The Daily Ittefaq
ঢাকা, শনিবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ৩০ ভাদ্র ১৪২০ এবং ০৭ জিলক্বদ ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ বিএনপি দেশ বেচে দিতেও দ্বিধা করবে না: প্রধানমন্ত্রী । আলোচনার মাধ্যমেই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব: মজীনা । সংসদের বাইরেও আলোচনা হতে পারে: জয় । সুবহানের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের ৯ অভিযোগ । সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র নিয়ে চুক্তিবদ্ধ হতে একমত রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র। পদ্মায় নৌকাডুবি: নিখোঁজ ১৫, দুই লাশ উদ্ধার ।

চলে গেলেন চলচ্চিত্রের নবাব সিরাজউদ্দৌলা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বাঙালি চলচ্চিত্র দর্শকের কাছে তিনিই ছিলেন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা। বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন অধিপতি নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার বীরত্ব, অসহায়ত্ব এবং দেশীয় চক্রান্তকারীরাও ইংরেজদের কাছে বাংলার পতনের ট্র্যাজিক হিরো হিসাবে সবসময় তাকেই কল্পনা করেছে কয়েক প্রজন্ম। চলচ্চিত্রের ইতিহাসে একটি চরিত্রে অভিনয় করে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বেঁচে থাকার তুলনা আর বোধহয় মিলবে না। বাংলা চলচ্চিত্রের সেই নবাব প্রতিভাধর অভিনেতা আনোয়ার হোসেন চিরবিদায় নিলেন। গত বৃহস্পতিবার গভীররাতে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন তিনি (ইন্নালিল্লাহি ওয়া... রাজেউন)।

শিল্পী আনোয়ার হোসেনের জীবনাবসান ঘটলেও তার সেই অমর চরিত্র নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা হিসাবে বিরাজ করবেন তিনি মানুষের হূদয়ে। তাঁর বয়স হয়েছিলো ৮২ বছর। স্ত্রী নাসিমা আনোয়ার, চার ছেলে এবং এক মেয়ে জিন্নাত কামারসহ বহু ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষি ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। স্ত্রী ও মেয়ে মৃত্যুশয্যার পাশে থাকলেও ছেলেরা দেশের বাইরে থাকায় উপস্থিত থাকতে পারেননি। বড় ছেলে বাবু সুইডেনে এবং তিন ছেলে ইরান, উপল ও ফিরোজ থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে।

শুক্রবার সকাল আটটার দিকে আনোয়ার হোসেনের মরদেহ শেষবারের মতো তার কলাবাগানের ক্রিসেন্ট রোডের বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আত্মীয়-স্বজন ও শুভানুধ্যয়ীরা তাকে শেষ বিদায় জানান। সেখান থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। সেখানে বাদ জুমা তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বেলা তিনটায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয় প্রিয় কর্মস্থল এফডিসি প্রাঙ্গণে। সেখানে সর্বস্তরের শিল্পী-কলাকুশলীর শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনশেষে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে মায়ের কবরে তাকে দাফন করা হয়।

দীর্ঘ পাঁচ দশক নানা চরিত্রে পর্দায় হাজির হয়ে চলচ্চিত্র দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছিলেন আনোয়ার হোসেন। মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে সংগ্রামী ছাত্রনেতা, ভাষা আন্দোলনের উদ্দীপ্ত যুবক, দুঃখি পিতা- এমন বহু বর্ণময় চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের হূদয়ে স্থায়ী আসন গেড়েছিলেন। তার অমর চরিত্র 'নবাব সিরাজউদ্দৌলা'। এ চরিত্রে অভিনয় করেই তিনি অর্জন করেছিলেন 'বাংলা চলচ্চিত্রের নবাব' খেতাব। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। স্ত্রী নাসিমা আনোয়ার বলেন, তিন সপ্তাহ ধরে তিনি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে তাঁর অবস্থার অবনতি ঘটে। রাত আড়াইটায় কর্তব্যরত চিকিত্সকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আফসোসের সুরে তিনি বলেন, তাকে দু-চার দিনের মধ্যে সিঙ্গাপুর অথবা ব্যাংককের কোন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে দশ লাখ টাকা অনুদান দিয়ে সবধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। কিন্তু আমরা চিকিত্সা করার সেই সুযোগটা পেলাম না। তাঁর চিকিত্সক ডা. মীর্জা নাজিমউদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস, নিউমোনিয়া, উচ্চ রক্তচাপসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। এছাড়া তিনি পারকিনসন্স রোগে ভুগছিলেন। কয়েক বছর ধরেই শয্যাশায়ী হয়েছিলেন। অসুস্থ হওয়ার প্রথমদিকে কথা বলতে পারলেও পাঁচ-ছয় মাস ধরে বাকশক্তিও হারিয়ে ফেলেছিলেন।

শোকাকুল শিল্পীরা

সকাল নয়টার পর থেকেই আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, ভক্ত-অনুরাগী এবং চলচ্চিত্র জীবনের সঙ্গীরা আনোয়ার হোসেনের বাসায় ছুটে আসেন। তার পরিবারকে সমবেদনা জানাতে আসেন এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, চলচ্চিত্রভিনেতা উজ্জ্বল, আহমেদ শরীফ ও সুব্রত এবং চিত্র পরিচালক শহীদুল ইসলাম খোকন, সোহানুর রহমান সোহান ও শাহ আলম কিরন। পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাংলা চলচ্চিত্রের অভিনয়রীতিতে আনোয়ার হোসেন একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিলেন। বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয়ে তিনি যে শিখর স্পর্শ করেছিলেন সেটি নতুনদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। মানুষ হিসেবেও ছিলেন অসাধারণ। সহ-অভিনেতার প্রতি সবসময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন। আমি মনে করি, তিনি সেই মণীষীদের একজন যিনি বিশ্বাস করতেন ভালো শিল্পী হতে হলে ভালো মানুষ হতে হবে। নিজে এ দর্শন অক্ষরে অক্ষরে পালন করতেন। গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলেন, তিনি ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রশিল্পের এক বিশাল শক্তি। আগামী প্রজন্মকেও আলোর পথ দেখিয়ে যাবে তাঁর কর্ম। নবাব সিরাজউদৌল্লাহ চরিত্রে অভিনয়ের পর থেকেই তিনি চলচ্চিত্র আঙ্গিনার 'নবাব' হিসেবে পরিচিত হয়েছিলেন। তার মতো এমন অভিনেতা আর হবে না। আহমেদ শরীফ বলেন, 'অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী' চলচ্চিত্রে প্রথম তাঁর সাথে কাজ করি। সেই থেকেই তিনি আমার ওস্তাদ হয়ে আছেন। তার কাছ থেকে বহু শিখেছি, হয়তো আরো শিখতে পারতাম।

এফডিসিতে শেষ শ্রদ্ধা

এফডিসিতে আনোয়ার হোসেনকে শেষবারের মত শ্রদ্ধা জানাতে ছুটে এসেছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, রাজ্জাক, আলমগীর, প্রবীর মিত্র, এটিএম শামসুজ্জামান, উজ্জ্বল, আমজাদ হোসেন, সালাউদ্দিন জাকী, কাজী হায়াত, মোহম্মদ হান্নান, মিশা সওদাগর প্রমুখ। শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করে প্রযোজক-পরিবেশক সমিতি, সহ-ব্যবস্থাপক সমিতি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতিসহ চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠন। এফডিসিতে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ষাটের দশকে তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয়। বাস্তবে নয়, পর্দায়। তাঁর মতো গুণী ব্যক্তিত্বের সান্নিধ্যে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব ছিলো না।

তিনি কোলকাতা, বোম্বে (বর্তমান মুম্বাই) ও লাহোরের চলচ্চিত্রের সাথে পাল্লা দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তিনি অভিনয় দিয়ে নিজেকে অনেক উঁচু জায়গায় নিয়ে গিয়েছেন।

রাজ্জাক বলেন, আনোয়ার হোসেন আমার কাছে বড়ভাই ছিলেন। তিনি যে কোন চলচ্চিত্রে, যে কোন চরিত্রে কিংবদন্তী অভিনেতা ছিলেন। তিনি ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের অধিনায়ক যোদ্ধা আর আমরা এক একজন সিপাহী। প্রবীর মিত্র বলেন, আনোয়ার হোসেন আমার গুরু ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। তার প্রয়াণে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন ঘটলো। তাঁর স্থান কখনো পূরণ হবে কি-না জানি না। কারণ তাঁর সমতুল্য কোন অভিনেতা এখন নেই।

চাষী নজরুল ইসলাম বলেন, যে সম্মান তাঁর পাওয়ার ছিলো, তা তিনি পাননি। অভিনয়ের ক্ষেত্রে তার বাচনভঙ্গী, উচ্চারণ সব মিলিয়ে তিনি চলচ্চিত্রের 'নবাব' ছিলেন। আমি তাঁকে এই উপমহাদেশের অন্যতম সেরা অভিনেতা মনে করি। নতুনদের আমি বলি, অভিনয় শিখতে হলে আনোয়ার হোসেনকে অনুসরণ করতে হবে।

সংক্ষিপ্ত জীবনী

কিংবদন্তী অভিনেতা আনোয়ার হোসেন ১৯৩১ সালের ৬ নভেম্বর জামালপুরের সরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি জামালপুরের সাব-রেজিস্ট্রার নাজির হোসেন ও সাঈদা খাতুনের তৃতীয় সন্তান। শৈশব, কৈশোর আর যৌবনে বেশ কয়েক বছর কেটেছে জামালপুরে। ১৯৫০ সালে জামালপুর সরকারি বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং আনন্দমোহন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। আনন্দমোহন কলেজে ভর্তি হওয়ার পরই তিনি জড়িয়ে পড়েন মঞ্চ নাটকের সঙ্গে। রাতভর মঞ্চে তিনি নায়কের চরিত্রে অভিনয় করতেন। ময়মনসিংহ ছেড়ে একসময় ঢাকায় চলে এলেন। ঢাকা বেতারের নাটকে প্রথম অভিনয় শুরু ১৯৫৭ সালে। নাটকটি ছিল 'নওফেল ও হাতেম'।

আনোয়ার হোসেন অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র মহিউদ্দিন পরিচালিত 'তোমার আমার'। ১৯৫৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এ ছবিতে তিনি খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। আলমগীর কবিরের 'সূর্যস্নান' তার দ্বিতীয় চলচ্চিত্র। এটি মুক্তি পায় ১৯৬২ সালে। এরপর একে একে অভিনয় করেন-'জোয়ার এলো' (১৯৬২), 'কাঁচের দেয়াল' (১৯৬৩), 'নাচঘর' (১৯৬৩), 'দুই দিগন্ত' (১৯৬৬), 'বন্ধন' (১৯৬৪), 'একালের রূপকথা' (১৯৬৫) প্রভৃতি চলচ্চিত্রে। আরেক কিংবদন্তী সুমিতা দেবীর সাথে তাঁর অভিনীত 'দুই দিগন্তে' চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ঢাকার বলাকা প্রেক্ষাগৃহের উদ্বোধন হয়েছিল। ১৯৬৬ সালে তিনি অভিনয় করেন নিজের প্রথম উর্দু চলচ্চিত্র 'উজালা'য়। ১৯৬৭ সালে বাংলা ও উর্দু ভাষায় নির্মিত 'নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা' চলচ্চিত্রে নাম ভূমিকায় অভিনয় করার পরে তরুণ বয়সেই তিনি কিংবদন্তীতে পরিণত হন। চরিত্রের সঙ্গে একাত্ম হতে পেরেছিলেন বলেই সারা বাংলাদেশের মানুষ তাকে 'নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা' বলে ডাকতে শুরু করে। এছাড়াও তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে-'অপরাজেয়', 'পরশমণি', 'শহীদ তিতুমীর', 'ঈশা খাঁ', 'অরুন বরুন কিরণমালা', 'জাহা বাজে শেহ নাই', 'তুম মেরে হোতে', 'গৌরী', 'এতটুকু আশা', 'পালঙ্ক', 'লাঠিয়াল' ইত্যাদি। নায়ক হিসেবে তার শেষ চলচ্চিত্র ছিলো 'সূর্য সংগ্রাম'। এরপর থেকেই তিনি চরিত্রাভিনেতা হিসেবে কাজ করতে শুরু করেন।

১৯৭৫ সালে 'লাঠিয়াল' চলচ্চিত্রের জন্য তিনি প্রথমবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। ১৯৭৮ সালে 'গোলাপী এখন ট্রেনে' চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য সহ-অভিনেতা হিসেবে জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৬৭ সালে 'নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা'য় অভিনয় করে নিগার পুরস্কার পেয়েছিলেন। অভিনেতাদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯৮৮ সালে একুশে পদক পান। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠন কর্তৃক পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা। এর মধ্যে রয়েছে বাচসাস পুরস্কার, চ্যানেল আই-চলচ্চিত্র মেলা সম্মাননা পদক ইত্যাদি। ২০১০ সালে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার আজীবন সম্মাননা লাভ করেন।

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেত্রীর শোক

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, আনোয়ার হোসেন ছিলেন বহুমুখী চরিত্রের অভিনেতা। তিনি বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পে মুকুটহীন সম্রাট হিসাবে খ্যাত ছিলেন। এই কিংবদন্তি অভিনেতা ও দেশপ্রেমিক সংস্কৃতি কর্মীর মৃত্যুতে দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের অপূরণীয় ক্ষতি হলো। রাষ্ট্রপতি তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আনোয়ার হোসেন বাংলা চলচ্চিত্রের 'মুকুটহীন সম্রাট' হিসেবে খ্যাত ছিলেন। তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভাধর ও বাংলা চলচ্চিত্রের অপ্রতিদ্বন্দ্বী অভিনেতা। আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুতে দেশ একজন অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেতা, সংস্কৃতি কর্মী ও দেশপ্রেমিককে হারালো।

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বলেন, আনোয়ার হোসেনের অসাধারণ অভিনয় দেশের মানুষের মনে চিরজাগরুক ও অমর হয়ে থাকবে। তিনি সিরাজউদ্দৌলা চলচ্চিত্রে বাংলার নবাবের ভূমিকায় অসামান্য অভিনয়ের জন্য গণমানুষের আত্মজন হয়ে উঠেন।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুতে চলচ্চিত্র অঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা পূরণ হবার নয়।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, তার মত নিবেদিত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এ যুগে বিরল। এছাড়াও শোক বাণী দিয়েছেন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দসহ বিশিষ্টজনরা। একই সাথে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন শোক প্রকাশ করেছে।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, এই অভিনেতা তার অভিনয়ের মধ্য দিয়ে এদেশের সর্বশ্রেণির মানুষের মনে চিরকাল বেঁচে থাকবেন।

জাতীয় পার্টি-জেপি'র চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, নবাব সিরাজউদ্দৌলা খ্যাত এই অভিনেতার মৃত্যুতে দেশের চলচ্চিত্র জগতের যে ক্ষতি হলো তা পূরণ হবার নয়। বিবৃতিতে জেপি নেতৃদ্বয় মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। জেপি'র অতিরিক্ত মহাসচিব সাদেক সিদ্দিকী এক বিবৃতিতে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

এছাড়া বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের ২৫ জন সংস্কৃতিক কর্মী, জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ, বাংলাদেশ নারী মুক্তি আন্দোলন, দক্ষিণ বাংলা যুব কল্যাণ সমিতি, বিশ্ব কবিতা কণ্ঠ পরিষদ, অভিভাবক ঐক্য ফোরাম, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, বাংলাদেশ টেলিভিশন শিল্পী সমন্বয় পরিষদ পৃথক পৃথক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

জামালপুরে শোকের ছায়া

জামালপুর সংবাদদাতা জানান, আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুতে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার সরুলিয়া গ্রামসহ সমগ্র জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া। কিংবদন্তি এই চলচ্চিত্র শিল্পীর প্রয়াণে জেলার বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ বেদনাবিধূর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। চলচ্চিত্রের বিকাশে আনোয়ার হোসেনের অবদান কোনদিন ম্লান হবে না বলে জানান। শুক্রবার বাদ জুমা তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানতে কথা হয় জামালপুরের কবি সায্যাদ আনছারী, আলী জহির, আহাম্মদ আজিজের সাথে। তারা বলেন, আনোয়ার হোসেন ছিলেন দেহমনে পরিপূর্ণ অভিনয়শিল্পী। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন উদার মানুষ। আমৃত্যু তিনি অসহায় দরিদ্র আত্মীয়-স্বজনকে নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করে গেছেন। ষাটের দশকে তিনি রবীন্দ্রনাথের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে জামালপুর দুর্গাবাড়ী নাট্যমঞ্চে রবীন্দ্রনাথের নাটক মঞ্চায়ন ও অভিনয় করে সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ বলেছেন, 'এটা নির্বাচন নয়; এটা মৌলবাদের বিরুদ্ধে এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে চেতনার যুদ্ধ।' আপনি কি তার সাথে একমত?
8 + 4 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১৬
ফজর৫:১২
যোহর১১:৫৪
আসর৩:৩৯
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩৫
সূর্যোদয় - ৬:৩৩সূর্যাস্ত - ০৫:১২
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :