The Daily Ittefaq
মঙ্গলবার ২৬ আগস্ট ২০১৪, ১১ ভাদ্র ১৪২১, ২৯ শাওয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ ওরিয়েন্টাল ব্যাংকের ছয় কর্মকর্তাসহ ৭ জনের কারাদণ্ড | চট্টগ্রাম নৌঘাঁটিতে যুদ্ধজাহাজে আগুন | বিজিবিকে প্রশিক্ষণ দেয়ার প্রস্তাব বিএসএফের | শাস্তি কমল সাকিবের | আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর হত্যায় আটক ৩

অপকর্ম ঢাকতে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করতে চায় সরকার : খালেদা জিয়া

আনোয়ার আলদীন

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অভিযোগ করে বলেছেন, নানা অপকর্ম করেও আওয়ামী লীগ সন্তুষ্ট হয়নি। নিজেদের 'অপকর্ম' ঢাকতে ও সেসবের বিচার যাতে না হয় সেজন্য সরকার আইন করে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। একই উদ্দেশে বিচার বিভাগকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে তারা বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে নিতে যাচ্ছে। বিচারকরা যাতে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে না পারে। অভিশংসনকে সংসদ সদস্যদের হাতে তুলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোট ছাড়া গঠিত এই সংসদ অবৈধ। এই সংসদ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না। সুতরাং এই সংসদে যে আইনই করুক না কেন, তা টিকবে না।

গতকাল সোমবার রাতে গুলশানে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে রংপুর বিভাগ থেকে নির্বাচিত বিএনপি সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যানদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। মতবিনিময়ে রংপুর বিভাগের ৮টি জেলার বিএনপি থেকে নির্বাচিত ২৪ জন চেয়ারম্যান, ১৪ জন ভাইস চেয়ারম্যান ও ২৪ জন মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান অংশ নেন। এসময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গনি, লে.জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ও সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু উপস্থিত ছিলেন।

বেগম খালেদা জিয়া বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই। আসলে আওয়ামী লীগ মানুষের মুখ বন্ধ করে রাখতে চায়। কারণ তারা অপকর্ম করলে মানুষ তা বলবে। এজন্যই তারা তথ্য অধিকার আইনের নামে পেপার-পত্রিকা বন্ধ করে দিতে চায়। টিভি বন্ধ করে দিতে চায়। যাতে কেউ তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলতে না পারে। খালেদা জিয়া বলেন, দেশে দুই রকমের আইন রয়েছে। আওয়ামী লীগের জন্য এক ধরনের আর বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষের জন্য আরেক ধরনের আইন। টাকার বিনিময়ে তারা মানুষ খুন করছে। তাতেও তারা সন্তুষ্ট হয়নি।

খালেদা জিয়া বলেন, কথায় কথায় হাসিনা ও আওয়ামী লীগ জিয়াউর রহমানের কথা বলে। তার চরিত্রহনন করে বক্তব্য দেয়। অথচ জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা না করলে এবং দেশ স্বাধীন না হলে তাদের নেতা শেখ মুজিব কারাগার থেকে বের হতে পারতো না।

তিনি বলেন, হাসিনা বলে তাকে নাকি জিয়াউর রহমান দেশে ফিরতে দেয় নাই। এটা মিথ্যা কথা। জিয়াউর রহমানই তাকে লোক পাঠিয়ে দেশে নিয়ে এসেছেন। তাকে তাদের সম্পদ ফিরিয়ে দিয়েছেন। রাজনীতি করতে দিয়েছেন। বিডিআর বিদ্রোহে প্রধানমন্ত্রী ও তার দলের লোকজন জড়িত অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, 'কেন সেদিন হাসিনা সুধা সদন থেকে হেয়ার রোডে এসে বসলো? কেন সে বিদ্রোহীদের সঙ্গে বৈঠক করল? কেন সে চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী বিডিআরের ডিনারে অংশ নিল না? কেন সেনাবাহিনীকে উদ্ধার অভিযানে পাঠাল না? সময়মত সেনাবাহিনীকে উদ্ধার অভিযানে পাঠালে আমাদের এতগুলো সেনা কর্মকর্তার জীবন হারাতে হত না।

সরকার হটাতে আন্দোলন হবে ঘোষণা করে খালেদা জিয়া বলেন, আমরা বলেছি আন্দোলন হবে। আমাদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ। আমরা কখনও বলিনি আন্দোলন সহিংস হবে। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করি আর আওয়ামী লীগ বোমা মারে। মানুষ জ্বালায়। তিনি বলেন, হাসিনা কি আন্দোলনের নামে মানুষ মারেনি? হাসিনা কি লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষকে হত্যার হুকুম দেয়নি। হাসিনার নির্দেশে গান পাউডার দিয়ে বাস জ্বালিয়ে নিরীহ মানুষকে পুড়িয়ে মারা হয়নি? খালেদা বলেন, হেফাজতে ইসলামের নিরীহ আলেমদের এরা নির্বিচারে হত্যা করেছে। তারা যদি হত্যাই না করত তাহলে কেন বাতি নিভিয়ে দেয়া হল? একদিন অবশ্যই এসব অন্যায়ের বিচার হবে। তিনি বলেন, আল্লাহ শয়তানকে বাড়তে দেন। ঢিলা দেয়। তারপর তাদের বিচার করেন। অবশ্যই তিনি এ হত্যাকারীদের বিচার করবেন।তিনি বলেন, আজকে এই অবৈধ ও খুনীদের দোস্ত হয়েছে ইনু ও মতিয়ারা। এই ইনু ২০০০ লোককে হত্যা করেছে। সে শেখ মুজিবের মৃত্যুর পর বলেছিল- মুজিবের লাশ কবর না দিয়ে বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেয়া উচিত ছিল। আর মতিয়া চেয়েছিল-শেখ মুজিবের চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বাজাতে। আজ তারা কাফফারা দিচ্ছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রতি খোলা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বেগম জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ বলে বিএনপির সঙ্গে নাকি জনগণ নেই। বিএনপি নাকি আন্দোলন করতে পারবে না। কিন্তু আমি বলছি-সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও আওয়ামী লীগ এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আড়ালে নিজেদের দলীয় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ছাড়া মাঠে আসুন। আমরাও খালি হাতে মাঠে আসি। দেখি জনগণ কার সঙ্গে থাকে।

উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন এসব জনপ্রতিনিধিদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, নির্বাচন ফেয়ার হলে ফল আরও ভাল হত। কিন্তু এ অবৈধ সরকার কোন নির্বাচন ফেয়ার হতে দেয় না। তাদের সঙ্গে জনগণ নেই। তারা শুধু মিথ্যা কথা বলে। তারা আছে খুন, দুর্নীতি ও লুটপাট নিয়ে। তারা গণতন্ত্র চায় না। তারা চায় শুধু লুটপাট।

তিনি বলেন, আপনারা এত দূর থেকে এসেছেন কত কষ্ট করে। কারণ রাস্তাঘাটের কি দুরবস্থা। ঢাকা শহরের রাস্তার কি বেহাল দশা। কিন্তু একটি রাস্তাও ঠিক করে না। গত ১০ বছর ধরে ঢাকা সিটি করপোরেশনে নির্বাচন দেয় না। প্রশাসক দিয়ে চালায়। তারা ব্যস্ত লুটপাট নিয়ে। এজন্য ঢাকা শহর বসবাসের অযোগ্য হয়ে গেছে। ঢাকা এখন বিশ্বের দুর্গন্ধময় চার নম্বর শহর। আর দেশ দুর্নীতিতে এক নম্বর।

বিএনপি চেয়ারপারসন উপজেলা চেয়ারম্যানদের প্রকৃত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি উল্লেখ করে বলেন, আপনারাই প্রকৃত জনপ্রতিনিধি। কারণ আপনারা জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। আর ওরা সত্যিকার জনপ্রতিনিধি নয়। কারণ তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। ওরা আগে থেকেই নির্ধারণ করে রেখেছিল কে কোথা থেকে পাস করে আসবে। সেজন্য বিএনপিকেও তারা আহ্বান করেছিল, নাম দিতে। দিলে নাকি নির্বাচিত করে আনত। কিন্তু বিএনপিতো ওদের মতো ভাগ-বাটোয়ারায় বিশ্বাস করে না। বিএনপি সত্যিকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। জনগণ যদি ভোট দেয় তাহলে জনগণের সেবা করবে। ওদের মত দুর্নীতি ও লুটপাট নয়। আমরা আসিনি বলে তারা ভাগ বাটোয়ারার মাধ্যমে নিজেদের ১৫৪ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করে নিয়েছে। ১৫১ জন হলেই তো সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়। তারা আরো বেশি নিয়ে নিয়েছে।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, 'হতাশায় নিমজ্জিত বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে মিথ্যাচার করছে।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
7 + 5 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
মে - ১
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:৩০
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৪সূর্যাস্ত - ০৬:২৫
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: ittefaq.adsection@yahoo.com, সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: ittefaqpressrelease@gmail.com
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :