The Daily Ittefaq
ঢাকা, বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৩, ১১ পৌষ ১৪২০, ২১ সফর ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিদায় নিচ্ছেন ক্যালিস | বাগদাদে চার্চের সন্নিকটে গাড়িবোমা বিস্ফোরণ, নিহত ১৫ | কাল সারাদেশে ১৮ দলের বিক্ষোভ সমাবেশ | রাজধানীতে পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হয়ে পুলিশের মৃত্যু | আগুনে প্রাণ গেল আরও দুই পরিবহন শ্রমিকের

সম্প্রীতিই বড় দিনের অঙ্গীকার

 ডা. মো. রেজাউল করিম

আজ ২৫ ডিসেম্বর। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বড় দিন। ইসলাম প্রচারের পাঁচশ বছর আগে মহান আল্লাহ হযরত ঈশা আলাইহিস সালামকে এ ধরাধামে প্রেরণ করেন। খ্রিস্টাব্দ শুরু হয় আল্লাহর এই প্রেরিত পুরুষের আবির্ভাবের পর থেকে।

প্রকৃতপক্ষে সব ধর্মই তো শান্তি ও সম্প্রীতির পক্ষে। এমন কোনো ধর্ম নেই যাতে অশান্তি সৃষ্টির প্ররোচনা আছে। বরং ওরকম তত্পরতার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাহলে নির্দ্বিধায় বলা যায়, কোথাও কোনো কারণে মানুষে মানুষে কিংবা সম্প্রদায়ে সম্প্রদায়ে সম্প্রীতির ঘাটতি দেখা দিলে, সেজন্য কোনো ধর্ম নয় বরং ধর্মহীনতাই দায়ী। এ ব্যাপারে কারো কোনো বিভ্রান্তি থাকা উচিত নয়।

একটি দেশের সমাজে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বাস করে। সেক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনো ধর্মের মানুষ সংখ্যাগুরু আবার কেউ সংখ্যালঘু। ধর্মের গুরুত্ব ও লঘুত্বের মাপকাঠি নিয়ে কারো নাগরিকত্বের বিচার করা হয় না। দেশের সংবিধান সকল ধর্মের মানুষকে তাদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে পালন করার সমান অধিকার দেয়। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান স্বাধীনভাবে ও নির্বিঘ্নে পালন করার অধিকার শুধু দেশের সংবিধানেই বিধৃত থাকে না, এটা তাদের স্বীকৃত সামাজিক অধিকার। এ অধিকারে অন্য কোনো ধর্মের লোক বাধা দিলে তা হবে বেআইনি এবং নৈতিকতাবিরোধী। কোনো বিবেকসম্পন্ন লোক তা সমর্থন করবে না।

বিশ্ব এখন বহুজাতিক স্বাধীন দেশে বিভক্ত। এ দেশগুলোর সীমানা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত এবং সার্বভৌমত্ব স্বীকৃত। বর্তমানে এমন কোনো দেশ বা জাতি নেই যা ধর্মের জিগির তুলে সারা বিশ্বকে গ্রাস করতে বা একটা বিশেষ ধর্মের এক নেতার নিয়ন্ত্রণে আনার স্বপ্ন দেখতে পারে। যারা ওরকম স্বপ্ন দেখে এবং সেটার দ্বারা পরিচালিত হয়, তারা বাস্তবকে অস্বীকার করে মূর্খের স্বর্গে বাস করছে বলে মনে হয়।

আজ পর্যন্ত দেশে দেশে যত সাম্প্রদায়িক হানাহানি হয়েছে, তার কোনোটিতেই ধর্মের কোনো ভূমিকা ছিল না। বরং ধর্মান্ধতা এবং ধর্ম সম্পর্কে অজ্ঞতা বা ভুল ধারণাই ওগুলোর পেছনে সক্রিয় ছিল। হিংসা-প্রতিহিংসা, জিঘাংসা, পারস্পরিক বিদ্বেষ ভাব ইত্যাদি কোনো ধর্মীয় বিধানে নেই।

জাতীয়তাবাদে জাতিভেদ থাকা উচিত নয়। কারণ, রাষ্ট্রের সব নাগরিক এক জাতি হলেও এক ধর্মের অনুসারী নাও হতে পারে। তাই জাতীয়তাবাদের উল্টো পিঠে ধর্মনিরপেক্ষতার ছাপ না থাকলে সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে এবং প্রচ্ছন্ন সাম্প্রদায়িকতার কারণে নাগরিকত্বের সমঅধিকার থেকে পরোক্ষভাবে হলেও বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় থাকবে।

বেসামরিক শাসন কাজে ধর্ম নিরপেক্ষতার নীতি প্রয়োগ বর্তমানে অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। অর্থাত্ রাজনীতিকে ধর্মের কবল থেকে মুক্ত না রাখলে বেসামরিক আইন প্রয়োগে বাধা আসবে। কারণ একটি রাষ্ট্রে বিভিন্ন ধর্মের লোক বাস করে। ধর্মকে রক্ষা করতে হবে রাজনীতির খপ্পর থেকে, যাতে শাসকবর্গ ধর্মকে বিকৃত করে বা ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করতে না পারে। ধর্ম একটি বিশ্বাস যা মানুষের বিবেক বুদ্ধিকে, তার পরিবার, সমাজ, মানবতা ও সর্বোপরি মহাজগতকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে পারে। কোনো রাষ্ট্রের শাসনকর্তা কোনোমতেই যেন তার কুকর্ম ও স্বেচ্ছাচারিতাকে জায়েজ করার জন্য ধর্মের অপব্যবহার করতে না পারে সেদিকে সবাইকে সজাগ দৃষ্টি দিতে হবে।

আমাদের এ বিশ্বে অনেক ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বাস। কাজেই ওদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা না গেলে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা তো সম্ভব নয়। একেকটি সম্প্রদায় বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো অবস্থান করলে তাদের মধ্যে সমঝোতা ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরিবর্তে সংকীর্ণতা, পারস্পরিক অবিশ্বাস ও বিদ্বেষ মনোভাব প্রশ্রয় পাওয়ার আশঙ্কা বেশি।

উল্লেখ করা যায়, বর্তমানে বিশ্বশান্তি বলতে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। হিংসা-বিদ্বেষ, সংকীর্ণ স্বার্থচিন্তা, সাম্প্রদায়িক মন-মানসিকতা ইত্যাদি প্রাধান্য পাচ্ছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। ধর্মভীরুতা নয়, ধর্মোন্মাদনা বিশ্বশান্তির প্রতি একটা হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। আমরা বিভেদের দেয়াল তুলে একজন আরেকজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছি। ১৮৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে একটি আন্তর্জাতিক ধর্মসভা অনুষ্ঠিত হয়। তাতে সাম্প্রদায়িকতা ও সংকীর্ণতার কুফল সম্পর্কে স্বামী বিবেকানন্দ মূল্যবান বক্তব্য রাখেন। তাতে তিনি বলেন, 'সাম্প্রদায়িকতা, সংকীর্ণতা এবং ওগুলোর পরিণামস্বরূপ ধর্মোন্মত্ততা এই সুন্দর পৃথিবীকে বহুকাল ধরে আচ্ছন্ন করে রেখেছে।'

১৯৪৫ সালে জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাকালে বলা হয়েছিল, বিশ্ববাসীকে আরেকটি মহাযুদ্ধের বিভীষিকা থেকে অবশ্যই রক্ষা করা হবে। গড়ে তোলা হবে একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্ব। কিন্তু সে লক্ষ্য এখনও অর্জিত হয়নি। তাই এখনও বিশ্বের ২০টি দেশে জাতিসংঘের লক্ষাধিক শান্তিরক্ষী কাজ করে যাচ্ছে।

সবদেশের চিন্তাশীল ব্যক্তি, সাংবাদিক, লেখক সম্প্রদায়, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, রাজনীতিবিদ, দার্শনিক এবং সামগ্রিকভাবে শিক্ষিত সমাজ এই বিষয়টি অবশ্যই জানেন যে, কোনো ধর্মের মধ্যে অধার্মিকতা, সাম্প্রদায়িকতা, কোনো প্রকার সংকীর্ণতা ইত্যাদির প্রশ্রয় নেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা ধর্মের নামে অধার্মিকতা প্রতিরোধে কোনো সক্রিয় ভূমিকা রাখেন না। বস্তুত তাদের নিষ্ক্রিয়তা ধর্মান্ধদের সক্রিয়তা প্রদর্শনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ধর্ম মানুষের মঙ্গলের জন্য। কিন্তু তা সত্ত্বেও ধর্মে, বর্ণে, গোত্রে গোত্রে যে বৈষম্য দেখা দেয় তা আমাদের মনে সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করে। ধর্মকে নিয়ে বাড়াবাড়ির প্রয়োজন নেই। ধর্ম থাকবে ধর্মের জায়গায়। রাজনীতি ও সমাজ পরিবর্তনের ধারায় আমরা ধর্মকে নিয়ে এগোতে চাই না। ধর্মের আদর্শ নিয়ে এগোতে গেলেই ধর্মান্ধ ব্যক্তিরা সে আদর্শের অপব্যাখ্যা করবে এবং মানবকল্যাণবিরোধী কাজে উত্সাহ জোগাবে।

মহান প্রভু মানুষ সৃষ্টি করেছেন তার সৃষ্টিকে রক্ষা করার জন্য। মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করে সৃষ্টি ধ্বংসের জন্য মানুষকে তার প্রতিনিধি করে এ পৃথিবীতে পাঠাননি। তিনি বিশ্বে মানবজাতি সৃষ্টি করেছেন কল্যাণের জন্য, বিভিন্ন মতবাদ সৃষ্টি করে অকল্যাণ বয়ে আনার জন্য মানুষকে নির্দেশ দেননি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করে অসাম্প্রদায়িক চেতনার ওপরই গড়ে ওঠতে পারে মানবকল্যাণ। শুভ বড়দিন।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, 'সরকারের অনড় অবস্থানের কারণে সঙ্কটের সমাধান হয়নি।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
2 + 9 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুন - ২৫
ফজর৩:৪৫
যোহর১২:০১
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৫২
এশা৮:১৭
সূর্যোদয় - ৫:১২সূর্যাস্ত - ০৬:৪৭
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: ittefaq.adsection@yahoo.com, সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: ittefaqpressrelease@gmail.com
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :