The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার ২৮ জুলাই ২০১৪, ১৩ শ্রাবণ ১৪২১, ২৯ রমজান ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ তোবায় আটকা শ্রমিক, বেতন দিচ্ছে বিজিএমইএ

গল্প

প্রেমপসারিনী

কামাল পাশা

রাত আটটা বাজতে পাঁচ মিনিট আগে আবু আব্দুল্লাহ আরাম করে সোফায় বসে টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখে। লাগাতার দশ বছরের পুরোনো অভ্যেস। এই সময়টায় কখনো লোডশেডিং হলে বা কোনো বিভ্রাটে বিদ্যুত্ চলে গেলে মন খারাপ হয়ে যায়। ত্রিশ কি চল্লিশ মিনিট চোখ-কান খুলে বিজ্ঞাপন চিত্রসহ গরম-ঠাণ্ডা সব খবরের আপাদমস্তক গিলে খাওয়ার মতো খেয়ে সোফা ছেড়ে ডাইনিং টেবিলে যায় সে।
আজকাল টেলিভিশনের দেশি-বিদেশি অনেক চ্যানেল। হিন্দি চ্যানেলের যেকোনোটিতে চোখ রাখলে মডেলকন্যাদের রং ঢং দেখে এখনো বুকের ভেতর ছ্যাত করে ওঠে প্রিয় সেই মুখটির জন্য। আবু আব্দুল্লাহর বয়স পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই। নিয়মিত শেভ না হওয়ায় মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি। একসময়ের মাথাভর্তি ঘন পরিপাটি চুল দুর্বল হতে হতে এত সরু আর পাতলা হয়েছে যে তা আঁচড়াতে আর চিরুনি লাগে না। হাতের আঙুল চালিয়েই সাইজ করে রাখা যায়। হাজারো কাজের ফাঁকে বিটিভি’র রাত আটটার বাংলা সংবাদ শুনবেই সে। খবর পাঠ করছে যেন সেই প্রিয় মুখ, সেই প্রিয় কণ্ঠের স্বর, সেই লাল পেড়ে শাড়ি পরে চুল বেণি করে বাঁধা মেয়েটি। এত বয়সেও নেশায় ঘোর লাগার মতো করে সে খবর দেখে আর শোনে।
ভীষণ মেধাবী মানুষ আবু আব্দুল্লাহ। স্কুল-কলেজে উজ্জ্বল শুকতারার মতো জ্বল জ্বল করে জ্বলত সে। এখন ভারি ব্যস্ত। পেশাগত কাজের ভিড়ে এতটুকু ফুরসত পাওয়া ভার। দিঘল গড়ন শরীর তার। চওড়া কাঁধ আর প্রশস্ত বুকের খাঁচায় আকর্ষণীয় পুরুষাল গঠন। ছাত্রবেলা থেকে ব্রান্ডের জুতো জামা ছাড়া মন ওঠে না। সখের কেনা গাড়িটা চকচক করে সব সময়। বেশ হাসিখুশি ভাব করে থাকে আবু আব্দুল্লাহ। ভাবনা-চিন্তার ভাঁজ পড়েনি কপালে, মনটাও ভোরের শিশির ভেজা সবুজের মতো লকলক করে। সিলভার কালার টয়োটা করোলা এক্স নিজেই ড্রাইভ করে সে। লংড্রাইভে এই হাল মডেল গাড়িটা বেজায় পছন্দ আবু আব্দুল্লাহর। এখন এটাই তার সারাক্ষণের সঙ্গী। গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে হাত রেখে রাতের ঢাকার অলিগলি চষে বেড়ায় সে। সতীনাথের গানের সুরে গান গেয়ে ওঠে গুন গুন করে। আবার হঠাত্ গাড়ি থামিয়ে দামি কোনো রেস্তোরাঁয় ঢুকে গোশত পরোটার অর্ডার দিয়ে বসে। বয়সের তুলনায় চালচলন ছটফটে, অস্থির ধরনের। রাতের খাবার খেয়ে নিয়মিতই বেরিয়ে পড়ে সে লালমাটিয়ার ফ্লাট বাসা থেকে। আজ বেরোবে কি বেরোবে না ভাবতে ভাবতে বেশ দেরিই হয়ে গেল। মানিক মিয়া এভিনিউ-এর চওড়া বুকের ওপর দিয়ে খেজুর বাগানের মোড় ঘুরে খামার বাড়ির পাশ দিয়ে বড় রাস্তার মুখে এসে উত্তরে কি দক্ষিণে যাবে তা ভেবে ঠিক করতে না পেরে আচমকা স্টিয়ারিং বাঁ দিকে ঘুরিয়ে দেয় সে।
ঘড়ির কাঁটা দশটার ঘর ছুঁয়ে গেছে কিছু আগে। এখনো শহরের রাস্তায় গাড়ি ও মানুষের কোলাহলে মনে হয় কেবলই সন্ধ্যা নেমেছে। বিজয় সরণির ফোয়ারা ক্রসিংয়ে খানিক দম নিয়ে জাহাঙ্গীর গেট বাঁয়ে রেখে মহাখালী ফ্লাইওভারে উঠার আগেই ক্যাসেটের ভলিউম নব ক্লকওয়াইজ ঘুরিয়ে দেয়। ইংলিশ মিউজিক বেজে ওঠে উচ্চগ্রামে। আপনা আপনি আবু আব্দুল্লাহর শরীর নেচে ওঠে। ওয়েস্ট ইন ক্যাবারের ফিলিপিনো নর্তকীর সরু কোমরের দুলুনির মতো তার মাংসল গর্দান একবার বাঁয়ে একবার ডানে হেলতে দুলতে থাকে। শরতের আকাশ থেকে জ্যোত্স্না চুঁয়ে পড়ছে চরাচর জুড়ে। ফ্লাইওভারের ঘাড়ে উঠে আকাশ ছুঁয়ে যেতে ইচ্ছে করে তার। হাতের পাঁচ আঙুল দিয়ে গোল চাঁদের গায়ে মোলায়েম পরশ বুলিয়ে দিতে ইচ্ছে করে। গাড়ি ফ্লাইওভারের ঢাল বেয়ে নামতে শুরু করে। রাতের আকাশের গোল চাঁদ হাতছানি দিতে দিতে দূর থেকে দূরে চলে যায়। আবু আব্দুল্লাহ ফ্যালফ্যাল চোখে তাকিয়ে দেখে।
গাড়ির সবগুলো জানালা বন্ধ থাকায় কয়েদখানার সেলের মতো মনে হয় আবু আব্দুল্লাহর কাছে। এসি বন্ধ করে অটো বাটন চেপে গাড়ির জানালার গ্লাস নামিয়ে দেয়। শোঁ শোঁ শব্দে বাতাস ঢুকে মাথার হালকা-পাতলা চুল মুহূর্তে এলোমেলো করে দেয়। বনানী চেয়ারম্যান বাড়ির মোড় ঘুরে সোজা রাস্তা ধরে গাড়ি চলে গুলশানের অভিজাত হোটেল ওয়েস্ট ইন-এর দিকে। এ শহরের সবকিছু তার চেনা । মানুষগুলো বড় মায়াবী। রাস্তার দু’পাশের উঁচু উঁচু দালনকোঠার স্থাপত্য ঢং বারবার খুঁটিয়ে দেখে কত পরিচিত হয়ে উঠেছে। নতুন নতুন রাস্তা আর ফ্লাইওভারে দ্রুত বদলে যাচ্ছে ঢাকা। আবু আব্দুল্লাহর কাছে শহরের নতুন-পুরাতন সবকিছু আপন মনে হয়। হোটেলের পেছনে পার্কিং লটে গাড়ি পার্ক করে লিফটে উঠে টপ ফ্লোরে গিয়ে থামে। ওয়েস্ট ইন-এর অভিজাত বার। বড় হলঘর পেরিয়ে পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত লন বারান্দা। লন বারান্দায় বসে রাতের ঢাকা স্বপ্নপুরীর মতো মনে হয়।
নিয়মিত ধূমপান না করলেও ওয়েস্ট ইনে ঢোকার আগে এক প্যাকেট লাইট ব্রান্ড বেনসন হেজেজ কিনে প্যান্টের পকেটে ঢুকানো আবু আব্দুল্লাহর বরাবরের অভ্যাস। বারান্দা ঘুরে জুতসই একটি টেবিল বেছে নিয়ে এক শলা সিগ্রেট জ্বেলে ওয়েটারকে অর্ডার নিতে বলে। পানশালার যা অর্ডার। তবে হার্ড নয়, মিডিয়াম সফট। দু’ পেগ বড় জোর তিন পেগ, সাথে চানাচুর, কাঁচা বুট আর কাজু বাদাম। যতক্ষণ বারান্দায় বসে চুক চুক করে মদের গ্লাসে চুমুক দিতে থাকে ততক্ষণ একটার পর একটা সিগ্রেট শলা জ্বালায় সে।
রাত বারোটা নাগাদ বারান্দা ছেড়ে হলঘরের ভেতরে গিয়ে বসে। পশ্চিমের কোণে সামান্য উঁচু বেদির মতো ত্রিভুজাকৃতি প্লাটফর্মের একেবারে কাছাকাছি। ইচ্ছে করেই আজ সে তিন পেগের বদলে চার পেগ নিয়েছে। মাথাটা একটু বেশি ঝিমঝিম করছে। আরেকটা সিগ্রেট শলা জ্বেলে ধোয়ার রিং তৈরি করছে আপন মনে। এমন সময় হলঘরের আলো-আঁধারিতে বাদ্য-বাজনা বেজে ওঠে। একেবারে হাতের নাগালের মধ্যে আটোসাটো সাদা পোশাকে দুই ফিলিপিনো তরুণী ইংরেজি কোরাসের সুরে সুরে কোমর দোলাতে থাকে। তরুণীদ্বয়ের সরু হাত-পাগুলো আজ বেশ ভারী ভারী মনে হয় তার চোখের ঢুলুনিতে। নৃত্যরতা ভিনদেশি নর্তকীর বুকের ওপর বারবার আছড়ে পড়ে আবু আব্দুল্লাহর মাতাল চোখের দুষ্টু চাহনি।
রাত গভীর হয়। নর্তকী বদলে যায়। নতুন এক জোড়া স্বল্প বসনা নর্তকীর উদ্দাম নৃত্যসংগীতে হলঘর ভরে ওঠে। আবু আব্দুল্লাহ এক সাথে দু’পেগ শরাব ঢকঢক করে গিলে ফেলে কোল্ড ড্রিংকস খাওয়ার মতো করে। অ্যালকোহল আর নিকোটিনের ঝাঁঝালো তাণ্ডবে আব্দুল্লাহর ভেতরটা আউলা ঝাউলা হয়ে যায়। সে নিজেও চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে হাতপা নেড়ে উল্লম্ব নৃত্য করতে থাকে।
ঘড়ির কাঁটা রাত একটা পার হতেই নর্তকীদের নৃত্যগীত থেমে যায়। হলঘর খালি করে দেওয়ার অনুরোধ আব্দুল্লাহর কানে ঢোকে না ঠিকমতো। সে আরো কিছুক্ষণ নেচে দুই হাতের ফাঁকে এমনভাবে মাথা ঝুলিয়ে বসে থাকে যেন তার বুকের দু’পাঁজর ভেঙে পড়ছে সীমাহীন বেদনার ভারে। সবাই চলে যাওয়ার বেশ খানিক পর ফাঁকা হলঘরের শূন্য চেয়ার-টেবিলের সাথে ধাক্কাধাক্কি করে এলোমেলো পায়ে লিফটে উঠে নিচে নেমে করোলায় চড়ে বেরিয়ে পড়ে তার চেনা শহরের রাস্তায়। রাত গভীরে রাস্তা একেবারে খালি। শহরের মানুষগুলো ঘুমে অচেতন। কেবল ঘুম নেই আবু আব্দুল্লাহর চোখে। সে ফাঁকা রাস্তা ধরে এগিয়ে চলে দ্রুতগতিতে। লালমাটিয়ার ওম্যানস কলেজের বিপরীতে নিজের কেনা তিন রুমের ফ্লাট বাসার দিকে নয়, এয়ারপোর্ট রোড ধরে রূপসী বাংলা বরাবর। রূপসী বাংলার মোড়ে ঘোড়ার গাড়িতে পাশাপাশি বসা জোড়া দুলহা দুলহিন দেখতে বড় ভালো লাগে তার। শূন্যতার হাহাকার দূর হয়ে মনটা নিমিষে ভরে ওঠে।
রক্ত-মাংস নয়, গাড়ি থেকে নেমে মেটালের তৈরি মানব-মানবীর শরীর ছুঁয়ে দেখে সে প্রথমবারের মতো। ঊরুদেশ, নিতম্ব এমনকি স্তন দুটো পর্যন্ত অবিকল নারীদেহের মতো, দেহে প্রাণ না থাকায় খামোখা আফসোস হয় আব্দুল্লাহর। নারীমূর্তির গায়ের সাথে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে নিজের মোবাইলে বার দুই ক্লিক করে ছবি তোলে। তারপর মোড় ঘুরে মন্ত্রীপাড়ার মুখোমুখি ফটকে গাড়ি রেখে রমনা পার্কের ভেতরে ঢোকে।
কামিনী গাছের ঝোপের আড়ালে কুড়ি বছর আগের সেই অতি চেনা কংক্রিটের বেঞ্চের ওপর চিত্ হয়ে শুয়ে বুড়ো রেনট্রির ডালপালার ফাঁক দিয়ে শরতের জ্যোত্স্নাভেজা আকাশে চোখ বুলাতে থাকে। হঠাত্ তার শুকনো হাতের সাথে রক্ত-মাংসের এক নারী হাতের কোমল স্পর্শে চমকে গিয়ে লাফ দিয়ে উঠে বসে।
এমন করে ভয় পাওয়া দেখে খিলখিল করে হেসে ওঠে রমনা গ্রিনের ভালোবাসার ফেরিওয়ালী।
সে হেসে ঢলে পড়ে আবু আব্দুল্লাহর গায়ের ওপর। ফেরিওয়ালীর বেলাজ হাসি আবু আব্দুল্লাহকে উত্তেজিত করে না, সে বারবার বেঞ্চের ওপর জায়গা বদল করতে থাকে।
লীলাবতী নারী গায়ের ওপর থেকে শাড়ির আঁচল ফেলে দেয়। লাল ব্লাউজের ফাঁকে শীর্ণ দেহের নগ্নতা আব্দুল্লাহকে এতটুকু আকর্ষণ করে না, লজ্জায় সংকুচিত হয়ে সে দুই হাঁটুর ফাঁকে মুখ লুকোয়।
সব চেষ্টা যখন ব্যর্থ হয়, তখন মেয়েটি অসহায়ের মতো কংক্রিটের বেঞ্চের একপাশে বসে সুর করে কাঁদতে থাকে।
আবু আব্দুল্লাহ প্যান্টের ব্যাক পকেট থেকে ওয়ালেট বের করে পাঁচশ টাকার একটি নোট বেঞ্চের ওপর রেখে পার্ক করা টয়োটা করোলার দিকে পুব মুখে হাঁটতে শুরু করে।
আবু আব্দুল্লাহর ঘড়িতে তখন রাত দুটো বাজে। সে রমনা গ্রিন পেছনে ফেলে পলাশীর মোড়ের দিকে যাত্রা শুরু করে। পলাশীর প্রান্তরের বুয়েট চত্বর। বড় প্রিয় জায়গা, এখানে এলেই দেহ মন নেচে গেয়ে একাকার হয়ে যায়। আবু আব্দুল্লাহর ভরা যৌবনের সুখের দিনগুলো কেটেছে এই চত্বরে। মাধবীলতা এসেছিল তার জীবনে আরও আগে। কলেজের শেষ বর্ষে পড়ার সময়। সেই থেকে পুরো বুয়েট জীবনটা কেটেছে মাধবীলতার স্পর্শে, আদরে-সোহাগে।
রমনা পার্কে, টিএসসি মোড়ে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বুকে পিঠে একসঙ্গে বসে কত ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিলীন হয়ে গেছে কালের স্রোতে। আবু আব্দুল্লাহ যখন মাধবীলতার গা ঘেঁষে বসত, রূপ-রস-গন্ধে ভরে উঠত উভয়ের মন। ভালোবাসার স্বর্গীয় স্পর্শে দু’জনের শরীর-মন সুখের দোলায় দুলে উঠত। বিশুদ্ধ ভালোবাসার সরোবরে হংস-হংসীর মতো জলকেলি করত মাধবীলতা আর আব্দুল্লাহ।
বুয়েট শেষ করে সরকারি রেল দপ্তরে প্রথম শ্রেণির অফিসারের পদে যোগদান করে আবু আব্দুল্লাহ। খুব জাঁকজমকে বিয়ে হয় মাধবীলতার সাথে। মাধবীলতা তখন টেলিভিশনে নিয়মিত খবর পাঠিকা। বিয়ের পর তার ব্যস্ততা বাড়ে, পরস্পরের দূরত্বও বাড়ে। দিনে রাতে খবর পাঠের সিডিউল, দূরত্ব বেড়েই চলে। তারপর আবু আব্দুল্লাহর জীবন দুমড়ে মুচড়ে তছনছ করে দিয়ে ব্রিটিশ ইমিগ্র্যান্ট এক হার্টস্পেশালিস্টের হাত ধরে লন্ডন পাড়ি জমায় মাধবীলতা।
আবু আব্দুল্লাহর ধূসর পথচলা সেই শুরু। বাকি জীবনটাতে আর কখনো রং লাগেনি। বয়সের চোরাবালিতে যৌবন ধসে গেছে। প্রৌঢ়ত্বে পা দিয়েও মাধবীলতার স্মৃতি ভুলতে পারে না, কেবলই ফিরে ফিরে আসে।
আবু আব্দুল্লাহ রাত গভীরে বুয়েট চত্বর ঘুরে দেখে। চত্বরের সবগুলো ফটক বন্ধ। দক্ষিণে ইএমই বিল্ডিং ঘেঁষে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকা শহীদ মিনারের বেদিতে গিয়ে বসে। হঠাত্ মাধবীলতার নিঃশ্বাসের ছোঁয়া লাগে আব্দুল্লাহর ঘাড়ের নিচে।
আব্দুল্লাহ পেছন ফিরে দেখতে চায়, কিন্তু ঘাড় ঘোরাতে পারে না। মাধবীলতার হাতের কোমল স্পর্শ লাগে কপালের ডান দিকটায়, তারপর কানের কাছে ফিসফিসানি শুনতে পায় আবু আব্দুল্লাহ।
রাত নিশুতিতে এখানে বসে কী করছ আব্দুল্লাহ?
আবু আব্দুল্লাহ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে জোরে শব্দ করে ডাকতে থাকে।
মাধবীলতা। মাধবীলতা।
মাধবীলতা রিনিঝিনি আওয়াজ করে হেসে ওঠে। হাসতে হাসতে কম্পমান ছায়ামূর্তির মতো দূরে চলে যায়।
আবু আব্দুল্লাহ ভয় পেয়ে দুই হাতে মুখ ঢাকে। মাধবীলতার জন্য কষ্টে দম বন্ধ হয়ে আসে। ভেঙেচুরে গুঁড়ো হয়ে যায় তার মন।
বুকভরা হাহাকার নিয়ে আবু আব্দুল্লাহ উঠে দাঁড়ায়। দূরে স্থাপত্য ভবনের পেছন থেকে মাধবীলতার কণ্ঠ ভেসে আসে, যেন সে রাত আটটার খবর পাঠ করছে। ঠিক দশ বছর আগে যেমন মিষ্টি কণ্ঠে খবর পাঠ করত, সেই একই কণ্ঠ, একই সুরেলা গলা। কী মোহনীয় মাদকতা মাখানো সেই আওয়াজ!
এখনো প্রত্যহ রাত আটটার খবর পাঠের সময় মাধবীলতার কণ্ঠ শুনতে পায় আবু আব্দুল্লাহ। সেই মায়াবী চাহনি, সেই মোহনীয় হাসি, গ্রীবাদেশের সেই হূদয় কাঁপানো ভঙ্গি!
এসবই মরীচিকা। মাধবীলতা নেই, দূরে চলে গেছে সে, অন্য কোথাও, অন্য কারও সাথে।
বুয়েট চত্বরে শহীদ মিনারের বেদিতে বসে আবু আব্দুল্লাহ গভীর রাতের নীরবতা ভেঙে ডুকরে কেঁদে ওঠে।
ভারী কান্নার আওয়াজে চাপা পড়ে যায় ভালোবাসার ফেরিওয়ালীর মিষ্টি কণ্ঠ আর রিনিঝিনি হাসি।

এই পাতার আরো খবর -
font
আজকের নামাজের সময়সূচী
আগষ্ট - ১৯
ফজর৪:১৬
যোহর১২:০৩
আসর৪:৩৭
মাগরিব৬:৩২
এশা৭:৪৮
সূর্যোদয় - ৫:৩৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৭
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: ittefaq.adsection@yahoo.com, সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: ittefaqpressrelease@gmail.com
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :