The Daily Ittefaq
ঢাকা, শুক্রবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ০৫ আশ্বিন ১৪২০, ১৩ জিলক্বদ ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ খালেদার নীরবতা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি: তথ্যমন্ত্রী | বুড়িগঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জন দিতে গিয়ে ২ শিক্ষার্থীর মৃত্যু | সাতক্ষীরা শহরে সন্ধ্যায় ডাকাতি | আমরা ক্ষমতায় এলে দেশ পুরস্কার পায়, বিএনপি এলে তিরস্কার:প্রধানমন্ত্রী | যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল এখন রাজনীতিতে উভয় সংকট:দ্য ইকোনমিস্ট | যুদ্ধ করার শক্তি বিএনপির নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী | লিফট ছিঁড়ে নিচে পড়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু

শুধু প্রবৃদ্ধি মানব উন্নয়নের মাপকাঠি নয়

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার ও নাবিলা জামান

১৯৯০ সালে স্বনামধন্য অর্থনীতিবিদ মাহবুব উল হকের হাত ধরে 'কনসেপ্ট এ্যান্ড মেজারম্যান্ট অফ হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট' নামে প্রথম মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। মানব উন্নয়ন সম্পর্কিত ইস্যু, ধারা ও নীতি সম্পর্কে স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ গবেষণামূলক এবং বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনটি তখন থেকে ইউএনডিপি প্রতি বছর নিয়মিত প্রকাশ করে আসছে।

এ বছর 'দক্ষিণের উত্থান : বৈচিত্র্যময় বিশ্বে মানব অগ্রগতি (The Rise of the South: Human Progress in a Diverse World)' শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো দক্ষিণের উত্থান, এর পেছনের বাস্তবতা, গৃহীত নীতি ও ব্যবস্থাসমূহ এবং বৈশ্বিক পরিচালনা ব্যবস্থায় এর প্রভাব। মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০১৩ অনুযায়ী ৪০টির অধিক উন্নয়নশীল দেশ রয়েছে যারা সামপ্রতিক সময়ে প্রত্যাশার অধিক মানব উন্নয়ন ঘটিয়েছে এবং সেই উন্নয়নের ধারাকে দশ বছরের অধিক সময় ধরে অব্যাহত রাখতে পেরেছে। চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা, তুরস্ক, বাংলাদেশ, চিলি, ঘানা, মরিশাস, রুয়ান্ডা, থাইল্যান্ড ও তিউনিসিয়ার নাম এক্ষেত্রে প্রণিধানযোগ্য।

দক্ষিণের তিন দেশের (চীন, ভারত ও ব্রাজিল) সমন্বিত উত্পাদন উত্তরের প্রতিষ্ঠিত ছয় অর্থনৈতিক শক্তিসমূহের (কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাজ্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) মোট জিডিপির প্রায় সমান হতে যাচ্ছে। প্রতিবেদনের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী এই ধারা ক্রম বর্ধিষ্ণু ও দক্ষিণমুখী হবে। উদীয়মান অর্থনীতি ও মানব উন্নয়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য দক্ষিণের প্রতিটি দেশের রয়েছে নিজস্ব সত্তা, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও উন্নয়ন পথ। একদিকে তারা দক্ষিণমুখী পারস্পরিক সহযোগিতা ও রাষ্ট্রকেন্দ্রিক ব্যবস্থাপনামূলক বিধিবিধান প্রতিষ্ঠা করেছে; অন্যদিকে ওয়াশিংটন মতৈক্যের চরম উদারীকরণ ডকট্রাইন থেকে সরে এসেছে। যদিও দক্ষিণের অনেক দেশের উত্থান গতি বেশ ধীর, তবুও তারা দক্ষিণ-দক্ষিণ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থায়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তর থেকে ক্রম উপকৃত হচ্ছে।

তাছাড়া দক্ষিণের দেশগুলো অনেক ক্ষেত্রে অভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। ফলে তারা ক্রমশ একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত হচ্ছে। অধিকন্তু, তারা সামষ্টিক দাবি তুলছে যে বৈশ্বিক পরিচালনা ব্যবস্থায় তাদের কথা আরও বেশি করে শোনা হোক। তারা শাসন ব্যবস্থায় আরো স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সমূহের পরিচালনায় আরো অংশীদারিত্ব ও জবাবদিহিতার দাবি তুলছে।

২০১৩ সালের মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন ও ইউএনডিপির তথ্য অনুযায়ী ২০১২ সালে বাংলাদেশের মানব উন্নয়ন সূচক মূল্য ০.৫১৫ এবং এতে দেশটি বরাবরের মত নিম্ন মানব উন্নয়ন গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে পূর্ববর্তী সকল বছর থেকে এবারের অবস্থা ভাল। ২০১১ সালের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪৭তম। ২০১৩ সালের প্রতিবেদন অর্থাত্ ২০১২-র সূচক তালিকায় দেশটির অবস্থান ১৪৬তম। ১৯৮০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি পেয়েছে ১৪ বছর, গড় শিক্ষা সময়কাল বৃদ্ধি পেয়েছে ২.৮ বছর, প্রত্যাশিত শিক্ষা সময়কাল বৃদ্ধি পেয়েছে ৩.৭ বছর এবং মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় (GNI) বৃদ্ধি পেয়েছে ১৭৫%।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের সূচক মূল্য (০.৫১৫) নিম্ন মানব উন্নয়ন গ্রুপভুক্ত দেশের গড় মানব উন্নয়ন সূচক মূল্য (০.৪৬৬) থেকে বেশি; কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার একইরূপ গড় (০.৫৫৮) থেকে কিছুটা কম (সূত্র: মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০১৩ ও ইউএনডিপি)। তবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত-বাংলাদেশ-পাকিস্তানের গত কয়েক দশকের মানব উন্নয়ন সূচক মূল্যের তুলনা করলে দেখা যায় বাংলাদেশের সূচক মূল্য অব্যাহতভাবে বর্ধিষ্ণু এবং ভারতের সূচক মূল্যও প্রায় ধারাবাহিকভাবে বর্ধিষ্ণু; কিন্তু পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এটা দেখা যায় না। তা সত্ত্বেও ২০১২-র সূচকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একই অবস্থানে- ১৮৭টি দেশের মধ্যে যৌথভাবে ১৪৬তম হয়েছে।

জাতিসংঘ উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনডিপি)-র এডমিনিস্ট্রেটর হেলেন ক্লার্ক ২০১৩ সালের মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এর মুখবন্ধে উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী বছরের প্রতিবেদনগুলোর মত এ বছরের মানব উন্নয়ন প্রতিবেদনের একটি অত্যাবশ্যকীয় বার্তা হলো যে, কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মানব উন্নয়নের অগ্রগতি নিশ্চিত করে না। দরিদ্র বান্ধব নীতি ও জনগণের সক্ষমতা, বিশেষ করে শিক্ষা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানযোগ্য দক্ষতা সৃষ্টিতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাপকভিত্তিক শোভন কর্মসংস্থান ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা যাবে।

অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের মতে, যার জুতো শুধু সেই হয়ত বুঝবে কোথায় খোঁচাটা লাগে। সেই জুতো সারাবার ব্যবস্থা করতে হলে আগে জুতোওয়ালাকে অভিযোগ করার সুযোগতো দিতে হবে। মানুষকে বলার অধিকার না দিয়ে সেই জুতোর খোঁচা ঠিক করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন মত প্রকাশের সুযোগ। তিনি মনে করেন, জনগণের সাথে নিরন্তর যোগাযোগ আর তাদের মতামতের ভিত্তিতে নীতিনির্ধারণের প্রয়াস থাকলেই কেবল তাদের জীবনমানের গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলো সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।

লেখকদ্বয় :গবেষক, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ঢাকা

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
পরোয়ানা ছাড়াই পুলিশকে গ্রেফতারের ক্ষমতা প্রদান করে এবং সর্বোচ্চ ১৪ বছর কারাদণ্ডের বিধান রেখে তথ্য ও প্রযুক্তি বিল সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। আপনি কি মনে করেন এই আইন পাস হওয়া উচিত?
6 + 4 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জানুয়ারী - ২০
ফজর৫:২৩
যোহর১২:১০
আসর৪:০১
মাগরিব৫:৪০
এশা৬:৫৬
সূর্যোদয় - ৬:৪২সূর্যাস্ত - ০৫:৩৫
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: ittefaq.adsection@yahoo.com, সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: ittefaqpressrelease@gmail.com
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :