The Daily Ittefaq
ঢাকা, শুক্রবার ৩০ আগস্ট ২০১৩, ১৫ ভাদ্র ১৪২০ এবং ২২ শাওয়াল ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ বুধবারের মধ্যেই সিরিয়ায় হামলা: ফ্রান্স | সিরিয়া অভিযানের প্রস্তাব ব্রিটিশ পার্লামেন্টে নাকচ | রাশিয়াও দুটি যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে | শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ১৮ কেজি সোনা উদ্ধার

বাংলাদেশের নজরুল-স্বজন

আলী হোসেন চৌধুরী

নজরুল-জীবন বর্ণাঢ্য ও ব্যতিক্রম। তাঁর জীবনের সচল-সক্রিয় সময়টি যেমন বর্ণবহুল উপমায় সন্নিবেশিত, তেমনি তাঁর নানামুখী বর্ণিল সৃষ্টিসম্ভার নান্দনিক সম্মোহনে আবিষ্ট করে। নজরুল তাঁর রক্তের সম্পর্কের স্বজন-আত্মীয় থেকে পুরোপুরি বিছিন্ন ছিলেন। তাঁর আপন বা স্বজন হিসেবে যাঁদের দেখা যায়, তাঁরা সবাই আত্মার সম্পর্কে জড়িত হয়েছেন ভালোবাসার নিবিড় বন্ধনে।

নজরুলের আপনজনদের মধ্যে উভয় বাংলার মানুষ রয়েছে। এখানে আলোচ্য বিষয় 'বাংলাদেশের নজরুল-স্বজন'। নজরুল-স্বজন পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্ববঙ্গ উভয় বঙ্গেই ছিল। আলোচ্য বিষয়ে স্বজন বলতে যাঁরা নজরুলের নিতান্ত আপনজন, কাছ থেকে কিংবা দূরে থেকে নজরুলকে প্রণোদিত করেছেন, উদ্দীপিত করেছেন, আশ্রয় দিয়েছেন, নজরুলের বিপদে এগিয়ে গেছেন, দুঃখের সময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ও বৈরী সময়ে নজরুলের পাশে থেকে শক্তি ও সাহস জুগিয়েছেন এমন লোকের সংখ্যাও কিন্তু কম নয়। তাঁর মধ্যে থেকে কয়েকজন সম্পর্কেই আলোকপাত করা হলো।

নজরুল-জীবনে পরম শুভার্থী ও স্বজনরূপে যে নামটি প্রথমেই আসে, তিনি হলেন কুমিল্লার সন্তান নাসিরউদ্দিন। নজরুলের কলকাতা-জীবনে তাঁর সাহায্য-সহযোগিতা আশ্রয়-প্রশ্রয় নজরুলকে করেছে অবিচল ও দৃঢ় আত্মপ্রত্যয়ী। নাসিরউদ্দিনকে বলা হতো 'নজরুল-বান্ধব'। চাঁদপুরের অধিবাসী নাসিরউদ্দিন ছিলেন সওগাত পত্রিকার সম্পাদক। পত্রিকাটি মসিক ও সাপ্তাহিক উভয় নিয়মেই প্রকাশিত হতো। তিনি সওগাত পত্রিকার মাধ্যমে অবিভক্ত বাংলার বিভিন্ন স্থানে নজরুলের সভা, অনুষ্ঠান ও সংবর্ধনার সংবাদ ব্যাপকভাবে প্রকাশ করা শুরু করলে সারা বাংলায় নজরুলের পরিচিতি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। নজরুলের জনপ্রিয়তা যেমন বৃদ্ধি পায় তেমনি জনসমর্থন ও তৈরি হয়। নজরুলের কবি জীবনের গোড়া থেকেই 'সওগাত' পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হতে শুরু করে। ওই সময়ে নজরুলের বিরুদ্ধে শুধুমাত্র গোঁড়া মুসলমান নয়, একশ্রেণীর হিন্দুগোষ্ঠীও আক্রমণ শুরু করেছিল তাদের লেখার মাধ্যমে। নাসিরউদ্দিন নজরুলের এসব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন পরম বন্ধুরূপে।

বাঙালি জাতির পক্ষ থেকে কলকাতায় যে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল, এর গোড়াতে ভেতরে ভেতরে এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন নাসিরউদ্দিন সহ বংলাদেশের অন্যান্য বন্ধুরা। নজরুলকে সার্বিক সমর্থন দেওয়ার কারণে শুধু নজরুল নয়, সওগাতের বিরুদ্ধেও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে নজরুল-বিরোধীরা। নাসির উদ্দিন এই বিরোধীদের বক্তব্যের উপযুক্ত জবাব দিয়েছিলেন সওগাতের প্রতিটি সংখ্যায়। নজরুলের প্রতিভায় তিনি মুগ্ধ ছিলেন, তাই যখন যা প্রয়োজন তখন তা করার চেষ্টা করেছেন। নজরুলের যখন চাকরির প্রয়োজন, সওগাতে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। নজরুলের বাসস্থান সংকট? সওগাত কার্যালয়ে নজরুল-পরিবারকে থাকার ব্যবস্থা করেছেন। নজরুলের বিপদে-সংকটে-অসহায়ত্বে এক অবিচল দৃঢ়তায় পাশে দাঁড়িয়েছেন একনিষ্ঠ অভিভাবকের মতো। বাঙালির জাতীয় কবি হিসেবে সংবর্ধনার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, অভ্যর্থনা কমিটি গঠন ও অন্যান্য প্রস্তুতির জন্য কলকাতার মুসলিম ইনস্টিটিউটে সভা (৯ অক্টোবর ১৯২৯) ডাকা হয়। নজরুলের এ সংবর্ধনার আয়োজনকে কিছুতেই সহ্য করতে পারছিলনা গোঁড়া রক্ষণশীলরা, তাঁরা সংবর্ধনার বিপক্ষে এবং নজরুলের বিরুদ্ধে লিখেই চলছিল। যেসব পত্রিকা নজরুলের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল সেগুলো হচ্ছে, 'ছোলতান', 'ইসলাম দর্শন', 'মোহাম্মদী' ও 'মোসলেম দর্পন'। সওগাত সম্পাদক এসব পত্রিকার বিকৃত ও অরুচিকর লেখার বিরুদ্ধে সাপ্তাহিক 'সওগাত' পত্রিকার ১৩৩৫ সালের ২৯ অগ্রহায়ণ সংখ্যায় 'ভণ্ডের দল' নামে একটি কড়া সম্পাদকীয় লেখেন।১ মোল্লার দল নাসিরউদ্দিন ও নজরুলের ওপর আরও ক্ষিপ্ত হয়। সেদিন (৯ অক্টোবর ১৯২৯) প্রস্তুতি সভা ভন্ডুল করার জন্য মাওলানা নজির আহমদের নেতৃত্বে কিছু মাদ্রাসা ছাত্র ও মোল্লার দল মিলে সভার আগেই হল দখল করে ফেলে। নাসিরউদ্দিনের নেতৃত্বে সেদিন কৌশল ও চাপ সৃষ্টি করে তাদের হল থেকে বের করে পুনর্দখল করা হয়।২ নজরুলকে বাঙালি জাতির পক্ষ থেকে যে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়, তাতে বাংলাদেশের নজরুল-শুভানুধ্যায়ীরাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কবিসুহূদ হাবিবুল্লাহ বাহার, নাসিরউদ্দিন, খান মোহাম্মদ মঈনুদ্দিন। সংবর্ধনা সমিতির সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হন নাসিরউদ্দিন। এ আয়োজনে বাংলাদেশের আরও যাঁরা বিশেষ ভূমিকা রাখেন তাঁরা হলেন, আবুল মনসুর আহমদ, মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী, আবুল কালাম শামসুদ্দিন ও শাহাদাত্ হোসেন। ১৯২৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর কলকাতার এলবার্ট হলে বাঙালি জাতির পক্ষ থেকে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। যা অত্যন্ত সফল ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। সংবর্ধনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞানাচার্য স্যার প্রফুল্ল চন্দ্র রায়। বক্তব্য রাখেন নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু, ব্যারিস্টার এস. ওয়াজেদ আলী, রায় বাহাদুর জলধর সেন, সৈয়দ জালালউদ্দিন হাশমী প্রমুখ।

নজরুলের সংবর্ধনা নিয়ে নজরুলের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচারে ক্ষুব্ধ হন সিরাজগঞ্জের কবি ইসমাইল হোসেন সিরাজী। তিনি নজরুলকে খুব স্নেহ করতেন ও ভালোবাসতেন। তাঁর কবি-প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে তাঁকে ১০ টাকা অর্থোপহারও পাঠিয়েছিলেন। নজরুলের সাথে তাঁর পরে কলকাতায় দেখাও হয়। নজরুল তাঁকে বিশেষভাবে শ্রদ্ধা করতেন এবং তাঁদের মধ্যে একরকম আত্মীয়তার বন্ধন ছিল। নজরুলের বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে তীব্র এবং ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সওগাতে একটি চিঠি লেখেন। চিঠির কিছু অংশ এখানে উদ্ধৃত হলো—

'মোহাম্মদীর গালাগালির উত্তরে আপনারা (সাপ্তাহিক সওগাত) যদি না কিছু বলিতেন তাহা হইলে আমরা নিশ্চয়ই তীব্র প্রতিবাদ করিতাম। মিলাদ মাহফিলে গান গাওয়া লইয়া কবি নজরুলকে অতীব জঘন্য ভাষায় জঘন্যভাবে গালাগালি দিয়া (সাপ্তাহিক মোহাম্মদীতে) ইসলামী ভদ্রতার (আদবের) মাথায় পাদুকাঘাত করা হইয়াছে। আবার মাসিক মোহাম্মদীতে জোরে সোরে সেই গান বাজনা জায়েজ বলিয়া ফতোয়া দেওয়া হইতেছে। এ সমস্তই চমত্কার কাণ্ড। আমার মনে হয় বন্ধুবর মাওলানা আকরাম খাঁ সাহেবের তওবা করিয়া প্রায়শ্চিত্ত করা কর্তব্য। হয় তিনি ভদ্রলোকের মত 'মোহাম্মদী' পরিচালনা করুন, না হয় তিনি তা বন্ধ করিয়া দিন। এইরূপ ব্যবহারের দ্বারা তিনি সর্বত্রই প্রায় সর্বজন কর্তৃক তিরস্কৃত এবং নিন্দিত হইতেছেন। লজ্জায় আমাদের মাথা অবনত হইয়া যাইতেছে। পয়সার জন্যই যদি এরূপ করিতে হয় তবে চুরি ডাকাতি বা জাল জুয়াচুরি করিলে ইহা অপেক্ষা বেশি রোজগার হইতে পারে। স্নেহাস্পদ নজরুলের সংবর্ধনার প্রস্তাবে সুখী হইলাম'। ৩

নজরুল সম্পর্কে কিছু কিছু পত্রিকার কুিসত অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে নজরুলের সমর্থনে বিশাল জনগোষ্ঠী তৈরি হয়ে যায় এবং বিভিন্ন স্থানে নজরুলের সমর্থনে সভা-সমাবেশ হয়। এ অবস্থায় শক্তির আধার রূপে বাংলাদেশের মানুষ নজরুলের পাশে এসে দাঁড়ায়। ১৯২৯ সালের ৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জুম্মা মসজিদ প্রাঙ্গণে নজরুলের সমর্থনে একটি বিরাট সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রামের স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার বহু ছাত্র উপস্থিত ছিল। তারা গোঁড়াদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং নজরুলকে 'মুসলিম সমাজের রত্ন' উল্লেখ করে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।৪ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকেও নজরুলের সমর্থনে সওগাতে চিঠি আসতে থাকে। এভাবে নজরুল বাংলাদেশের মানুষের আপনজনে পরিণত হন।

নজরুল-জীবনে আরেকজন পরম বন্ধু তিনি সন্দ্বীপের মুজফ্ফর আহমদ। বয়সে নজরুলের চেয়ে ১০ বছরের বড় হলেও অন্তরঙ্গতা ও বন্ধুত্বে তা কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। নজরুলের কলকাতা-জীবনের শুরুতেই তাঁর সঙ্গে নজরুলের পরিচয় হয় এবং পরে বন্ধুত্বে রূপ লাভ করে, তাঁদের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত নিবিড়। মুজফ্ফর আহমদ অবিভক্ত বাংলায় কমিউনিস্ট আন্দোলনের সূচনা করেন। কবি মোহিতলাল মজুমদারের সাথে 'বিদ্রোহী' কবিতা নিয়ে যখন বিরোধ বাঁধে, তখন তিনি নজরুলের পক্ষ অবলম্বন করেন। তালতলা লেনের যে ঘরে মুজফ্ফর ও নজরুল থাকতেন সেখানে বিদ্রোহী কবিতা রচিত হয়। মুজফ্ফর আহমদ ছিলেন 'বিদ্রোহী'র প্রথম শ্রোতা। শের-এ-বাংলা এ কে ফজলুল হক প্রতিষ্ঠিত দৈনিক 'নবযুগ'-এ নজরুল ও তিনি যুগ্মভাবে সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। নজরুলের কলকাতা জীবনের শুরুতে এভাবেই মুজফ্ফর আহমদের সহায়তায় সহজ হয়ে যায়। নজরুল প্রথম সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ও কমিউনিস্ট আন্দোলনের ধারণা লাভ করেন মুজফ্ফর আহমদের কাছ থেকে। কুমিল্লা দৌলতপুরে নার্গিসের সঙ্গে বিয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নজরুল যখন ক্লান্ত, বিপর্যস্ত ও অসুস্থ হয়ে কান্দিরপাড়ে অবস্থান করেন, এ খবর পেয়ে অস্থির হয়ে মুজফ্ফর আহমদ কষ্ট করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা জোগাড় করে কুমিল্লা এসে নজরুলকে নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে রওনা হন। মুজফ্ফর আহমদকে নজরুল উত্সর্গ করেন তাঁর 'ছায়ানট' কাব্যগ্রন্থ। উত্সর্গ পত্রে লেখা ছিল—'আমার শ্রেয়তম রাজলাঞ্ছিত বন্ধু মুজফ্ফর আহমদ ও কুতুবউদ্দিন আহমদ করকমলে।' ৫ উল্লেখ্য, নজরুলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু কুতুবউদ্দিন বাংলাদেশের নন।

সুফী জুলফিকার হায়দারের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে। সরকারি কর্মকর্তা, কলকাতায় কর্মক্ষেত্র। নজরুল বাকরুদ্ধ হওয়ার কয়েক বছর আগে থেকে নজরুলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন। জুলফিকার হায়দার নজরুল-পরিবারের জন্য অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করেন। নজরুল জুলফিকার হায়দারের নব পরিণীতা স্ত্রী রাবেয়া হায়দারকে তাঁর 'কল্যাণী' কবিতাটি উপহার দেন। কবিতাটির দুলাইন—

'জুলফিকারের পাশে তব কালো জুলফের ছায়া দোলে

কওসর-সাকি হায়দারের কি পেয়াল তোমার কোলে? ৬

কুমিল্লা কান্দিরপাড়ের বিরজাসুন্দরী দেবী নজরুলের পরম আত্মীয়। যাঁকে নজরুল 'মা' ডাকতেন, তাঁকে দিয়েছেনও মায়ের আসন। তিনি ইন্দ্রকুমার সেনগুপ্তের স্ত্রী, বীরেন সেনগুপ্তের 'মা' এবং প্রমীলার কাকিমা। বিরজা সুন্দরী দেবী নজরুলকে স্নেহ ও ভালোবাসার বন্ধনে জড়িয়ে ছিলেন আপন ছেলের মতো। কলকাতা থেকে এসে আলী আকবর খাঁর সঙ্গে নজরুল এ বাড়িতেই প্রথম ওঠেন। আলী আকবর খাঁ বীরেন সেনের বন্ধু, তিনি আগে থেকে বিরজা সুন্দরী দেবীকে মা ডাকতেন। প্রথম কয়েকদিনে নজরুল বাড়ির সবার মন জয় করেন এবং বিরজা দেবীকে 'মা' ডাকা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে নজরুল যতবার কুমিল্লা এসেছেন, এ বাড়িতেই অবস্থান করেছেন, সব মিলিয়ে ১০ মাস। দৌলতপুরে নার্গিসের সঙ্গে বিয়ের কথা ঠিক হতেই নজরুল বিরজা সুন্দরীকে লিখলেন—'মা, তুমি না এলে আমার পক্ষে তো কেউ থাকছে না। তোমাকে আসতেই হবে'।৭ কবি তাঁর 'সর্বহারা' কাব্যগ্রন্থটি বিরজা সুন্দরী দেবীর নামে উত্সর্গ করেন। উত্সর্গপত্রে লেখেন—'মা (বিরজা সুন্দরী দেবী) শ্রী চরণার বিন্দে'। উত্সর্গ কবিতাটির দু-লাইন—'সর্বসহা সর্বহারা জননী আমার /

কারেও দাওনি দোষ। ব্যথা বারিধির/ কূলে বসে কাঁদো মৌন কন্যা ধরণীর'৮

কারাগারে যখন বিভিন্ন দাবিতে নজরুল অনশনরত, তখন অনেক শুভার্থী বন্ধুর অনুরোধেও কিছু হচ্ছিল না। কিছুতেই নজরুল অনশন ভঙ্গ করবেন না। অনশনের ৪০তম দিনে কুমিল্লা থেকে গিয়ে বিরজা সুন্দরী দেবী অনুরোধ করায় নজরুল অনশন ভঙ্গ করেন। এখানেই দেখা যায় নজরুলের ওপর বিরজা সুন্দরী দেবীর প্রভাব কতখানি ছিল। নজরুলের একাধিক কবিতা রয়েছে বিরজা সুন্দরীকে নিয়ে। ১৯২২ সালের শেষ দিকে হুলিয়া নিয়ে নজরুল কুমিল্লা আসেন। এ সময় কবি তাঁর 'ধূমকেতু' পত্রিকার স্বত্ব বিরজা সুন্দরীর নামে লিখে দিয়েছিলেন।৯ প্রমীলার সঙ্গে বিয়ের পর নজরুল ও বিরজা সুন্দরী দেবীর মাতা-পুত্রের এ সম্পর্কটি আর থাকেনি।

কুমিল্লায় বিপ্লবী অতীন রায়ের সান্নিধ্য কবি পেয়েছিলেন। বিপ্লবীদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, আদর্শ ও তাঁদের কর্মপদ্ধতি নজরুল তাঁর কাছ থেকে জানেন। একবার কুমিল্লা কান্দিরপাড়ে হিন্দু ও মুসলমান উভয় গ্রুপ থেকে যখন নজরুলকে মারার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল, অতীন রায় সেই পরিস্থিতি সামাল দেন, পরে নজরুলকে গোপনে কলকাতা পাঠিয়ে দেন।

আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী, বসন্ত মজুমদার, হেমপ্রভা মজুমদার, সৈয়দ আবদুল ওয়াহেদ, হেদায়েত উল্লাহ চৌধুরী, অখিল দত্ত, আফতাবুল ইসলাম—কুমিল্লার এই সকল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন নজরুলের প্রিয়জন। হেমপ্রভা মজুমদারের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, কর্মতত্পরতা, ত্যাগ ও ব্যক্তিত্বে কবি তাঁর প্রতি শ্রদ্ধান্বিত ছিলেন। তাঁর উদ্দেশে তিনি 'হেমপ্রভা' কবিতাটি লেখেন। কবির সংগীত-জীবনকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেন ওস্তাদ মোঃ হোসেন খসরু, শচীন দেব বর্মন, মাহববুর রহমান চৌধুরী জানু মিয়া। তাঁরাও তাঁর প্রিয়জন ছিলেন।

বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি কার্যালয়ে এক সাথে থাকার সুবাদে আলী আকবর খাঁ ও নজরুল ঘনিষ্ঠ হন। আলী আকবর খাঁর আমন্ত্রণেই নজরুল কুমিল্লা বেড়াতে আসেন। তিনি নজরুলের কাব্য-প্রতিভায় মুগ্ধ এক শুভার্থী। নার্গিসের সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা তিনিই করেন। পরে এ বিয়েকে কেন্দ্র করেই তাঁর সঙ্গে নজরুলের বিরোধ ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়, যা আর কোনোদিন কাটেনি। নজরুল দৌলতপুরে থাকা কালে আরেকজন মহিলাকে 'মা' ডাকতেন, তিনি নার্গিসের খালা এখতারুন্নেসা। নজরুলও তাঁকে শ্রদ্ধা করতেন এবং ভালোবাসতেন। তাঁকে নিয়ে নজরুল 'মা' কবিতাটি লেখেন— 'যেখানে তে দেখি যাহা/ মা-এর মতন আহা/ একটি কথায় এত সুধা মেশা নাই / আর কোন খানে কেহ পাইবে না ভাই'।১০

কবি কান্দিরপাড়ে বীরেন সেনগুপ্তের বাড়িতেই থাকতেন। বীরেন সেনগুপ্ত সংস্কৃতিবান ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁকে বাড়ির ছোট-ভাইবোনেরা বিশেষ করে প্রমীলা রাঙাদা ডাকতেন। নজরুলও বীরেন সেনগুপ্তকে রাঙাদা ডাকতেন। নজরুলের শ্রদ্ধা ও ভক্তি ছিল বীরেন সেনগুপ্তের প্রতি, তাই তিনি তাঁর 'যুগবাণী' গ্রন্থটি বীরেন সেনগুপ্তকে উত্সর্গ করেন। এ গ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণে অবশ্য এ উত্সর্গপত্রটি ছিল না। উত্সর্গপত্রে তিনি লেখেন—'শ্রী বীরেন্দ্র সেনগুপ্ত, শ্রী চরণেষু

রাঙাদা,

তোমার চোখা লেখার জন্য নয়, তোমার মোহন রূপের জন্য নয়, তোমার উদার উন্মুক্ত বিরাট প্রাণশক্তির জন্য নয়, তোমার বেদনা-রক্ত ব্যর্থতার জন্য নয়। তোমার ভালোবাসার বিপুল সাহসিকতার শক্তি'র জন্য, কোন কিছুতে হার না মানার জন্য, বিদ্রোহের জন্য, তোমায় আমার রক্ত প্রণাম জানাচ্ছি।

তোমার আদর সিক্ত ছোট ভাই

নুরু।১১

সুলতান মাহমুদ মজুমদার ছিলেন নজরুলের ভক্ত ও পরম শুভার্থী। নজরুলও তাঁকে খুব স্নেহ করতেন। কলকাতায় নজরুলের পরম গুণগ্রাহী ছিলেন বাংলাদেশের মানিকগঞ্জের খান মোহাম্মদ মাইনুদ্দীন। দীর্ঘদিন কলকাতায় তিনি নজরুলের সহচর ছিলেন। প্রমীলা-নজরুল বিয়ের আসরেও তিনি উপস্থিত ছিলেন। কলকাতার বিখ্যাত গায়িকা কুমিল্লার মেয়ে শৈলবালা দেবী ছিলেন সংগীতে, নজরুলের প্রিয় ছাত্রী। নজরুলের কাছেই তিনি গান শিখেছেন। তাঁর সাথেও নজরুলের ছিল আন্তরিক সম্পর্ক।

বাংলাদেশের আর যে কজন কবি নজরুলের ঘনিষ্ঠজন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কাজী মোতাহার হোসেন। নজরুল ঢাকায় এলে সাধারণত তাঁর বাসাতেই থাকতেন। নজরুল সবচেয়ে বেশি চিঠি লিখেছেন কাজী মোতাহার হোসেনকে, সেসব চিঠি ছিল অত্যন্ত আবেগঘন। নজরুল 'দাড়ি-বিলাপ' নামে একটি কবিতাও লেখেন তাঁকে নিয়ে। উমা মৈত্র ও প্রতিভা সোমকে নজরুল গান শেখাতেন। তাঁদের দুজনের প্রতি নজরুলের দুবর্লতা ছিল। উমা মৈত্র-এর পিতা ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ সুরেন্দ্র নাথ মৈত্রকে নজরুল শ্রদ্ধা ও ভক্তি করতেন। তিনিও নজরুলকে স্নেহ করতেন। তাঁকে নজরুল উত্সর্গ করেন তাঁর কাব্যগ্রন্থ-চক্রবাক। উত্সর্গপত্রে লেখেন—'বিরাট প্রাণ-কবি, দরদী/ প্রিন্সিপাল শ্রীযুক্ত সুরেন্দ্র নাথ মৈত্র শ্রী চরণার বিন্দেষু'১২

এর সাথে একটি উত্সর্গ কবিতাও রয়েছে।

প্রতিভা সোমকে নজরুল গান শেখাতেন। তাঁর সাথে নজরুলের আন্তরিক সম্পর্ক ছিল। তাঁর বাসা বনগ্রামে যেতে একদিন আক্রমণের ও শিকার হন। নজরুল তাঁর 'চোখের চাতক' গ্রন্থটি প্রতিভা সোমকে উত্সর্গ করেন। তাতে লেখেন—'কল্যাণীয়া বীণা কণ্ঠী/ শ্রীমতি প্রতিভা সোম/ জয়যুক্তাসু'।১৩

চট্টগ্রামের ভাইবোন বাহার ও নাহারকে কবি ভালোবাসতেন, তাঁরাও ছিলেন কবির ভক্ত। হাবিবুল্লাহ বাহার ও শামসুন নাহার মাহমুদকে কবি তাঁর 'সিন্ধু হিন্দোল' কাব্য উত্সর্গ করেন। উত্সর্গপত্রে লেখেন—

'আমার এ লেখাগুলি/ বাহার ও নাহারকে দিলাম/ কে তোমাদের ভালো?/ বাহার আন গুলশানে গুল নাহার আন আলো/ বাহার এলে মাটির রসে ভিজিয়ে সবুজ প্রাণ/ নাহার এলে রাত্রি চিরে জ্যোতির অভিযান।১৪

কবি চট্টগ্রামে গেলে তাঁদের বাড়িতেই অবস্থান করতেন। তাঁদের পরিবারের সাথেও নজরুলের নিবিড় সম্পর্ক ছিল। নাহারকে কবি একাধিক চিঠি লিখেছেন। হাবিবুল্লাহ বাহার যখন পূর্ব পাকিস্তানের মন্ত্রী তখনও তিনি নজরুল ও তাঁর পরিবারের জন্য সাহায্য করার চেষ্টা করেছেন রাষ্ট্রীয়ভাবে। কবি নজরুলের স্বজনদের তালিকায় আর একজনের নাম না বললে এ লেখা অপূর্ণতার দোষে দুষ্ট হবে। তিনি হলেন গিরিবালা দেবী। প্রমীলার মা। নজরুলের শাশুড়ি। নাবালিকা কন্যাকে নিয়ে কম বয়সে বিধবা হন। নিজের একক সিদ্ধান্তে প্রমীলাকে নজরুলের কাছে বিয়ে দিতে গিয়ে সমাজবঞ্চিত, আত্মীয়বঞ্চিত হন। নজরুলের পরিবারে থেকে সংসারের হাল ধরেন প্রচণ্ড দারিদ্র্যের মধ্যেও। প্রমীলার পঙ্গুত্ব, নজরুলের চেতনাহীন অবস্থায় তিনি ছিলেন দিশেহারা। তিনি নীরবে ত্যাগ স্বীকার করেই গেছেন কেবল। নজরুল-জীবনে সবচেয়ে বড় স্বজন তিনি। গিরিবালা দেবী ছাড়া নজরুলের সংসার টিকে থাকা সম্ভব ছিল না। গিরিবালা দেবীর জামাতা যেমন নজরুল তেমনি ছেলেও নজরুল। নজরুল ও প্রমীলার জন্য অকাতরে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে গেছেন। গিরিবালার স্নেহ ও শাসন না পেলে নজরুলের জীবনে স্থিতি সম্ভব না ছিল না। বছরের পর বছর গিরিবালা দেবীর ত্যাগ ও কষ্ট ছিল সত্যি বিস্ময়কর। নজরুলের শিশু সন্তানদের লালন পালন করেছেন চরম দারিদ্র্যের মধ্যে। এত ত্যাগের পরও দুষ্টজনের মন্দ উক্তি তাঁর জীবন বিষিয়ে তুলেছিল। সহ্য করতে না পেরে একসময় তিনি অন্তর্ধান হন, আর ফিরে আসেননি।

কবি নজরুলের ভক্ত ছিলেন জসীম উদ্দীন ও আবদুল কাদির। জসীম উদ্দীনের বাড়ি ফরিদপুর, আবদুল কাদিরের বাড়ি আশুগঞ্জ। নজরুল যখন নির্বাচনে প্রার্থী হন তখন প্রচারণা কাজে দুজন ছিলেন নজরুলের একনিষ্ঠ কর্মী। নজরুল ফরিদপুরে যতবার গেছেন জসীম উদ্দীন তাঁর সঙ্গী হয়েছেন। আবদুল কাদিরের বিয়ে হয় নজরুলের মধ্যস্থতায়। নজরুলের কলকাতা-জীবনে আরও একজন বিশেষ ব্যক্তির সান্নিধ্য ও সহানুভূতি বিশেষভাবে স্মরণযোগ্য। তিনি হলেন শের-এ-বাংলা এ কে ফজলুল হক। তিনি বরিশালের মানুষ। তিনি সুযোগ দিয়েছিলেন বলেই নজরুলের সাংবাদিকতা-জীবনের সূত্রপাত হয়। তিনি নজরুলকে অনেক স্নেহ করতেন। নজরুল তাঁর বাড়ি বরিশালেও বেড়াতে গিয়েছিলেন। নজরুল সুফিয়া কামালকে স্নেহ করতেন। তিনি সুফিয়া কামালকে ছোট বোন হিসেবে অনেক আদর করে সুফু ডাকতেন। কলকাতায় সুফিয়া কামালের সংসার জীবনেও নজরুলের সঙ্গে ভাই-বোনের সম্পর্কটি বিদ্যমান ছিল। কবি সিলেটে যান একাধিকবার। সেখানে রায় বাহাদুর রমনী মোহন দাশ, হাসন রাজার পুত্র দেওয়ান একলিমুর রাজা চৌধুরী এবং দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফের সঙ্গে কবির আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সিলেটে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কবি একবার গুটিবসন্তে আক্রান্ত হন। তাঁকে আলাদা ঘরে রাখা হয়। সেখানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যে দুজন কবি সেবাশুশ্রূষা দিয়ে ভালো করে তোলেন, তাঁরা হলেন চৌহাট্টার সংস্কৃতিবান পরিবারের সন্তান সুধীরেন্দ্র নারায়ণ সিংহ ও মাসিক বলাকা সম্পাদক কাষ্টঘরের কালি প্রসন্ন দাশ।১৫ তাঁরা কবিকে এত ভালোবাসতেন, পুরো এক মাস এমন ভয়ঙ্কর ছোঁয়াছে রোগীর সেবাযত্ন করেছেন নির্দ্বিধায়। নজরুলের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান সিলেটের এ ঘটনা থেকেই সহজে অনুমান করা যায়।

পূর্ববঙ্গের বহু জেলায় কবি সফর করেছেন। সবখানেই তাঁর ভক্ত-স্বজন তৈরি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও নজরুলের বন্ধু-স্বজনের সংখ্যাও কম নয়।

তথ্য নির্দেশ :

১। রফিকুল ইসলাম নজরুল প্রসঙ্গে, নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা, ১৯৯৮ পৃ.-১০৮

২। মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, সওগাত যুগে নজরুল ইসলাম, নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা, ১৯৮৮ পৃ.-২২৫

৩। মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, সওগাত যুগে নজরুল ইসলাম, নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা, ১৯৮৮ পৃ.-২১০-২১১

৪। পূর্বোক্ত পৃ.-২১১

৫। নজরুল রচনাবলী, ১ম খণ্ড, নতুন সংস্করণ, বাংলা একাডেমী, ঢাকা ১৯৯৩, পৃ.-৯৭

৬। পূর্বোক্ত পৃ.-৫৬১ (৩য় খণ্ড)

৭। মুজফফর আহমদ, কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতিকথা, ৬ষ্ঠ প্রকাশ, মুক্তধারা, ঢাকা ১৯৯৯, পৃ.-৯৭

৮। নজরুল রচনাবলী, পূর্বোক্ত পৃ.-২৭৭

৯। মুজফ্ফর আহমদ, পূর্বোক্ত পৃ.-২২৬

১০। নজরুল রচনাবলী, ১ম খণ্ড পূর্বোক্ত পৃ.-২৫৭

১১। শান্তিরঞ্জন ভৌমিক, নজরুল চর্চা, প্রসঙ্গ কুমিল্লা, তাকলিমা ইয়াসমিন ঝুমুর, ঢাকা ২০০৩, পৃ.-১৬১

১২। নজরুল রচনাবলী, পূর্বোক্ত পৃ.-৪৭৭

১৩। নজরুল রচনাবলী, ১ম খণ্ড, পূর্বোক্ত পৃ.-৫৬৭

১৪। নজরুল রচনাবলী, পূর্বোক্ত ১৯৯৩, পৃ.-৩৩৯

১৫। রফিকুল ইসলাম, কাজী নজরুল ইসলাম জীবন ও সৃষ্টি, কে.পি. বাগচী এন্ড কোম্পানি, কলকাতা, ১৯৯৭ পৃ.-১১৬

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, 'দেশের স্থিতিশীল অবস্থা ফিরিয়ে আনতে নির্দলীয় সরকারের অধীনে যথাযথ সুষ্ঠু নির্বাচনের বিকল্প নেই।' আপনি কি তার বক্তব্যের সাথে একমত?
7 + 2 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১৮
ফজর৫:১৩
যোহর১১:৫৫
আসর৩:৩৯
মাগরিব৫:১৮
এশা৬:৩৬
সূর্যোদয় - ৬:৩৪সূর্যাস্ত - ০৫:১৩
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :