The Daily Ittefaq
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৩, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২০, ০৮ সফর ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এরশাদ বারিধারার বাসা থেকে আটক | রবিবার দেশব্যাপী জামায়াত এর সকাল-সন্ধ্যা হরতাল | গণভবনে রওশন এরশাদ | কাদের মোল্লার ফাঁসি রাত ১০টা ১ মিনিটে কার্যকর সম্পন্ন | লক্ষ্মীপুরে সংঘর্ষে নিহত ৫, গুলিবিদ্ধ ৫০

আর কত মৃত্যুর পর এ দেশ স্বাধীন হবে?

হা. সাব্বির হোসেন

এইতো দু'দিন আগে আমার এক সংখ্যালঘু বন্ধু আমার কাছে জানতে চেয়েছিল, কি করে ঢাকা থেকে মুক্তাঞ্চলের দিকে যাওয়া যায়? তার প্রশ্নটা জেনে আমার বেশ আনন্দ হচ্ছিল, বোঝ এবার ঠ্যালা। বন্ধুর শঙ্কায়ও যে আনন্দ আছে তা বাঙালি ছাড়া আর কোন জাতি অনুভব করে কিনা আমার জানা নেই। তবে বাঙালি জাতির এই অনুভব স্বভাব জাত তা আমার ভালভাবেই জানা, এ নিয়ে আমি কোন তর্কের ধার ধারি না। যে জ্ঞান নিজের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা লব্ধ, তা নিয়ে কোন বিশেষজ্ঞের অযথা প্রলাপ কানে না তোলাই শ্রেয়। এ নিয়ে বিশেষ মাথা না ঘামিয়ে আমার সংখ্যালঘু বন্ধুর প্রশ্নের উত্তরেই মনোনিবেশ করি। প্রথমে কিছুটা আনন্দ বোধ করলেও তাকে দেবার মত উত্তর চিন্তা করে নিজেও খানিকটা চিন্তিত হলাম বটে। কেননা যাত্রা পথের বাঁকে বাঁকে যে মৃত্যু ফাঁদ এঁটে আছে তাতে আমার বন্ধুটির প্রাণ সংশয়ও রয়েছে। বন্ধুর মনের সংশয়ে যে আনন্দ পাওয়া যায় তা পুরোপুরি মিলিয়ে যায় যদি সেখানে বন্ধুর প্রাণ সংশয় থাকে।

মূল যাত্রা শুরু করতে হবে সকালের বিবিসি সংবাদের পর। যদি সংবাদে ভরসা পাওয়া যায়, তবে রিক্সা করে প্রথমে যেতে হবে সায়েদাবাদ। সারা রাস্তায় চোখ কান খোলা রাখতে হবে, আর থাকতে হবে তাত্ক্ষণিক দৌড়ের প্রস্তুতি। সায়েদাবাদ এসে রিক্সা থেকে নেমে হেঁটে হেঁটে যেতে হবে যাত্রাবাড়ী। সেখানে প্রথমে দেখতে হবে আগে কোন সহিংসতা ঘটেছে কিনা, যদি সহিংসতা ঘটে থাকে তবে হিউম্যান হলার বা লোকাল বাস যদি পাওয়া যায় তাতে করে বুড়িগঙ্গা পার হওয়া যেতে পারে। অন্যথায় হেঁটেই বুড়িগঙ্গা পার হওয়া শ্রেয়। তবে এই যাত্রাপথে বাসে চড়াটা যে কোনো সময় বিপদের সামনে দাঁড় করাতে পারে, তাই বদল করে অটোরিক্সা ব্যবহারই উত্তম। তবে একটাই আশার বিষয় এই যাত্রায় সহযাত্রী হিসেবে পাওয়া যাবে অনেক শংকিত মানুষকে। এই সংকটের সময় সংকটাপন্ন মানুষই একজন আরেকজনের সহায় হয়।

মুন্সিগঞ্জ পার হবার সময় একটু অতিরিক্ত সতর্কতা পালন বাঞ্ছনীয়। সব ঠিকঠাক থাকলে দুপুর ১২ টা নাগাদ পৌঁছে যাওয়া যাবে মাওয়া লঞ্চ ঘাটে। লঞ্চ না পাওয়া গেলেও কাওড়াকান্দি ঘাটে যাবার জন্য একটা ট্রলার নিশ্চয় পাওয়া যাবে। আগত্যা সবাই মিলে পড়িমরি করে এক ট্রলারে ঠাঁই, যা বিনা নাই অন্য কোন উপায়। মানুষের মনও এক বিচিত্র রহস্যের আধার। সব সময়, সব দেশে মানুষ নিজের জীবন বাঁচাতে বেছে নেয় এমন পথ তাতেও থাকে কিনা প্রাণ সংশয়েরসমূহ সম্ভাবনা। এর কারণ সম্ভবত মানুষের ঝুঁকি নেবার প্রবণতা, আর বাছাই করণ নীতি যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে 'প্রসেস অব এলিমিনেশন'। তবে আশার কথা হলো এখন নদী সাধারণত শান্তই থাকে। পদ্মাও অতটা নির্মম নয় যতটা আমরা হতে পারি।

পদ্মা পেরিয়ে কাওড়াকান্দি ঘাট শরীয়তপুর এলাকায় পড়েছে। শরীয়তপুরের পর ফরিদপুর না পেরুনো পর্যন্ত নিজেকে মোটেই বিপদমুক্ত বলা যায় না। ঘাট থেকে ৫ কিমি দূরে শিবচর বাজার, কে জানে সেখানে কি অপেক্ষা করে থাকবে এই মুক্তাঞ্চল যাত্রীদের। তাই পায়ে হেঁটে বা ভ্যান- রিক্সা করে সেখানে যাওয়া যেতে পারে। ভাগ্য ভাল হলে সেখান থেকে ডিজেল চালিত ভ্যান পাওয়া যেতে পারে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌঁছাবার জন্য। এর পর অপেক্ষার পালা, যদি কোন যানবাহন পাওয়া যায়- বাস ট্রাক যাই হয় হোক, গোপালগঞ্জ পর্যন্ত যেতে পারলেই কিছুটা স্বস্তি, খানিকটা মুক্তির স্বাদ। তারপর একটা বাধা থাকতে পারে শুধু ফকিরহাট পেরিয়ে নওয়াপাড়ার কাছে কিংবা খান জাহান আলীর মাজার এলাকায়, তবে ও পথ না মাড়িয়ে অন্য বিকল্প পথ ব্যবহার করাই উত্তম। তবুও যতই বন্ধুর হোক এই পথ, শেষে বুক ভরে নিশ্বাস নেবার জন্য পাওয়া যাবে মুক্ত বাতাস। জানি না কতদিন পর্যন্ত এই জায়গা মুক্তাঞ্চল থাকবে, পাওয়া যাবে মুক্ত বাতাসের স্বাদ।

বন্ধুকে এই যাত্রাপথের বিবরণ দিতে গিয়ে মনে হচ্ছে আমি ফিরে গেছি ১৯৭১ সালে, তবে বাস্তবতাটা ১৯৭১ থেকে কিছুটা ভিন্ন। ১২ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে দিকে দিকে মুক্তির উল্লাস শোনা যাচ্ছিল, কিন্তু আজ ১২ ডিসেম্বর ২০১৩ দিকে দিকে বন্দীদশার খবর শোনা যাচ্ছে, শোনা যাচ্ছে শিকল পরানোর শব্দ। ১৯৭১ এর সাথে আরও একটা দিকে কিন্তু খুব মিল দেখা যায়, তা হলো একই শোষকের হুঙ্কার। সেই হুঙ্কার আজ আমাদের মর্ম স্পর্শ করে জানান দিচ্ছে, 'ঘরে থাকবে তো বেঁচে থাকবে, বাইরে বের হবে তো মরবে'। মাঝে মাঝে খুব হাসি পায়, এ অবস্থায় মানুষকে মরতে ঘর থেকে বের হতে হবে কেন? এদেশের সাধারণ মানুষতো এমনিতেই মরবে, পার্থক্যটা এই যে কেউ না খেয়ে মরবে, কেউ মরবে বিবেকের দংশনে। লক্ষ্য মৃত্যুর মাধ্যমে জন্মেছিল যে দেশ, সে দেশের মানুষের মৃত্যুর ধারা এখন বন্ধ হয়নি। একটি প্রশ্ন করতে খুব ইচ্ছে করে, আর কত মৃত্যুর পর এ দেশ স্বাধীন হবে? কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার, প্রশ্নটি কার কাছে করব? এ দেশের কেউই তো মানুষের জীবনের দ্বায় নিতে চায় না। না সরকার, না বিরোধী দল, না কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। যারা প্রকৃত মুক্তির আদর্শে ১৯৭১ সালে স্বেচ্ছায় তাদের প্রাণ দিয়েছিলেন, আমি নিশ্চিত কোন ভাবে আজ তারা বেঁচে থাকলে ঘৃণায় আত্মহত্যা করতেন। তবু সব গ্লানি সহ্য করে আজ এ দেশের সবার কাছে একটি প্রশ্ন করছি, আর কত মৃত্যুর পর এ দেশ স্বাধীন হবে? দেশের দায়িত্ববান মহাশয়বৃন্দ! মনে করুন প্রশ্নটি আপনার কাছেই করা হয়েছে। আমার উত্তর চাই না, নিজের বিবেকের কাছে উত্তর দিন।

লেখক : পি এইচ ডি গবেষক

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
'সংকট নিরসনে সংলাপ চালিয়ে যেতে দুই দল সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারানকো।' আপনি কি মনে করেন এর মাধ্যমে সমঝোতা হবে?
3 + 8 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
অক্টোবর - ১৮
ফজর৪:৪১
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫২
মাগরিব৫:৩৪
এশা৬:৪৫
সূর্যোদয় - ৫:৫৭সূর্যাস্ত - ০৫:২৯
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: ittefaq.adsection@yahoo.com, সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: ittefaqpressrelease@gmail.com
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :