The Daily Ittefaq
ঢাকা, শুক্রবার ০২ আগস্ট ২০১৩, ১৮ শ্রাবণ ১৪২০ এবং ২৩ রামাযান ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ বিএনপি কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করাকে সমর্থন করে না: মির্জা ফখরুল | অক্টোবরে লাগাতার হরতাল: মওদুদ | সিরিয়ায় গোলা-বারুদের গুদামে বিস্ফোরণ; নিহত ৪০ | দৌলতপুর সীমান্ত থেকে কৃষককে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ

জুম'আতুল বিদা

মহিমান্বিত লাইলাতুল ক্বদর

মুফতী মুতীউর রাহমান

বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ ও মহিমান্বিত রাত লাইলাতুল ক্বদর। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে লাইলাতুল ক্বদরের অপরিশীম ফজিলত ও অসাধারণ মাহাত্ম্যের বিবরণ রয়েছে। কিন্তু শবে ক্বদর কবে? হযরত মুহাম্মদ (স.) রমজানের শেষ দশকের বেজোড় পাঁচটি রাতে লাইলাতুল ক্বদর অনুসন্ধান করতে বলেছেন। হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, নবী করীম (স.) ইরশাদ করেন যে, তোমরা রমজানের শেষ দশকে শবে কদর অনুসন্ধান কর (বুখারী : ১/২৭০)। হযরত উবাদা ইবনে সামিত (রা.) থেকে বর্নিত। তিনি রসূল (স.) কে শবে ক্বদর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে রসূল (স.) বললেন, শবে কদর রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোর কোন একটি-একুশ, তেইশ, পঁচিশ, সাতাশ বা উনত্রিশতম রাত। হযরত মুহাম্মদ (স.) লাইলাতুল ক্বদর পাওয়ার জন্যই রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ করতেন। ইবাদত-বন্দেগীতে অধিক মনোনিবেশ করতেন। কঠোর পরিশ্রম করতেন, যাতে এতেকাফ অবস্থায় ইবাদত বন্দেগীর মধ্যদিয়ে শবে ক্বদর অতিবাহিত হয়। অজান্তে অবহেলায় যেন শবে ক্বদরের অপরিসীম ফজিলত থেকে বঞ্চিত হতে না হয়। হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, হযরত রসূল (স.) রমজানের শেষ দশকে এতো বেশি ইবাদত করতেন যা অন্য সময় করতেন না (মুসলিম শরীফ ১/৩৭০ তিরমিযী ১/১৬৪)। আরেকটি হাদিসে বর্নিত আছে রমজানের শেষ দশক এলে রসূল (স.) লুঙ্গি খুব শক্ত করে পরতেন। নিজেও রাত জেগে ইবাদত বন্দেগী করতেন। পরিবার পরিজনকেও জাগাতেন (বুখারী ১/২৭১)। শবে ক্বদরের ফজিলত মাহাত্ম্য, গুরুত্ব ও তাত্পর্য সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, নিশ্চয় আমি এই কুরআন অবতীর্ন করেছি লাইলাতুল ক্বদরে। লাইলাতুল কদর সম্পর্কে তুমি কী জানো? লাইলাতুল ক্বদর হচ্ছে হাজার মাস থেকেও উত্তম। এ রাতে প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশতারাও রূহ স্বীয় পালনকর্তার নির্দেশে অবতীর্ন হন। শান্তিই শান্তি। যা ফজরোদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে (সুরা কদর)। এ সূরা এবং বিভিন্ন হাদিস থেকে জানা যায়, লাইলাতুল কদরের ইবাদতের দ্বারা এক হাজার মাস (৮৩ বছর চার মাস) এর ইবাদতের সমপরিমান ছওয়াব পাওয়া যাবে। সূরা দুখানে লাইলাতুল ক্বদরকে বরকতময় রাতও বলা হয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে, নিশ্চয় আমি ইহা (পবিত্র কুরআন) অবতীর্ন করেছি এক বরকতময় রাতে। নিশ্চয় আমি সতর্ককারী। এ রাতে সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থিরিকৃত হয়। আমার আদেশ-(দুখান :৩-৫)। লাইলাতুল ক্বদর এতো ফজিলতপূর্ণ বলেই হযরত মুহাম্মদ (স.) রমজান আসার আগেই শাবানের শেষ দিন সাহাবাদের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণে এ রাতের ফজিলত বর্ণনা করে পূর্ব থেকেই এ রাতটির জন্য প্রস্তুত থাকতে উদ্বুদ্ধ করতেন। অবহেলায় কেউ যেন এ রাতের ফজিলত থেকে বঞ্চিত না হয় সেজন্য সতর্ক করে দিয়েছেন। লাইলাতুল ক্বদর একমাত্র উম্মতে মুহাম্মদীর বৈশিষ্ট। পূর্বেকার কোন উম্মতকেই শবে ক্বদর দান করা হয়নি। শবে কদরের ফজিলত সম্পর্কে হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেন, যে ঈমানসহ ছওয়াবের আশায় শবে ক্বদরের রাতে জেগে থেকে ইবাদত করবে তাঁর অতীতের সকল পাপ মার্জনা করা হবে। (বুখারী ১/২৭০)। লাইলাতুল ক্বদরে বিশেষ কোন আমল নেই। হাদিসে এ রাতে জেগে থেকে ইবাদত করার জন্য বলা হয়েছে। সুতরাং এ রাতে নফল নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, তাসবীহ, তাহলীল, জিকির, তওবা, ইস্তেগফার দোয়া সবই করা যাবে। রাসূল (স.) বলেন, লাইলাতুল ক্বদরে হযরত জিবরাঈল (আ.) ফেরেশতাদের একটি দল নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করেন, এবং তাঁরা কি দাড়িয়ে, কি বসে যে যেভাবেই মহান আল্লাহর স্মরণ করে তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন। লাইলাতুল ক্বদরে নফল নামাজ, স্বাভাবিক নিয়মেই পড়তে হবে। এর কোন স্বতন্ত্র নিয়ম নেই। বিশেষ কোন সূরা নির্দিষ্ট সংখ্যক পড়ার কোন ভিত্তি নেই। হযরত মুহাম্মদ (স.) লাইলাতুল ক্বদরে বিশেষ একটি দোয়া পড়তে বলেছেন, তা হচ্ছে- আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুব্বুন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফাকআফু ফায়ফু আন্নি। অর্থ হচ্ছে- হে আল্লাহ: আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। সুতরাং আমাকে ক্ষমা করুন। আমাদের দেশে শুধু সাতাশ রমজান রাতে শবে কদরের উদ্দেশ্যে ইবাদত করার একটি রেওয়াজ চালু হয়ে গেছে। কিন্তু বিশুদ্ধ হাদিসগুলোর আলোকে এটি সঠিক নয়। কারণ, সাতাশ রমজানের রাতেই শবে ক্বদর হওয়াটা তো নিশ্চিত নয়। সুতরাং শবে ক্বদর পেতে হলে রমজানের শেষ দশকের বেজোড় পাঁচটি রাতেই ইবাদত বন্দেগী করতে হবে। আরেকটি বিষয় সকলের লক্ষ্য রাখা জরুরি তা হচ্ছে লাইলাতুল কদরের ইবাদত নফল। আর সকল নফল ইবাদত ঘরে করাটাই উত্তম। সুতরাং লাইলাতুল ক্বদরের নফল নামাজ. তেলাওয়াত, জিকির ইত্যাদির জন্য মসজিদে ভিড় না করে প্রত্যেকে নিজ নিজ বাসা-বাড়িতে করাটাই উত্তম।

জুম'আতুল বিদা :আজ ২৩ রমজান, জুমআর দিন। আগামী শুক্রবারে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উত্যাপিত হতে পারে। সে হিসাবে হয়তো আজকের জুমআর দিনটিই এই রমজানের শেষ জুমআ হতে পারে। রমজানের শেষ জুমআকে জুমআতুল বিদা হিসাবে অনেকে আখ্যায়িত করেন। আমাদের দেশের মুসলমানরা জুমআতুল বিদাকে অনেক গুরুত্ব দেন। তবে পবিত্র কুরআন বা হাদিসে জুমআতুল বিদার বিশেষ কোন ফজিলত, গুরত্ব ও তাত্পর্যের উল্লেখ নেই। প্রতিটি জুমআর দিনই সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন এটা সন্দেহাতীত সত্য। হাদিসে জুমআর দিনের অনেক ফজিলত বর্ণিত রয়েছে। জুমআর দিনের একটি বিশেষ মুহুর্তে দোয়া কবুল হয়। অধিকাংশ হাদিসের মতে সেই সময়টা হচ্ছে, খতিবের মেম্বরে বসার থেকে সালাম ফেরানো পর্যন্ত সময় পর্যন্ত। রমজানের প্রত্যেকটি জুমআর দিনই রমজানের কারণে আরো অধিক ফজিলতপূর্ণ-এটা ঠিক। কিন্তু জুমাতুল বিদার কোন স্বতন্ত্র ফজিলত নেই। আগামী বছর আমরা বাঁচবো কিনা তা কেউই জানিনা। রমজান পাবো কিনা, রমজানের জুমআ ভাগ্যে জুটবে কিনা, এ ধরণের আবেগানুভূতি নিয়ে যদি জুমআতুল বিদাকে একটু বেশী গুরুত্ব দেয়া হয় তবে সেটাও হয়ত একেবারেই অযৌক্তিক নয়।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
'ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিজিটালাইজেশনের সুবাদে দেশে দুর্নীতি অনেকটাই কমেছে'। প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের এই বক্তব্যের সাথে আপনিও কি একমত?
9 + 1 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১৬
ফজর৫:১২
যোহর১১:৫৪
আসর৩:৩৯
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩৫
সূর্যোদয় - ৬:৩৩সূর্যাস্ত - ০৫:১২
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :