The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার ২৮ জুলাই ২০১৪, ১৩ শ্রাবণ ১৪২১, ২৯ রমজান ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ তোবায় আটকা শ্রমিক, বেতন দিচ্ছে বিজিএমইএ

আত্মকথা

গোয়েন্দা

দাউদ হায়দার

‘জীবনের ধন কিছুই যায় না ফেলা।’ ফেললে নিশ্চয়, জীবন কাটছাঁট। কাটাকাটির জীবনী যারা লেখেন, পাঠককুল বঞ্চিত হয় একজন মানুষকে সঠিক জানতে। জানান দেওয়ার কাজ লেখকের। হোক ভালোমন্দ। গোপন ঘটনাও প্রকাশ জরুরি। নিজের গরজেই। ঝামেলাও আছে গরজে। পরিবারে, সামাজে, রাষ্ট্রে। এমন কি জনমহলে। বিশেষত বাংলাদেশে। রবীন্দ্রনাথের জীবনস্মৃতি মাত্র উনত্রিশ বছরের। বেঁচে ছিলেন দীর্ঘ ৮০ বছর। বাকি ৫১ বছরের জীবনকাহিনি লেখেন প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়, প্রশান্তকুমার পালরা। রবীন্দ্রনাথ কেন লেখেননি, নানা ব্যাখ্যা দিয়েছেন অনেকেই। যেমন, বৌদি কাদম্বরী, ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো বা রানু সোম (মুখার্জি )-এর সঙ্গে সম্পর্ক, বাদ দিয়ে জীবনী রচনা গোঁজামিল। মানে, কাটাকুটি। তো, বিশ্বকবি মিথ্যাচারিতার আশ্রয় নেননি। বাকি জীবনী লেখেননি।
লেখা শুরু করেছিলুম বার্লিনে। শেষ করলুম নিউ ইয়র্কে। চটজলদি লেখা। ঘটনার বিবরণ মাত্র। কেচ্ছা ব্যতিরেকে নয়।
নিজস্ব সংবাদদাতা।
দেড় বছরের শিশুকে খুনের আসামি করে পুলিশের মামলা দায়ের। খুনিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের নির্দেশ।

বিশেষ সংবাদদাতা।
পুলিশের নাকের ডগায় দাগি আসামি। ৮ খুনের মামলায় জড়িত। ছিনতাই, ডাকাতি, রাহাজানি, খুনোখুনিতে পয়লা সর্দার। পুলিশ দেখেও দেখছে না। মন্ত্রী, নেতার প্রশ্রয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে। পুলিশ বলছে, আসামি পলাতক।

দেখেছেন নিশ্চয়, সংবাদপত্রে এই বয়ানের খবর প্রায়শ প্রকাশিত। পাঠক কি বিচলিত, রাজনৈতিক মহল, সরকারি দপ্তর উদ্বিগ্ন? না। সত্যজিতের তৈরি লালমোহনবাবু ডিটেকটিভ গপ্পো লেখেন, তার মানে, নিজেও ঝানু গোয়েন্দা। আকাশপাতালের নাড়িনক্ষত্র জানেন, কেবল অজানা, ‘একটি প্রশ্ন চলিতে পারে কি? উট কি কাঁটা বাছিয়া খায়?’ প্রদোষ মিত্তিরের (সোনার কেল্লা-য়) উত্তর মনে আছে হয়তো আপনাদের। বলেছি ‘না’। ভুল হয়েছে। কোনো-কোনো সরকার অবশ্যই বিশ্বাস করেন রিপোর্টের সত্যতা।

গুপ্তচর-২ অধ্যায়ে বিশদ বর্ণিত।
খোকনের মতো বখতিয়ার খিলজি-র ( ... ...‘সতীশ, ... এত বকে যে, ওর দিদি ওকে বখতিয়ার খিলজি নাম দিয়েছে।’ গোরা, রবীন্দ্রনাথ।) বুকের নিচে উদরে কথা থাকে? অরুণাকে, ‘মাইরি বলছি, আমার দুই ঠোঁটের ফাঁক থেকে চ ধ্বনিও বেরুবে না। তোমাকে এখন চুমু না খেলে মরে যাবো মাইরি। তোমার ঠোঁটের লালা আমার জীবন।’ দুইদিন পরে অরুণার দুই সহপাঠিনী, আত্রেযী ও পামিরার জিজ্ঞাসা, অরুণাকে, সত্যি কি, বখতিয়ার তোর ঠোঁটের রক্তও চুষেছে? অরুণার প্রশ্ন : কে বলেছে? দুজনের উত্তর, কে আবার, তোর গুণধর বখতিয়ার।

তো, প্রেমের মর্যাদা রাখতে শেখেনি বখতিয়ার। গাধা ও গর্দভ এক বচনে কি হয়, জানেন। অধিক কচকচানি ভালো নয়।
বোম্বের সাপ্তাহিক ব্লিতস আবিষ্কার করলে, ‘খোকন, বাংলাদেশের দুধর্ষ গুপ্তচর। কলকাতা থেকেই বিশাল নেটওয়ার্ক ছড়িয়েছে। এই গোপন তথ্য কলকাতার গোয়েন্দা দপ্তর থেকে প্রাপ্ত। তার প্রতি সুবর্ণ নজর রাখা হচ্ছে।’

... কলকাতা থেকে প্রেরিত বিশেষ সংবাদদাতার নাম এস. আর. দাশগুপ্ত। বাইলাইনে রিপোর্ট প্রকাশিত। ব্লিতসের সম্পাদক কারনি্জয়ার সঙ্গে মাস দুয়েক আগে দেখা, এক পার্টিতে, বোম্বের বান্দ্রায়। অনুরোধ জানান, যখন ইচ্ছে লিখবেন। জানেন, আমার পত্রিকা পাঠকপ্রিয়। একটু চুলকানি মাখা। লোকে কয় ইয়েলো। লন্ডনের সান টাইপের। অতটা নয়। লিখবেন। মুখরোচক লেখা। মোটা টাকা পাবেন। পাশ থেকে একজন (বলিউডের উঠতি অভিনেত্রী। পরে হার্টথ্রব।) পাছায় চিমটি কাটেন, চিমটির বারতা স্পষ্ট। পরে বলি, নখ কাটো। তোমার চিমটিতে পাছা জ্বলছে। হেসে উত্তর , না জ্বললে রাজি হতে।
সুখরঞ্জন দাশগুপ্তর সংক্ষিপ্ত নাম এস. আর. দাশগুপ্ত। এই ফিচেল সাংবাদিক আনন্দবাজার পত্রিকার বিশেষ সংবাদদাতা। এই বিশেষ সংবাদদাতা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সম্মাননা পাওয়ার জন্যে জোর তদবির শুরু করেন। নামও চূড়ান্ত হয়। কী ভয়ঙ্কর ব্যাপার!! কাণ্ড জেনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপুমণিকে বার্তা পাঠাই, তীব্র আপত্তিমাখা, মুক্তিযুদ্ধে লোকটার মিথ্যাচারিতার রিপোর্ট উল্লেখ করে। দীপু বোধহয় বিষয়টি তলিয়ে দেখেন। দায়মুক্ত হন। না হলে মারাত্মক বিপদ ছিল।
সুখরঞ্জনের সহকর্মীরাই বিশ্বাস করেন না ওঁর ‘বিশেষ’ রিপোর্ট। মিথ্যে রিপোর্টে শাহেনশাহ। উঁই ঢিপিকে হিমালয় বানায়। চিফ রিপোর্টার সুনীল বসু বলেন, ‘মালিকের লোক।’ অনেক সহকর্মীর কথা, অশোকবাবুর (অশোককুমার সরকার । সম্পাদক। মালিক।) হেড চাকর। রাজা-জমিদারের যেমন ছিল। এই এস. আর. দাশগুপ্ত কতটা বদমাইশ, কতটা ভেজাল উদাহরণে পরিষ্কার হবে।

রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞ এক চেক লেখিকার সঙ্গে ইন্টারভিউ (প্রাগে)। সাপ্তাহিক দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত। দেশ পেয়ে লেখিকা আঁতকে ওঠেন। এ-কী মিথ্যাবয়ান। চিঠি লেখেন সম্পাদককে, ইন্টারভিউ দূরের কথা, সাক্ষাত্কারীকেই চোখে দ্যাখেননি। যা লিখেছেন, সব মিথ্যে। আমি অপমানিত।

দুই
ভদ্রলোক বলাই ভদ্রতা। চেহারা বাংলা জ-য়ের মতো। ব্যাজার মুখ সর্বদাই। বৌ যেন সকালবিকেল ঝাঁটা পেটায়। চোখ ও হাসি রীতিমতন হায়েনার।
কলকাতাস্থ বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনে ফার্স্ট সেক্রেটারি। উচ্চতা পাঁচ ফুট সোয়া দুই ইঞ্চি। নাম এম এস শফি। ছিলেন বাংলাদেশের গোয়েন্দা বিভাগে। ডেপুটি হাইকমিশনেও গোয়েন্দাগিরির কাজ, নাম ভিন্ন। লোক দ্যাখানো ভিন্ন পোস্ট। সবদেশের দূতাবাসেই এই কেচ্ছা। অপ্রাসঙ্গিক নয়, প্রয়োজনেই ফ্ল্যাশব্যাক করছি।

তিন
শ্রাবণের সরপুঁটির মতো মুখ, চকচকে। এবং ভাসা-ভাসা। বয়স ৪৫ কিংবা কম-বেশি। মহিলা হলে ৮ মাসের পোয়াতি বলা যেত। গায়ে ঢোলা শার্ট, শাদা। পরনে ততোধিক ঢোলা প্যান্ট। খয়েরি রঙ। হিজবিজবিজ যেমন মিটমিটি চায়, তাকানোয় সরল হাসি, সুকুমার রায়ের আঁকা ছবির সঙ্গে হুবহু মিশ খায়। এই হিজবিজবিজের নাম, যেহেতু ভদ্রলোক, এস. দাস। দুই পাটি দাঁত বের করে, হেসে, পথে নয়, চলন্ত ট্রামে, প্রশ্ন, ‘ভালো আছেন?’
খোকনের পরিচিত নয়, আগেও কখনো দ্যাখেনি। ভালো কি মন্দ, উত্তর না দিয়ে খোকন বালিগঞ্জ ফাঁড়ির স্টেশনে নেমে পড়ে। এবং হিজবিজবিজও।
অতঃপর জনতায় মিশে যায়। জীবন্ত হিজবিজবিজকে দেখে কৌতূহল হয় খোকনের। কৌতূহলই, আর কিছু নয়। ভুলেও যায় হিজবিজবিজকে। কিন্তু চার দিন পরে, রবিবারে, সকাল ন’টায়, পার্ক সার্কাস বাজারে হিজবিজবিজও। হাতে্ থলে বটে, ভিতরে কিছু নেই। খোকন ভাবলে, হয়তো দ্যাখেনি তাকে। দেখলেই-বা কী। বরং দেখা শফিসাহেবের সঙ্গে। গরুর মাংস কিনছেন। হাড্ডি ও চর্বিসুদ্ধ মাংস। বললেন, সন্ধ্যায় আসবেন। ভাবছিলাম, বাজার শেষে ফ্ল্যাটে ফিরে ফোন করব আপনাকে, শিখার জন্মদিন আজ।
খোকনের আস্তানা আর শফিসাহেবের ফ্ল্যাটের দূরত্ব রাস্তার এপার-ওপার, তিন মিনিটের পথও নয়। খোকন যখন রাস্তা পার হচ্ছে, লক্ষ করলে, হিজবিজবিজ একজন লোকের সঙ্গে কথা বলছে। এবং দুজনই দেখলে খোকন কোনদিকে যাচ্ছে। গন্তব্য কোথায়।
খোকন প্রায়ই দেখছে, হিজবিজবিজ রাস্তার এপারে বা ওপারে, কখনো দাঁড়িয়ে, কখনো হাঁটছে।
মাসখানেক পরে, এক বিকেলে, যোধপুর পার্কে দেখা। মুখে হাসি নেই, কুশলাদিও জিজ্ঞাসা নয়। বললেন, আপনার সঙ্গে কথা আছে। চলুন চা খাবেন।
খোকন।। আপনাকে চিনি না, জানি না। আমার সঙ্গে আবার কী কথা। চা কেন খাবো?
এস. দাস।। কথা আপনাকে বলতেই হবে।
—বলে, পকেট থেকে অফিসিয়াল কার্ড (কার্ডে ছবিও) বের করে, দেখিয়ে বললেন, আমি কে, এখন জানলেন।
খোকন।। আপনি গোয়েন্দা, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের। কী জানতে চান আমার কাছ থেকে, কী করতে হবে বলুন।
দাস।। স্পাইং। প্রথম ৬ মাস ট্রেনিং। বেতন বেশি নয়।
খোকন।। স্পাইং, গোয়েন্দাগিরি? কোথায়?
দাস।। বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনে। হাইকমিশনার, সেক্রেটারিদের সঙ্গে আপনার সুসম্পর্ক, বন্ধুতা। ওঁদের অফিসে যাবেন, বাড়িতে যাবেন।
সবসময় উপহার নিয়ে যাবেন, উপহার কেনার টাকা আমরাই দেব। ওঁদের কাছ থেকে গোপন তথ্য বের করতে হবে। কী করে করতে হবে, কী ভাবে, কোন ছলাকলায়, আমরা শিখিয়ে দেব। এর জন্যে যা খরচা, সব পাবেন।
—এই কথোপকথন একটি রেস্তোরাঁয়, চা খেতে-খেতে, খুব মৃদুস্বরে।
খোকনের মেজাজ সপ্তমে, রক্তারক্তি কাণ্ড করবে। যেই উঠে দাঁড়িয়েছে, ত্রিশের সুন্দরী নিয়ে প্রবেশ। শরীরময় টগবগে কাম। দাস বললে, আমার স্ত্রী।
খোকনের মুখে এসে গিয়েছিল, ‘অ্যা?’ ভাগ্যিস, দুই ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে বেরোয়নি।
খোকন তুমি ঠিক করলে, বৌকে ঘায়েল করতে হবে। বৌয়ের সঙ্গে রক্তারক্তি হবে বিছানায়। ভদ্রমহিলা কাম ও যৌনে অসুখী, চেহারায়,গা-গতরে প্রকাশিত। খোকন বললে, এসব আলোচনা রেস্তোরাঁয়, পথেঘাটে না হওয়াই ভালো। আপনার বাসায় বা বাড়িতে নির্জনে হলে সুবিধে।
দাস।। কাল সন্ধ্যায় আমার ফ্ল্যাটে আসুন। বেঙ্গল ল্যাম্পের বিপরীতে। প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডে। একটিই দশতলা বিল্ডিং। এইটথ ফ্লোরে আমি। দরজায় নেমপ্লেট।
খোকন জানে, একদিন বা এক সপ্তাহে বড়শিতে গাঁথা যাবে না। খোকন ঘন-ঘন যায়। গোয়েন্দাগিরির প্ল্যান করে কিন্তু কাজের বেলায় ঠনঠনে। শ্রীমতী দাস বড়শিতে। এতটাই গেঁথেছেন, ছাড়ানোই মুশকিল। আবদার, ‘আমি মা হতে চাই, প্লিজ।’ ইত্যাদি।
খোকন ঠিক করলে, লীলাখেলার শেষ নেই, হেস্তনেস্ত দরকার। স্বরাষ্ট্র সচিব রথীন সেনগুপ্তকে রেখেঢেকে মূল কেচ্ছা বললে। রথীন সেনগুপ্তের মেজাজ বিগড়ে গেল, ‘এত বড়ো স্পর্ধা? আমি কিচ্ছু জানি না? নিরুপমকে ফোন করছি, ওর অফিসে চলে যা, বিস্তারিত জানাবি।’
নিরুপম মানে নিরুপম সোম। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গোয়েন্দা দপ্তরের পয়লা কর্তা। এর আগে, পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ কমিশনার।
ঘটনা শুনে নিরুপম সোম থ। মাথায় হাত। এস. দাসকে ডেকে পাঠান। পরদিন।
দুপুর একটা। দৃশ্য এই, খোকন চা গিলছে, নিরুপমের চেম্বারে। দাস দাঁড়িয়ে। নিরুপম ধমকাচ্ছেন। দাসের উত্তর, আমার স্ত্রী উনাকে ভালোবাসেন।
সংসারে মহা অশান্তি, স্যার, নেড়ে-হিঁদুর প্রেম। ঘটনা গুরুতর। দুই দেশের সম্পর্ক।
নিরুপম হেসে বললেন, ঘরই সামলাতে পারেননি, গোয়েন্দার চাকরি আপনাকে দিয়ে নয়।
এখানেই শেষ নয় কাহিনি, অফিসের বাইরে শ্রীমতি দাস। খোকন, দাস বেরিয়ে এলে, শ্রীমতি দাস বললে, খোকন ছাড়া জীবন বৃথা।
দাস।। আর গোয়েন্দাগিরি নয়, আমার জীবন রক্ষা করুন।
খোকন বললে, যা!! গোয়েন্দাগিরি, প্রেম কোনোটাই পোক্ত হলো না, দ্য ক্যানিবাল টাইম।
জুন, ২০১৪
বার্লিন, নিউ ইয়র্ক
বীরা তথা বীরা সেনগুপ্তর পরিচয় এই, ডাক্তার বিবেক সেনগুপ্তর দ্বিতীয় কন্যা। প্রথম কন্যা এষা। তার মানে, বীরার দিদি। ওদের মা অঞ্জলি সেনগুপ্ত। শেষ বয়সে তিনি বই লিখেছেন, ইংরেজিতে। বিবেক সেনগুপ্ত মারা যান সত্তর দশকে। অঞ্জলি সেনগুপ্তর প্রয়াণ আশির দশকে। অঞ্জলি সেনগুপ্তর মামা ডাক্তার বিধানচন্দ্র রায়, পশ্চিমবঙ্গের ডাকসাইটে মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। দাপটে রাজত্ব করেছেন।
এষার স্বামী অন্নদাশঙ্কর রায়ের তৃতীয় পুত্র আনন্দরূপ রায় (দ্বিতীয় পুত্র চিত্রকাম রায়। মারা গেছেন পাঁচ বছর বয়সে। চট্টগ্রামে। অন্নদাশঙ্কর তখন চট্টগ্রামের প্রশাসক।) ডাকনাম নন্দু। খুব ক্রিকেট ভক্ত। সংবাদপত্রে ক্রিকেটের খবর খুঁটিয়ে পড়েন। যদিও, আনন্দরূপ-এষা আমেরিকার মেরিল্যান্ড রাজ্যের বাসিন্দা। আনন্দরূপ বিশ্ব ব্যাঙ্কের একজন বড়ো কর্তা। এষা আই এম এফ (আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল)-এর একটি শাখার ডিরেক্টর।
বালিগঞ্জে (বিড়লা মন্দিরের বিপরীতে) অন্নদাশঙ্কর রায় ও বিবেক সেনগুপ্তর বাড়ি পাশাপাশি। দুই শ গজও দূরত্ব নয়।
বিবেক সেনগুপ্তর বিশাল দোতলা বাড়ি। অঞ্জলি সেনগুপ্ত মারার যাওয়ার পরে একতলা ভাড়া দেওয়া হয়। দোতলা ফাঁকা। ভাড়া না দিয়ে বীরা-তুষার দুই সন্তান নিয়ে, সরকারি ফ্ল্যাট ছেড়ে চলে আসেন।
খোকনের বাস আন্নদাশঙ্কর-লীলা রায়ের বাড়িতে। দুজনেই খোকনের অভিভাবক। একজন দাদু, একজন দিদু। ওঁরা বলেন, খোকন আমাদের বড়ো নাতি। যথেষ্ট প্রশ্রয় দেন নাতিকে।
যেহেতু অন্নদাশঙ্কর-লীলা রায়ের ঘনিষ্ট আত্মীয় বীরা, বীরার পরিবার, খুব স্বাভাবিক, খোকনও ওঁদের আত্মীয়কুলেরই একজন। থাকে পাশাপাশি।
বীরা-তুষারের সঙ্গে খোকনের মেলামেশা, দহরম একটু বেশি। ওঁরা বিফ (গোমাংস) খান। খোকন গিয়ে রান্না করে। অন্নদাশঙ্কর-লীলা রায়ের বাড়িতে বিফ নিষেধ। নিষেধাজ্ঞাকারী অর্ধেন্দু মাইতি এবং অজয় পালের, দুই পরিচারকের। বিফ রান্না করলে কাজ ছেড়ে চলে যাবে।
বীরা-তুষারের আস্তানায় ডিনারের আগে-পরে পানাহার, কলকাতার এলিট কালচারের ভদ্রতা।
তুষার যেহেতু আত্মীয়তুল্য, পাশাপাশি বাড়িতে বাস, ছুটির দিনে তো দেখা হবেই। অন্যদিনেও হয়। ছুটির দিনে, গড়িয়াহাটে কিংবা পার্ক সার্কাস বাজারে যায়, একসঙ্গে। ফেরেও একসঙ্গে। চাকরবাকরের বাজার তুষারের পছন্দ নয়। যেমন খোকনের। যেমন স্বরাষ্ট্র সচিব (পরে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের চিফ সেক্রেটারি।) বড়ো পাবদার পিঠ হবে লাল, তবেই না স্বাদ।
ভারতের নামকরা তথা এলিট গোয়েন্দা বিভাগ ‘র’ (RAW )। ভারতের পূর্বাঞ্চল রাজ্যের হেড অফিস কলকাতা। পূর্বাঞ্চল রাজ্যের সর্বময় কর্তা তুষার মিত্র (পরে, গোটা ভারতের। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ির ডান হাত। নিরাপত্তা-বিষয়ক প্রিন্সিপাল ডিরেক্টর-জেনারেল)। আমাদের শফিসাহেব, গোয়েন্দা। কলকাতার বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনে ফার্স্ট সেক্রেটারি, গোয়েন্দাগিরি করার জন্যেই এসেছেন, ফার্স্ট সেক্রেটারির পদবী নিয়ে, নিশ্চিত জানেন, কে এই তুষার মিত্র। বাংলাদেশের বিদেশ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে শফি রিপোর্ট করলেন, খোকন র-য়ের গোয়েন্দা, বাংলাদেশের বিপক্ষে কাজ করছে। ওই এক রিপোর্টেই, বাংলাদেশ সরকারের বিদেশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নথিভুক্ত হলো খোকন র-য়ের গোয়েন্দা।
পাবনার ছাওয়াল আবু হেনা, স্বরাষ্ট্র সচিব। জিয়া হায়দার, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এসে, কোনো কাজে কিংবা নিছকই আড্ডা দিতে গিয়েছেন আবু হেনার সঙ্গে। সচিবালয়ে। জিয়া হায়দারকে দেখেই আবু হেনার প্রথম কথা, সর্বনাশ। এটা কি হতে পারে? না। কিন্তু আমরা নিরুপায়। মানতেই হবে কলকাতার ডেপুটি হাইকমিশনের স্পেশাল রিপোর্ট। হোক তা বানানো, মিথ্যাচার।
জিয়া হায়দার।। কী রিপোর্ট?
আবু হেনা।। র-য়ের গোয়েন্দা খোকন (দুজনের কথোপকথন হুবহু এরকম নয় নিশ্চয়। তবে বয়ানের মূল ভাষ্য। জিয়া হায়দার যা বলেছিলেন খোকনকে। ফোনে।)
স্পষ্ট, ওই রিপোর্ট আবু হেনা বিশ্বাস করেননি আদৌ। না করলেও নথিভুক্ত করতে হয়। ফাইলে আছে। থাকবে। খোকন ভারতীয় র-য়ের গোয়েন্দা।
খোকনের বিরুদ্ধে ডাহা মিথ্যে রিপোর্ট দিয়ে শফির কুঞ্চিত কপালের ভাঁজ মসৃণ। ওই রিপোর্টেই উন্নতি। পাকিস্তানে বাংলাদেশ হাইকমিশনে কর্তা। লোকটা এমনই বেহায়া, খোকনের বান্ধবী মণীষাকে বলেন, বাংলাদেশে আসবেন, আমার বাড়িতেই থাকবেন।
মৌখিক বা লিখিত কারণ ছাড়াই, কলকাতার বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন খোকনের পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করলে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ সাল।
বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ সেনাশাসক জিয়াউর রহমানের। একজন ফার্স্ট সেক্রেটারি, সন্ধ্যার আঁধারে (সেদিন লোডশেডিং), বাড়িতে এসে জানালেন, স্বয়ং জিয়া ফোন করেছিলেন ডেপুটি হাইকমিশনারকে, আপনার পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করার জন্য। ডেপুটি হাইকমিশনার নিরুপায়। দুজনের মধ্যে কী কথা হয়েছে, বলতে অপারগ আমি। ডেপুটি হাইকমিশনার আমাকে জিজ্ঞেস করছিলেন, পাসপোর্টের খোঁজ নিতে আপনি দূতাবাসে গিয়েছিলেন কি না।
খোঁজ নিতে যদি যান, তাঁকে জানাতে বলেছেন। কেন বলেছেন, জানেন? দূতাবাসের ভেতরে ঢুকলেই আপনাকে বন্দি করা হবে। আপনি তখন আমাদের, মানে, বাংলাদেশের টেরিটোরিতে। ভারত সরকার কিচ্ছু করতে পারবেন না। আপনাকে বন্দি করে দেশে পাঠাবে।
মার্চেই পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ। ইচ্ছে, গরমের ছুটিতে নেপাল ভ্রমণ। তো, পাসপোর্ট রিনিউ করাতেই হবে। করতে কতদিন লাগবে, জানতে ফার্স্ট সেক্রেটারিকে ফোন করেছিল খোকন, তাঁর বাড়িতে (ফ্ল্যাটে )। শনিবারে। বললেন, সন্ধ্যেয় এসো, খাবে। সঙ্গে পাসপোর্ট আনবে।
পাসপোর্ট নিয়ে খোকন হাজির। ডিনারের আগে তিন পেগ স্কচ, উইদাউট সোডা ওয়াটার, সঙ্গে অবশ্য বরফ।
ডিনার শেষে সেক্রেটারির বয়ান, রিনিউয়ের জন্যে পাসপোর্ট আমাকে দিয়েছেন, কেউ যেন ঘুণাক্ষরেও না জানে। অন্যদের মতো আপনিও যেন অফিসে জমা দিয়েছেন। জমা দেওয়ার যে রিসিট, পাবেন। সে ব্যবস্থা করব। গোপনে। মঙ্গল বা বুধবারে বাসায় আসবেন, সন্ধ্যার পরে, রিসিট দেব।
এই কূটনীতিক ঘোরতর আওয়ামী লীগার, তাঁর কাছে জিয়াউর রহমান ভয়ানক শয়তান। যেহেতু কূটনীতিক, প্রকাশ্যে একটি শব্দও বলেন না, কানার মনে-মনেই জানা।
কী কারণে খোকনকে পছন্দ করেন, প্রিয়, অজানা।
পাসপোর্ট জমা দেওয়ার সঙ্গে-সঙ্গে খোকনের পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত। পাসপোর্টবিহীন খোকন। কলকাতায়, তথা ভারতে। আছে। নানা মস্তিতে। পাসপোর্ট নেই, আছে পাসপোর্ট ছাড়াই, এই ভাবনাও নেই। ঘুরে বেড়াচ্ছে আসামে, মনিপুরে, অরুণাচলে, সিকিমে, নাগাল্যান্ডে, কাশ্মিরে এমন কি ভুটানে, নেপালেও, ভারতীয় নাগরিক হিসেবে। এই সব অঞ্চলে দরকার আইডেন্টিটি কার্ড। বাড়ির পরিচারকের রেশন কার্ডই যথেষ্ট। কে জিজ্ঞেস করবে খোকনের আসল নাম অর্ধেন্দু মাইতি কি না। নাম গায়ে লেখা নেই। রেশন কার্ডে ছবিও নেই।
খোকনের বন্ধু শামীম (শামসুল ইসলাম খান)। ঢাকা কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছে। জার্মানির হাইডেলব্যার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে ডক্টরেট করেছেন শামীম। ঢাকাসহ পৃথিবীর নানাদেশে অধ্যাপনা। শামীমের মামা বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট আবু সাঈদ চৌধুরী। আশ্চর্য এই, শামীম কখনো আমাদের বলেননি। কেনই-বা বলবেন।
গবেষক-প্রাবন্ধিক-অধ্যাপক শুভরঞ্জন দাশগুপ্ত হাইডেলব্যার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেষ করে কলকাতায়। একদিন আড্ডায় বললেন, শামীমের বোন কলকাতায়। বোনের নাম পারভীন। পারভীনের স্বামী কলকাতার বাংলাদেশ দূতাবাসে, ফার্স্ট সেক্রেটারি। নাম শফি। চলো। গেলুম। চেহারা দেখে, আল্লাহর বান্দা, বলতে হয় না, হনুমান ও শিম্পাঞ্জি মিলিয়ে সংকর।
শফিসাহেব বললেন, বাড়িতে আসুন। গেলুম। শামীমের বোন পারভীন মহাখুশি। খুব সরল, শাদাসিধে। স্বামীর রক্তবীর্যে তিন সন্তানের জননী হওয়া সত্ত্বেও অতিশয় গ্রামীণ, ঘরোয়া, প্যাঁচপোঁচ, কূটনীতি অজানা।
শামীমের বোনের আবদার, আমরা সানি-পার্কে, আপনি রাস্তার উল্টো দিকে, ওই তো আপনাদের বিল্ডিং দেখছি। ভাইজান, কোন ফ্লোরে থাকেন?
যখন খুশি আসবেন। আমরাও যাবো।
কয়েকদিনের মধ্যেই পারভীন-শফির দুই কন্যা বহ্নি ও শিখা পরমপ্রিয় খোকনের। ওরাও, খোকনমামা না গেলে (বিকেলে বা সন্ধ্যায়) তারস্বরে কান্না।
কান্নার সুযোগ নেয় শফি। দুই কন্যাকে নিয়ে খোকনের বাসায় হাজির, এক বিকেলে।
বিল্ডিঙের গেটে খোকন কথা বলছিল তুষার মিত্রের সঙ্গে। খোকন লক্ষ করে, তুষার মিত্রের আপাদমস্তক দেখে নেয় শফিক। এও দ্যাখে, তুষারের গাড়িতে, ওঁরই দুই কন্যা ও দুই বছরের পুত্রকে নিয়ে গঙ্গার ধারে বেড়াতে যায়।
দিনকয়েক পরেই দেখলে, শফির হাঁটাচলা খোকনের বাড়ির সামনে বিকেলসন্ধ্যায়, ঘনঘন। এর আগে দ্যাখেনি। দেখে, খোকন রসিকতা করে, শফি, ভূঁড়ি বেড়েছে, আরো বেশি হাঁটাহাঁটি করো। শুনে, শফির ফিচেল হাসি। খোকন জানে না, শফি এসেছেন গোয়েন্দাগিরি করতে, দূতাবাসে, ফার্স্ট সেক্রেটারি হয়ে।
বলা দরকার, কে এই তুষার মিত্র। পূর্ব পরিচয়, তুষারের বাপ-ঠাকুরদা ডাকসাইটে জমিদার ছিলেন পূর্ববঙ্গে। ঢাকা-কলকাতা থেকেই জমিদারির মস্তানি। মস্তান হলেও দারুণ সুশিক্ষিত পরিবার, জমিদারকুলে যা অভাবনীয়।
তুষারের পরিবারের বাস দণি কলকাতায়। বাড়িতে বাঙাল ভাষা। খোকন মহাখুশি। খুশির আরো কারণ, তুষারের বৌ বীরা, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজির ছাত্রী। খোকন কমপ্যারেটিভ লিটারেচারের। একই ফ্লোরে। এও বাহ্য।

যেদিন প্রকাশিত হয়, গড়িয়াহাটের স্টলে, সন্ধ্যায় গিয়ে খোকন ব্লিতস দ্যাখে। কেনে না। দেখেই সুখ। ব্লিতসে দেশিবিদেশি সুন্দরী যুবতীর অর্ধনগ্ন ছবি বেরোয়।
সেদিনের ব্লিতসের খবর দেখে খোকনের আক্কেল গুড়ুম। ব্লিতস কেনে। বিক্রেতা মৃদু হেসে চোখ টেপে। বললে, খাসা মাল (শেষ পৃষ্ঠায় এক বিদেশিনীর ব্রা খোলা ছবি।)। ভাবলে, ঘরে ফিরে ছবি দেখে নিশ্চয় হস্তমৈথুন করবে।
ব্লিতসের রিপোর্টের কথা বলতেই শঙ্করলাল ভট্টাচার্য্যের বয়ান, ও তো ইংরেজিই লিখতে জানে না। টাকা দিয়ে অনুবাদ করায়। বাংলাও সঠিক লিখতে শেখেনি।
ব্লিতস দেখে গৌরকিশোর ঘোষের মন্তব্য : যত্তোসব বাজে কথা। ওদের জন্যেই তো লোকে আনন্দকে মিথ্যেবাজার বলে। ওর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারিস। ডুবতে বাধ্য। তবে সাবধানে থাকতে হবে তোকে, ওর হাতে নাকি গুণ্ডাপাণ্ডা আছে। যে যা-ই বলুক, খোকন চিন্তিত। আফটার অল বিখ্যাত কাগজের রিপোর্ট। গোয়েন্দা, পুলিশ খোঁজ নেবে, পেছনে লাগবে নিশ্চয়। জীবন ছারখার করবে।
বিষয়টির গুরুত্ব কতটা, আকাশপাতাল ভেবে স্বরাষ্ট্র সচিব রথীন সেনগুপ্তর সরকারি ফ্ল্যাটে (১৮/১৮ গড়িয়াহাট রোড), দোতলায়, হাজির। সন্ধ্যায়।
রথীন সেনগুপ্তকে বলতেই, ‘সুখরঞ্জন দাশগুপ্তর রিপোর্ট? ছিঁড়ে ফ্যাল। খুব বদ সাংবাদিক। ওর বিরুদ্ধে বহু লোকের লিখিত নালিশ আসে। খেয়ে এসেছিস, না খেয়ে যাবি? আজ ভালো চিতলের পেটি আছে। ডাল। লাল শাক ভাজি। দই, মিষ্টিও আছে। ডাইনিং টেবিলে যা। পিউ (পিয়ালি। কন্যা), রাজা (রাজর্ষি। পুত্র।) বসে গেছে। যাওয়ার সময় জয়তী (স্ত্রী )-র কাছ থেকে টিকিট নিয়ে যাবি। কাল সন্ধ্যায় পিউ-র নাচ রবীন্দ্রসদনে।’
রথীন সেনগুপ্তের গোটা পরিবারেই খোকন পারিবারিক। ভয় ছিল মনে, আশাও ছিল, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তর ডিঙিয়ে রাজ্য-গোয়েন্দারা পাকামো করবে না। অনুমতি নিতে হবে। রথীন সেনগুপ্ত অবশ্যই জানবেন।
দিন যায়, সপ্তাহ যায়, মাস যায়, পুলিশ-গোয়েন্দার খোঁজ নেই। চলে গেলুম নিকোবর-আন্দামানে।

এই পাতার আরো খবর -
font
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১৮
ফজর৪:৫৬
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৫সূর্যাস্ত - ০৫:১০
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: ittefaq.adsection@yahoo.com, সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: ittefaqpressrelease@gmail.com
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :