The Daily Ittefaq
শুক্রবার ১৫ আগস্ট ২০১৪, ৩১ শ্রাবণ ১৪২১, ১৮ শাওয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ শাহ আমানতে যাত্রীর ফ্লাস্ক থেকে ৪০ লাখ টাকার সোনা উদ্ধার | ধর্ষণের ঘটনা ভারতের জন্য লজ্জার: মোদি | শোক দিবসে সারাদেশে জাতির জনকের প্রতি শ্রদ্ধা | লঞ্চ পিনাক-৬ এর মালিকের ছেলে ওমর ফারুকও গ্রেফতার

১৫ই আগস্ট:বঙ্গভবনের অজানা অধ্যায়

মুসা সাদিক

১৫ আগস্টের ভোর পৌনে ছ'টার দিকে স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী প্রণোদিত্ বড়ুয়া আমার আজিমপুরের সরকারি কলোনির ৩৭/সি নং বাসার দরজা ভেঙে ফেলার মতো করে ধাক্কা দিয়ে আমার নাম ধরে জোরে জোরে চিত্কার করে ডেকে তুললেন। রেডিওতে ততক্ষণে মেজর ডালিমের কণ্ঠস্বর ভেসে আসছে : 'আমি মেজর ডালিম বলছি, আমি মেজর ডালিম বলছি, বাংলার মীর জাফর শেখ মুজিবকে হত্যা করা হয়েছে। বাংলার মীর জাফর শেখ মুজিবকে হত্যা করা হয়েছে। মীর জাফর মুজিব সরকারকে উত্খাত করা হয়েছে। ঢাকাসহ সারা দেশে কারফিউ জারি করা হয়েছে...।'

আমি তখন বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধা অফিসারের বাসায় টেলিফোন করে কী করা যায় তা নিয়ে কথা বলছিলাম। রক্ষীবাহিনীর টেলিফোন এক্সচেঞ্জ সারাক্ষণ engaged পাচ্ছিলাম। ততক্ষণে প্রণোদিত্ দা'র দেওয়া বঙ্গবন্ধুর বাড়ির শেখ কামালের বেডরুমের সেই unclassified ফোনে আমি ফোন করলাম। (খুব দুঃখিত যে, সেই ফোন নম্বরটি এত বছর পরে আর স্মরণ করতে পারছি না এবং প্রণোদিত্ দা'ও আজ বেঁচে নেই। সেই ফোনটি ছিল সুলতানা কামাল খুকুর, যার হদিস টিএন্ডটি-র চেয়ারম্যান ব্যতীত অন্য কোনো অফিসার জানত না।) প্রণোদিত্ দা রিসিভারে কান পেতে রাখলেন ৩২ নম্বর থেকে কী উত্তর আসে, শোনার জন্য। তিনবার রিং হতেই শেখ কামালের বেডরুমের টেলিফোনের রিসিভার ধরে অপর প্রান্তে 'হ্যালো' বলতেই আমি বললাম, 'আমি শেখ কামালের বন্ধু বলছি। কামাল কেমন আছে?' টেলিফোনের অপর প্রান্ত থেকে চোস্ত উর্দুতে উত্তর দিল : 'বহুত আচ্ছা, আপ কৌন?' আমি বললাম : 'আমি ওর বন্ধু। ওদের বাড়ির দিক থেকে গোলাগুলির আওয়াজ আসছে কেন?' সেই লোকটি পুনরায় চোস্ত উর্দুতে উত্তর দিল : 'ও কুছ নেহি। বাজি ফুট রাহা হ্যায়। উও লোগ খুছিছে খুছি মানা রাহে হ্যায়? আপ কৌন? আপ কাঁহাছে রোল রাহে হ্যায়? আপ কা ফোন নম্বর কেতনা?'

৩২ নম্বরের বাড়িতে ১৫ আগস্ট সকাল পৌনে সাতটার দিকে পাকিস্তানি সেনাদের মতো চোস্ত উর্দু কণ্ঠস্বর শুনে আমার নিশ্চিত বিশ্বাস হলো যে, বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে যারাই হামলা করুক তাদের মধ্যে পাকিস্তানি সেনারাও রয়েছে। রিসিভারে আমার সাথে কান লাগিয়ে ওদের কথা শুনে প্রণোদিত্ দা'ও বলে উঠলেন, 'মুসা, এ তো দেখছি পাকিস্তানি সেনার কণ্ঠস্বর।' ততক্ষণে আমি ক্রুদ্ধ হয়ে উঠেছি এবং ইংরেজিতে তাকে বললাম, 'হোয়াই ইউ আর স্পিকিং ইন উর্দু? আর ইউ পাকিস্তানি আর্মি?' বজ্রপাতের মতো চিত্কার করে উত্তর দিল, 'আই অ্যাম ইউর ফাদার, হোয়াট ইজ ইউর অ্যাড্রেস, বাস্টার্ড?'

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর খুনিচক্র ডালিম-ফারুক-রশীদ এবং তাদের দোসররা চাষীরা তড়িঘড়ি করে খন্দকার মোশতাককে প্রেসিডেন্ট হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশবাসী ও বিশ্ববাসীর সামনে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ নেয়। সেনাবাহিনী, রক্ষীবাহিনী ও দেশবাসীর সামনে তারা দেখাতে চায় যে, বঙ্গবন্ধু জীবিত নেই বলে কোনো ক্ষমতার বা প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের শূন্যতা সৃষ্টি হয়নি। ১৫ই আগস্ট বিকালে বঙ্গভবনে খুনি খোন্দকার মোশতাকের শপথ অনুষ্ঠানের তোড়জোড় শুরু হয়।

বঙ্গভবনের শপথ অনুষ্ঠানে আমি, আমার সহকর্মী রবীন্দ্রনাথ ত্রীবেদী, কুমার শংকর হাজরা, আলী তারেক, ফরিদ উদ্দিন আহমদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলাম।

বঙ্গভবনে খুনিদের ১ দিন পার হলো। ১৬ই আগস্ট সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্টের ফটোগ্রাফার আমির খসরুর অনুরোধে আমি ও কুমার শংকর হাজরা (খুনি মোশতাকের অফিসার) দোতলায় গেলাম খুনিদের মাতলামি করার ঘটনা দেখতে। আমরা দুইজন দোতলায় লিফটের দরজা খুলতেই দেখলাম লিফট থেকে ১০/১২ হাত দূরে বঙ্গবন্ধুর এক খুনি রিসালদার মহিউদ্দিনের এক হাতে মদের বোতল, আরেক হাতে আগ্নেয়াস্ত্র। তার সাথে আরও ২০/২৫ জন, তাদের হাতেও মদের বোতল, স্টেনগান ও শটগান। আমাদের দিকে মদের বোতল উঁচু করে মহিউদ্দিন বলছে, 'শেখ মুজিবের হারামজাদাদের বলে দে, তাদের সব খতম করেছি আরও করব। বাংলাদেশ, বাঙালি সব শালা মাদার চোত, বাস্টার্ড। হারামজাদা শেখ মুজিব শেষ। তার কথা যে বলবে, সে শেষ। বাংলাদেশ শেষ। রেডিও খোল... 'পাকিস্তান জিন্দাবাদ' বল... you go....... all are bustruds..... tell them all dead..... Bangladesh dead...... This is islamic Bangladesh......" তাদের মাতলামি দেখে ঘৃণাভরে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে আমরা লিফট ধরে নেমে এলাম। রাতে জানলাম আর্মি চীফ জেনারেল শফি উল্লাহ বঙ্গভবনে বন্দী হয়ে আছেন। রাত ১১টার পরে খুনিদের ২টি মাইক্রোবাসে সুন্দরী মহিলারা এসে বঙ্গভবনে নামলো। তাদেরকে দোতলায় কিলারদের কক্ষের দিকে নিয়ে যাওয়া হলো। বলা হলো কিলারদের স্ত্রীরা এসেছে। অনেকে বিশ্বাস করতে পারলো না।

১৭ই আগষ্ট সকাল ৯/১০ টার দিকে বঙ্গভবন থেকে ফোন করে ঢাকার পত্রিকার সম্পাদকদের বঙ্গভবনে আসার ফরমান জারি হলো। ঢাকার সম্পাদকরা প্রবীণতম সম্পাদক জনাব ওবায়দুল হক সাহেবের নেতৃত্বে ১০/১২ জন সম্পাদক এলেন বঙ্গভবনে। বঙ্গভবনের গেট পেরিয়ে আসার পর বঙ্গভবনের সিঁড়িতে তাঁদের আটকে আধা ঘণ্টারও বেশী সময় দাঁড় করিয়ে রাখলো অস্ত্রধারীরা। আমরা তাদেরকে সেখান থেকে আনার জন্য গেলাম। কিন্তু অস্ত্রধারী খুনিরা হাতের ইশারায় আমাদেরকে দূরে দাঁড়িয়ে থাকতে বললো। বাংলাদেশ অবজারভার-এর সম্পাদক জনাব ওবায়দুল হক সবার পক্ষ থেকে অস্ত্রধারীদের বললেন যে, বঙ্গভবনে বৈঠকের জন্য তাদেরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাঁদের যদি ভেতরে যেতে না দেয়া হয়, তবে তাঁরা চলে যাবেন। এ কথা বলামাত্র মাথায় খুন চেপে থাকা বঙ্গভবনের অস্ত্রধারী খুনিরা তাদের দিকে হিংস্রভাবে তেড়ে এসে

তাদের মাথার ও বুকের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে চীত্কার করে বলে উঠলোঃ "Shut up, shut up you bustards, if you say a word, you are dead, all of you are dead." সম্পাদকরা সেই রক্ত পিপাসু খুনিদের আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে ভয়ে আতঙ্কে ঠক ঠক করে কাঁপতে কাঁপতে সিঁড়ির ওপর পড়ে যান। কেউ কেউ কাঁপতে কাঁপতে সিঁড়ির ওপর শুয়ে ও বসে পড়েন। দেশের মানি-গুণী সম্পাদকরা নিজেদের আত্মসম্ভ্রম বাঁচাতে বঙ্গভবনে খুনিদের হাতে তাঁদের লাঞ্ছিত হবার ও নিগৃহীত হবার ঘটনা সেদিন জনসম্মুখে প্রকাশ করেননি!! তারা জীবিত অবস্থায় এসব তথ্যসম্বলিত নিবন্ধ আমি ডেইলি অবজারভার, ইনডিপেনডেন্ট, জনকণ্ঠসহ কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশ করেছি।

বঙ্গভবনে খুনিদের ২য় দিন পার হলো ঘন ঘন মিটিং করে এবং হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের অঢেল মদ ও হোটেল পূর্বাণীর রাশি রাশি অন্ন ধ্বংস করে। বঙ্গভবনের দোতলায় বঙ্গবন্ধুর খুনিরা ১৮ই আগষ্ট সোমবার রাতে হঠাত্ কয়েক রাউন্ড ফায়ার করে বসলে সমগ্র বঙ্গভবনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রেসিডেন্টের পিএস-২ জনাব আব্দুল মান্নান (আমরা উভয়ে পশ্চিমবঙ্গের হিসেবে আমার সাথে তার উত্তম undersanding ছিল এবং আমরা পারস্পরিক বিশ্বাসভাজন ছিলাম) পরদিন সকালে আমাকে বললেনঃ "কাল রাত ৯টার দিকে দোতলায় খুনিদের মধ্যে মাতলামো শুরু হয়। তারা আকাশে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে চিত্কার করে বলতে থাকে "মীর জাফর শেখ মুজিব শেষ, বাংলাদেশ শেষ। কোন কুত্তাকা বাচ্চা শেখ মুজিবের বাচ্চার নাম লিয়া তো উয়ো বাস্টার্ড কো খতম কর দেংগে। উয়ো বাঙালী বাচ্চাকে হাম খতম কর দেংগে। বাংলাদেশ মর গিয়া। ইসলামী বাংলাদেশ হো গিয়া.....। কোইয়ি কোন শালা মাদার চোত হ্যাঁয়, হাম লোগোকে রোখেংগে। মুজিব কা বাচ্চা কোইয়ি, কাঁহা হ্যাঁয়......।" বঙ্গভবনে ৩য় দিন পার হলো খুনি মোশতাকের কেবিনেট মিটিং করে। উক্ত মিটিং-এ সিদ্ধান্ত হয় যে, শেখ মুজিবের অর্থ ও ধন-সম্পদের বিবরণী রেডিও-টিভি এবং পত্রিকায় প্রকাশ করা হবে। বিকালে সকল ব্যাংকের এম.ডি'কে বঙ্গভবনে ডাকা হলো।

কর্ণেল রশিদ নিজে দরবার হলে তাঁদের সকলকে ১৫/২০ জন জওয়ানের ষ্টেনগান এবং এসএলআর-এর সামনে দাঁড় করিয়ে বললোঃ "মীর জাফর শেখ মুজিবের কোন ব্যাংকে কত টাকা আছে, আপনারা তার বিবরণী নিয়ে এসেছেন?" সকল এম.ডি. বললেন যে, তাদের কারও ব্যাংকে ওঁনার কোন একাউন্ট বা টাকা-পয়সা নেই। সোনালী ব্যাংকের এম.ডি. বললেন যে, সোনালী ব্যাংক, ধানমন্ডি শাখায় ওঁনার ১১৭৫৬/- (এগার হাজার সাতশত ছাপ্পান্ন) টাকা আছে। তখন কর্ণেল রশিদ ষ্টেনগান এবং এসএলআর তাক করে রাখা সৈনিকদের চীত্কার করে বললেনঃ "They are bustard, dogs of Sheikh Mujib, fire them" (তারা সব জারজ, শেখ মুজিবের কুত্তা, তাদের গুলি করে মেরে ফেলো।) একথা শোনামাত্র এক ব্যাংকের জনৈক এম.ডি. অজ্ঞান হয়ে বঙ্গভবনের দরবার হলের মেঝেতে ধপাস করে পড়ে গেলেন। ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে তখন আরেক ব্যাংকের এম.ডি. বলে উঠলেনঃ "স্যার, স্যার, মারবেন না। স্যার, আমার ব্যাংকে একটা আছে?" কর্ণেল রশিদ তার কাছে এগিয়ে গিয়ে টাইসহ তার কোটের কলার চেপে ধরে হুঙ্কার দিলো, "You bustard, now open your mouth." (তুমি জারজ, এখন তোমার মুখ খোল।) তার ঠোঁট ফেটে দর দর করে রক্ত গড়িয়ে পড়তে লাগলো। তার মুখের মধ্যে রিভলবার ঢুকিয়ে দিলে তিনি পড়ে গেলেন। ২ জন সৈনিক তার পাছায় লাথি মেরে টেনে তুলে দাঁড় করালো। ততক্ষণে তার মুখ থেকে রিভলবার বের করে তিনি কাঁদতে কাঁদতে বললেনঃ "স্যার, আমি হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের এম.ডি.। হাউস বিল্ডিং থেকে উঁনি (ভয়ে আতঙ্কে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামটাও উচ্চারণে অপারগ) ৩২ নম্বরের বাড়ী করার জন্য লোন নিয়েছিলেন। সে লোন পরিশোধ করেননি এবং সুদে আসলে তা এখন ৫/৬ লাখ টাকা হবে। এই টাকা ওঁনার কাছে সরকারের পাওনা আছে।" খুনি রশীদ হুকুম দিলোঃ "বাড়ী এক্ষুণি confiscate (জব্দ) করে নিন।" এম.ডি. সাহেব বললেনঃ "স্যার, নিউজ পেপারে একটা নোটিস দিয়ে দিতে হবে।" খুনি রশিদ বললোঃ "এক্ষুণি দিয়ে দিন।

১৮ই আগষ্ট সোমবার প্রথমবারের মতো ভারতীয় রাষ্ট্রদূত শ্রী সমর সেন বঙ্গভবনে আসেন প্রেসিডেন্ট মোশতাকের সাথে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করতে। ১৫ই আগষ্ট ক্যুর সময় তিনি কলকাতা ছিলেন। ১৭ই আগষ্ট বিকালে তিনি কলকাতা থেকে ঢাকা আসেন। পরদিন দুপুরে আসেন বঙ্গভবনে। সমর সেন বঙ্গভবনে প্রবেশের পর সেখানকার সকলে জানত যে, প্রেসিডেন্ট তাকে ডাকেন নি। তিনি স্বেচ্ছায় দেখা করতে এসেছেন। তখন প্রেসিডেন্টের সহকারী একান্ত সচিব মান্নান সাহেব জানালেন, "আগের রাতে পাকিস্তান ফেরত্ সেনাদের চাপে জেনারেল জিয়া ও খুনি মোশতাক বাংলাদেশকে "ইসলামী প্রজাতন্ত্রের" ঘোষণা অথবা "পাকিস্তানের সাথে কনফেডারেশনের" ঘোষণা দেবার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারই ফলস্বরূপ বঙ্গভবনের দোতলায় খুনিরা সারারাত পিপে পিপে মদ গিলেছে, আনন্দ-ফুর্তি করেছে আর পাক সেনারা যেভাবে গালাগালি দিতো, সেভাবে বাঙালি মা-বোনদের অশ্রাব্য ভাষায় উর্দুতে তারা গালিগালাজ করেছে। বঙ্গবন্ধুকে গালিগালাজ করেছে.....।"

রাষ্ট্রদূত সমর সেন আসার পর প্রেসিডেন্টের কক্ষের চারপাশে কানাঘুষা শুরু হয়ে গেল। তখন আমাদের সহকর্মী মোশতাকের অফিসার শ্রী কুমার শংকর হাজরার মুখ থেকে সমর সেনের আগমনের মূল কারণ জানতে পারলাম। সে আমাকে বললোঃ "দোস্ত, "ইসলামী প্রজাতন্ত্র" অথবা "পাকিস্তানের সাথে কনফেডারেশনের" যে কোন একটি ঘোষণা হলে আমি চাকরি ছেড়ে ভারতে চলে যাবো।" (জেল হত্যাকাণ্ডের পরই ক্ষুব্ধচিত্তে মুক্তিযোদ্ধা হাজরা সত্যি সত্যি চাকরি ছেড়ে দিয়ে ভারতে চলে যায়।) ১৮ই আগষ্ট সোমবার কখন কি ঘোষণা হয়!! ঘোষণা হয়!! তা জানার জন্য বঙ্গভবনের মুক্তিযোদ্ধা অফিসাররা উদ্বেলিত চিত্তে সারাক্ষণ একতলা থেকে দোতলা এবং এ কক্ষ থেকে ঐ কক্ষে ছোটাছুটি করতে লাগলাম। আমরা সকলে সারাক্ষণ চোখ কান পেতে রাখলাম। খুনি মোশতাককে সমর সেন কি বলে, কি বলে, সারাক্ষণ আমরা জপ করতে থাকলাম। জেনারেল জিয়া তখন বঙ্গভবনে। জেনারেল শফিউল্লাহ তখন বঙ্গভবনে বন্দী। সমর সেন সাক্ষাত্ শেষে চলে গেলেন। জিয়া খুনি মোশতাকের বঙ্গভবনের পেছনের কক্ষে (নিরাপত্তার জন্য প্রেসিডেন্টের জন্য নির্ধারিত সামনের কক্ষে না বসিয়ে প্রেসিডেন্টকে তখন খুনিরা বঙ্গভবনের পেছনের কক্ষে বসাতো) ঢুকলেন। ঘন্টা দুয়েকের মধ্যে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের ডজন ডজন জেনারেল ও ব্রিগেডিয়াররা এসে তার সাথে যোগ দিলেন। সারা বিকাল ও সারা সন্ধ্যা গ্রুপ গ্রুপে সেনা অফিসাররা মিটিং-এর পর মিটিং করলো বঙ্গভবনে। ক্যান্টনমেন্ট থেকে এক গ্রুপ যায়, আরেক গ্রুপ আসে।

১৮ই আগষ্ট রাত ১১টায় বন্ধু হাজরার মুখ থেকে যখন জানতে পারলাম "ইসলামী প্রজাতন্ত্র" অথবা "পাকিস্তানের সাথে কনফেডারেশন" এর কোনটাই হবে না—-তখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আনন্দাশ্রুতে বুক ভাসিয়ে আমরা বঙ্গভবন থেকে বের হলাম। চোখের ওপর ভেসে উঠলো একাত্তরের রণাঙ্গনে, রণাঙ্গনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শত-সহস্র বীর মুক্তিযোদ্ধার লাশ, আর বাঙালি ভাই-বোনের রক্তে ভেসে যাওয়া কালো পিচ্ছিল দুর্বা ঘাস, মাঠ-ঘাট। ঠোট থেকে বেরিয়ে আসলো "জয় বাংলা", "জয় বঙ্গবন্ধু"।

লেখক : ১৯৭৫ সালে বঙ্গভবনে জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন। পরবর্তীতে সচিব হিসেবে অবসর নেন

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, 'জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা নিয়ে টিআইবি'র বক্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
5 + 2 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
এপ্রিল - ২৪
ফজর৪:১০
যোহর১১:৫৭
আসর৪:৩১
মাগরিব৬:২৭
এশা৭:৪৩
সূর্যোদয় - ৫:২৯সূর্যাস্ত - ০৬:২২
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: ittefaq.adsection@yahoo.com, সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: ittefaqpressrelease@gmail.com
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :