The Daily Ittefaq
ঢাকা, রবিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৩, ২৮ আশ্বিন ১৪২০, ০৭ জেলহজ্জ, ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ ড্র হল বাংলাদেশ- নিউজিল্যান্ড প্রথম টেস্ট ম্যাচ | আগামীকাল পবিত্র হজ্ব | আন্দোলন দমাতে 'টর্চার স্কোয়াড' গঠন করছে সরকার: বিএনপি | ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন দুই নেত্রী | ২৫৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করছে বাংলাদেশ | হ্যাটট্রিক করলেন সোহাগ গাজী | যুক্তরাজ্যকে ইরানের সাথে নতুন করে সম্পর্ক না করার আহ্বান ইসরাইলের | ঘূর্ণিঝড় পাইলিনে নিহত ৭

দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রচর্চা

সমপ্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বলা হইয়াছে যে, দেশের প্রধান দুইটি দলে গণতন্ত্রের চর্চা নাই। দুই দলের নেত্রীই দলের নামে পরিবারতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করিয়াছেন। এইসব কথা যাহারা বলিয়াছেন তাহারা সকলেই সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি। উভয় দলের প্রতি নিজেদের অনাস্থার কথাও গোপন করেন নাই তাহারা। সেই সাথে এই মর্মে সংশয় ব্যক্ত করিয়াছেন যে, গণতন্ত্রের প্রতি দুই নেত্রীর আস্থা থাকিলে তাহারা পরিবারতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হইতেন না; রুদ্ধ করিতেন না দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র চর্চার পথ। লক্ষণীয় যে, যেই দুইটি দলের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উত্থাপিত হইয়াছে তন্মধ্যে একটি গত অর্ধশতকেরও বেশি সময় ধরিয়া রাজনীতির মাঠে শুধু যে দাপটের সাথে টিকিয়া আছে তাহাই নহে, ব্যাপক জনসমর্থনপুষ্ট হইয়া একাধিকবার ক্ষমতায়ও গিয়াছে। অন্য দলটি তুলনামূলকভাবে বয়সে নবীন হইলেও ইতিমধ্যে কমপক্ষে দুইবার জনগণ তাহাদেরকে ক্ষমতার মসনদে আসীন করিয়াছে। পাশাপাশি, ভুলিয়া গেলে চলিবে না যে, বিরোধী দলে থাকা অবস্থায়ও দল দুইটির প্রাপ্ত ভোটের পরিমাণ গড়ে প্রায় ৩০ শতাংশ— যাহা নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী অন্য সকল দলের প্রাপ্ত মোট ভোটের চাইতেও কয়েক গুণ বেশি। সর্বশেষ ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চিত্রও ভিন্ন নহে। সঙ্গত কারণেই ব্যাপক জনসমর্থনপুষ্ট দুইটি দল এবং দুই নেত্রীর বিরুদ্ধে এই ধরনের ঢালাও অভিযোগ উত্থাপনের আগে দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রচর্চা বলিতে তাহারা কী বোঝেন বা কী বুঝাইতে চাহিতেছেন তাহা স্পষ্ট করা জরুরি ছিল। কিন্তু অন্যের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা লইয়া সোচ্চার ব্যক্তিবর্গ যথারীতি নিজেদের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার বিষয়টি বিস্মৃত হইয়াছেন।

রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের প্রতি মহলবিশেষের এই আক্রমণাত্মক ও ক্ষেত্রবিশেষে বিদ্বেষপূর্ণ মানসিকতা যে নূতন নহে তাহাও বলার অপেক্ষা রাখে না। আর প্রায়শ তাহার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হইতেছে বড় দুইটি রাজনৈতিক দল এবং শীর্ষ দুই নেত্রী। বিগত সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ঠিক প্রাক্কালে তাহা কোন্ পর্যায়ে পৌঁছিয়াছিল তাহাও দেশবাসীর অজানা নহে। 'রাজতন্ত্র' ও 'জমিদারতন্ত্র' হইতে শুরু করিয়া সব ধরনের নেতিবাচক অভিধাই প্রয়োগ করা হইয়াছিল তাহাদের বিরুদ্ধে। উদ্বেগের বিষয় হইল, সেই প্রবণতাই যেন আবার মাথাচাড়া দিতে শুরু করিয়াছে। সমালোচনা দোষের যেমন নহে, তেমনি কেহ সমালোচনার ঊর্ধ্বেও নহে। বরং গণতান্ত্রিক সমাজের স্বাভাবিক বিকাশের জন্য সমালোচনা স্বাস্থ্যকর এবং অপরিহার্যও বটে। কিন্তু সেই সমালোচনা হইতে হইবে গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রচর্চা না থাকার যেই অভিযোগ উত্থাপিত হইয়াছে উপযুক্ত উদাহরণ ও যুক্তিসহকারে তাহা তুলিয়া ধরা হইলে দলগুলি যেমন উপকৃত হইত, তেমনি আমাদেরও কিছু বলার থাকিত না। অবশ্য সেইটি যে মূল উদ্দেশ্য নহে, বরং তাহাদের আসল লক্ষ্য যে দুই নেত্রী তাহাও তাহারা গোপন করেন নাই। দুই নেত্রী দীর্ঘদিন ধরিয়া স্ব স্ব দলের শীর্ষপদে আসীন আছেন ইহা সত্য। কিন্তু সেই জন্য ইহা বলা যাইবে না যে, দল দুইটিতে গণতন্ত্রের চর্চা নাই। অন্যসব দেশে যেইভাবে দলের নেতা নির্বাচিত হইয়া থাকে তাহারাও সেইভাবেই নির্বাচিত হইয়া আসিতেছেন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী উভয় দলের তৃণমূল পর্যন্ত কমিটি আছে। সকল পর্যায়েই কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত হয়। একইভাবে অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় কাউন্সিল। বাস্তবতা হইল, সারা দেশের কাউন্সিলরদের অকুণ্ঠ সমর্থন আছে বলিয়াই দুই নেত্রী আজও দল দুইটির শীর্ষপদে আসীন আছেন।

অপ্রিয় হইলেও সত্য যে, সুযোগ পাইলেই যাহারা কারণে-অকারণে দুই নেত্রীর সমালোচনায় মুখর হইয়া ওঠেন তাহাদের বক্তব্যে ব্যক্তিগত হতাশাজনিত ক্ষোভ ও বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ যতোটা প্রবল, যুক্তি ততোটা নয়। তাহার কারণটিও বোধগম্য। তবে হতাশার বিষবাষ্প ছড়াইয়া বিদ্যমান সংকট হইতে যে পরিত্রাণ মিলিবে না, বরং তাহা গণতন্ত্রের পথকে আরও সংকটাপন্ন করিয়া তুলিবে তাহাতে সন্দেহের অবকাশ নাই বলিলেই চলে।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন- '২৫ অক্টোবরের পর ঢাকায় বিএনপিকে খুঁজে পাওয়া যাবে না।' আপনি কি তাই মনে করেন?
5 + 6 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
অক্টোবর - ১৫
ফজর৪:৪০
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৫৫
মাগরিব৫:৩৬
এশা৬:৪৮
সূর্যোদয় - ৫:৫৬সূর্যাস্ত - ০৫:৩১
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :