The Daily Ittefaq
মঙ্গলবার ২৬ আগস্ট ২০১৪, ১১ ভাদ্র ১৪২১, ২৯ শাওয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ ওরিয়েন্টাল ব্যাংকের ছয় কর্মকর্তাসহ ৭ জনের কারাদণ্ড | চট্টগ্রাম নৌঘাঁটিতে যুদ্ধজাহাজে আগুন | বিজিবিকে প্রশিক্ষণ দেয়ার প্রস্তাব বিএসএফের | শাস্তি কমল সাকিবের | আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর হত্যায় আটক ৩

জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবো :মামুনুল

স্পোর্টস রিপোর্টার : বাংলাদেশ ফুটবল দলের অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম জানিয়েছেন ১৭তম এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতির জন্য আয়োজিত নেপাল অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বিরুদ্ধে খেলাটিতে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। বিশেষ করে দুই ম্যাচের প্রীতি সিরিজটি নিজেদের মাঠে হচ্ছে বলে স্বাগতিক দলের ফুটবলারও জয়ের ব্যাপারে একটু বেশি আশাবাদী। মামুনুল নিজেও জানিয়েছেন তারা আজ প্রথম খেলাটিতে জয়ের মানসিকতা নিয়েই খেলতে নামবেন। এশিয়ান গেমসে অংশ নেয়ার জন্য ৩ আগস্ট থেকে বিকেএসপিতে চলছে ফুটবল দলটির অনুশীলন। নিজেদের প্রস্তুতি, এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ দলের লক্ষ্যসহ প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি নিয়ে গতকাল সাভারের বিকেএসপিতে এই প্রতিবেদকের সাথে কথা বলেন মামুনুল ইসলাম। পাঠকদের জন্য সেসব তুলে ধরা হলো।

প্রস্তুতি কেমন হচ্ছে?

মামুনুল : এখানে সবাই মনোযোগের সাথে ট্রেনিং করছে। ঢাকার বাহিরে বিকেএসপির আবাসিক ক্যাম্পে ট্রেনিং হওয়ায় ভালো হয়েছে। এখানে দীর্ঘ মেয়াদের ট্রেনিং ক্যাম্প হওয়ায় আমাদের সবার অনেক উপকার হয়েছে।

এশিয়ান গেমসের জন্য ইতোমধ্যে তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছেন। প্রথম দু'টিতে সহজে জিতলেও সেনাবাহিনীর সাথে সর্বশেষ খেলায় আপনাদের বেগ পেতে হয়েছে কেন?

মামুনুল : আর্মির বিপক্ষে চার গোল খাওয়াটা খুব খারাপ দিক এটা আমি স্বীকার করি। তবে ৫-৪ গোলে জয়ের পেছনে একটা ভালো দিক আছে। সে খেলায় আমরা প্রথমার্ধে ৪-২ গোলে পিছিয়ে থেকেও দ্বিতীয়ার্ধে কামব্যাক করতে পেরেছি। টিম স্পিরিট না থাকলে এরকম কামব্যাক করাটা খুব কঠিন। এটা আমাদের ইতিবাচক দিক। আমরা যে ছোট-খাটো ভুলত্রুটি করেছি সেখান থেকে শিক্ষা নেয়া দরকার। ৩ আগস্ট থেকে আমাদের ট্রেনিং চলছে। আজও সহকারী কোচ রেনে কোস্টার আমাদের অনেকগুলো বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। বিশেষ করে সর্বশেষ ম্যাচে আমরা আর্মির সাথে যেসব ভুল ক্রটি করেছি সেগুলো ধরিয়ে দিয়েছেন। পরবর্তী ম্যাচে আমরা যাতে এই ভুলগুলো না করি।

সেনাবাহিনীর বিপক্ষে ৫-৪ গোলে জয়ের পর রেনে কোস্টার বলেছেন, রক্ষণভাগে দুর্বলতা ফুটে উঠেছে?

মামুনুল : আসলে সেই ম্যাচে ডিফেন্স ও গোলকিপারের ছোট-খাটো কিছু ভুলত্রুটির কারণে খেলাটা কঠিন হয়ে গিয়েছিল। আমি মনে করি পরবর্তীতে এটার পুনরাবৃত্তি আর হবে না।

প্রধান কোচ লোডউইক ডি ক্রুইফ না থাকায় আপনাদের কি প্রস্তুতিতে কোন সমস্যা হচ্ছে?

মামুনুল : না। ক্রুইফ-রেনে দু'জনই খুব ভালো মানের কোচ। আমরা অনেক কঠিন পরিশ্রম করছি। ট্রেনিং ছাড়াও খেলোয়াড়রা নিজ উদ্যোগে জিম ও সুইমিং করছেন। সবার টার্গেট একটা ভালো রেজাল্ট। আমরা যেহেতু প্রফেশনাল ফুটবল খেলি সেহেতু আমাদের নিজেদেরও টার্গেট থাকে ভালো করার। আমি যখন আমার নিজেরটা বের করে আনতে পারি তাহলে সেটা দেশেরই হবে। আমরা যে অনেক কষ্ট করেছি সেটার ফলাফল নেপালের সাথে প্রস্তুতি ম্যাচে ইনশাআল্লাহ আমরা পাবো।

সাফ ফুটবলে আপনারা এই নেপালের কাছেই ২-০ গোলে হেরেছেন। সেবার নেপালের মাঠে খেলা ছিলো। এখন নিজেদের মাঠে খেলা হচ্ছে। আপনারা কি সেই ম্যাচের প্রতিশোধ নিতে চান?

মামুনুল : আমি প্রতিশোধে বিশ্বাসী নই। আমরা আমাদের মাটিতে খেলতে যাচ্ছি। মাঠ আমাদের। দর্শক সমর্থন আমাদের। দেশ আমাদের। এসব কিছুর দিকে যদি চিন্তা করি তাহলে আমাদের জেতা অবশ্যই দরকার। আমার দেশে এসে ওরা আমাদেরকে হারিয়ে যাবে সেটা আমরা কোন দিনও হতে দেবো না। নিজের দেশে পরাজয় কেউই চাইবে না। আমরা আমাদের শতভাগ চেষ্টা করবো। আমরা ভালো ম্যাচ খেলি বা না খেলি, রেজাল্ট যাতে আমাদের পক্ষে থাকে। আমাদের চেষ্টা থাকবে ভালো ম্যাচ খেলার। এই ম্যাচের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চাই বাংলাদেশ ভালো টিম।

বাফুফে থেকে বলা হয়েছে সারাদেশে ফুটবলের আমেজ ছড়িয়ে দেয়ার জন্য নেপালের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচটি সিলেটে আয়োজন করা হচ্ছে। আপনার কি মত?

মামুনুল : আমি এটাকে সমর্থন করি। চট্টগ্রাম বা কক্সবাজার, সিলেটের মানুষ খেলার পাগল। রাজধানীতে খেলার আমেজ কমে যাওয়ার কারণ ডিজিটাল যুগে সবাই নিজের কাজে নিয়েই ব্যস্ত। সিলেটের খেলার টিকেট আমার মনে হয় ইতিমধ্যেই বিক্রি হয়ে গেছে। সাপোর্টাররা যদি আমাদেরকে উজ্জীবিত না করে তাহলে আমরা কিন্তু উজ্জীবিত হবো না। আমরা দেখবো আমাদের খেলা দেখার জন্য কত মানুষ পাগলের মতো আসে। আমরাও চেষ্টা করবো তাদের জন্য কিছু করার। দেশের জন্য কিছু করার। সাপোর্ট পেলেই মূলত ভালো ফুটবল তৈরি হয়। সাপোর্টাররা আসলে ভালো ফুটবল খেলার মানসিকতাও তৈরি হবে। এই ক্ষেত্রে আমি বলবো ম্যাচ দুটি যদি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার হতো তাহলে আরো ভালো হতো। তাহলে মানুষ ফুটবলকে আরো ভালো অনুভব করতে পারতো।

বাফুফে ভবনে গত রবিবার ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে সহকারী কোচ রেনে কোস্টার ফুটবলারদের সমর্থন দিতে দর্শকদের মাঠে আসার আহবান জানান। আপনিও কি এমন কিছু চান?

মামুনুল : আমিও দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলবো আপনারা একটু কষ্ট করে হলেও মাঠে আসুন। আমাদের টিমকে সাপোর্ট করুন। বাংলাদেশের মানুষ যদি আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের জার্সি গায়ে তাদের সমর্থন করতে পারে তাহলে আমি কেন বাংলাদেশের জার্সি গায়ে সাপোর্ট করবো না। আমাদের দেশে যারা আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের সমর্থন করেন তাদের ৩০ ভাগ মানুষ আমাদের সাপোর্ট করলে আমি মনে করি আমরা আরো অনেক ভালো খেলতে পারবো। দেখেন নেপালের ফুটবলারদের সমর্থন দেয়ার জন্য যে পরিমাণ দর্শক-সমর্থক মাঠে আসে সেটা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করার মতো না। শুধু সাপোর্টারাই নয়। তাদের জাতীয় সঙ্গীত, তাদের সাউন্ড সব কিছুতে খেলোয়াড়রা উজ্জীবিত হয়। এগুলো আমাদের এখানে না থাকায় আমাদের খেলোয়াড়রা উজ্জীবিত হওয়ার অনুপ্রেরণা পায় না। এখন আমাদের এখানে খেলা। গ্যালারি থেকে দর্শকরা যখন বাংলাদেশ বলে চিল্লান দিবে তখন খেলোয়াড়দের মধ্যে উন্মাদনা কাজ করবে। সমর্থকদের সাপোর্ট পেয়ে ফুটবলাররা মাঠে নিজের জীবন দিয়ে চেষ্টা করবে। সেটা করতে গিয়ে খেলোয়াড়রা মাঠে মরে গেলেও কোন আপসোস থাকবে না। সর্বশেষ আর্মির ম্যাচটাই বলিনা কেন! আর্মির দর্শকরা কিন্তু আর্মির সাপোর্ট করেছিলো। যার কারণে তারা ভালো খেলেছে। রেজাল্ট ভিন্ন হয়েছে আমাদের কমিটম্যান্টের কারণে। শক্ত মানসিকতার কারণে। এ কারণে ম্যাচের রেজাল্ট আমরা পেয়েছি। এজন্য মাঠে সমর্থক খুব প্রয়োজন।

নেপালের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে আপনাদের লক্ষ্য কি?

মামুনুল : প্রথমত ভালো ফুটবল খেলা। রেজাল্ট যাই হোক না কেন। কলকাতায় এফএ শিল্ডে শেখ জামাল ভাল ফুটবল খেলেছে। যেটা কল্পনা করার মতো না। দেখেন র্যাংকিংয়ে আমরা এখন অনেক পিছিয়ে। আমরা যদি আরো বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে পারি তাহলে আমাদের অভিজ্ঞতা বাড়বে। মাসে একটা দুইটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেললে আমাদের ফুটবলের মান আরো ভালো হবে। সেই সাথে র্যাংকিংয়েরও উন্নতি হবে। যেমন আমরা এশিয়ান গেমস খেলতে যাবো। নেপাল সম্পর্কে আমাদের ধারণা আছে। কিন্তু আফগানিস্তান, হংকং ও উজবেকিস্তানের সাথে যদি আগে কখনও ম্যাচ খেলতাম তাহলে ওদের সম্পর্কে আমাদের সুস্পষ্ট ধারণা থাকতো। হংকংয়ের সঙ্গে সর্বশেষ ২০০৯ সালে খেলা হয়েছে। এখন এই পাঁচ বছরে তাদের ফুটবল কোথায় গেছে সেটা সম্পর্কে আমাদের ধারণা নেই। আমরা যদি তাদের সাথে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতাম তাহলে তাদের খেলার ধরন আমাদের জানা থাকতো। এ জন্য বলবো আমাদের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা খুব দরকার। বেশি বেশি ম্যাচ খেললে আমরা বুঝতে পারবো কোন জায়গাগুলোতো আমাদের উন্নতি করার দরকার আছে। দশ বিশটা ম্যাচ খেললে রেজাল্ট পজেটিভ হবেই। এক সময় দেখা যাবে পজেটিভ রেজাল্টই বেশি আসবে। জাতীয় দল ভালো করলে বয়স ভিত্তিক দলে যারা খেলে তারাও উজ্জীবিত হবে।

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ দলের লক্ষ্য সম্পর্কে বলুন।

মামুনুল : এশিয়ান গেমসে আমরা গ্রুপের চার নম্বর টিম। একটা লক্ষ্য নিয়ে যাচ্ছি সেটা আমরা জানি। আমরা দেশের মানুষকে একটা সারপ্রাইজ দিতে চাই। প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে যদি ভালো করতে পারি তাহলে এশিয়ান গেমসের জন্য একটা লক্ষ্য তৈরি হয়ে যাবে। আমাদের প্রথম লক্ষ্য থাকবে আফগানিস্তানের সাথে জেতার। পরবর্তী লক্ষ্য হংকং। তারপর উজবেকিস্তান। আমাদের চেষ্টা থাকবে ভালো খেলার। গ্রুপ পর্ব টপকাতে হলে অবশ্যই আফগানিস্তান ও হংকংকে হারাতে হবে। আফগানিস্তানের ম্যাচের উপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। উজবেকিস্তানের সাথে ভালো করাটা অনেক কঠিন হবে। যে কোন টুর্নামেন্টের জন্য প্রথম ম্যাচটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ম্যাচে ভালো হলে পরের ম্যাচেও ভালো করার মানসিকতা তৈরি হবে।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, 'হতাশায় নিমজ্জিত বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে মিথ্যাচার করছে।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
5 + 9 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
এপ্রিল - ২৮
ফজর৪:০৭
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩১
মাগরিব৬:২৮
এশা৭:৪৫
সূর্যোদয় - ৫:২৭সূর্যাস্ত - ০৬:২৩
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: ittefaq.adsection@yahoo.com, সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: ittefaqpressrelease@gmail.com
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :