The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার ২৮ জুলাই ২০১৪, ১৩ শ্রাবণ ১৪২১, ২৯ রমজান ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ তোবায় আটকা শ্রমিক, বেতন দিচ্ছে বিজিএমইএ

[রা জ নী তি]

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাকযুদ্ধদেশ কি সংঘাতের দিকে যাচ্ছে?

আবুল কাসেম ফজলুল হক

শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া রাষ্ট্রক্ষমতার দখল নিয়ে যে ভাষায় বাক-বিনিময় করেন, তাকে লোকে বাকযুদ্ধ বলে থাকে। এ ভাষা গণতন্ত্রের ভাষা নয়। গণতন্ত্রের ভাষায় পারস্পরিক শ্রদ্ধার ও আস্থার প্রকাশ থাকে।

গণতন্ত্রের নামে রাষ্ট্রক্ষমতার দখল নিয়ে যেসব কর্মকাণ্ড এই দুই দলের মধ্যে দেখা যায়, সেগুলোকে গণতান্ত্রিক বলা যায় না। কারা ক্ষমতায় আসবে আর কারা ক্ষমতা থেকে উত্খাত হবে, তা নির্ধারিত হয়— এক) শক্তিপ্রয়োগ দ্বারা, দুই) টাকা দ্বারা এবং তিন) বাইরের বৃহত্ শক্তিবর্গের দ্বারা। নির্বাচন এসবেরই অন্তর্গত।

বাইরের বৃহত্ শক্তিবর্গ এখন দুই ভাগে বিভক্ত —একভাগে আছে ভারত, রাশিয়া, চীন এবং অপরভাগে আছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, ফ্রান্স, জার্মানি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে মনে হয় অনৈক্য দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাকেও এখন মনে হয় আর উঠতির ধারায় নেই— পড়তি আরম্ভ হয়েছে।

রেগান ও মার্গারেট থেচার ক্ষমতায় থাকাকালে নিও- লিবারেলিজম অবলম্বন করে পৃথিবীর রাষ্ট্রগুলোকে পরিচালনা করার নীতি পশ্চিমা বৃহত্ শক্তিবর্গ গ্রহণ করে। রেগানিজম ও থেচারিজম কথা দুটো তখন বলা হতো। ওই সময়েই সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলোপ ঘটে। ১৯৮০-র দশকের শুরুতেই এনজিও ও সিভিল সোসাইটির ব্যাপক প্রসার ঘটানো হয়, মৌলবাদ-বিরোধী আন্দোলন, নারীবাদী আন্দোলন, প্লুরালিজম, হিউমান রাইটস মুভমেন্ট, আদিবাসী আন্দোলন, ইত্যাদি আরম্ভ করা হয়। নিঃরাজনীতিকরণের নীতি কার্যকর করে সরকারকে ও রাজনৈতিক দলগুলোকে একেবারে দুর্বল করে দেয়ার কার্যক্রম আরম্ভ করা হয়। উন্নয়নকে রাজনীতি থেকে, সরকার থেকে, আলাদা করে ব্যক্তি উদ্যোগে ও এনজিও ব্যবস্থাপনায় স্থানান্তর করা হয়। মুক্তবাজার অর্থনীতি চালু করা হয়। উদারীকরণের কর্মসূচি অবলম্বন করা হয়। এই সব কিছুরই পেছনে কাজ করছে নিও-লিবারেলিজম— যার ধারক-বাহক কর্তৃপক্ষ বিশ্বব্যাঙ্ক, আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রশাসন ব্যবস্থা, এনজিও, সিভিল সোসাইটি ইত্যাদির মনে রয়েছে নিও-নিবারেলিজম। রাশিয়া, চীন কি নিজেদের জন্য নিও-লিবারেলিজম কবুল করেছে? ভারতে মৌলবাদ বিরোধী আন্দোলন, নারীবাদী আন্দোলন, মানবাধিকার আন্দোলন, ধর্ষণ-বিরোধী আন্দোলন, প্লুরালিজম, এন জি ও, সিভিল সোসাইটি ইত্যাদির প্রসার ঘটছে। নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত কি নিও-লিবারেলিজম-এর গ্রাস থেকে বেরিয়ে এসে জাতীয়তাবাদ ও তার সম্পূরক আন্তর্জাতিকতাবাদ এবং জনগণের গণতন্ত্র অবলম্বন করবে? এটা করলে ভারত এখন মানবজাতির পথ প্রদর্শক হয়ে উঠতে পারে। অন্যথায় লিও-লিবারেলিজম-এর গ্রাসে গিয়ে ভারত দুর্যোগে পড়বে।

এই ঐতিহাসিক বাস্তবতার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশের গত ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন যেভাবে করা হয়েছে তাতে আওয়ামী লীগ ও অন্য কয়েকটি দল ছাড়া আর অন্যরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। জাতীয় পার্টি (এরশাদ)কে জুলুম-জবরদস্তি করে সংসদে ও মন্ত্রিপরিষদে অংশীদার করা হয়। নির্বাচন কমিশন দেখিয়েছে যে ৪৪% শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছে।

এভাবে এই নির্বাচন হোক— এটা বিএনপি ও পশ্চিমা বৃহত্ শক্তিবর্গ চায়নি। নির্বাচন যাতে এভাবে না হয় তার জন্য বিএনপি ও পশ্চিমা বৃহত্ শক্তিবর্গ যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে। অপরদিকে আওয়ামী লীগ ও ভারত, রাশিয়া, চীন, ভিয়েতনাম চেয়েছে নির্বাচন এভাবেই হোক। বিএনপি ও তার বিদেশি সহযোগীদের প্রয়াস ব্যর্থ হয়েছে, আওয়ামী লীগ ও তার বিদেশি সহযোগিদের প্রয়াস সফল হয়েছে।

২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধন দ্বারা ক্ষমতাসীন সরকার ও আওয়ামী লীগ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে দেয়। তখন থেকে বিএনপি সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থাকে পুনর্বহালের জন্য আন্দোলন চালাতে থাকে। সরকার ও আওয়ামী লীগ সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধনের পরবর্তী) অনুযায়ী নির্বাচন করার ভূমিকায় অটল থাকে। শেষ পর্যন্ত বিএনপি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রবর্তিত হয়নি বলে, নির্বাচনে যায়নি, অন্য কোনো দলও যায়নি। সিভিল সোসাইটিসমূহের বিশিষ্ট নাগরিকদের এক অংশ এভাবে নির্বাচন যাতে না হয় তার জন্য কাজ করেছে, অপর অংশ এভাবেই যাতে নির্বাচন হয়ে যায় তার জন্য কাজ করেছে। আওয়ামী লীগ জুলুম-জবরদস্তি করে জাতীয় পার্টিকে মন্ত্রিপরিষদে ও সংসদে ভাগ দিয়ে নির্বাচন করে নেয়। এতে ৫০% শতাংশের অধিক সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়। বাকিগুলোতে পাতানো খেলার মতো নির্বাচন হয়েছে।

বিএনপি ও পশ্চিমা বৃহত্ শক্তিবর্গ এই নির্বাচন মেনে নেয়নি। নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর বিএনপি অনেকটা ভ্যাবাচেকা খেয়ে যায়। অপরদিকে আওয়ামী লীগ তার পরিকল্পনা ও অভীষ্ট সফল হয়েছে দেখে পরাক্রমশালী ও আত্মম্ভরী হয়ে ওঠে।

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলন করে দিগ্বিজয়ী বীরের মতো সদম্ভে কথা বলেন। তিনি জানিয়ে দেন যে, বৈধ উপায়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, নির্বাচন কমিশন পরিপূর্ণ সততা ও সামর্থ্যের পরিচয় দিয়েছে, সরকারের মেয়াদ শেষ হলে ২০১৯ সালে আগামী নির্বাচন হবে— খালেদা জিয়ারা নির্বাচনে না এসে যে ভুল করেছে, তার কাফফারা তাদের দিতে হবে। সাধারণত বাকচাতুর্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসাধারণ কৃতিত্বের পরিচয় দিয়ে থাকেন। তাঁর কথাবার্তায় সব সময়ই সুপিরিয়রিটি কমপ্লেক্সের প্রকাশ থাকে।

শেখ হাসিনার প্রেস কনফারেন্সের পর খালেদা জিয়ারা অনেকখানি নির্জীব হয়ে পড়েন। বলা যায়, কিংকর্তব্যবিমূঢ়। দুর্বল পরাজিত কণ্ঠে বিএনপি-খালেদা জিয়া নির্বাচনের ফলাফল বর্জন করে অবিলম্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কায়েম করে নির্বাচন দেয়ার দাবি জানান। আওয়ামী লীগ থেকে তখন প্রবল কণ্ঠে এই দাবির বিরোধিতা করা হয় এবং খালেদা জিয়াকে ভুলের মাসুল দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। বিএনপি থেকে বলা হয়, আওয়ামী লীগ বাকশালের মতো এক দলীয় ব্যবস্থা কায়েম করতে চাইছে। কার্যত এক-দলীয় ব্যবস্থা বোধ হয় সম্পন্ন হওয়ার পর্যায়ে আছে।

এই বাকযুদ্ধের মধ্যে গত দুই মাস ধরে খালেদা জিয়ারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন অবিলম্বে পুনরায় নির্বাচন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিষয়ে আলোচনার ব্যবস্থা করার জন্য। আওয়ামী লীগ এই প্রস্তাবের প্রতি তাচ্ছিল্য প্রকাশ করে বক্তব্য দেয় এবং বলে, আলোচনা হতে পারে ২০১৯ সালে অনুষ্ঠেয় নির্বাচন নিয়ে, কিন্তু তার সময় এখনও হয়নি। কথা চালাচালিতে বিএনপি দশ কথা বললে আওয়ামী লীগ হাজার কথা দিয়ে তার জবাব দেয়। বিএনপির কথাবার্তায় তেজবীর্যের পরিচয় থাকে না, আওয়ামী লীগের প্রত্যেকের কথাবার্তা থেকে তেজবীর্য ছিটকে বেরোয়। অধিকাংশ প্রচার মাধ্যম এসব কথা প্রচারে খুব উত্সাহ বোধ করে। টেলিভিশনের চ্যালেনগুলোও তাই করে। দুই পক্ষেরই সেইসব কথাই প্রচার করা হয় যেগুলো দ্বারা উত্তেজনা বাড়ে। বিড়াল যেমন ইঁদুরকে এক বারেই মেরে ফেলে না, কাবু করে তাকে নিয়ে অনেকক্ষণ খেলা করে, আওয়ামী লীগ এখন বিএনপির সঙ্গে ঠিক সেই রকমই করছে। ইঁদুর-বিড়াল খেলা! জিয়াউর রহমান উন্নয়নের রাজনীতির কথা বলতেন। সেই উন্নয়নের রাজনীতি এখন সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দখলে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসাধারণ কৃতিত্ব দেখতে পাই, অসাধারণ সাফল্যের সঙ্গে প্রচার মাধ্যমকে ব্যবহার করার মাধ্যমে। ভালো কিছু করতে হলেও প্রচার দরকার হয়, খারাপ কিছু করতে হলেও প্রচার দরকার হয়। সুকর্ম, কুকর্ম— যাই করা হোক না কেন, আগে প্রচার দিয়ে তার অনুকূলে জনমন ও জনমত গঠন করে নিতে হয়। এটা শেখ হাসিনার চেয়ে ভালো কেউ বুঝেন না। খালেদা জিয়ারা ক্ষমতায় থাকাকালে প্রচার মাধ্যমকে কাজে লাগাবার কথা হয়তো চিন্তা করেননি। তাতে অবশ্য রাষ্ট্রের খরচ বেচেছে।

লন্ডন ফেরত শেখ হাসিনা গত শনিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে চমত্কার চমত্কার কথা বলেছেন। আমি পুনরাবৃত্তি করে দেখাতে পারব না, কী কী তিনি বলেছেন। কেবল কথা তো নয়, কথা বলার ধরন, মুখ ভঙ্গি, দৃষ্টির তীক্ষ্নতা— সব মিলিয়ে এমন এক ব্যক্তিত্বের পরিচয় প্রকাশ পায় যাকে বলতে হয় অনুপম, অতুলনীয়, অপূর্ব! লোকে কথার অর্থ খোঁজ করে না, খোঁজ করে নাটকীয়তা-উপভোগ্যতা। সংলাপ নিয়ে খালেদা জিয়াদের প্রস্তাব নিয়ে স্পষ্ট করে কিছুই বলেননি। যা বলেছেন তাতে ব্যঙ্গ, প্রতি বিদ্রূপ, তিরস্কার, তাচ্ছিল্য প্রদর্শন, বিজয়ী মানসিকতা, সুপিরিয়রিটি কমপ্লেক্স— সবই আছে। মনে হয় আগের কথাই বলেছেন: কিসের সংলাপ, সরকারের মেয়াদ শেষ হতে আরো চার বছর সাত মাস বাকি— এখনই এতো অস্থিরতা কেন? সব কিছু চলবে সংবিধান অনুযায়ী। উন্নয়নের কাজ-কর্ম চলছে, তাতে বাধা দিলে খবর আছে। খালেদা জিয়ারা সরকার উত্খাতের তুমুল আন্দোলনের যে হুমকি দিয়েছেন, তার মোকাবিলা রাজপথেই হবে বলে প্রধানমন্ত্রী বলে দিয়েছেন। তাঁর ভাষায় মাঠের খেলা মাঠেই হবে। খুব স্বতস্ফূর্তভাবে কথা বলেন হাসিনা।

অনেক সাংবাদিক ও মিডিয়া পার্সন বলতে চাইছেন যে, দেশ সংঘাতের দিকে যাচ্ছে। আমার মনে হয়, সমাজের স্তরে স্তরে নানা রকম সহিংসতা চলছে। তার অতিরিক্ত ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন-পূর্ব সহিংসতা এখনই দেখা দেবে না। কারণ আওয়ামী লীগের শক্তির সামনের বিএনপি এখন অসহায়। আর বিএনপির অবলম্বন জামায়াত এখন দুর্গত। দমননীতি প্রবল, সংগ্রামী স্পৃহা দুর্লভ। তবে মনে হয় জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন বাংলাদেশে এখন আন্দোলন নয়— নির্বাচনের জন্য আন্দোলন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন, সরকার পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন, গণতন্ত্রের নামে আন্দোলন। নতুন কোনো বক্তব্য নেই। পশ্চিমা বৃহত্ শক্তিগুলোকে বাংলাদেশে পুনঃনির্বাচন নিয়ে অতিআগ্রহী দেখা যাচ্ছে। দেখা যাক কী হয়। এভাবে ভালো কিছু হবে না। ভালো কিছুর জন্য প্রস্তুত হলেই ভালো কিছু হবে, অন্যথায় নয়।

[লেখক: রাষ্ট্রচিন্তক ও রাজনীতি বিশ্লেষক]

font
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১৫
ফজর৫:১২
যোহর১১:৫৪
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩৫
সূর্যোদয় - ৬:৩৩সূর্যাস্ত - ০৫:১২
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: ittefaq.adsection@yahoo.com, সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: ittefaqpressrelease@gmail.com
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :