The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৩, ০২ পৌষ ১৪২০, ১২ সফর ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ সাতক্ষীরায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে নিহত ৫ | পেট্রোল বোমায় আহত অটোরিকশা চালকের মৃত্যু | আলোচনার মাধ্যমে সংবিধানের মধ্যে থেকে নির্বাচন : হানিফ | গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে জনগণের বিজয় হবে : ফখরুল | পরাজিত শক্তি জাতিকে বিভক্ত করতে তত্পর : তোফায়েল | আবার ৭২ ঘণ্টার অবরোধ | সিরিরায় বিমান হামলায় নিহত ২২ | চীনের জিনজিংয়াংয়ে সংঘর্ষে ২ পুলিশসহ নিহত ১৬

সাক্ষাত্কার

'প্রত্যেকের নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে'

মফিদুল হক

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর বাঙালির স্বাধীনতার মহান স্মারক। এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার চিন্তা কীভাবে আপনাদের মাথায় এলো?

মফিদুল হক : তখন ১৯৯৫ সাল। এক বছর পরেই স্বাধীনতার পঁচিশ বছর পূর্তি। আমরা সমমনা বন্ধুরা চিন্তা করছিলাম—মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনেক বড় উত্সবের আয়োজন হবে, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের বাস্তব কাজের তো কোনো উদ্যোগ নেই। সেজন্য আমরা ভাবছিলাম, '৯৬-এর ২৬ শে মার্চে কী করা যেতে পারে যা বাস্তব একটা অবদান রাখবে। বন্ধুদের আলোচনার মধ্য থেকেই প্রস্তাবটা উঠে আসে, যদি একটা মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর তৈরি হয়, তাহলে যাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে তারা এখানে এসে সেই স্মারকগুলো রাখতে পারবে। এই চিন্তার বাস্তবায়ন শুরু হয় একটি স্মৃতি ট্রাস্ট গঠনের মাধ্যমে। আমরা সেগুন বাগিচার একটি ভবন ভাড়া নিই। ভবনটা সংস্কার করে জাদুঘরের জন্য উপযুক্ত করে তুলি। এরপরই জাদুঘর করার ঘোষণা দিই। প্রচুর সমর্থন পাই মানুষের। এই সমর্থন আমাদের চলার পথকে অনেকটাই মসৃণ করে দেয়। শুরু হয় স্মারক সংগ্রহ। জাদুঘরের পক্ষে প্রথম স্মারকটি গ্রহণ করেছিলেন কবি বেগম সুফিয়া কামাল। ২২ মার্চ যখন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর উদ্বোধন হয়, তখনই আমাদের ভাণ্ডারে পর্যাপ্ত পরিমাণে স্মারক, দলিল এবং ডকুমেন্টস জমা হয়ে গিয়েছে। মানুষের স্বতস্ফূর্ত সমর্থন ও সহযেগিতায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ক্রমাগত শক্তি সঞ্চয় করে চলেছে। আজকের এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠার পেছনে মানুষের অবদানই বড়।

আপনাদের বর্তমান কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে চাই।

মফিদুল হক :আমাদের শুরুটা যেমন ছিল, বর্তমানে তার চেয়ে অনেক প্রসার ঘটেছে। আমাদের একটি বাস রয়েছে যা ভ্রাম্যমাণ জাদুঘর হিসেবে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে স্মারক প্রদর্শন করছে। আরেকটি বাস আমরা খুব শিগগির চালু করব। আমরা চাই নতুন প্রজন্মের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের সংযোগ ঘটাতে, যাতে তারা সঠিক ইতিহাসটা জানতে পারে, বুঝতে পারে মুক্তিযুদ্ধের মাহাত্ম্য। মোবাইল বাস চালুর পাশাপাশি আমরা মুক্তিযুদ্ধের উত্সবও পালন করে থাকি। এছাড়া আরও অনেক কর্মকাণ্ড রয়েছে। তবে আমাদের মূল কাজ হচ্ছে—মুক্তিযুদ্ধের স্মারক সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং উপস্থাপন।

বাংলাদেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য ছোট-বড় বধ্যভূমি। বিভিন্ন কারণে মুক্তিযুদ্ধের অনেক স্মৃতিচিহ্ন বিলীন হয়ে গেছে। অবশিষ্ট যা আছে এগুলোর সংরক্ষণে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর কী ভূমিকা পালন করছে?

মফিদুল হক : বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনেক বধ্যভূমি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। বিভিন্ন কারণে অনেক বধ্যভূমি গ্রাস হয়ে যাচ্ছে। এর জন্য সামাজিক সচেতনতা জরুরি। বধ্যভূমিগুলো অজস্র স্মৃতির ধারক-বাহক। স্মৃতি সংরক্ষেণের জন্য কাঠামো একই হলেও দোষ নেই, কিন্তু সেই কাঠামোর ভেতর চাই প্রাণ। বধ্যভূমি সংরক্ষণে স্থানীয় মানুষদের জড়ো করে কেবল মনুমেন্ট স্থাপনই নয়, বরং দরকার আরও সজীব, অর্গানিক রিলেশনশিপ। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এ ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধের স্মারক সংরক্ষণ এবং প্রদর্শনে জেলা পর্যায়ের উদ্যোগকে আপনারা কীভাবে বিবেচনা করেন?

মফিদুল হক : শুধু ঢাকা কেন্দ্রিক নয়, ঢাকার বাইরেও এই উদ্যোগের পক্ষে আমরা কাজ করি। জেলা পর্যায়ে স্মারক সংরক্ষণের জন্য জোর দিই। তবে এ ক্ষেত্রে আমাদের আরও পেশাদার হতে হবে, স্মারকগুলো সংরক্ষণের জন্য সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। একটি জাদুঘর শুধু পাঁচ-দশ বছরের জন্য নয়, তার স্থায়িত্ব হতে হবে দীর্ঘকাল।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিয়ে তাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত করতে আর কী কী ভূমিকা রাখা যায়?

মফিদুল হক :ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের কথা শুনতে হবে এবং তা ছড়িয়ে দিতে হবে নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের কাছে। '৭১-এ মানুষ কীভাবে সংগ্রাম করেছিল, কেমন ছিল সাধারণ মানুষের ভূমিকা—ওদের কাছে সেই বার্তা নিয়ে যেতে হবে। আমাদের দরকার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ। বড় প্লাটফর্মের চেয়েও আইডিয়া সেক্ষেত্রে অনেক বড় ব্যাপার। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে—সঠিক সময়ে সঠিক কাজটা করা। নতুন প্রজন্মদের সবসময় বলি, তোমরা মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের কথা আমাদের লিখে পাঠাও, যারা হয়তো তোমাদেরই পাড়া-প্রতিবেশী। মুক্তিযুদ্ধ পাঠ্যভূক্ত কোনো বিষয় নয়, এটা অন্য এক আলোড়ন। মুক্তিযুদ্ধের ভাণ্ডার বিশাল। ইটস কলড পাওয়ার নব মেমোরি। প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে। আর তাহলেই জমাটবাঁধা বরফ গলতে শুরু করবে।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নিয়ে আপনাদের স্বপ্ন ও ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা কী?

মফিদুল হক : আগারগাঁওয়ে স্থায়ীভাবে জাদুঘর নির্মাণের কাজ চলছে। এক থেকে দেড় বছর লাগতে পারে এটি নির্মাণে। এই কাজটি সম্পন্ন হলেই মুক্তিযুদ্ধের আরেকটি স্বপ্ন পূরণ হবে। একটা অসাম্প্রদায়িক, সুন্দর পরিবেশ গড়ে উঠবে, যেখানে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম নিরাপদে ও সুখে শান্তিতে বসবাস করবে, দেশকে নিয়ে যাবে আরও আরও সমৃদ্ধির পথে—এর জন্য আজীবন কাজ করে যাওয়াই আমাদের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. নাসিম বলেছেন, 'বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়া সুখবর না হলেও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে নির্বাচন করতে হচ্ছে'। আপনিও কি তাই মনে করেন?
9 + 6 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
আগষ্ট - ১৯
ফজর৪:১৬
যোহর১২:০৩
আসর৪:৩৭
মাগরিব৬:৩২
এশা৭:৪৮
সূর্যোদয় - ৫:৩৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৭
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: ittefaq.adsection@yahoo.com, সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: ittefaqpressrelease@gmail.com
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :