The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার ২৮ জুলাই ২০১৪, ১৩ শ্রাবণ ১৪২১, ২৯ রমজান ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ তোবায় আটকা শ্রমিক, বেতন দিচ্ছে বিজিএমইএ

প্রাণবৈচিত্র্য

আটান্ন বছর পর করতালের সন্ধান

হোসেন সোহেল

সমুদ্রের ঢেউ ভেঙে ট্রলার এগিয়ে যায় সোনাদিয়া দ্বীপে। ট্রলারের শব্দের তালে পশ্চিম আকাশে সূর্যও তলিয়ে যাচ্ছে। প্রাণিবিদ ড. আনিসুজ্জামান, সাগরতলের ডুবুরি আতিক রহমানকে নিয়ে এবারের যাত্রা সামুদ্রিক জলজ প্রাণ করতালের অনুসন্ধানে। আরও ঘণ্টাখানেক লাগবে সোনাদিয়ার মাটি র্স্পশে। প্রাণিবিদ ড. আনিস ১৯৮৩ সালে সোনাদিয়াতে প্রথম এসেছিলেন। ‘করতাল’ নামক জলজ প্রাণের সাথে পরিচয় সে-সময়েই। তাও আবার জীবন্ত নয়, মৃত করতালের সাক্ষাত্।
‘করতাল ডুবে থাকে নোনা পানির কাদা-বালিতে। গোলাকৃতির করতাল থেকে পাওয়া যায় সামুদ্রিক মুক্তা। করতাল থেকে মূল্যবান মুক্তা সংগ্রহের পর করতালের খোসা দিয়ে নির্মিত হয় বড় আকৃতির ঝাড়বাতি বা ঝালর’। দরবার হল, বৈঠকখানা বা রাজপ্রাসাদে ঝুলত আকর্ষণীয় সে ঝাড়বাতি। করতালের খোসা দিয়ে নির্মিত ঝাড়বাতি, সান্ধ্যবাতির সাথে মিশে দরবার হল হতো মায়াবী। শত বছর আগে সোনাদিয়া থেকে জাহাজ ভরে এ কারণে রপ্তানি হতো করতালের মুক্তা ও খোলস। রাজা-বাদশাদের কাছে খুব আকর্ষণীয় ছিল করতালের খোলস ও মুক্তা। সোনাদিয়ার মুক্তার দিকে তাকিয়ে থাকত এশিয়া ও আরবের দেশগুলো।
প্রায় ৫০ বছর আগে করতাল হারিয়ে যায় সোনাদিয়া থেকে। প্রতিদিন মাত্রাতিরিক্ত করতাল সংগ্রহ করতে গিয়ে করতালের ধ্বংস ডেকে আনে এলাকাবাসী। হারিয়ে যাওয়া করতালের সাথে জড়িত কোনো পেশাজীবী মানুষও আর নেই। সময়ের স্রোতে তারাও হারিয়ে গেছে করতালের মতো। তবে কিছুদিন আগে জানা গেল, করতাল আবার ফিরছে সোনাদিয়াতে।
তবে হতাশ হতে হলো ড. আনিস-এর কথায়। আটত্রিশ বছর আগে সোনাদিয়ার কোন অংশে তিনি করতাল দেখেছেন তা ভুলে গেছেন। তবে খোঁজ করলে হয়তো নমুনা পাওয়া যাবে—এমন কথায় একটু আশ্বস্ত হলাম।
অন্ধকার ঘন হলো। আমরা নোঙর করলাম সোনাদিয়ার মাটিতে। থাকার সব আয়োজন করেছে সোনাদিয়ার গিয়াসউদ্দীন। নিরেট একজন পরিবেশ কর্মী। প্রথম প্রশ্ন তার কাছেই, সোনাদিয়াতে করতাল কোথায় পাওয়া যায়? গিয়াস বলে, ‘সেটা কী?’ বুঝলাম, বিপদ বাড়ল তার না চেনার কারণে। তবে রাতে সাগর সৈকতে হাঁটতে গিয়ে উত্তর পেলাম, ‘এক সময় কস্তুরা পাওয়া যাইতো সেনাদিয়াতে—বাপ-চাচারা আগে বলতো।’ বলছিলেন সত্তর বছরের বৃদ্ধ। স্থানীয়ভাবে করতালকে ‘কস্তুরা’ বলেই চেনে সোনাদিয়াবাসী। তিনি আরও বলেন, সোনাদিয়ার পশ্চিমে কালাদিয়া চ্যানেলে যুদ্ধের আগে পাওয়া যেতো মুক্তা সম্বলিত জীবন্ত করতাল। তখন সোনাদিয়ার গুটিকয়েক মানুষ করতাল ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করত। সে বৃদ্ধ ছাড়াও রাতের আলোতে যাকে পেলাম তাকে বললাম। তবে কাজের কাজ কিছু হলো না। সবার এক কথা—হারিয়ে গেছে কস্তুরা।
দেশের পশ্চিমে প্রায় ১২ কিমি চন্দ্রাকৃতি সোনাদিয়া দ্বীপটি জীববৈচিত্র্যের ভাণ্ডার। বিশ্বের অনেক বিরল প্রজাতির পাখিসহ সামুদ্রিক কাছিমের ডিম দেবার অন্যতম স্থান। প্যারাবন বেষ্টিত সোনাদিয়ার পূর্বে চকচকে বালির সাগর সৈকত আর পশ্চিমে পলি-কাদাযুক্ত বিশাল এলাকা। ভাটা হলে সামুদ্রিক অনেক প্রাণী আটকা পড়ে বালু-কাদাতে। স্থলভাগের প্রাণীদের খাবারের চাহিদা পূরণে এটি একটি প্রাকৃতিক উপায়। প্রকৃতির নিবিড় বন্ধনে কাদা-জলে পাখিরা তাই খুঁটতে থাকে নিজেদের খাবার। জল ও স্থলভাগের প্রাণীদের জীবনচক্র একেবারেই প্রাকৃতিক। নিরেট এমন পরিবেশে বাস করত করতাল নামক জলজ প্রাণ।
পরদিন ভোরের সূর্য দ্রুত ট্রলারে উঠিয়ে নিলো আমাদের। সোনাদিয়ায় রাত-দিন প্রকৃতির শাসন মেনে চলতে হয়। জোয়ারে ট্রলার চলে আবার ভাটায় চলাচল বন্ধ। জোয়ারে ট্রলার এগিয়ে যায়। পরিবেশবান্ধব না হলেও সাগরে দ্রুত চলাচলে ট্রলারের যাত্রা মেনে নিতে হলো। একটা সময় ছিল যখন মহেষখালি-সোনাদিয়া এলাকাতে চলত পাল তোলা নৌকা। তখন সোনাদিয়ার পরিবেশ ছিল আরও প্রাণবন্ত ও প্রকৃতিবান্ধব। নির্জন চ্যানেলে পানি কেটে যাচ্ছে আমাদের ট্রলার। আশপাশে প্যারাবন। পানিপথে স্থানীয় যাকে পাই তাকেই প্রশ্ন, করতাল বা কস্তুরা কোথায় পাওয়া যায়? কেউ তো চিনলই না, আবার কেউ বুঝে নেবার চেষ্টা করল ষোলআনা, কিন্তু ফলাফল শূন্য।
ভরা জোয়ারে কালাদিয়ায় এসে পৌঁছালাম, কিন্তু কাজ হলো না। কারণ, জোয়ারের পানি না কমলে বুঝা যাবে না কোনটি চ্যানেল আর কোনটি সাগর। কালাদিয়ার পূর্বদিকে অবস্থান বড়দিয়ার—পশ্চিমে বেলকাদিয়া, সর্ব দক্ষিণে সোনাদিয়া। আনিস ভাই বললেন, করতাল থাকার কথা বালি-কাদাময় স্থানে। কালাদিয়া পুরোটাই কাদামিশ্রিত এলাকা। বিশ থেকে পঁচিশ ফুট পানির উচ্চতা। জোয়ারে সাগর মনে হলেও ভাটার সময় তা হয়ে যায় বিশাল কাদার মাঠ। ধু-ধু প্রান্তরে তখন শুধুই কাদা।
আটত্রিশ বছর আগে ড. আনিস করতাল দেখেছিলেন পানি-বালু-কাদাতে। তেমন একটি এলাকার সন্ধানে আমরা কালাদিয়াতে বেশিক্ষণ থাকলাম না। কারণ, স্কুবা ডাইভার আতিক রহমান পানির নিচ থেকে উঠে জানালেন শুধুই কাদার কথা। তাই কালাদিয়াকে করতাল অনুসন্ধানের তালিকা থেকে বাদ দিলাম। জোয়ার আমাদের ঘণ্টা দুয়েক সময় দেবে। গন্তব্য পরিবর্তন করে আমরা ছুটলাম বড়দিয়া। গিয়াস জানাল, সময় লাগবে বিশ মিনিট। আতিক রহমান আবারও প্রস্তুত সাগরতলে যন্ত্রপাতি নিয়ে। আতিক রহমানকে বলা হয় সাগরতলের পর্যটক। দিনের বেশির ভাগ সময় তিনি সাগরের নিচের প্রকৃতি দেখে বেড়ান। তারও জানা নেই এদেশে হারিয়ে যাওয়া করতালের কথা।
আমরা যাচ্ছি বড়দিয়া। ‘দিয়া’ মানে দ্বীপ। সোনাদিয়ার ভেতরে অনেক দ্বীপের সহ-অবস্থান বিরল। এমন কথা বলছিলেন ড. আনিস; শত বছর আগে চাঁদ সওদাগররা সোনাদিয়ায় বাণিজ্য করতে আসত। করতালের মুক্তাসহ হরেক পণ্য ক্রয় করত সোনাদিয়া থেকে। দীর্ঘ সময়ের বাণিজ্যের কারণে তাদের একত্রে থাকতে হতো অনেকদিন। একঘেয়েমি কাটাতে বিনোদনের জন্য তারা প্রায়শ গান-বাজনা করত। গান-বাজনাতে সামুদ্রিক করতাল বাজিয়ে তাল দিত অনেকে। তাই সামুদ্রিক জলজপ্রাণ করতাল থেকে গান-বাজনায় ব্যবহূত বাদ্যযন্ত্র ‘করতাল’-এর আবিষ্কার ও নামকরণ। একই রকম দুটি বস্তু একে অপরের সাথে লেগে (ক্রিম বিস্কিট) থাকে। আঘাত করলে ঝনঝন আওয়াজ উত্পন্ন হয়। তাই বাদ্যযন্ত্রের করতাল দেখলেই অনুমান করা যায় সামুদ্রিক করতালের আদল। থালার মতো লেগে থাকে পাতলা দুটি খোসা, তারই মাঝে পাওয়া যায় গোলাপি রংয়ের মুক্তা।
এসব কথার আলোচনায় আমরা পৌঁছে যাই বড়দিয়া। এবার অল্প ভাটা হতে আরম্ভ করেছে। কিন্তু পানি তখনও দশ-বারো ফুট। সকল প্রস্তুতি নিয়ে থাকা আতিক ভাই নেমে পড়লেন ট্রলার থেকে। ডুব দিলেন পানির গভীরে। আমরা আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছি পানির দিকে। আশায় গুড়ে-বালি। তিনি উঠে জানালেন, পানির নিচে শুধু কাদা। মাঝে মাঝে কিছু ঝিনুক জাতীয় প্রাণী পাওয়া যায়। তবে তিনি আশার কথা জানালেন, সামনে একটু দক্ষিণে এগোলে হয়তো বালির সন্ধান পাওয়া যেতে পারে। আগেই বলেছি, আতিক রহমান সাগরতলের একজর পর্যটক ও গবেষক, দেশ-বিদেশ ঘুরে তার হিসাবগুলো একদম পাকাপোক্ত। আর তাই তো একটু এগিয়ে পেয়ে গেলাম বালি। কিন্তু বালি দিয়ে তো হবে না। সাথে করতালের সন্ধানও পেতে হবে। ড. আনিস বললেন আবারও ডুব দিতে। কথার সাথে সাথে কাজ। কারণ, আতিক ভাই ডাঙা থেকে পানির নিচে থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।
ট্রলার এবার বৈঠা ব্যবহার করে শ্লথগতিতে এগিয়ে যায়। এবার পুরোদমে ভাটার টান পড়েছে তাই সাগরের দিকে পানির টান বেশি। অপরদিকে আতিক ভাই গতি বাড়িয়ে দেয় পানির নিচে অনুসন্ধানে। আমরা ট্রলারে বসে রইলাম, কারণ, অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংখ্যা কম। অতিক রহমানকে প্রতিমুহূর্তে পানির তলদেশে গিয়ে দেখতে হচ্ছে কাদা-বালি স্পর্শ করে। এদিকে ভাটায় যখন বুক পানি তখন ড. আনিসসহ সকলেই নেমে গেলাম। কিন্তু কিছু পাওয়া যাচ্ছে না। একরকম হতাশ। দলের সবার মনে হলো, কোনো করতাল নেই সোনাদিয়াতে। আনিস ভাই বললেন, আমরা এবার বেলকাদিয়া যাব। তবে এজন্য জোয়ারের অপেক্ষায় থাকতে হবে আমাদের।
পুরো ভাটা হওয়ায় সোনাদিয়ার সব চ্যানেল ভেসে উঠেছে। পানি হাঁটুতে এসে ঠেকল। সবাই হাঁটছি কাদা-বালিতে কোনো ধারাবাহিকতা ছাড়া। ট্রলার কাদায় ঠেলতে ঠেলতে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে মাঝি। আনিস ভাই হঠাত্ ডেকে উঠলেন। সবাই চমকে এগিয়ে যাচ্ছি ড. আনিসের কাছে। আমরা কি ঠিক জায়গায় এসে গেছি তবে? বুঝতে পারছি, পায়ের নিচে অজস্র মরা করতালের খোলস। সবাইকে সর্তক হতে বললাম, কারণ, ‘মরা শামুকে পা কাটে’। এবার পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে আনিস ভাই বললেন, এটা একসময় করতালের জীবন্ত অধিক্ষেত্র ছিল। এখন মৃত করতালের শ্মশান। সবাইকে অবাক করে আমাদের মাঝি একগাদা বড় আকারের করতাল হাতে নিয়ে সামনে এগিয়ে আসছে। যে মানুষটি ছিল আমাদের এক চুপচাপ সঙ্গী সেই কিনা উচ্ছ্বাস নিয়ে হাতভর্তি করতাল নিয়ে আসছে। আমরা একধরনের বিহ্বলতা নিয়ে দেখছি। আনিস ভাই জানালেন, এগুলো সব জীবন্ত।
আনন্দে আমরা একরকম চিত্কার করছি। আনিস ভাই নিজেও অবাক হলেন, যে করতাল হারিয়ে গেছে বলে সবার বিশ্বাস, এমনকি এখানকার এলাকাবাসীর, তা তবে এখন ভুল প্রমাণিত হলো! সবার চোখে অবিশ্বাস! এ পরিমাণ করতাল-এর অস্তিত্ব রয়েছে এখানে! এখন আগ্রহ অন্যদিকে গড়ালো। মাঝি আমাদের এবার নিয়ে গেল সে স্থানে। সবার চোখ ছানাবড়া। হাঁটু পানিতে পুরো এলাকা জুড়ে করতাল আর করতাল। আমিতো অবাক নয়, হতবাক হয়ে গেছি। করতালের প্রকৃতি অনুযায়ী প্রায় একসাথে দশ থেকে পনেরোটি করতাল একে অপরের ওপরে উঠে আছে।
সবাই সর্তকভাবে এগিয়ে যাচ্ছি, কারণ, পা কেটে যাবার আশংকা অনেক। মৃত শামুক-ঝিনুকে পা কাটতে পারে। ক্যামেরাম্যান তানভীর আমাদের সবকিছুরই ছবি তুলতে লাগল। এ পর্যায়ে সবাইকে ছাড়িয়ে ট্রলারের মাঝি আমাদের ডাক দিলেন। এগিয়ে গিয়ে দেখতে পারি, এক-একটি চায়ের কাপের পিরিচের সমান অর্ধেক একটি করতাল। এই প্রথম পরিচয় ঘটিয়ে দিলেন আনিস ভাই। বললেন, এটি অনেক বছর আগের একটি মৃত করতালের খোলস। আমাদের আগ্রহ বেড়ে আরও চারখানা হয়ে গেল। আরও অনেক দূর হেঁটে চলেছি সবাই। জোয়ার আসার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা আমাদের অনুসন্ধান চালাতে পারব।
মণি-মুক্তা ও জীববৈচিত্র্যের উত্কর্ষতার কারণে সোনাদিয়া দ্বীপের নামকরণের তাত্পর্য অনেক। 

এই পাতার আরো খবর -
font
আজকের নামাজের সময়সূচী
মার্চ - ২৭
ফজর৪:৪০
যোহর১২:০৫
আসর৪:২৯
মাগরিব৬:১৬
এশা৭:২৮
সূর্যোদয় - ৫:৫৬সূর্যাস্ত - ০৬:১১
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: ittefaq.adsection@yahoo.com, সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: ittefaqpressrelease@gmail.com
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :