The Daily Ittefaq
মঙ্গলবার ২৬ আগস্ট ২০১৪, ১১ ভাদ্র ১৪২১, ২৯ শাওয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ ওরিয়েন্টাল ব্যাংকের ছয় কর্মকর্তাসহ ৭ জনের কারাদণ্ড | চট্টগ্রাম নৌঘাঁটিতে যুদ্ধজাহাজে আগুন | বিজিবিকে প্রশিক্ষণ দেয়ার প্রস্তাব বিএসএফের | শাস্তি কমল সাকিবের | আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর হত্যায় আটক ৩

কোন্দলে ব্যস্ত ছাত্র দল নেতারা

মাহবুব রনি

বিএনপির ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাদের অধিকাংশেরই সংগঠনে মন নেই। বিভিন্ন গ্রুপ-উপগ্রুপে বিভক্ত নেতারা কোন্দলেই ব্যস্ত। তারা পরস্পর কাদা ছোঁড়াছুঁড়িতে ব্যস্ত থাকলেও কর্মী-সমর্থকদের সাথে নিয়ে সংগঠন গোছানো ও পদায়নে উদ্যম নেই তাদের। সংগঠনের এক নম্বর শাখা হিসেবে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় সর্বশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল ১০ বছর আগে। বিএনপির কয়েকজন নেতা ও ছাত্রদলের কয়েকজন সাবেক নেতা সিন্ডিকেট করে দুই যুগ ধরে ছাত্রদলের কমিটি নিয়ন্ত্রণ করছেন। ফলে সংগঠনে নিয়মিত, উদ্যমী ও তারুণ্যনির্ভর নেতৃত্ব তৈরি হওয়ার পরিবর্তে 'বুড়ো নেতৃত্ব' তৈরি হচ্ছে। বিএনপির সর্বশেষ আন্দোলনে ছাত্রদল 'যথাযথ দায়িত্ব' পালন না করার পেছনে শীর্ষ নেতাদের সংগঠনের প্রতি যথেষ্ট মনোযোগ না থাকাই প্রধান কারণ বলে মনে করেন সংগঠনটির তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাথে ছাত্রদল নেতাদের দুই দিনের বৈঠকেও কয়েকজন নেতা চেয়ারপারসনের কাছে এ বক্তব্য তুলে ধরেন। একইসাথে সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে তারা অনুরোধ করেন।

বিএনপি ও সহযোগী সংগঠন পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে গত বুধ ও রবিবার ছাত্রদল নেতাদের সাথে বৈঠক করেন খালেদা জিয়া। দুই দফায় প্রায় আট ঘণ্টা তিনি ছাত্রদলের কেন্দ ীয় কমিটির সদস্য থেকে যুগ্মসম্পাদক পর্যায়ের প্রায় ৮০ জন নেতার বক্তব্য শোনেন। দুই বৈঠকেই তিনি কোন সিদ্ধান্ত না জানালেও সংগঠনটির শীর্ষ কয়েকজন নেতার কর্মকাণ্ডের ও দায়িত্ব অবহেলার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আবার কয়েকজন নেতার আত্মপ্রশংসার কারণে বিরক্তি প্রকাশ করেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জানান, দলের সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে ছাত্রদলকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় হাই কমান্ড। ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নিষ্ক্রিয়তার বিষয়ে তিনি জানেন। মাঠ পর্যায়ের তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমান কেন্দ ীয় কমিটির মেয়াদও সেপ্টেম্বরের ৩ তারিখে শেষ হয়ে যাবে। এ তারিখের আগে-পরে সেপ্টেম্বরের যে কোনো সময় ছাত্রদল পুনর্গঠন করা হবে।

তিনি জানান, কমিটি গঠনে সিন্ডিকেটের প্রভাবের বিষয়ে সচেতন রয়েছে হাই কমান্ড। এজন্য পরবর্তী কমিটি গঠনের জন্য বিশ্বস্ত বিভিন্ন সূত্র থেকে সম্ভাব্য নেতাদের নামের তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। ঐ তালিকা থেকে সম্ভাব্য ছাত্রনেতাদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে বিএনপির কয়েকজন নেতাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতে নতুন কমিটি গঠিত হবে।

ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির এক কেন্দ ীয় নেতা জানান, ছাত্রদলের কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের বিবেচনাই প্রধান। কমিটির নতুন নেতৃত্ব জেষ্ঠ্য নেতাদের নিয়ে, না কনিষ্ঠ নেতাদের নিয়ে গঠিত হবে তা তারাই নির্ধারণ করবেন।

জানা যায়, আব্দুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েলকে সভাপতি ও হাবিবুর রশিদ হাবিবকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করে ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দট পূর্ণাঙ্গ করা হয়। কমিটি পূর্ণাঙ্গকরণে ধীরগতি এবং অছাত্রদের পদায়ন ও দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ এনে কেন্দ ীয় কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন একই কমিটির সহ-সভাপতি, যুগ্ম সম্পাদকসহ বিভিন্ন স্তরের নেতারা। প্রকাশ্যে প্রায় সাতটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে ছাত্রদল। এর আগে থেকেই বাদপড়া নেতাদের নেতৃত্বে অন্তত পাঁচটি গ্রুপ মাঠে সক্রিয় ছিল। সবমিলিয়ে কোন্দলে ব্যস্ত থাকলেও সংগঠনে ও জুনিয়র নেতা-কর্মীদের পদায়নে আন্তরিকতার প্রমাণ দিতে পারেননি এসব নেতা। ছাত্র রাজনীতির প্রাণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ৫ বছর ধরে ছাত্রদলের কর্মসূচি ছিল না বললেই চলে। তবে ২০১০ সালে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে ইন্ধন ও অংশগ্রহণ ছিল ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর দুই দফায় কেন্দ ীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃত্বের পরিবর্তন হলেও হল শাখাগুলো থেকে গেছে নেতৃত্বহীন। সর্বশেষ ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে ও ২০০৫ সালের এপ্রিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হল কমিটি গঠন করতে পেরেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিন বছর আগে মাস্টার্স শেষ করা ছাত্রদলের এক কর্মী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ছাত্রদলের রাজনীতি শুরু করি। পড়াশোনা শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু সংগঠনের কোনো পদ এখনও পাইনি। নিজেরা পদ না পাওয়ায় আমাদের উপর আস্থা রেখে নতুন ভর্তি হওয়া ছাত্ররা ছাত্র রাজনীতিতে আসছে না।

১৮ বছর ধরে ছাত্রদলেই তারা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৮৫-৮৬ সালের ব্যাচের ছাত্র শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং ১৯৮৩-৮৪ ব্যাচের ছাত্র হাবিব উন নবী সোহেলকে যথাক্রমে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক করে ১৯৯৬ সালে ছাত্রদলের কেন্দ ীয় কমিটি গঠিত হয়। এ্যানি বর্তমানে বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও সোহেল ঢাকা মহানগর কমিটির সদস্য সচিব। আর ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ ীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ১৯৮৯-৯০ ব্যাচের ছাত্র। এ্যানি-সোহেলদের সাথে প্রত্যক্ষ ছাত্র রাজনীতি করেছেন তারা। ছাত্রদলের আগামী কমিটিতেও এ ব্যাচ বা ১৯৯০-৯১ ব্যাচের ছাত্র ছিলেন, এমন নেতারা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন। ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত বেশ কয়েকজন ছাত্র এ প্রসঙ্গে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর একজন ছাত্র যদি ১৮-২০ বছর ছাত্র রাজনীতিই করেন, তবে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারই কতদূর যাবে, আর দলকেই তিনি কতটুকু দিতে পারবেন। কেননা দেশের শিক্ষা পদ্ধতিতে ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন এসেছে। এ অবস্থায় বয়স্ক নেতৃত্ব নিয়মিত ছাত্রদের সাথে চাইলেই যোগাযোগ করতে পারেন না। যোগাযোগের এ দূরত্বের কারণে সংগঠন বা আন্দোলন কোনটিতে সময়োপযোগী নেতৃত্ব দেয়া সম্ভব নয়।

ছাত্রদলের কেন্দ ীয় সভাপতি আব্দুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল বলেন, সংগঠনের খোঁজ-খবর নিতে ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) নেতাদের সাথে কথা বলেছেন। কমিটি পরিবর্তন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। সংগঠন পুনর্গঠিত হলে যোগ্য নেতারাই দায়িত্বপ্রাপ্ত হবেন বলে আশা করি।

বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যথাসময়ে যোগ্য নেতৃত্ব গঠন করা হবে। তবে নেতৃত্ব গঠনে বয়সের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, 'হতাশায় নিমজ্জিত বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে মিথ্যাচার করছে।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
1 + 4 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুলাই - ২২
ফজর৩:৫৮
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১১
সূর্যোদয় - ৫:২৩সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: ittefaq.adsection@yahoo.com, সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: ittefaqpressrelease@gmail.com
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :