The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার ২৮ জুলাই ২০১৪, ১৩ শ্রাবণ ১৪২১, ২৯ রমজান ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ তোবায় আটকা শ্রমিক, বেতন দিচ্ছে বিজিএমইএ

গল্প

গ্যারেজ দখল

মুহম্মদ মাহবুব আলী

নগর জীবন বিশেষত ঢাকা নগরীতে মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক কমে যাচ্ছে। একধরনের যান্ত্রিকতা মানুষকে পিষ্ট করে তুলছে। আবাসন সমস্যা সমাধানে একের পর এক কোম্পানি বিভিন্ন সাইজের ফ্ল্যাট তৈরি করছে। আয় অনুযায়ী কেউ কেউ ফ্ল্যাটের মালিক হচ্ছে স্বার্থের ভিত্তিতে। শয়তানের সাথে শয়তানের অতি সহজে বন্ধুত্ব তৈরি হয়।
রিয়াজের মাঝারি মাপের একটি ফ্ল্যাট ছিল। উত্তরার ফ্ল্যাটখানি ঘিরে তার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। ফ্ল্যাটে রিয়াজ, তার স্ত্রী নাহার, পাশের ফ্ল্যাটে তরুণ, তার স্ত্রী, বৃদ্ধ মা আর চার সন্তান নিয়ে বসবাস। উল্টো দিকে একজন উকিল, তার স্ত্রী ও তিন সন্তান-সন্ততি নিয়ে থাকেন।
একদিন সকালে রিয়াজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্যে সিঁড়ির ল্যান্ডিং দিয়ে নামছিল, তরুণ হঠাত্ করে এগিয়ে এল, বলল,
—একটি কথা বলব ভাবছি।
কোনো সম্ভাষণ নেই। কথা শুরু করে দিচ্ছে। জিজ্ঞাসুনেত্রে রিয়াজ তাকায়। হড়হড় করে তরুণ বলে,
—আপনার তো গাড়ি নেই। ফ্ল্যাটের গাড়ির পার্কিং স্পেস অযথা ফেলে রেখেছেন কেন? গাড়ির পার্কিংস্পেস ভাড়া দিন।
যেভাবে নির্দেশের মতো তরুণ কথাগুলো বলছে তাতে একটু হতচকিত হয় সে। তরুণ একটি কোম্পানিতে জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে কাজ করে। প্রায়ই দেশ-বিদেশে যেতে হয়। তাই বলে এধরনের ব্যবহার খারাপ লাগে। বলে,
—এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছি। পরে কথা হবে।
—করেন তো শিক্ষকতা, এত তাড়া কিসের?
—শিক্ষকদের নির্দিষ্ট সময়ে ক্লাসে যেতে হয়।
—একদিন না হয় একটু দেরিতে গেলেন।
তরুণের কথাবার্তায় পিত্তি জ্বলে যায়। তবু নিজেকে সংযত রাখে। অন্য সময় হলে হয়তো রাজি হয়ে যেত। কিন্তু তরুণের অর্ডার সূচক কথাবার্তায় খারাপ লাগে। সে বলে,
—ভেবে দেখব। কিন্তু এখন যেতে দিন।
তরুণ এবার শ্লেষাত্মক হাসি হাসে। বলে,
—শিক্ষক মানুষ, গাড়ি কেনার সামর্থ্য কোথায়? তার চেয়ে মাসে তিন হাজার টাকা করে দেবো, আপনার গাড়ির পার্কিং স্পেস ব্যবহার করা বাবদ। এতে সংসারে বাড়তি আয় হবে।
রিয়াজ তরুণের কথায় স্তম্ভিত হয়ে যায়। ভদ্রতা রক্ষার খাতিরে বলে,
—আমাকে চিন্তা করার সময় দিন। এখন পথ ছাড়ুন।
—বেশ দু’দিন সময় দিচ্ছি।
—নাহলে?
কথা শেষ করার আগেই রিয়াজ প্রশ্ন করে।
—অন্য ব্যবস্থা নেব। তখন আমাকে কিন্তু দোষ দিতে পারবেন না।
তরুণ যেন এক ধরনের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে মারে। আসলে এ ধরনের কথাবার্তার সাথে রিয়াজ বেশি পরিচিত নয়। শিক্ষক মানুষ, কারোর সাতে-পাঁচে থাকে না। ফ্ল্যাটের অন্যদের সাথেও তেমন মাখামাখি নেই। ফ্ল্যাটের একটি সমিতি আছে, সমিতির সভাপতি ও জেনারেল সেক্রেটারি সরকারি চাকরিতে ভালো পজিশনে ছিলেন। এখন চাকরিতে নেই। আর তাই সমিতি তাদের ধ্যান-জ্ঞান। সারাদিন ফ্ল্যাটের গেস্টরুমে বসে আড্ডা মারেন। আর গার্ডদের বাসার চাকরের মতো ব্যবহার করে। এ ক্ষেত্রে অবশ্য সমিতির সাধারণ সম্পাদক এক ধাপ এগিয়ে।
রাতে খাবার শেষে নাহারের সাথে রিয়াজ আলাপ করে।
নাহার বলে,
—গাড়ি না থাকলে কারের পার্কিং স্পেস দখল হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে এ গ্যারেজ আর উদ্ধার করা যাবে না।
কথাটা রিয়াজের মাথায় এসেছিল। এখন কী করবে, বুঝতে পারে না।
নাহারের পরামর্শটি বাস্তবসম্মত হলেও কিভাবে বাস্তবায়ন করবে তা জানে না। কেননা, সন্তানদের লেখাপড়ার জন্যে কিছু জমানো টাকা ছাড়া অন্য টাকা নেই।
নাহার-ই বুদ্ধি দেয়—
—একটি রিকন্ডিশান গাড়ি কিনে ফেলো।
—টাকা পাব কোথায়? কে দেবে টাকা?
—ছেলের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্যে যে টাকা ফিক্সড ডিপোজিট রেখেছ, তা দিয়ে বায়না করো। বাকি টাকার জন্যে ব্যাংক লোন নাও।
এত সহজ সমাধান, অথচ রিয়াজের মাথায় কিছুতেই ঢুকছিল না। তারপরও চিন্তা করে ঋণ নেয়া ঠিক হবে কি না। সে মুহূর্তে তার হ্যামলেটের কথা মনে পড়ে—To be or not to be।
অনেক ভাবনাচিন্তা করে সে গাড়ি কিনতে মনস্থ করে। নাহার আর ছেলে-মেয়েদের নিয়ে সে বহু শোরুমে গাড়ি খুঁজে ফেরে। শেষে টয়েটোর ১১০০ সিসি-র একটি ছোট্ট গাড়ি কেনে। শোরুমের মালিক বলে দশ/বারো দিন সময় লাগবে গাড়ির ডেলিভারি দিতে। এর মধ্যে ব্যাংকলোনও সেংশান হয়ে যাবে।
দু’দিন পর-ই তরুণ বাসায় এসে হাজির হয়। তরুণ জিজ্ঞেস করে,
—আপনি রাজি তো? তিন হাজার-ই দেবো। রিয়াজ যেন কিছুই বুঝতে পারে না। জিজ্ঞেস করে,
—কিসে রাজি হব? কেনই বা রাজি হব?
—কেন, সেদিন যে বললাম গাড়ির গ্যারেজ ভাড়া দেওয়ার কথা। এত ভুলো মন নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের কিভাবে পড়ান। বলেই, তরুণ মুচকি হাসে।
—আমার গাড়ি রাখব কোথায়?
—তার মানে? আপনার গাড়ি কোত্থেকে এল?
—বাহ রে, আমার গাড়ি ১০/১২ দিনের মধ্যে আসবে।
রিয়াজের কথায় হতচকিত হয়ে পড়ে তরুণ। মনে করেছিল ভয় দেখালেই হবে। তরুণ বাসা থেকে চলে যায়। তার চোখে-মুখে প্রচণ্ড বিরক্তির ছাপ। পারলে রিয়াজকে খেয়ে ফেলবে। অথচ এমন একটা দাবার চাল রিয়াজ দেবে, তা জানা ছিল না। ভাবে, রিয়াজের চেয়ে সে অনেক বেশি দাবা খেলায় পারঙ্গম।
এবার শুরু হয় রিয়াজ আর নাহারের প্রতীক্ষার পালা। ব্যাংক লোনের জন্যে এক গাদা কাগজপত্রে স্বাক্ষর করতে হয়। দেখে সুদের টাকার পরিমাণ অনেক বেশি। কিন্তু কিছু করার নেই।
ঠিক পনের দিনের মাথায় বহু প্রতীক্ষিত গাড়িটি আসে। অনেক কষ্ট করে একজন ড্রাইভার রাখে। রিয়াজ, নাহার ও তাদের সন্তানদের মধ্যে মধ্যবিত্তের জীবনে ক্ষণিকের আনন্দের ছোঁয়া লাগে। তারা যেন হাতে চাঁদ পেয়েছে।
রাতে তরুণ কার পার্কিং স্পেসে গিয়ে গাড়িটি দেখে। সে নানাভাবে গাড়ি সম্পর্ক গার্ডদের জিজ্ঞেস করে। তার মনে এক ধরনের আনন্দ ঝরে পড়ে। এবার দাবার নতুন করে চাল দেওয়ার জন্যে ফন্দি ফিকির করে।
পরের দিন সকালে সে উপঢৌকনসহ ফ্ল্যাটের সমিতির সেক্রেটারি জেনারেলের বাসায় যায়। ঘণ্টাখানেক নিরালায় তাদের মধ্যে বৈঠক হয়। অত্যন্ত বন্ধুসুলভ এ বৈঠকে দুজন দুজনকে ভালো করে বুঝে নেয়।
দু’সপ্তাহ পর একদিন সমিতির বিশেষ জেনারেল মিটিং-এ উপস্থিত থাকার নির্দেশ পায় রিয়াজ। রিয়াজ সচারচর সমিতির জেনারেল মিটিং-এ থাকে না। সমিতির অন্যায় কার্যকলাপ তার কাছে ঘৃণ্য মনে হয়। তার বারবার মনে পড়ে, তার ভাই মারা যাওয়ার পর পনের মিনিটও সমিতির সেক্রেটারি জেনারেল উনার গাড়ি বের করার অজুহাতে লাশ রাখতে দেয়নি। মনে মনে ভাবে,
—হায়রে দম্ভ, কোথায় যাবে। সব মানুষকেই মরতে হবে। মরলে সাড়ে তিন হাত জমি। সেটা সবার ভাগ্যে জুটে কি না সেটাও সন্দেহ।
যথারীতি বিশেষ জেনারেল মিটিং হয়ে যায়। কয়েকদিন পর মিনিটস্ হাতে পায়। দেখে, তার গাড়ির আকার ছোট বলে, গ্যারেজ ছোট করা হয়েছে আর ভাড়া দিচ্ছে তরুণকে। সে বেশ আশ্চর্য হয়। গৃহ নির্মাণ সংস্থার মন্ত্রণালয়ের কাগজে কমনস্পেস আছে ৪১৪ বর্গকিলোমিটার। তাছাড়া রিহ্যাবের হিসাবে ১৭৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটের জন্যে গাড়ির কার পার্কিং স্পেস হচ্ছে ১৩০ বর্গফুট।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক কার পার্কিং স্পেস দুটো দখল করে আছে। সাথে সাথে অবৈধভাবে সমিতির আয় বাড়ানোর নাম করে আরো কিছু পার্কিং স্পেস বের করেছে। সেগুলোও ভাড়া দিচ্ছে।
রিয়াজ সমিতির কার্যকলাপ ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে পত্র দেয়। সমিতির সভাপতির সাথে দেখা করে। তিনি বলেন,
—ঠিক আছে। আমি চেষ্টা করব। কিন্তু সেক্রেটারি জেনারেল আর নির্বাহী কমিটির বেশ কয়েকজন একই জেলার হওয়ায় আমার ক্ষমতা সীমিত।
এর মধ্যে সমিতি আবার ফ্ল্যাটের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্যে টাইলস লাগানোর জন্যে বিশ হাজার টাকা দাবি করে নির্দেশ পাঠায়।
রিয়াজ ঠিক করে যতক্ষণ না গাড়ির কার পার্কিং স্পেস ঠিক করবে ততক্ষণ সে টাকা দেবে না।
অপেক্ষা করতে থাকে। মাস যায়, বত্সর যায়। আবার জেনারেল মিটিং বসে। রিয়াজ মিটিং-এ ছিল না। সে ক্লাসে ছিল। সমিতির সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশে ফ্ল্যাটের সমিতির ব্যাবস্থাপক তাকে অনুরোধ জানায় আসার জন্যে।
অনেক কষ্টে ক্লাস থেকে এসে সমিতির জেনারেল মিটিং-এ যোগ দেয়।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক তার কাছে বিশ হাজার টাকা না দেওয়ার কারণ জানতে চায়।
রিয়াজ সত্যি কথা বলে। মনের ক্ষোভ গোপন করে না।
তখন সভাপতি আশ্বস্ত করে, গ্যারেজের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে দেখা হবে।
রিয়াজ বলে,
—সমিতির কার্যক্রম সম্পূর্ণ বেআইনি।
অন্য এক সদস্য বলে,
—আপনি আমাদের যত খারাপ ভাবছেন আমরা তত খারাপ নই। আমাদের সাথে মিশেন, দেখবেন আমরাও খুব আন্তরিক।
রিয়াজ জিজ্ঞেস করে,
—ছত্রিশটি ফ্ল্যাটের মালিকদের মধ্যে বারোজন উপস্থিত কেন?
—অন্যদের সাইন পরে করিয়ে নেন। সাধারণ সম্পাদক এ কথা বলে।
উপস্থিত সবার কথা বিশ্বাস করে, রিয়াজ বাসা থেকে চেক এনে দিয়ে দেয়। তার বিশ্বাস, সভাপতি নিশ্চয়-ই কথা রাখবেন।
রিয়াজ বলে,
—বাসার কাজের লোক দিয়ে, যারা কিছুই জানে না, এমনদের দিয়ে গার্ড দেওয়াচ্ছেন এটা ঠিক নয়। আজ বাজে কোম্পানি বাদ দিয়ে হয় ভালো কোম্পানি থেকে গার্ড নেন নতুবা নিজেদের ব্যবস্থাপনায় গার্ডের অ্যারেঞ্জমেন্ট করেন। গার্ডের উচিত কে-কখন এল, সেটা দেখার। পরিষ্কার রেজিস্টার মেইনটেইন করা উচিত।
রিয়াজ লক্ষ করে দেখে, তরুণ যেন রিয়াজের কথায় হাসছে। বেশ মজা পেয়েছে। একধরনের তাচ্ছিল্য ভাব চোখে মুখে ফুটে ওঠে তার। রিয়াজ ভ্যাবাচ্যাকা খায়।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলে,
—সব হবে। আপনি দুশ্চিন্তা করবেন না। কয়েকদিন পর যখন সমিতির মিটিং-এর কার্যবিবরণী যায় তখন বেশ অবাক হয়। দেখে তরুণ যুগ্ম সম্পাদক হয়েছে। গার্ডদের সম্পর্কে তার বক্তব্য কোথাও উল্লেখ নেই। এমনকি তার গাড়ি গ্যারেজ সম্পর্কে পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে বলা হয়েছে।
রিয়াজের ভীষণ রাগ লাগে। নাহার তাকে বলে,
—দুষ্টু লোকের সাথে পারা যাবে না। বরং সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
মনে পড়ে অধুনালুপ্ত বাংলার বাণীর কাছে একটি দেয়াল লিখনে পড়েছিল,
‘পিস্তল ঠেকিয়ে টাকা চুরি করলে আমার হাইজ্যাকার বলি আর ফাইল ঠেকিয়ে হাজার থেকে কোটি কোটি টাকা যারা রোজগার করছে, দিব্যি তাদের সম্মান করি।’
রিয়াজ বুঝতে পারে—ছাত্র-ছাত্রীরা তাকে শ্রদ্ধা-ভক্তি করে। কিন্তু এ সমাজ ব্যবস্থায় সে অচল।
তরুণ যেন আরো বেশি ক্ষমতার প্রভাব খাটাতে চায়। এদিকে তরুণের সাথে উকিলের পরামর্শ হয়। তাদের ইচ্ছে যেকোনো একজন রিয়াজের ফ্ল্যাট দখল করবে। কুকুরকে যেমন মানুষ দু-এক টুকরো গোস্ত ছুড়ে মারে তেমনি কিছু টাকা দিয়ে রিয়াজও তার পরিবারকে উত্খাত করবে।
রিয়াজ পত্রিকায় ফ্ল্যাট বিক্রির বিজ্ঞাপন দেয়। কিন্তু সেক্রেটারি জেনারেল, তরুণ আর উকিলের কারণে ক্রেতারা ফিরে যায়। তারা বিভিন্নভাবে ক্রেতাদের ফিরিয়ে দেয়।
বহাল তবিয়তে রিয়াজের গ্যারেজের অর্ধেক অংশ সমিতি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। আসলে ভূপেন হাজারিকার সে বিখ্যাত গান, ‘মানুষ মানুষের জন্যে’, সংশোধন করে বলতে ইচ্ছে করে,
‘কোন কোন মানুষ, কোন কোন মানুষের জন্যে’। কালো টাকার জোরে তরুণ ধরাকে সরা জ্ঞান করে। আসলে সমাজ ভাঙছে। এর খোলনলচে-তে পচন ধরেছে। ফ্ল্যাটগুলো এখন মধ্যবিত্তের বস্তিতে পরিণত হয়েছে।
এদিকে সমিতির সাধারণ সম্পাদকের স্ত্রী ডা. কানিজ গুলশানে ফ্ল্যাট কিনেছে। সাধারণ সম্পাদক ভাবছে সেখানে গেলে এখানের মতো এত প্রভাব খাটাতে পারবে কি? তরুণ যেভাবে পদসেবা করে, গার্ডেরা অঙ্গুলী হেলেনে উঠে বসে—সেটা গুলশানে কিছুতেই পাবে না। একমাত্র স্বাস্থ্যবিভাগের ডিজি থাকাকালীন তার এত ক্ষমতা ছিল। অবশ্য ক্ষমতার আরেকটি উত্স ছিল, মন্ত্রীর কাজিন। তার দল ক্ষমতায় নেই, কিন্তু ফ্ল্যাট সমিতির সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে লাগতে কার্পণ্য করে না। নিরীহ মানুষের পরিবারকেও সর্বস্বান্ত করতে ইচ্ছে করে অনেকটা ইব্রাহীম খাঁর ‘ভিলেজ পলিটিক্স’ গল্পের মতো।
তরুণ এখন বেশ খুশি। সে নিশ্চিত রিয়াজের গ্যারেজ যে ফন্দিতে দখল করেছে। একই কায়দায় সে হয়তো ফ্ল্যাট দখল করবে। তার একটাই ভয়, এক্ষেত্রে উকিল সাহেব আবার তার প্রতিদ্বন্দ্বী। উনার সাথে বুদ্ধিতে পারবে কি?
তরুণকে বেশ ব্যস্ত থাকতে হয়। তবু প্রতিদিন মোবাইলে একবার করে ফ্ল্যাটের সমিতির সাধারণ সম্পাদকের সাথে কথা না বললে ভাত হজম হয় না। এ যেন নজরুলের সেই গানের কলির মতো, ‘মোরা আর জনমে হংসমিথুন...’। কেমন করে যেন দু’জনের মধ্যে গভীর সখ্য হয়েছে।
সমাজে যে পরিবর্তন তা ছড়িয়ে পড়েছে। যৌথ পরিবার ভেঙে ধীরে ধীরে ছোট পরিবারের সৃষ্টি হয়েছে।
এই ছোট পরিবারেও ব্যক্তিকেন্দ্রিক মনমানসিকতা গেঁথে বসেছে। একটি ফ্ল্যাটের ডাক্তার স্ত্রী নানা ধরনের মিথ্যে খোলস ছড়িয়ে বেড়ান। আগের দিনে মানুষ জায়গা-জমি, হাওর-বিল দখল করত। এখন কিন্তু সময় পাল্টেছে। জমিদার, তালুকদার শ্রেণির পর গ্রাম্য মাতব্বরদের বদলে এখন ভূমিদস্যুরা নদী-নালা, পুকুর, খাল-বিল দখল করছে। শহরে হেমার গাড়ি বা মার্সিডিজবেঞ্জ চালিয়ে বিশাল কর্পোরেট সাম্রাজ্যের মালিক হচ্ছে। আর যাদের বিশাল বাহিনী নেই, তারা ফ্ল্যাটের গ্যারেজ দখল করে, পারলে পরের ফ্ল্যাট-ই দখল করে ফেলে। এদেশে টাকা যে বানাতে পারে, খুব সহজেই পারে।
রিয়াজ জানে, দুষ্টু লোকেরা যতই ক্ষতার মোহে অন্ধ হোক, একসময় আঁধার কেটে যাবে, সত্যের জয় হবে।
তরুণের ধারণা, গোয়েবেলস হচ্ছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিমান ব্যক্তি। বারবার মিথ্যে কথা বলে সত্যকে ধামাচাপা দিতে পারবে। রিয়াজ তার কাছে নস্যি।
উকিলের স্থির প্রত্যয়, টিকে থাকতে হলে রিয়াজদের মতো সেদর ঝেড়ে ফেলতে হয়, বিপদে ফেলতে হয়। তবেই সহজে গেঁড়ে বসতে পারবে।
সেক্রেটারি জেনারেলের প্রত্যাশা, ক্ষমতাই সব আর যারা চাটুকার আছে তাদের ওপর নির্ভর করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
সভাপতির স্থির প্রত্যয়, কাউকে না ঘাঁটিয়ে যেভাবে পারি ফ্ল্যাট সমিতির সভাপতি হয়ে বসে থাকি। এক্ষেত্রে সততা-অসততা, ন্যায়-অন্যায় দেখার কিছু নেই।
গ্যারেজ দখল হয়েছে, পারলে ফ্ল্যাট দখল হবে। সমিতির নামে একের পর এক অন্যায় হচ্ছে। কোনো ধরনের সংশোধনের উপায় নেই।
জীবনের পলে পলে সুন্দর-অসুন্দরের বসবাস। কোনোটাকে উপেক্ষা করা যায় না।

এই পাতার আরো খবর -
font
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১৮
ফজর৪:৫৬
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৫সূর্যাস্ত - ০৫:১০
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: ittefaq.adsection@yahoo.com, সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: ittefaqpressrelease@gmail.com
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :