (...un tremendo ardor que desgaja y desmenuza los carnes para despeñarnos caudalosamente el alma)। কেবল তাই নয়, রবীন্দ্রনাথের সুস্নিগ্ধ ঈশ্বরের বিপরীতে গাব্রিয়েলার ইশ্বর প্রেমময় হলেও সে ভয়ংকর। তার ভাষায়: “এ তোমার প্রেম, প্রভু, এ তোমার ভয়ংকর প্রেম। হাড়গোড় ভেঙেচুরে অকেজো করে সে এইভাবে; আশংকায় বিবর্ণ মুখ আর জিহ্বাকে নিস্তেজ করে” (... Es tu amor, es tu terrible amor, Oh Dios! Asi deja rotos y vencidos los huesos, livid de ansia la cara y desmadejada la lengua!)
পক্ষান্তরে বাঙালি কবির কাছে মৃত্যু, গাব্রিয়েলা-কথিত চণ্ডরূপে এসে হাজির হয় না। যদিও রবীন্দ্রনাথে এই রূপ আমরা কবিতাটির শেষ বাক্যটিতে কিছুটা পাই, কিন্তু তা অনেক নমিতরূপে:
“The child cries out when from the right brest the mother takes it away in the very next moment to find in the left one its consolation.”

রবীন্দ্রনাথ মনে করেন, And because I love this life, I know I shall love death as well, কিন্তু গাব্রিয়েলার বক্তব্য তা নয়, কারণ তার জীবনপাত্র আনন্দে উছলিয়া ওঠেনি কখনো, বরং তীব্র প্রতিকূলতার বিপক্ষে লড়াই করার অভিজ্ঞতায় পূর্ণ তার জীবনপাত্র। ঈশ্বরের অপার করুণা আর প্রজ্ঞা থেকে যে দেহের জন্ম সেই জীবন্ত দেহের অস্তিত্ব প্রমাণ করছে তার প্রেম— গাব্রিয়েলা এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে মৃত্যু-পরবর্তী মোক্ষলাভের ইশারাকে স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তবে, লক্ষ করলে দেখবো, গাব্রিয়েলার বক্তব্য ঠিক সহজ সরল পথে এগিয়ে যায় না, বরং তা খানিকটা ঘোরানো-পেঁচানো এক বিন্যাসের রূপ, এমনকি তা যৌক্তিক পারম্পর্যকেও মান্য করে এগিয়ে চলেনি। গাব্রিয়েলার এক অস্থির সত্তার কম্পমান চিত্র এই কবিতাটি।

রবীন্দ্রনাথের দ্বিতীয় যে কবিতাটি নিয়ে গাব্রিয়েলা তার মন্তব্য-কবিতা লিখেছেন সেখানেও আছে এই অস্থির চিত্র। রবীন্দ্রনাথের যে কবিতাটিকে ঘিরে তার এই মন্তব্য সেটি এখানে উদ্ধৃত করছি মিলিয়ে দেখার সুবিধার্থে।
Gitanjali-এর ‘১০২’ নং কবিতা:
I boasted among men that I had known you. They see your pictures in all works of mine. They come and ask me, ‘Who is he?’ I know not how to answer them. I say, ‘Indeed, I cannot tell.’ They blame me and they go away in scorn. And you sit there smiling.

I put my tales of you into lasting songs. The secret gushes out from my heart. They come and ask me, ‘Tell me all your meanings.’ I know not how to answer them. I say, ‘Ah, who knows what they mean!’ They smile and go away in utter scorn. And you sit there smiling. (English writings of Rabindranath Tagore, Vol- 3, Ed: Sisirkumar Das, Sahitya Academy, p-78)
এবার দেখা যাক গাব্রিয়েলা কী বলেছিলেন তার কবিতায়:
“যাদের মধ্যে চিনেছি তোমায় তাদের মাঝে করেছি বড়াই...
যেহেতু তোমার লোকজনের মাঝে তোমার গুণের ব্যাপারে আছে তীব্র নিশ্চয়তা, আমি তাই এঁকেছি তোমায় শব্দে যথাযথভাবে, যেভাবে শিল্পী আঁকে শ্বেতপদ্মের পাপড়িসমূহ। প্রেম থেকে, প্রেমের প্রাবল্য থেকে লিখেছি সে কথা যা আমার কোনো দিন পড়বে না চোখে। আমাকে সওয়াল করতে তোমার লোকেরা এসেছিলো, এসেছিলো কারণ তারা তোমাকে আমার গানে খুঁজে পায় নিরন্তর তরল সুগন্ধিসম। তৃষ্ণার্তের চেয়েও বেশি উদ্বিগ্ন যারা নদীর কথা জানতে চায় তাদেরকে দেখতে পেয়ে তোমার কথা বললাম, যদিও তখন পর্যন্ত তোমাকে করিনি উপভোগ।
প্রভু, তুমি আমায় ক্ষমা করে দিও; তাদের আকাংঙ্ক্ষা ছিলো, ছিলো তা আমারও, শ্বেতপাপড়ির মতো তোমাকে স্বচ্ছ আর বিশুদ্ধরূপে দেখতে পাওয়ার। মরুপথে বেদুইনের উদ্বেগ দূরে দৃশ্যমান করে তোলে মরীচিকাকে... তোমাকে শুনবো বলে নির্জনে বসে থেকে আমার শিরার স্পন্দনকে মনে হয় আমার জ্বরতপ্ত মাথার উপরে তোমার ডানার সঞ্চার, আর তোমার মতোন করে আমি তা অন্যদের মাঝে করি সঞ্চারিত। কিন্তু জ্ঞাত তুমি, বেদনার পাশাপাশি মাধুর্যে ভরা এক হাসির মতোন হেসে ওঠো। হ্যাঁ, প্রভু, যেন আমার চোখে জ্বালা নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম আর তাকিয়েছিলাম পথপানে। মুসাফির আসে না, কিন্তু আমাদের দুই চোখ সবচেয়ে বিষণ্ন প্রান্তরে ছবি আঁকে প্রতি মুহূর্তে...
জানি মিথ্যে বলেছি বলে অন্যরা আমায় করবে ভর্ত্সনা; কিন্তু তুমি, প্রভু, কেবল হাসবে বেদনায়। তুমি তো ভালোই জানো; অপেক্ষা মানুষকে পাগল করে তোলে আর উচ্চকিত শ্রুতিকে ঘিরে নীরবতা তৈরি করে কোলাহল।”
রবীন্দ্রনাথ তার কবিতাটিতে বেশ আস্থার সাথেই জানাচ্ছেন যে ঈশ্বরকে নিয়ে অমর গীতিগুচ্ছ রচনা করতে পারেন, কিন্তু ঈশ্বর তো সরাসরি ব্যাখ্যার অতীত। দৈবজ্ঞানের আশায় যারা কবির কাছে ঈশ্বরের মানে জিজ্ঞেস করে কোনো স্পষ্ট উত্তর খুঁজে পাচ্ছে না তাদের ভর্ত্সনার শিকার হচ্ছেন কবি। আর এই দৃশ্য দেখে ঈশ্বর বসে মুচকি হাসেন।
গাব্রিয়েলার কবিতাতেও এই দিকগুলোর উপস্থিতি আমরা দেখতে পাবো। কিন্তু এতে আবার আছে ভিন্ন কিছু অবলোকনও। কান পাতলেই আমরা শুনতে পাবো গাব্রিয়েলার একটা চাপা অভিযোগের সুর, অভিযোগটা সেই সব মানুষের প্রতি যারা ঈশ্বরকে জানার ব্যাকুলতাকে তুলে ধরেন।
অন্যদিকে, কবিতা যে ইশ্বরের সাথে যোগাযোগের কোনো নিশ্চয়তা বিধান করেন না— এই সচেতনতা থেকে তিনি বিচক্ষণতার যাবতীয় শক্তিকে ডিঙিয়ে মানবীয় গুণাবলির পরিভাষায় অজ্ঞেয়কে দৃশ্যমান করে তোলেন ঈশ্বরের মধ্যে মানবীয় বৈশিষ্ট্য বর্ণনার মাধ্যমে। গাব্রিয়েলা এই কবিতার এক জায়গায় বলছেন: “কিন্তু জ্ঞাত তুমি, বেদনার পাশাপাশি মাধুর্যে ভরা এক হাসির মতোন হেসে ওঠো।”
(“Pero, tu que comprendes te sonries con una sonrisa llena de dulzura y de tristeza a la Par.”)
তার ঈশ্বর আসলে মানুষি গুণাবলিসম্পন্ন এক ঈশ্বর। মানবপ্রতিম এই ঈশ্বর, যতটা না ঈশ্বর, তার চেয়ে বেশি মানুষ।
রবীন্দ্রনাথের ঈশ্বর গাব্রিয়েলার ঈশ্বর থেকে ভিন্ন। রবীন্দ্রনাথের ঈশ্বর প্রশান্ত এবং মানবীয় গুণাবলি থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন এক সত্তা।
রবীন্দ্রনাথের তৃতীয় যে কবিতাটিকে কেন্দ্র করে গাব্রিয়েলা সর্বশেষ মন্তব্য-কবিতাটি লিখেছেন তা গীতাঞ্জলির ৬ নং কবিতা। পূর্ণাঙ্গ রূপটি এখানে হাজির করছি গাব্রিয়েলার সাথে মিলিয়ে দেখার সুবিধার্থে:
6
Pluck this little flower and take it, delay not! I fear lest it droop and drop into the dust.
It may not find a place in thy garland, but honour it with a touch of pain from thy hand and pluck it. I fear lest the day end before I am aware, and the time of offering go by.
Though its colour be not deep and its smell be faint, use this flower in thy service and pluck it while there is time.
(English writings of Rabindranath Tagore, Vol- 3, Ed: Sisirkumar Das, Sahitya Academy, p-44)
“এই ছোট্ট ফুলটি ছিঁড়ে নাও, ভয় হয় এটি না শুকিয়ে যায়, ঝরে যায়, হয়ে পড়ে পল্লবহীন এবং তা ধুলায় হারায়।
সত্যি বলতে কি, যদিও খোশাবেশে নই, কিন্তু আমার অশ্রু ভরবে না তোমার হাতের ফাঁকগুলো। তবে তাতে অসুবিধা নেই, প্রভু: বেদনায় একদিনে আমি পুরোপুরি হতে পারি পরিপক্বতমা।
এতই তুচ্ছ আমি, ভয় হয় হয়তো চোখেই পড়বো না; ফসল কাটার সময় চাষীর অলক্ষে থাকা শস্যের ছড়ার মতো বিস্মৃত হয়ে থাকার ভয়। আমায় যাতে হারিয়ে না ফেলো তাই আমার ছোট্ট গানটি নিয়ে দাঁড়াবো তোমার নজর কাড়ার আশায়, হে পরামনন্দ চাষী!
এও সত্য যে তোমার দৈব আটার জন্য আমাকে তোমার হবে না প্রয়োজন; সত্যি বলতে কি, তোমার রুটিতে আমি করবো না যোগ কোনো স্বাদ অভিনব। তোমার সূক্ষ্মতর চলাচলে অমায়িক মনোভাব বজায় রাখতে গিয়ে আমি যে প্রগাঢ় নম্রতাকে চিনেছি তা-ই আমায় তোমাতে আস্থা এনে দেয়! খেতের মধ্য দিয়ে যখন যাচ্ছিলে তখন তোমাকে দেখেছি ঘাসের ডগায় জমা বাষ্পীভূত শিশির তুলে নিয়ে পান করতে— চুম্বনের চেয়েও কম শব্দে। অনুরূপভাবে আমি দেখেছি তোমাকে ব্লাকবেরিতে গোপনে রেখে যেতে পাখির বাসার জন্য দরকারি খড়কুটো। আনন্দে আটখানা আমি হেসে নিজেকেই বলি: এভাবেই, আমি কাদায় পরিণত হওয়ার আগেই কম্পমান জলের ফোঁটার মতো আমাকে সে তুলে নেবে। এমনিভাবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমাকে সে আগলে রাখবে পাখির মতো।

আমাকে কুড়িয়ে নাও, তবে, আমাকে কুড়িয়ে নাও দ্রুত! এই মানব পৃথিবীতে চারিয়ে দেইনি আমি শেকড়বাকড়। তোমার ঠোঁটের সামান্য আন্দোলনে আমাকে পান করে নাও। বোধাতীত পক্ষপাতে আমাকে কুড়িয়ে নাও তুমি!”

এই শেষ কবিতাটিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি গাব্রিয়েলা ঈশ্বরের প্রবল শক্তির সামনে মানুষের উভয় সংকটের চরিত্রটির উপরেই বেশি জোর দিয়েছেন। অন্যদিকে মানুষ তুচ্ছ এক সত্ত্বা হিসেবে উপস্থিত; যদিও এই তুচ্ছতা অনিবার্য। তবে এই নেতিবাচক এবং সানুনয় মনোভাব আত্মপরিহাস আর নম্রতাকে বেশি স্পষ্ট করে তোলে। অন্যদিকে, দেখতে পাই বিস্মৃত হওয়াকে এড়াবার জন্য মানুষ ইশ্বরের মনোযোগ লাভ করতে চায়। প্রতিরক্ষাহীন মানুষের কল্যাণে ঈশ্বরের অদৃশ্য হাতের অস্তিত্বের কথা মনে রেখে কবি মৃত্যুর পর ঈশ্বরের তত্ত্বাবধানে মানুষের অবস্থাকে দেখতে চেয়েছেন।
তিনটি মন্তব্য-কবিতাতেই গাব্রিয়েলা সর্বজ্ঞ, সর্বদ্রষ্টা কিন্তু সাড়াহীন ঈশ্বরের কাছে মিনতিকে তুলে ধরেছেন। আবার অন্যদিকে, ঈশ্বরকে তিনি মানবীয় গুণে সমৃদ্ধ করছেন এবং একই সঙ্গে আরও বেশি বোধগম্য ও কম দূরত্বের করে তুলেছেন। আর ঈশ্বরের কাছে স্বীকারোক্তির সরলতায় ও বন্ধনের আকুলতায় তিনি অন্যদের ভর্ত্সনাকেও উপেক্ষা করতে পারেন।
রবীন্দ্রনাথ ধর্মীয় সারল্যের আবেগকে সৌন্দর্যের মহিমায় রূপান্তরিত করেছিলেন। গাব্রিয়েলার কবিতাতেও এই ধরনের চরিত্র-লক্ষণ উপস্থিত। রবীন্দ্রনাথ তার কাছে কেবল বিষয়মুক্তির দূত হিসেবেই নন— যেমনটা আমরা তাঁর কবিতায় দেখতে পাই— একই সঙ্গে শিক্ষকজীবনেও এক অভিন্ন প্রেরণা হিসেবে ছিলেন। এই উভয়বিধ প্রেরণা যে পরস্পর গভীরভাবে সম্পর্কিত ছিলো তা-ও গাব্রিয়েলা পরিষ্কার করে উপলব্ধি করেছিলেন। তাই অন্যত্র রবীন্দ্রনাথের সামগ্রিক ব্যক্তিত্ব এবং সেই ব্যক্তিত্বের কাছে তাঁর ঋণের কথা স্বীকার করতে গিয়ে বলেছিলেন:
“রবীন্দ্রনাথের বিদ্যালয়ের (শান্তিনিকেতন) জন্য আমার যে শ্রদ্ধা তা আসলে মনেরই এক যৌক্তিক দৃষ্টিভঙ্গি, কারণ এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তি হচ্ছে প্রকৃতি, আত্মা আর শিল্পের জন্য আমার ভালোবাসা। এই তিন শক্তিকে কবি তার কাজে তুলে ধরেছেন।”
“L’estime ou je tiens l’ecole Tgorienne (Santiniketan) est une attitude logique de mon esprit,car en elle se fondent mon amour de la natur,de l’Espritet de l’art, les trois forces que le poete a appelees a collaborer a son oeuvre.” (Gabriela Mistral, “Considérations sur Rosseau et autres réflexions”, published in the magazine Révue de l’Amérique Latine, No. XI, April 1926.)
আলোচিত তিনটি কবিতা ছাড়াও গাব্রিয়েলার আরেকটি লেখা আছে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে, সেটি বৈশিষ্ট্যে সাক্ষাত্কারধর্মী। ‘Un Tagore de nueva york’ শীর্ষক লেখাটি সাক্ষাত্কারধর্মী হলেও এতে রবীন্দ্রনাথের সাথে তার আলাপের কোনো বর্ণনা নেই মোটেই, বরং ১৯৩১ সালে নিউ ইর্য়কে রবীন্দ্রনাথকে তার বন্ধু মিগেলের বাসায় নিছক দেখার অভিজ্ঞতা মাত্র। অনেকটা গল্পের ভঙ্গিতেই রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে কখনো তির্যক ভঙ্গিতে কখনো কখনো অনুভূতির কার্পণ্যে তিনি রবীন্দ্রনাথকে এঁকেছেন এবং এই চিত্র ভাষার আঁকাবাঁকা পথ ধরে হয়ে উঠেছে কুয়াশাচ্ছন্ন এক অভিঘাত। এই বর্ণনায় কবির বহিরাঙ্গিক দিকের একটা কম্পমান চিত্র আমরা পাই যা বস্তু পৃথিবীর সঙ্গে কবির সংযোগকে যেন কবি-সম্পর্কিত তার পূর্বের মুগ্ধতাকে ক্ষণে ক্ষণে নাড়িয়ে দিচ্ছে।
এই দীর্ঘ প্রবন্ধটিতে যে রবীন্দ্রনাথের ছবি তিনি এঁকেছেন সেখানে কবি রবীন্দ্রনাথ নেই। গাব্রিয়েলার মনোজগতে এবং রচনাকর্মের প্রেরণা হিসেবেও রবীন্দ্রনাথ ততদিনে ধূসর স্মৃতি মাত্র।
গাব্রিয়েলার লেখকজীবন থেকে রবীন্দ্রনাথের প্রস্থান সম্পর্কে আর্তুরো উভয় কবির সাক্ষাত্-মুহূর্তটিকে চিহ্নিত করে বলেছিলেন:

“রবীন্দ্রনাথের প্রতি এই মুগ্ধতা ১৯৩১ সালে শেষ হয়ে যায় যখন গাব্রিয়েলা ব্যক্তিগতভাবে কবির সঙ্গে নিউ ইয়র্কে পরিচিত হলেন এবং লিখলেন তার সম্পর্কে নিরানন্দভাবে।”
Esa admiracion por Tagore habia terminado por 1931 cuando Gabriela conocio personalmente al poeta en Nueva York y escribio sobre el desencanto.
(La Hebra en la Aguja, Arturo Torres Rioseco, Editorial Cultura, 1965, p-26)
প্রায় দীর্ঘ ১৫ বছরের এই প্রবল মুগ্ধতা সাক্ষাতের পরপরই কেন কেটে গেল তা নিয়ে আলাদা অনুসন্ধান হতে পারে।

এই পাতার আরো খবর -
font
আজকের নামাজের সময়সূচী
মার্চ - ২৪
ফজর৪:৪৩
যোহর১২:০৬
আসর৪:২৯
মাগরিব৬:১৪
এশা৭:২৭
সূর্যোদয় - ৫:৫৯সূর্যাস্ত - ০৬:০৯
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: ittefaq.adsection@yahoo.com, সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: ittefaqpressrelease@gmail.com
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :