The Daily Ittefaq
ঢাকা, বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৩, ১১ পৌষ ১৪২০, ২১ সফর ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিদায় নিচ্ছেন ক্যালিস | বাগদাদে চার্চের সন্নিকটে গাড়িবোমা বিস্ফোরণ, নিহত ১৫ | কাল সারাদেশে ১৮ দলের বিক্ষোভ সমাবেশ | রাজধানীতে পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হয়ে পুলিশের মৃত্যু | আগুনে প্রাণ গেল আরও দুই পরিবহন শ্রমিকের

বড় হওয়ার দিন

 ফাদার বেঞ্জামিন কস্তা

খ্রিস্টজন্মোত্সব বা বড়দিন পালিত হয় একটি শিশুর জন্মকে কেন্দ্র করে। তাঁর জন্মের বহু আগে থেকেই প্রবক্তাগণ ভাববাণী করেছিলেন, 'একটি ছেলে আমাদের জন্য জন্মগ্রহণ করবেন, একটি পুত্র আমাদের দেওয়া হবে। শাসন করবার ভার তাঁর কাঁধের উপর থাকবে, আর তাঁর নাম হবে আশ্চর্য পরামর্শদাতা, শক্তিশালী ঈশ্বর, চিরস্থায়ী পিতা, শান্তির রাজা' (যিশা ৯ :৬)।

খ্রিস্টভক্তদের বিশ্বাস :বেথেলহামের গোশালায় মানুষবেশে যিনি শিশু হয়ে জন্মেছেন তিনি স্বয়ং ঈশ্বরপুত্র। খ্রিস্টজন্মোত্সবের সময় খ্রিস্টবিশ্বাসীরা এই সত্য নিয়েই ধ্যান-প্রার্থনা করে, আনন্দ-উত্সব করে। এদিনে বেথেলহামের গোশালায় শিশুটির জন্মের কাহিনী পাঠ ও ধ্যান করা হয়। সেই জন্মকাহিনী অবলম্বনে গির্জাঘরে, এমনকি বাড়িতে বাড়িতে গোশালা নির্মাণ করে ফুলপাতা দিয়ে সাজানো হয়। গান-বাজনা, নাম-সংকীর্তন, বাদ্য বাজনা, আনন্দ-উল্লাস ইত্যাদি চলে। এসব বাহ্যিক উত্সব-আয়োজনের ঊর্ধ্বে প্রকৃতি খ্রিস্টবিশ্বাসীগণ তাদের মন-হূদয় ও অন্তরাত্মাকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করতে প্রয়াসী হয়। তাদের এই আনন্দ-উত্সব যাতে আচার বা অনুষ্ঠানসর্বস্ব না হয় এরজন্য মণ্ডলী বিচিত্র উপায়ে বড়দিনের পূর্ববর্তী চার সপ্তাহব্যাপী আগমনকাল পালনের ব্যবস্থা করে। বাণীর সেই দেহধারণের সত্য, খ্রিস্টজন্মের বাস্তবতা ধ্যানপূর্বক এই উত্সব পালনের প্রস্তুতিপর্বটি যেন মানব-ইতিহাসের গতিধারায় শত কোটি বছরের প্রতীক। 'সময় যখন পূর্ণ হলো, তখন ঈশ্বর এই পৃথিবীতে পাঠালেন তাঁর আপন পুত্রকে; তিনি জন্ম নিলেন নারীগর্ভে, জন্মনিলেন মোশীর বিধানের অধীন হয়ে। এমনটি ঘটেছিল, যাতে তিনি বিধানের অধীনে-পড়ে-থাকা যত মানুষের মুক্তিমূল্য দিতে পারেন, যাতে আমরা হয়ে উঠতে পারি (ঈশ্বরের) দত্তক-পুত্র' (গালা ৪ :৪-৫)। ঐশ-রহস্যের এই সত্য কোনো মানবিক যক্তিবুদ্ধি দিয়ে অনুধাবন করার ব্যাপার নয়, কেননা এ কোনো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বাস্তবতা নয়, বরং ইন্দ্রিয়াতীত, মানুষের বোধাতীত সত্য, যা একমাত্র ঈশ্বরই তাঁর অনুগ্রহধন্য মানুষকে উপলব্ধি করার শক্তি দান করেন। 'তোমরা যে সত্যিই পুত্র, তার প্রমাণ এই যে, ঈশ্বর আমাদের হূদয়ে পাঠিয়েছেন তাঁর পুত্রের সেই পরম আত্মাকে, যিনি ডাকতে থাকেন, 'আব্বা! পিতা!' তাই এখন তুমি আর দাস হয়ে নেই, তুমি পুত্র, আর পুত্রই যদি হও, তবে পুত্রের একদিন যা-কিছু পাবার কথা, ঈশ্বরের অনুগ্রহে তা পাবার অধিকার তোমার আছেই' (গালা ৪ :৬-৭)।

দীক্ষাস্নানের গুণে আমরা নবজন্ম লাভ করি এবং ঈশ্বরের সেই আত্মাকে লাভ করি বলেই আত্মিক জ্ঞানের প্রভাবে আমরা 'পুত্রভাবে ভাবিত' হয়ে নিজেদেরকে ঈশ্বরের সন্তান বলে জানতে ও বুঝতে পারি এবং তাঁকে কেবল রূপক হিসেবে নয় বরং প্রকৃত অর্থেই 'পিতা' বলে ডাকতে পারি। এভাবে কাদামাটির তৈরি আদমের সন্তান হয়েও আমরা অনাদি, অনন্ত, অসীম ও সর্বশক্তিমান ঈশ্বরকে আপন 'পিতা' বলে উপলব্ধি করতে পারি।

সাধু পল বলেন, 'তোমাদের মনোভাব তেমনটি হওয়া উচিত, যেমনটি খ্রিস্টযিশুর নিজেরই ছিল। তিনি তো স্বরূপে ঈশ্বর হয়েও ঈশ্বরের সঙ্গে তার সমতুল্যতাকে আঁকড়ে থাকতে চাইলেন না, বরং নিজেকে তিনি রিক্ত করলেন; দাসের স্বরূপ গ্রহণ করে তিনি মানুষের মতো জন্ম নিলেন। আকারে-প্রকারে মানুষের মতো হয়ে তিনি নিজেকে আরও নমিত করলেন। চরম আনুগত্য দেখিয়ে তিনি মৃত্যু, এমনকি ক্রুশেই মৃত্যু মেনে নিলেন। তাই ঈশ্বর তাঁকে সব কিছুর ওপরে উন্নীত করলেন, তাঁকে দিলেন সেই নাম, সকল নামের শ্রেষ্ঠ যে নাম, যেন যিশুর নামে আনত হয় প্রতিটি জানু—স্বর্গে, মর্ত্যে, পাতালে—প্রতিটি জিহ্বা যেন এই সত্য ঘোষণা করে, 'যিশুখ্রিস্ট স্বয়ং প্রভু আর এতেই যেন প্রকাশিত হয় পিতা ঈশ্বরের মহিমা' (ফিলি ২ :৫-১১)। ঈশ্বর-পুত্র নিজেকে নমিত করেছিলেন, পরম পিতা তাঁকে উন্নীত করলেন। একইভাবে যারা যিশুর ন্যায় শিশু হতে পারে, তারাই প্রকৃত অর্থে ঐশ-মহিমা লাভ করতে পারে। শাস্ত্রবাণী তো আমাদের জানিয়ে দিয়েছে সেই মূলমন্ত্রের কথা। 'তোমাদের মধ্যে যদি পরিবর্তন না আসে, তোমরা যদি শিশুর মতোই না হয়ে ওঠো, তাহলে তোমরা কিছুতেই স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে না! তাই যে নিজেকে এই শিশুর মতোই নম্র করে, স্বর্গরাজ্যে সে-ই সবচেয়ে বড়!' (মথি ১৮ :৩-৫)। 'তোমরা তো আমাদের প্রভু যিশুখ্রিস্টের দয়ার দানের কথা জানো যে, তিনি নিজে ধনী হয়েও তোমাদের জন্য গরিব হলেন, যেন তাঁর গরিব হওয়ার মধ্য দিয়ে তোমরা ধনী হতে পার' (২ করি ৮ :৯)। 'অন্তরে যারা নিজেদের গরিব মনে করে তারা ধন্য' (মথি ৫ :৩)। 'আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, এই লোকটিই ঈশ্বরের ক্ষমা পেয়ে বাড়ি ফিরে গেল—প্রথম লোকটি নয়। কারণ যে নিজেকে বড় করে, তাকে ছোটই করা হবে; আর যে নিজেকে ছোট করে, তাকে করা হবে বড়!' (লুক ১৮ :১৪)।

বর্তমান বাস্তবতা : ঈশ্বর সমস্ত কিছুর সৃষ্টিকর্তা, প্রভু ও অধিকর্তা হয়েও ক্ষমতার দাপট দেখান না, তিনি কোমলপ্রাণ, তিনি দয়ালু। তিনি মানুষের উপর কর্তৃত্ব খাটান না, বলপ্রয়োগ করেন না। মানুষের কাছে তার সর্বশ্রেষ্ঠ আদেশ হচ্ছে, 'সমস্ত মনপ্রাণ শক্তি দিয়ে ঈশ্বরকে ভালোবাসা এবং প্রতিবেশীকে নিজের মতোই ভালোবাসা'। আজকাল দুনিয়াতে কিন্তু আমার এই ভালোবাসার চরম অভাব দেখতে পাই। সমাজে আমরা দেখতে পাই ক্ষমতার দাপট, দরিদ্রদের উপর শোষণ-নির্যাতন। ভোগলিপ্সু বিত্তবান অপরকে বঞ্চিত করে ক্রমাগত আরও বিত্তবান হওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। ছলেবলে কৌশলে তারা দীনদরিদ্রদেরকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলছে। তারা নিজেদেরকে পরাশক্তি ভাবতে ও তদনুরূপ আচরণ করতে পছন্দ করে। আধিপত্যবাদী ও সাম্রাজ্যবাদীরা প্রতিনিয়ত তাদের প্রভাববলয় বিস্তারের কৌশল আবিষ্কারে সচেষ্ট। মানুষে মানুষে জাতিতে জাতিতে বিভাজন ও দ্বন্দ্ব-সংঘাত সৃষ্টি করে তারা পৈশাচিক উন্মত্ত আনন্দ-উল্লাসে মত্ত। সরলতা, ক্ষমা, নম্রতাকে তারা দুর্বলতা মনে করে। এ ধরনের লোকদের কাছে বড়দিনের অর্থ অবশ্যই ভিন্নতর হবে।

মহত্ব ও ক্ষুদ্রত্বের লক্ষণ :মানুষের নিকট মহত্ ও ক্ষুদ্রের মানদণ্ড কী? মহত্বের লক্ষণই বা কী? সবার মধ্যেই তো বড় বা মহত্ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা বিদ্যমান। স্বয়ং স্রষ্টা আমাদেরকে 'হওয়া'র প্রক্রিয়াধীন করে সৃষ্টি করেছেন, তাই জীবনভর আমরা হতেই থাকি। মৃত্যু পর্যন্ত এই হওয়ার প্রক্রিয়া সচল থাকে। দৈহিক বা জৈবিকভাবে আমরা শিশু হয়েই জন্মগ্রহণ করি। তারপর ক্রমে ক্রমে শৈশব পেরিয়ে আমরা বাল্যকাল, কৈশোর, যৌবন অতিক্রম করে বার্ধ্যকে পৌঁছাই। প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী এমনকি গাছপালা, পশু-পক্ষীও একই নিয়মের অধীন। কিন্তু মানুষের বেলায় এই প্রাকৃতিক নিয়ম অর্থাত্ জৈবিক বা দৈহিক প্রক্রিয়া ছাড়াও মানসিক, নৈতিক, মানবিক, চারিত্রিক, আত্মিক দিকসমূহ আছে। বয়োবৃদ্ধির সাথে সঙ্গতি রেখে এসব দিক দিয়েও মানুষকে বৃদ্ধি পেতে বা বিকশিত হতে হয়। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের কাছে নাবালকের আচরণ কাম্য নয়। আবার হূদয়বৃত্তির পরিপক্বতা সব সময় কালক্রমিক বয়সের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। পশু আপনা থেকেই পশু, ফুল আপনা থেকেই ফুল, কিন্তু মানুষকে স্বভাবসুলভ গুণবিশিষ্ট প্রকৃতি মানুষ হওয়ার জন্য সচেতন সাধনার প্রয়োজন হয়। এরিস্টটলের সংজ্ঞা অনুযায়ী 'মানুষ বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন প্রাণী'। তাই তারমধ্যে প্রবৃত্তি-প্রবণতা স্বাভাবিক হলেও তাকে সচেতন প্রয়াসের দ্বারা মানবস্বভাব ও আত্মিক স্বভাবের বশবর্তী করতে হয়। পশুর মধ্যে পাশবিকতা স্বাভাবিক, কিন্তু মানুষের মধ্যে পাশবিকতা নিন্দনীয়।

মানুষের মর্যাদা : ঈশ্বর তো মানুষকে অনেক মর্যাদা দিয়ে নিজের প্রতিমূর্তিতে গড়েছেন। মানুষের প্রতি ঈশ্বরের মহানুভবতার কথা ধ্যান করে বিস্ময়াভিভূত হয়ে তাই সামরচয়িতা বলেন, 'মানুষ এমন কী যে, তুমি তার বিষয় চিন্তা কর? মানুষের সন্তানই বা কী যে, তুমি তার দিকে মনোযোগ দাও? তুমি মানুষকে স্বর্গদূতের চেয়ে সামান্য নিচু করেছ; রাজমুকুট হিসেবে তুমি তাকে দান করেছ গৌরব ও সম্মান। তোমার হাতে সৃষ্টির শাসনভার তুমি তারই হাতে দিয়েছ' (সাম ৮ :৪-৬)। মানুষকে ঈশ্বর অসীম মর্যাদা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। এই মর্যাদা তার নিজের অর্জন বা কৃতিত্ব নয়, এ হচ্ছে তার নিকট স্রষ্টার দান। এজন্য তাকে সব সময় ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকতে হয়, কোনো প্রকার অহংকার বা আত্ম-শ্লাঘার কোনো সুযোগই তার নেই।

মানুষ কিন্তু ঈশ্বরপ্রদত্ত তার সেই মর্যাদায় সন্তুষ্ট না থেকে অসত্পথে আরও কিছু হওয়ার চিন্তা করেছিল। শয়তানের প্রলোভনে পড়ে মানুষ ঈশ্বরের সমান হতে চেয়েছিল; তাই সে অবাধ্যতার পাপ করেছিল। আদিপুস্তুকের রচয়িতা মানুষের পতনকে এভাবে দেখেছেন :ঈশ্বর আদম-হবাকে একটি গাছের ফল খেতে নিষেধ করেছিলেন। সৃষ্টজীবসমূহ সৃষ্টিকর্তার প্রতি অনুগত ও বাধ্য থাকবে, এটাই তো স্বাভাবিক। তাঁর বিধান মেনে চলার মধ্যেই তো মানুষের স্বস্তি ও শান্তি। উদাহরণস্বরূপ, মাছ পানিতেই স্বস্তিবোধ করবে। কিন্তু সেই মাছ যদি দাম্ভিকতাবশত ডাঙায় বিচরণ করতে চায় তবে তার মরণ অবশ্যম্ভাবী। অনুরূপভাবে বায়ুমণ্ডলে বাস করে মানুষ যদি বায়ুকে এড়িয়ে চলতে চায় তবে তার মৃত্যু অনিবার্য। সেরূপ ঈশ্বর-মণ্ডলের বাইরে অর্থাত্ ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করল। সর্বজ্ঞ ঈশ্বর জানেন কিসে মানুষের মঙ্গল, আর কিসে অমঙ্গল। তাই ঈশ্বর মানুষের জন্য বিধান দিলেন; মানুষের হূদয়ের মধ্যেই ঈশ্বর সেই বিধান লিখে দিয়েছেন (যিরমিয় ৩১ :৩১)। সেই বিধান হচ্ছে ভালোবাসর বিধান। যে ভালোবাসে সে অনন্ত জীবন পেয়েই গেছে। কিন্তু শয়তান হবাকে বলল, 'ঈশ্বর জানেন, যেদিন তোমরা সেই গাছের ফল খাবে, সেইদিনই তোমাদের চোখ খুলে যাবে। তাতে ভালো-মন্দের জ্ঞান পেয়ে তোমরা ঈশ্বরের মতোই হয়ে উঠবে।' শয়তান আজও প্রতিনিয়ত মানুষের সেই প্রলোভন জাগিয়ে দেয়। এ কারণে সে ঈশ্বরের সমান হতে চায়, অসীম ক্ষমতাধর হতে চায়। সে এমন কিছু হতে চায় যা তার পক্ষে হওয়া সম্ভব নয় বা উচিত নয়। ভালোবাসার বিধান লঙ্ঘন করে মানুষ প্রকৃতপক্ষে তার মনুষ্যত্ব হারায়, সে পশুতুল্য হয়ে ওঠে। কিন্তু যা পশুসুলভ, তা কখনও মানবসুলভ হতে পারে না। সন্ত্রাস, দুর্নীতি, ঘুষ খাওয়া, চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই, ব্যাভিচার, শোষণ-নির্যাতন, শত্রুতা, ঘৃণা—এসব তো সবার কাছেই নিন্দনীয় ও সযত্নে পরিত্যাজ্য। কিন্তু সমাজের কোনো কোনো মহল বা শ্রেণীর মানুষ এগুলোকেই বীরত্ব বা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথ বা পন্থা হিসেবে বেছে নেয়। পাপ-স্বভাবের কারণে মানুষের মধ্যে কিছু মিথ্যা অহংকার ও উচ্চাভিলাষ কাজ করে। কিন্তু মানুষের সংস্পর্শে, মানুষের সাথে মানবিক আদান-প্রদানের ফলে মানুষের মধ্যে মানবসুলভ গুণাবলির বিকাশ ঘটে। মানুষ যদি সেটাকে মূল্য না দিয়ে সে যা দান হিসেবে পেয়েছে তা নিয়ে অহংকারী হয়ে ওঠে, এবং সবার কল্যাণের জন্য প্রদত্ত দানকে নিজের সম্পদ ভেবে তাকে পুঁজি করে অহংবোধে অন্ধ হয়ে পড়ে তবে তার পতন অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে। মানুষের মধ্যে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শ্রেষ্ঠত্বের সার্বজনীন কতগুলো মানদণ্ড বা মাপকাঠি আছে। তার মধ্যে প্রধান হচ্ছে দয়া-মায়া, করুণা, প্রেম-প্রীতি, ক্ষমা, ভালোবাসা, সহিষ্ণু, নম্রতা, পারর্থপরতা, দানশীলতা ইত্যাদি। এগুলোর বিরুদ্ধে কোনো বিধান নেই। রাষ্ট্র বা সমাজে যেসব নিয়ম-কানুন বা বিধি-বিধান তৈরি হয় তার সবই এগুলোর অধীন। এগুলো মানুষের চরিত্র ও ব্যক্তিত্বকে মহত্ ও মহীয়ান করে তোলে। কিন্তু যার মধ্যে বিকৃত বোধ জন্ম নেয় সে পাশবিকতাকেই বীরত্ব বলে মনে করে, যা ঘৃণ্য তাকে প্রশংসার যোগ্য বলে ভাবে। সুতরাং মাস্তান ও সন্ত্রাসীরা যে পেশিশক্তি ও পশুশক্তির পূজা করবে তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু ভদ্রলোক কখনও ঝগড়া-বিবাদ, দ্বন্দ্ব-কলহ, মারামারিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিতে পারে না। কেননা সে জানে হিংসাকে হিংসা দিয়ে, ক্রোধকে ক্রোধ দিয়ে, অহংকারকে অহংকার দিয়ে প্রশমিত বা নিরাময় করা যায় না। তারজন্য বিপরীতধর্মী শক্তি ও কার্যক্রমেরই প্রয়োজন হয়। এজন্যই ভগবান বুদ্ধ বলেছেন, 'অহিংসা পরম ধর্ম।' অধর্মকে ধর্ম দিয়ে, ঘৃণাকে ভালোবাসা দিয়ে, মিথ্যাকে সত্য দিয়ে জয় করা সম্ভব। অন্য কোনোভোবেই তা করা সম্ভব নয়। বড়দিন হচ্ছে উপর্যুক্ত অর্থে বড় হওয়ার দিন। সবদিনের সেরা সেই দিন। এদিন মানুষের সাতে মিলনৈর দিন, ক্ষমা করার দিন, নম্র হওয়ার দিন।

বড়দিনে তাই ভক্তদের হূদয়ানুভূতি ও গভীর আকুতি হলো এই, 'আমি দান চাই না, আমি দাতাকেই চাই।' অন্য সবাই দান নিয়ে ফিরে যাক, আমি শুধু 'ওই আসনতলের মাটির 'পরে লুটিয়ে র'ব। ...সবার শেষে যা বাকি রয় তাহাই লব। তোমার চরণ ধুলায় ধুলায় ধূসর হব' (রবীন্দ্রনাথ, স্বরবিতান ৩৭)। কেননা 'নিজেরে করিতে গৌরব দান নিজেরে কেবলই করি অপমান'।

বড়দিন হচ্ছে স্বর্গীয় সম্পদে, মনুষ্যত্বের মহিমায়, মিলন ও ভ্রাতৃত্বের সুষমায়, হূদয়বৃত্তিতে বড় হওয়ার দিন। নিজেকে ভুলে গিয়ে সবার সাথে মিলনের দিনই শুভ বড়দিন।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, 'সরকারের অনড় অবস্থানের কারণে সঙ্কটের সমাধান হয়নি।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
9 + 7 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
অক্টোবর - ১৮
ফজর৪:৪১
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫২
মাগরিব৫:৩৪
এশা৬:৪৫
সূর্যোদয় - ৫:৫৭সূর্যাস্ত - ০৫:২৯
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: ittefaq.adsection@yahoo.com, সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: ittefaqpressrelease@gmail.com
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :