The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৩, ০২ পৌষ ১৪২০, ১২ সফর ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ সাতক্ষীরায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে নিহত ৫ | পেট্রোল বোমায় আহত অটোরিকশা চালকের মৃত্যু | আলোচনার মাধ্যমে সংবিধানের মধ্যে থেকে নির্বাচন : হানিফ | গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে জনগণের বিজয় হবে : ফখরুল | পরাজিত শক্তি জাতিকে বিভক্ত করতে তত্পর : তোফায়েল | আবার ৭২ ঘণ্টার অবরোধ | সিরিরায় বিমান হামলায় নিহত ২২ | চীনের জিনজিংয়াংয়ে সংঘর্ষে ২ পুলিশসহ নিহত ১৬

শাহবাগের ঐতিহ্য বিশ্বের কোনো আন্দোলনের চেয়ে কম নয়

অমি রহমান পিয়াল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা শহরকে আলাদা করেছে যে জায়গাটা, সেটা এখন চৌরাস্তা। নবাবী আমলের বাগিচার নামে নাম শাহবাগ। নিমতলী থেকে কলাভবন যখন এখনকার জায়গায় স্থানান্তরিত হলো তখন থেকেই যেকোনো আন্দোলনের ব্রেকিং পয়েন্ট এটা। এখানেই পুলিশি ব্যারিকেড পেরিয়ে ভাঙা হয় ১৪৪ ধারা। পঞ্চাশের দশক থেকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন পর্যন্ত শাহবাগ একটি রণাঙ্গনের নাম। আশির দশকের শেষ ভাগে দীর্ঘ সময় ধরে এখানে মিশুক নামে একটা হরিণছানার ভাস্কর্য ছিল। সেখানে বিপ্লবীদের কেউ একজন লিখে দিয়েছিল—'গাধা এরশাদ'। চকের সেই চিকাটিও ছিল ব্যাপক বিনোদনের বিষয়।

সেই শাহবাগে, গণজাগরণের প্রথম দিন সকালে গিয়ে নিজেকে ওই গাধাটাই মনে হচ্ছিল। কী হচ্ছে এখানে! হাজার খানেক বিভ্রান্ত মানুষ যেন বসে আছে। কিন্তু আমি তো যুদ্ধক্ষেত্রে এসেছি, যোদ্ধাদের দেখতে এসেছি। একদল গান গাচ্ছে তো আরেকদল শ্লোগান ধরছে। এক কোণে বামপন্থি একজন একাত্তর টিভিকে ব্যাখ্যা দিচ্ছে 'আঁতাত তত্ত্ব'। দেখলাম স্বৈরাচারবিরোধী এবং নির্মূল কমিটির আন্দোলনের সময়কার কিছু চেনামুখ। এদের আমরা গুটিবাজ বলতাম। এরা স্যাবোটাজার। উল্টাপাল্টা মিথ্যা বলে বিভ্রান্তি ছড়ায়। প্রচুর তরুণ সেখানে শহরের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছে। এদের কোনো ব্যানার নেই। কোনো সংগঠনের হয়ে তারা আসেনি। এসেছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সঙ্গী করে। যুদ্ধ করতে।

ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের একটা বড় অংশ রয়েছে সেখানে। ঢোকার পর তাদের তোপের মুখে পড়তে হয়েছে আমাকেও। ডক্টর আইজু নাকি ফেসবুকে এই আন্দোলন নিয়ে সবাইকে গালিগালাজ করে যাচ্ছে আর আমি নাকি সেগুলো লাইক এবং শেয়ার দিয়ে যাচ্ছি! প্রতিবিপ্লবী তাহলে ঘরের মধ্যেও! আমি আর আইজু ভিন্ন ব্যক্তিত্ব। দুজনের কেউ কারও খাই-পরি না, আমরা দল বেঁধে লড়ি না এখন। হিজ হুজ। কেউ তো কারও দায় নিতে পারি না। সবারই যার যার এজেন্ডা আছে। সেটা সবসময় একই পথে চলবে, তা নয়।

মোটের ওপর একটা পিসড অব সিচুয়েশন। যে যার মতো বক্তৃতা দিয়ে যাচ্ছে। একদল ছবি আঁকছে। ইমরান সরকারসহ কয়েকজন এ মাথা থেকে ও মাথা দৌড়াচ্ছে ঘেমো শরীরে ক্লান্তিহীন। গলা দিয়ে স্বর বের হচ্ছে না, শ্লোগান এবং রাতজাগার ফল। পকেটে ভাড়া ছিল না। তাই জ্বরে ভোগা রাসেলকে নিয়ে গিয়েছিলাম। ইচ্ছে ছিল ঢুঁ মেরে চলে আসব। কিছু বলার জন্য ইমরানের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছিলাম সেজন্য। কিন্তু পরিস্থিতি দেখে মনে হলো, কিছু না বললেই নয়। কেউ কারও জন্য জমিন ছাড়বে না, কেউ যেন ফ্লোর নিতে না পারে, আর মিথ্যে গুজব তো আছেই।

মাইক্রোফোন নিয়ে যা বলেছি তার থেকে যতটুকু মনে পড়ছে তুলে ধরছি : আমি শুধু আমার সামনের জটলাটার উদ্দেশে কিছু বলার জন্য আসিনি। আমি চাইছি এখানে উপস্থিত সবাই আমার কথা একটু শুনুন। আপনারা আগে সিদ্ধান্ত নিন আপনারা কি যুদ্ধে এসেছেন নাকি রাজনীতি করতে। যদি যুদ্ধ করতে এসে থাকেন তাহলে এভাবে হবে না। এভাবে হয় না। একাট্টা হতে হবে। একটু আগে একজন মুক্তিযোদ্ধা আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন—এটাকে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ আখ্যায়িত। সেই প্রতিশ্রুতি রাখতে হলে আমাদের এক সঙ্গেই লড়তে হবে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, আমরা কী চাই। আমাদের লক্ষ্য, যুদ্ধাপরাধীর বিচার যেন ঠিকভাবে আমরা শেষ করতে পারি। এবং প্রতিটি যুদ্ধাপরাধীর যেন সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হয়। কাদের মোল্লার যে রায় হয়েছে সেটা আমরা মানি না, আমরা চাই ফাঁসি। আর সেই দাবিটা আদায়ের যৌক্তিক সুযোগ রয়েছে। কেরানিগঞ্জের যে গণহত্যার অভিযোগ থেকে কাদের মোল্লা খালাস পেয়েছে, সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল। আর এই আপিল করার জন্য সরকারি প্রসিকিউশনকে বাধ্য করতে হবে এই আন্দোলনের মাধ্যমে। ৩৪৪ জন মানুষ মারা গেছে। আর কাদের মোল্লা মানুষ জবাই করত। এই রকম নির্মম খুনির শাস্তি স্রেফ যাবজ্জীবন হতে পারে না।

মোটামুটি এই ছিল বক্তব্য। এরপর কিছু ছোটভাই এসে জিজ্ঞেস করল—এই আন্দোলনের রাজনীতিকরণ তারা কীভাবে ঠেকাবে। মন্ত্রীরা বক্তব্য দিচ্ছে, নেতারা বক্তব্য দিচ্ছে। মনে হচ্ছে এই আন্দোলন আওয়ামী লীগ চালাচ্ছে। বললাম, তোমরা তো যুদ্ধ করতে এসেছ। আওয়ামী লীগ কি তোমাদের বিপক্ষে? ওরা বলল, না। বললাম, যাদের তুমি ভোট দিয়েছ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য, তারা যদি এই আন্দোলনে তোমার পাশে থাকে তাহলে তোমার তো সমস্যা হওয়ার কথা না। বরং এটা তোমার জন্য শক্তিশালী অস্ত্র। তোমার কাজ দাবি আদায় করা, এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ যদি রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে পারে, লুটুক। তোমার লক্ষ্য কি সেটা প্রতিহত করা নাকি কাদের মোল্লার ফাঁসি।

আপাতত রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে শাহবাগের আন্দোলনকারীদের একজোট হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। সব আন্দোলনেই গুটিবাজ থাকে, প্রতিবিপ্লবী থাকে, তাদের কাজ আন্দোলনের পিঠে ছুরি মারা, সংশয় ঢোকানো। বিভ্রান্তি ছড়ানো। আর এদের কারণেই জামায়াতে ইসলামী একটা হাস্যকর বিবৃতি দিতে পেরেছে যে, 'দেশবাসী বিচারের রায় প্রত্যাখ্যান করেছে।'

বন্ধুরা, দাবি না আদায় করে ঘরে ফিরব না আমরা। এই লড়াই সরকারের বিরুদ্ধে নয়, ট্রাইবুনালের বিরুদ্ধে নয়, বরং ট্রাইব্যুনাল আমাকে পুনর্বিবেচনার যে সুযোগটা দিয়েছে সেটা কাজে লাগানোর। এ লড়াই আমাদের শেকড়ের, আমাদের ঐতিহ্যের, আমাদের ইতিহাসের। থামলে চলবে না, মাঠে থাকতে হবে শেষ পর্যন্ত, যাতে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে অপশক্তি রাস্তায় নামতে না পারে। সরকারকে বলতে হবে, আমরা পাশে আছি। ট্রাইব্যুনালকেও। আর সেটা করতে হবে মাথায় শাহবাগ রেখে, তাহরির নয়। শাহবাগের ঐতিহ্য বিশ্বের কোনো আন্দোলনের চেয়ে এতটুকু কম নয়। যুদ্ধটা আমাদের, করতে হবে আমাদেরই, একসঙ্গে।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. নাসিম বলেছেন, 'বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়া সুখবর না হলেও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে নির্বাচন করতে হচ্ছে'। আপনিও কি তাই মনে করেন?
7 + 3 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুলাই - ২৫
ফজর৪:০০
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৪৮
এশা৮:০৯
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:৪৩
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: ittefaq.adsection@yahoo.com, সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: ittefaqpressrelease@gmail.com
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :