The Daily Ittefaq
মঙ্গলবার ২৬ আগস্ট ২০১৪, ১১ ভাদ্র ১৪২১, ২৯ শাওয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ ওরিয়েন্টাল ব্যাংকের ছয় কর্মকর্তাসহ ৭ জনের কারাদণ্ড | চট্টগ্রাম নৌঘাঁটিতে যুদ্ধজাহাজে আগুন | বিজিবিকে প্রশিক্ষণ দেয়ার প্রস্তাব বিএসএফের | শাস্তি কমল সাকিবের | আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর হত্যায় আটক ৩

রাজনীতি

বাংলাদেশে গণতন্ত্রায়নের চ্যালেঞ্জ

ড. অরুণ কুমার গোস্বামী

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্য থেকেই মূলত বাংলাদেশে গণতন্ত্রায়নের চ্যালেঞ্জগুলো উত্পত্তি লাভ করছে। কারণ রাজনৈতিক দল ছাড়া গণতন্ত্র ক্রিয়াশীল হয় না। অতএব, যে উপাদান গণতন্ত্রায়ন প্রক্রিয়া জোরদার করছে সেই উপাদানই আবার এটিকে নস্যাত্ করার ক্ষেত্রে কাজে লাগছে। এটি শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রেই নয় বিশ্বের যে সব দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিদ্যমান আছে সেই সব দেশের ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য। বোধ করি এই কারণেই বিশ্বখ্যাত ইংরেজি ম্যাগাজিন দ্য ইকোনোমিস্ট-এর গবেষক দল অতি সাম্প্রতিককালে তাদের গবেষণায় বলেছে যে নাগরিকদের মধ্য থেকেই গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটি আবির্ভূত হচ্ছে। রাজনৈতিকদলগুলো যদি সংসদমুখী হয় তাহলে এই চ্যালেঞ্জগুলো গণতান্ত্রিক নিয়ম অনুসারে সংসদের মধ্যেই মীমাংসিত হতে পারে। আর যদি কোন রাজনৈতিক দল সংসদীয় নিয়ম-কানুন না মেনে ধ্বংসাত্মক তত্পরতায় লিপ্ত হয়ে পড়ে তাহলে দেশের মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হয়। মানুষের প্রাণ যায়। সম্পদ ধ্বংস হয়। বারে বারে মুখ থুবড়ে পড়ার কারণে গণতন্ত্রের শৈশব কাল আর অতিক্রান্ত হতে চায় না।

১৯৭৫এর ১৫ আগস্টের বিয়োগান্তক পরিবর্তনের পর এবং এমনকি ১৯৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের পর থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত যতগুলো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তার সবগুলোতেই সহিংস ঘটনা ঘটেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই সহিংস ঘটনাগুলোর নির্মম শিকারে পরিণত হয়েছে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন। বলা বাহুল্য, রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহারের কারণেই এমনটি ঘটে থাকে।

২০১৪ সালের ১মার্চ সংখ্যায় বিশ্বখ্যাত ইংরেজি ম্যাগাজিন দি ইকোনোমিস্ট "What's gone wrong with democracy? শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে গণতন্ত্রকে বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে সফল রাজনৈতিক ধারণা হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রশ্ন করা হয় 'এটি কেন সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে এবং এটিকে পুনরুজ্জীবিত করতে কী করা যেতে পারে ?' (Democracy was the most successful political idea of the 20th century. Why has it run into trouble and what can be done to revive it?) গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে ইকোনোমিস্টের লেখকদের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে 'গণতন্ত্রের চ্যালেঞ্জ উপর বা নীচ থেকে আসে না, এটি আসে ভিতর থেকে—ভোটারদের নিজেদের মধ্য থেকে।' (The biggest challenge to democracy, however, comes neither from above nor below but from within—from the voters themselves.) এতে আরো বলা হয়েছে যে, " নাগরিকগণ 'মুহূর্তের আনন্দে তুষ্ট থেকে, দৈনন্দিন জীবন যাপন করবে ' গণতন্ত্র সম্পর্কে প্লেটোর এই বিশাল আশঙ্কা দূরদর্শী প্রমাণিত হয়েছে। গণতান্ত্রিক সরকার বড় কাঠামোগত ঘাটতি চালাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে, স্বল্প মেয়াদে ভোটাররা যা চায় ধার করে তা পূরণ করে থাকে, অথচ দীর্ঘ মেয়াদের বিনিয়োগ অবহেলিত থাকে। "

গণতন্ত্রে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনিবার্য। ধরে নেয়া হয়, এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার সময় সব রাজনৈতিক দল নিয়মতান্ত্রিক, অহিংস ও শান্তিপূর্ণ উপায় অবলম্বন করবে। অর্থাত্ তারা 'রুলস অব দ্য গেইম' অনুসরণ করবে। কিন্তু বাংলাদেশে এটি হচ্ছে না।

রাজনীতিতে অনেক ধরনের পদ্ধতি প্রয়োগ করতে দেখা যায়, যার মধ্যে আছে জনগণের মধ্যে কারও নিজস্ব রাজনৈতিক মতামত এগিয়ে নেয়া, অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তি বা দলগুলোর সাথে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে নেয়া, আইন ও বিধি-বিধান তৈরি করা, শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাসহ শক্তি প্রয়োগ করা প্রভৃতি। আধুনিক রাজনৈতিক সংলাপ গণতন্ত্র এবং জনগণ ও রাজনীতির সম্পর্কের উপর আলোকপাত করে। সরকারের ক্ষমতায় জনগণ কোন দলকে নির্বাচিত করবে এবং সরকারি নীতি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে জনগণের পছন্দের প্রয়োজনে রাজনীতি করা হয়। বিংশ শতাব্দীর একজন সর্বাধিক প্রসিদ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রবার্ট অ্যালেন ডাহ্ল তাঁর Who Governs? : Democracy and Power in American City শীর্ষক গ্রন্থে 'কে বা কারা ক্ষমতাবান' তা অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণের জন্য এলিটবাদ, বহুত্ববাদ, অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র, প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র, টেকনোক্র্যাসি প্রভৃতি পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ক্ষমতাবান যাচাই করার জন্য এগুলোর মধ্য থেকে তিনি বহুত্ববাদকে বেছে নিয়েছেন। কারণ হচ্ছে এই পদ্ধতি অনুযায়ী রাজনীতি সবার জন্য উন্মুক্ত। জনগণ এবং এলিট সবাই রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারে, সবাই এ সম্পর্কে বক্তব্য দিতে পারে। রাজনীতির সব পক্ষ যেমন খুশী তেমন পন্থা অবলম্বন করতে পারে। কিন্তু এই পথও হতে হবে সর্বসম্মতভাবে অহিংস ও নিয়মতান্ত্রিক। সাধারণত খেলাধুলার সময় মাঠের নিয়ম-কানুন সব খেলোয়াড়কেই মেনে চলতে হয়। তেমনি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সব পক্ষকেও কিছু নিয়মা-কানুন অনুযায়ী কথা-বার্তা বলতে হয় এবং সে অনুযায়ী কাজ করতে হয়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, একদিকে জাতি যখন শোক দিবস পালন করছে ঠিক তখন কাটা-ঘায়ে নুনের ছিটা দেয়ার জন্য কৃত্রিম জন্মদিন পালন করছে। দৃশ্যত জাতির পিতার মৃত্যু তাদের জন্ম হয়েছে, এমন ধারণা করা অযৌক্তিক নয়।

এভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, বাংলাদেশে গণতন্ত্রায়ন প্রক্রিয়া নিয়মতান্ত্রিক-সাংবিধানিক ধারা এবং ধ্বংসাত্মক অসাংবিধানিক ধারার অপ্রিয় মিথস্ক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। যদি নিয়মতান্ত্রিক-সাংবিধানিক ধারাটিতে থাকতে পারে তাহলে তা দেশের জন্য মঙ্গলবার্তা বয়ে আনবে। আর যদি ধ্বংসাত্মক- অসাংবিধানিক ধারা জয় লাভ করতে পারে তাহলে তা রক্তপাত ও ধ্বংস ডেকে আনবে।

সংসদীয় ব্যবস্থায় সিদ্ধান্ত প্রণয়নে যারা অংশ নিতে আগ্রহী থাকে তারা সাধারণত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে থাকে। কারণ কোন ইস্যু সম্পর্কে নিজেরা যথেষ্ট শক্তিশালী হলে এবং প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে তাদের মূল্যবোধ প্রকাশিত হোক তা চাইলে, তারা অংশগ্রহণ করবে। আর যদি অংশগ্রহণ না করে, (যেমনটি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনগত কারণে নবম জাতীয় সংসদে স্থান পাওয়া একটি দল অংশ গ্রহণ করে নাই। আবার আইনগতভাবে সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কোন কোন দল ইচ্ছাকৃতভাবে অংশগ্রহণ করে নাই) তাহলে, রবার্ট ডাহলের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, অংশগ্রহণ না করা সঙ্গত কারণে অসন্তোষের অনুপস্থিতি হিসেবে বিবেচিত হয়। পাশাপাশি সরকারি নেতারা যেভাবে শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করছেন তার প্রতি সমর্থনও বোঝায়। তবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করানোর প্রচেষ্টার এই ক্রান্তিকালে ব্যতিক্রম কিছু থাকতেই পারে।

লেখক:চেয়ারম্যান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ ও পরিচালক, সাউথ এশিয়ান স্টাডি সার্কেল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, 'হতাশায় নিমজ্জিত বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে মিথ্যাচার করছে।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
4 + 6 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুলাই - ২৮
ফজর৪:০২
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৩
মাগরিব৬:৪৭
এশা৮:০৭
সূর্যোদয় - ৫:২৬সূর্যাস্ত - ০৬:৪২
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: ittefaq.adsection@yahoo.com, সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: ittefaqpressrelease@gmail.com
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :