The Daily Ittefaq
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০১২, ১১ পৌষ ১৪১৯, ১১ সফর ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ উত্তর প্রদেশে পুলিশের কাছে গিয়ে ফের ধর্ষিত | সাংবাদিক নির্মল সেন লাইফ সাপোর্টে | হলমার্ক জালিয়াতি:ঋণের নথি জব্দে সোনালী ব্যাংকে দুদকের অভিযান | ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে ৯৭ কিলোমিটার জুড়ে যানজট | রোহিঙ্গাদের স্বীকৃতি দিন: মিয়ানমারকে জাতিসংঘ | বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ড: এমদাদুল ৭ দিনের রিমান্ডে | গণসংযোগে সহযোগিতা করবে সরকার :স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী | স্বাধীনতার পাশাপাশি গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীলও হতে হবে : প্রধানমন্ত্রী | গণসংযোগে বাধা দেবে না আওয়ামী লীগ : সাজেদা চৌধুরী | চট্টগ্রামে কোটি টাকার হেরোইন উদ্ধার | সম্পর্ক উন্নয়নে ভারত-পাকিস্তান সিরিজ শুরু আজ | জনসংযোগে বাধা দিলে কঠোর কর্মসূচি: বিএনপি

বেড়ানো

হরিণঘাটার জঙ্গল আর সৈকতে

লেখা মুস্তাফিজ মামুন

আলোকচিত্র আরিফুর রহমান

বঙ্গোপসাগরের তীরে জেগে ওঠা একখণ্ড সবুজ বনভূমি আর দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত। বরিশাল বিভাগের দক্ষিণ প্রান্তে বরগুনা জেলায় অবস্থিত এ বনের পূর্ব দিকে কুয়াকাটা, পশ্চিমে সুন্দরবন, উত্তর পাশে আদিবাসী সম্প্রদায় রাখাইনদের বেশ কিছু বসতি আর দক্ষিণে দিগন্ত বিস্তৃত বঙ্গোপসাগর। কুয়াকাটার খুব কাছাকাছি হওয়ায় এ জায়গা থেকেও দেখা যায় সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের অপূর্ব দৃশ্য। বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলা সদর তালতলী থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে হরিণঘাটা বাজারের পাশেই গহীন বন। বাজারের পাশের ছোট্ট একটি খাল বন আর বাজারের মধ্যে বিচ্ছেদ রচনা করেছে। স্থানীয়দের কাছে জঙ্গলটি দীর্ঘকাল ধরে 'ফাতরার বন' হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময় এখানকার প্রায় দশ হাজার একর জায়গা নিয়ে বন বিভাগ গড়ে তুলেছে 'টেংরাগিরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য'। বনবিভাগের আমতলী রেঞ্জের টেংরাগিরি (সখিনা) বিটের এ জায়গাটিকে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয় ২০১০ সালে।

প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এ বন নানান গাছপালায় সমৃদ্ধ। কেওড়া, গরাণ, গেওয়া, ওড়া প্রভৃতি শ্বাসমূলীয় গাছ বনের প্রধান বৃক্ষ। এ ছাড়া বনে দেখা মেলে চিত্রা হরিণ, বানর, বন বিড়াল, বন্যশুকরসহ নানান বন্যপ্রাণী। নানান জাতের পাখিরও দেখা মেলে এ বনে। আরও আছে গুঁইসাপ আর বিভিন্ন প্রকার সাপ। তবে এ বনে নির্ভয়ে ঘুরে বেড়াতে পারেন পর্যটকরা। সুন্দরবনের খুব কাছে হলেও এ বনে এখন পর্যন্ত বাঘের মতো হিংস্র কোনো প্রাণীর সন্ধান মেলেনি।

পুরো বনের ভেতরেই জালের মতো ছড়ানো আছে বেশ কিছু ছোট ছোট খাল। জোয়ারে খালগুলো জলে পরিপূর্ণ হলেও ভাটায় একেবারে শুকিয়ে যায়। এসব খাল জলে ভরা থাকলে ছোট নৌকা নিয়ে জঙ্গলের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। এ বনাঞ্চলের পাশেই আছে সুন্দর একটি সমুদ্রসৈকত। লালদিয়ার চর নামেই এটি বেশি পরিচিত। বঙ্গোপসাগর আর বিষখালী নদীর মিলনস্থলে জেগে ওঠা এ সৈকত। হরিণঘাটার বন শেষ হয়েই শুরু হয়েছে এ সৈকতের। এ সৈকতে মানুষের আনাগোনা খুবই কম বলে সামুদ্রিক পাখিদের দল প্রায়ই দখল করে নেয়। কখনও কখনও সৈকতের বেলাভূমি লাল করে ঘুরে বেড়ায় কাঁকড়ার দল। শীতে এ সৈকতের কাছাকাছি এসে আস্তানা গড়েন ভ্রাম্যমান জেলেদের দল। সমুদ্র থেকে মাছ ধরে তারা শুঁটকি তৈরি করেন এখানেই।

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে নদী ও সড়কপথে বরগুনা আসা যায়। ঢাকার সদরঘাট থেকে এমভি বন্ধন-৭ (০১৮২১১৬৫৮৭৫) এক দিন পর এক দিন চলাচল করে এ পথে। ভাড়া প্রথম শ্রেণীর দ্বৈত কেবিন ১২৫০ টাকা, একক কেবিন ৬৫০ টাকা। তৃতীয় শ্রেণীর ডেকে ভাড়া ২৫০ টাকা। ঢাকার গাবতলী থেকে দ্রুতি পরিবহন (০১১৯৬০৯৫০৩৩), সাকুরা পরিবহন (০১১৯০৬৫৮৭৭২) বরগুনা যায়, ভাড়া ৩৫০ টাকা। সায়দাবাদ থেকে সাকুরা পরিবহন (০১৭২৫০৬০০৩৩), মিয়া পরিবহন (০১৭১১৯৪৭৭৭৮), আব্দুল্লাহ পরিবহন (০১৭২০৬২৫৮০৯) যায় বরগুনা সদরে। ভাড়া ৩৫০-৪৫০ টাকা। বরগুনা হতে তালতলীর দূরত্ব প্রায় ১৭ কিলোমিটার। জেলা সদর থেকে বাস, টেম্পু ছাড়াও নৌকায় যাওয়া যাবে তালতলী। সেখান থেকে জায়গাটিতে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ বাহন নৌকা। এ জায়গা থেকে নদীপথে কুয়াকাটা যেতে ঘণ্টাখানেক সময় লাগে। এ ভ্রমণে তাই কুয়াকাটাও বেড়িয়ে আসতে পারেন। আবার কুয়াকাটা ভ্রমণে গেলেও সহজেই এ জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন।

কোথায় থাকবেন

বরগুনা শহরে সবচেয়ে ভালো হোটেল হলো সদর রোডে বে অব বেঙ্গল (০১৭১২২৩৪৩৩২, এসি কক্ষ ১৫০০-২০০০ টাকা, নন এসি কক্ষ ১০০০ টাকা)। এ ছাড়া শহরের সাধারণ মানের হোটেল হলো নজরুল ইসলাম সড়কে হোটেল মৌমিতা (০৪৪৮-৬২৮৪২, দ্বৈত কক্ষ ২০০ টাকা, একক কক্ষ ১০০ টাকা)। সদর রোডে হোটেল তাজবিন (০৪৪৮-৬২৫০৩, দ্বৈত কক্ষ ২৫০ টাকা, একক কক্ষ ১৮০ টাকা)। সদর রোডে হোটেল আলম (০৪৪৮-৬২২৩৪, দ্বৈত কক্ষ ১৮০ টাকা, একক কক্ষ ১০০ টাকা)।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
সংসদীয় আসনের সীমানা পুন:নির্ধারণে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আপত্তি যৌক্তিক বলে মনে করেন?
6 + 9 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১৯
ফজর৫:১৫
যোহর১১:৫৬
আসর৩:৪০
মাগরিব৫:১৯
এশা৬:৩৬
সূর্যোদয় - ৬:৩৫সূর্যাস্ত - ০৫:১৪
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :