The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৩, ০২ পৌষ ১৪২০, ১২ সফর ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ সাতক্ষীরায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে নিহত ৫ | পেট্রোল বোমায় আহত অটোরিকশা চালকের মৃত্যু | আলোচনার মাধ্যমে সংবিধানের মধ্যে থেকে নির্বাচন : হানিফ | গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে জনগণের বিজয় হবে : ফখরুল | পরাজিত শক্তি জাতিকে বিভক্ত করতে তত্পর : তোফায়েল | আবার ৭২ ঘণ্টার অবরোধ | সিরিরায় বিমান হামলায় নিহত ২২ | চীনের জিনজিংয়াংয়ে সংঘর্ষে ২ পুলিশসহ নিহত ১৬

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান

স্বাধীনতার আলোকচ্ছটা!

সাজেদুল ইসলাম শুভ্র

কখনো ভেবেছি কি, স্বাধীনতা প্রকাশের ভাষা কেমন হতে পারে? এটা যেহেতু পার্থিব কিছু না, আক্ষরিকভাবে প্রকাশ সম্ভব নয়। বাংলাদেশ সরকার হঠাত্ অনুধাবন করল, আমাদের অনেক কষ্টে অর্জিত এই স্বাধীনতার স্মরণে নির্মিত হবে স্বাধীনতা স্তম্ভ। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসংলগ্ন এই জায়গাটাতে থাকবে এমন এক স্থাপত্য, যা আমাদের স্বাধীনতার উচ্ছ্বাসকে প্রকাশ করবে। আর সেই দিবাস্বপ্ন এখন আর কল্পনা নয়, রাতের আকাশ আলো করে ঠিকই আকাশ ছুঁয়েছে আমাদের স্বাধীনতা। এই আলোকবার্তাই জানান দেয়, আমরা চাইলেই পারি। আর পাঠকরা জেনে গর্বে বুক ফুলাবেন এই ভেবে, গ্লাসের তৈরি এমন বড় টাওয়ার বিশ্বে আর কোথাও নেই। স্থপতি মেরিনা তাবাশ্যুম এবং কাসেফ মাহবুব চৌধুরীর নকশায় নির্মিত এই টাওয়ার সন্ধ্যার পর পূর্ণ তেজে আলোকিত করে ফেলে আকাশ, দূর-দূরান্ত থেকে মেঘের আনাগোনাও ধরা পড়ে এই আলোতে! বাংলাদেশ সেটা সম্ভব করেছে, অনেক লোকের কটু কথার পরেও সম্মিলিত প্রয়াসে আমাদের দেশের স্থাপত্যের ইতিহাসে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। আর বিজয়ের বিয়াল্লিশ বছর পর আজকে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আমাদের এই গৌরবের প্রতীক।

আমাদের স্বাধীনতা এসেছে অনেক ত্যাগের বিনিময়ে। স্বাধীনতা মানেই আনন্দ, মুক্তির উল্লাস। আলোর স্তম্ভে তারই প্রতিফলন। কিন্তু লাখ লাখ নারী-পুরুষ-শিশু একাত্তরে আত্মদান করেছে। নারীরা লাঞ্ছিত হয়েছেন। সম্ভ্রম হারিয়েছেন। বছরের পর বছর আমাদের নেতৃত্ব ও জনগণ স্বাধীনতার নির্দিষ্ট লক্ষ্য সামনে রেখে এগিয়ে গেছেন। অনেককে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে। রাজপথের আন্দোলনে চলেছে গুলি, টিয়ার গ্যাস, লাঠিচার্জ। এ সবকিছুই নকশাতে ধারণ করতে চেয়েছিলেন স্থপতিরা। প্লাজার ওপরে টাওয়ার, সেটা আনন্দ-উল্লাসের প্রতীক। আর নিচে জাদুঘর। যদিও সেটা এখনো পুরো বাস্তবায়িত হয়নি, কাজ চলছে। কিসের বিনিময়ে আমাদের আকাশে-বাতাসে আনন্দ, সেটা অবশ্যই তুলে ধরা হবে জাদুঘরে। আবার জাদুঘর ও আলোকস্তম্ভ নির্মাণ করতে গিয়ে মনে রাখতে হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কথা। বাঙালির হাজার বছরের প্রত্যাশিত স্বাধীনতার ঘোষণা ধ্বনিত হয়েছিল তত্কালীন রেসকোর্স ময়দান থেকে। কাজেই জায়গাটার ঐতিহাসিক মূল্য আমাদের কাছে অনেক। এর বৈশিষ্ট্য যেন অটুট থাকে, সে বিষয়টার প্রতি অনেক জোর দেওয়া হয়।

সিঁড়ি বেয়ে উঠতেই এক পাশের দেয়াল পুরোটা জুড়ে টেরাকোটা ম্যুরাল। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের প্রায় সম্পূর্ণ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এর মধ্য দিয়ে। ম্যুরালের প্রথম অংশে দৃশ্যত হবে বাঙালির চিরচেনা সেই বাক্য 'ধনধান্য পুষ্পভরা আমাদের এই বসুন্ধরা'। এ যেন গ্রাম-বাংলার সেই চিরায়ত রূপ। পর্যায়ক্রমে এ ম্যুরালে স্থান পেয়েছে তেভাগা আন্দোলনের চিত্র। ১৯৪৮ সালের জিন্নাহর সেই ভাষণ, 'উর্দু এবং একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'। '৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ভাষা শহীদ রফিক, জব্বারের গুলিবিদ্ধ লাশ, '৫৬-র মাওলানা ভাসানীর কাগমারী সম্মেলন, বঙ্গবন্ধুর কারাবরণ, '৬৯-এর গনঅভ্যুত্থান, আইয়ুব খানের পতন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়। যার ফলে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ, ২৫ মার্চে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কালো থাবা, সেক্টর কমান্ডারদের প্রতিকৃতি, মুক্তিযুদ্ধ, এবং সর্বশেষ পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের চিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে স্বাধীনতা স্তম্ভের এ ম্যুরালের মধ্য দিয়ে। এ ম্যুরালের রূপকার পাঁচ বিখ্যাত শিল্পীরা হলেন—মোহাম্মদ ইউনুস, মুকুল মকসুউদ্দীন, শিশির ভট্টাচার্য, ইফতেখারউদ্দিন আহমেদ এবং শ্যামল চৌধুরী।

সবার আগে দৃষ্টি কাড়ে গ্লাস টাওয়ার। প্রায় ১৫০ ফুট উঁচু এই টাওয়ার শুরুতে ১৬ ফুট বাই ১৬ ফুট বাই ১০০ ফুট চিন্তা করা হয়েছিল। অনেকের মনে হয়েছিল, এ ধরনের কাচের স্তম্ভ নির্মাণ সম্ভব নয়। কিন্তু বিশ্বের আর কোথাও এ ধরনের টাওয়ার নির্মিত না হলেও এটা সম্ভব হয়েছে। বিশ্ববাসী আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট বার্তা পায় এখান থেকে। এ স্তম্ভে দিনে সূর্যের আলো প্রতিসরিত ও প্রতিফলিত হয় এবং রাতে বৈদ্যুতিক আলোকচ্ছটায় আলোকিত হয়। কৃত্রিম আলো জ্বালানো হলে দৃশ্য হয় সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটা তৈরিতে ব্যবহূত হয়েছে স্টিল ও গ্লাস। স্টিলের কিছু সামগ্রী জার্মানি থেকেও আনা হয়েছে। তবে কাচ এবং স্টিলের বেশিরভাগের জোগান এসেছে চীন থেকে। কাচের স্তম্ভ নির্মাণের জন্য বেজমেন্টে ৮৫ থেকে ৯০ ফুট গভীরতাবিশিষ্ট ২০টি পাইলিং করা হয়। স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণে নান্দনিকতার পাশাপাশি ভূমিকম্প, ঝড়-বৃষ্টির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভের সাথে এক গৌরবময় মাত্রা যুক্ত হয়েছে, যার নাম ভূগর্ভস্থ জাদুঘর। খুব শীঘ্রই এটা খুলে দেওয়া হবে দর্শনার্থীদের জন্য। প্লাজা চত্বরে টেরাকোটা ম্যুরালের নিচের অংশে এ জাদুঘরের অবস্থান। ওপর থেকে নিচের দিকে প্রসারিত হয়েছে জাদুঘরের প্রবেশ পথ। প্রবেশের সময় রঙিন কাচের ভেতর থেকে আসা হালকা সবুজ আলো দেখে মনে হবে যেন কোনো গহিন সুড়ঙ্গ পথে হারিয়ে যাচ্ছি। জাদুঘরে প্রবেশ করে যে হলঘর চোখে পড়বে তাতে মিলবে অসংখ্য ছবি। ছবি যেন আজ জীবন্ত হয়ে উঠেছে। '৬৬-র ছয়দফা আন্দোলন, '৬৯-এর গণ-আন্দোলনের সকল বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করা যাবে এ অংশে নজড় দিলে। পর্যায়ক্রমিক যুক্ত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ। 'স্বাধীনতা এই শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো' নির্মলেন্দু গুণের সেই বিখ্যাত কবিতা সেঁটে দেওয়া হয়েছে দেয়ালের এ অংশে। এর পাশে স্থান পেয়েছে কিছু ঐতিহাসিক দলিলসহ বঙ্গবন্ধুর স্বাক্ষর করা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। তার কাছেই চোখে পড়বে গ্রানাইটে নির্মিত ব্ল্যাক জোনের দেয়ালে ছোট ছোট ৭৭টি ছবি।

একটু একটু করে পাল্টে যাচ্ছে আমাদের চিরপরিচিত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের রূপ। সামনে মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী আরও উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে। অস্তিত্বে মিশে থাকা এ উদ্যানে যে স্বাধীনতা স্তম্ভ গড়ে তোলা হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে যোগ করবে গৌরবময় এক ঐতিহ্য। আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরবে বাঙালির স্বাধীনতাসংগ্রামের ঐতিহাসিক স্মৃতি। স্বাধীনতার চার দশক পার করে এখনো প্রতিনিয়ত যার যার জায়গা থেকে স্বপ্ন দেখা—দেশটা আমাদের আলোকের পথ ধরে এগিয়ে যাক। যাঁদের হাত ধরে এসেছে স্বাধীনতা, দল-মত ভুলে আমরা সবসময়ই তাঁদের সর্বোচ্চ সম্মান দিয়ে এসেছি। বাংলাদেশের মানুষ প্রমান করেছে, কৃতজ্ঞতা প্রকাশে কোনো কুণ্ঠা নেই আমাদের।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. নাসিম বলেছেন, 'বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়া সুখবর না হলেও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে নির্বাচন করতে হচ্ছে'। আপনিও কি তাই মনে করেন?
7 + 6 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুন - ২৪
ফজর৩:৪৪
যোহর১২:০১
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৫২
এশা৮:১৭
সূর্যোদয় - ৫:১২সূর্যাস্ত - ০৬:৪৭
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: ittefaq.adsection@yahoo.com, সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: ittefaqpressrelease@gmail.com
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :