The Daily Ittefaq
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৩, ১৭ পৌষ ১৪২০, ২৭ সফর ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা | ৩ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বছরের সবচেয়ে আলোচিত চরিত্র এরশাদ

 শামছুদ্দীন আহমেদ

২০১৩ সালের প্রায় পুরো সময়জুড়েই আলোচনায় ছিলেন জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ। বছরের গোড়ার দিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সঙ্গ ছাড়া না ছাড়ার প্রশ্নে বহুমুখী বক্তব্য দিয়ে গণমাধ্যমের শিরোনাম হন তিনি। মাঝামাঝি সময়ে এসে নিজেকে শিরোনাম করেন তার দল একা নির্বাচন করার কথা বলে। শেষভাগে আলোচনায় আসেন 'সব দল নির্বাচনে না গেলে জাপাও যাবে না' বলে ঘোষণা দিয়ে। আর বছরের শেষ দুই মাস নভেম্বর ও ডিসেম্বরে জন্ম দেন একের পর এক নাটকীয়তার। একতরফা নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা থেকে সরে এসে অনেকটা আকস্মিকভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। তার দল যোগ দেয় নির্বাচনকালীন সরকারেও। ঘোষিত তফসিলে জাপা নেতা-কর্মীরা মনোনয়নপত্রও দাখিল করেন। মনোনয়নপত্র দাখিলের পরদিনই আবার ইউটার্ন নেন এরশাদ। ঘোষণা দেন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর। একইসঙ্গে সরকার থেকে তার দলের নেতাদের পদত্যাগ এবং দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারেরও নির্দেশ দেন। ঘনঘন অবস্থান বদল আর উপর্যুপরি নাটকীয়তার মধ্যেই ১২ ডিসেম্বর নিজ বাসা থেকে র্যাবের গাড়িতে করে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি হন সাবেক এই সেনাশাসক। এখনও তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন, খেলছেন গল্্ফও। এরমধ্যে কাজী জাফর আহমদের নেতৃত্বে জাপা আবার ভেঙে টুকরো হয়েছে। সবমিলিয়ে ২০১৩ সালে জাপার রাজনীতি ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা না করা প্রশ্নে এরশাদের ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তনের কারণে বর্তমান নির্বাচন নিয়ে নানামুখী নতুন কিছু প্রশ্নেরও উদ্রেক হয়েছে। আকস্মিকভাবে তিনি ও তার দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার ঘোষণা দিয়ে অনেকগুলো মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে না নিলে ১৫৪টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ারও বিতর্কিত এই রেকর্ড সৃষ্টির ঘটনা ঘটত না বলে মনে করছেন অনেকে। তাদের মতে, সরকারকে কিছুটা বেকায়দায় ফেলে এবং নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে সিএমএইচে চিকিত্সাধীন 'অসুস্থ' এরশাদ এখন নিয়মিত গল্ফ খেলছেন। গত ১২ ডিসেম্বর এরশাদ তার বারিধারার বাসা থেকে র্যাবের গাড়িতে করে সরাসরি সিএমএইচে গিয়ে ভর্তি হন। গত ১৯ দিন ধরে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। তার খাবার যাচ্ছে বাসা থেকে। একাধিক মোবাইল ফোন সঙ্গে রেখে অনেকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও করছেন। স্ত্রী রওশন এরশাদ তার সঙ্গে সেখানে বৈঠক করেছেন। ভাই জিএম কাদের ও জাপা মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার একাধিকবার তার সঙ্গে হাসপাতালে দেখা করেন। স্ত্রী-কন্যাসহ সাক্ষাত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভীও। এছাড়া এরশাদের ব্যক্তিগত একাধিক কর্মচারীও হাসপাতালে যাতায়াত করছেন নিয়মিত। এরসঙ্গে নতুন মাত্রা যুক্ত হয় গত ২০ ডিসেম্বর শুক্রবার। ওইদিন সকালে সিএমএইচ থেকে কুর্মিটোলা গল্ফ ক্লাবে খেলতে যান তিনি। গল্ফ খেলার ফাঁকে সেখানে তিনি দলের মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনাও করেন। খেলা শেষে তিনি আবার সিএমএইচে ফিরে যান। একদিন পর রবিবার সকালেও একইস্থানে গল্ফ খেলতে যান তিনি। এদিনও রুহুল আমিন হাওলাদর সেখানে গিয়ে তার সঙ্গে আলাপ করেন। সর্বশেষ গত ২৮ ডিসেম্বরও তিনি একই স্থানে গলফ খেলেছেন। 'অসুস্থ' এরশাদের হাসপাতাল থেকে গল্ফ খেলতে যাওয়ার খবর জাপাসহ নানা মহলেই কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।

এ ব্যাপারে সম্প্রতি যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেছেন, 'এরশাদ সাহেব অসুস্থ কিনা, সরকারের একজন মন্ত্রী হিসেবে সেটি আমি কীভাবে বলি। তবে গল্ফ খেলা তার চিকিত্সারই অংশ।' চলতি বছরের ১৬ নভেম্বরের আগ পর্যন্ত প্রায় তিন মাস ধরে এরশাদ বলে আসছিলেন, বিএনপিসহ সব দল অংশ না নিলে জাপাও নির্বাচনে যাবে না। বিরোধী দলবিহীন কোনো একতরফা বা পাতানো নির্বাচনে গেলে দেশের মানুষ তাকে বেইমান বলবে, থুথু মারবে—এমন কথাও বলেন তিনি। ১৭ নভেম্বর দেখা গেল, জাপা নেতারাও নির্বাচনকালীন সরকারে যোগ দিচ্ছেন। ১৮ নভেম্বর বিকেলে নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন জাপার তিন নেতা—রওশন এরশাদ, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও রুহুল আমিন হাওলাদার। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন দুই নেতা—মুজিবুল হক চন্নু ও সালাম ইসলাম। আর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন বাবলু। এছাড়া এরশাদের ভাই জিএম কাদের আগে থেকেই মন্ত্রিসভায় ছিলেন। জাপা নেতা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার দিন সকালে সংবাদ সম্মেলনে এরশাদ নাটকীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। আগের বক্তব্য থেকে সরাসরি ইউটার্ন নিয়ে এদিন তিনি বলেন, 'একথা সত্য যে, আমি বলেছিলাম যে, বিএনপি না গেলে জাপা সর্বদলীয় সরকারেও যাবে না, নির্বাচনেও যাবে না, পাতানো নির্বাচনে গেলে জনগণ আমাদের থুথু মারবে, বেইমান বলবে। কিন্তু এখন মনে হলো, নির্বাচনে না গেলে সরকার পরিবর্তন হবে কীভাবে। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, নির্বাচনে যাব। নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। দেশের যে অবস্থা, তাতে নির্বাচনে না গেলে মানুষ শুধু আমাকেই নয়, সব দলকেই থুথু মারবে, সব রাজনীতিবিদকে ঘৃণা করবে।'

নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় এবং নির্বাচনকালীন সরকারে যোগ দেওয়ায় বিএনপিসহ ১৮ দলের নেতাদের কটাক্ষের মুখে পড়েন এরশাদ। দেশের একাধিক স্থানে তার কুশপুত্তলিকা পোড়ায় ছাত্রদল, থুথু ছিটানো হয় তার ছবিতে, কোথাও কোথাও ঝাড়ু মিছিলও করা হয়। রুহুল আমিন হাওলাদারসহ জাপার কয়েক নেতার বাড়ির সামনে বিস্ফোরিত হয় ককটেল। এসব ঘটনার জবাবে ২৩ নভেম্বর ঢাকায় যুব সংহতি আয়োজিত এক সমাবেশে বিএনপির উদ্দেশে এরশাদ বলেছিলেন, 'আমাকে হুমকি দেবেন না। বোমা মেরে আমাদের অহেতুক ভয় দেখাবেন না। ইট মারলে পাটকেলটি খেতে হয়। সেই পাটকেল মারার শক্তি আমাদের আছে। সাহস থাকলে সামনে আসুন। আমি সেনাপতি ছিলাম, আমি সৈনিক। কাকে ভয় দেখান, কিসের ভয় দেখান।'

সেই এরশাদ আবার ইউটার্ন নেন ৩ ডিসেম্বর। আগেরদিন ২ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষদিন। ২৪৮টি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন জাপা নেতা-কর্মীরা। ৩ ডিসেম্বর অনেকটা আকস্মিকভাবে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দেন এরশাদ। এদিন সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, 'আমি বলেছিলাম সব দল নির্বাচনে না গেলে আমরাও যাব না। সব দল আসেনি। সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো পরিবেশও নেই। তাই আমিও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম। এর মাধ্যমে আমি আমার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলাম। যদি পরিবেশ হয় এবং সবাই আসে, তাহলে আমরাও নির্বাচনে যাব।' এই ঘোষণা দিয়ে ২৬ ঘণ্টার জন্য লাপাত্তা হয়ে যান জাপা চেয়ারম্যান। পরদিন ৪ ডিসেম্বর বিকেল তিনটায় তিনি বারিধারার বাসায় ফেরেন। সোয়া চারটার সময় বৈঠক করেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিংয়ের সঙ্গে। বৈঠক শেষে এরশাদ ঘোষণা দেন, জাপা নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায়ও থাকছে না। সরকারে থাকা দলের ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও একজন উপদেষ্টাকে অবিলম্বে পদত্যাগের নির্দেশ দেন তিনি। একইসঙ্গে ২৪৮টি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী দলীয় প্রার্থীদের দ্রুত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারেরও নির্দেশ দেন। এরপর ১৭৩টি আসনে জাপা প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখের (১৩ ডিসেম্বর) আগেরদিন রাতে র্যাবের গাড়িতে সিএমইএইচে যান এরশাদ।

বছরজুড়ে যেভাবে আলোচনায় এরশাদ

২৯ জানুয়ারি :জাপা চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য এদিন আরও ৬১ জনকে দল মনোনীত 'প্রার্থী' বলে ঘোষণা করেছেন। আগেরদিন ৩২ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। এ নিয়ে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ৯৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেন এরশাদ। নির্বাচনের ১১ মাস আগেই, গত ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ২২৫ আসনে দলীয় প্রার্থীর আগাম নাম ঘোষণা করেন এরশাদ।

২৬ সেপ্টেম্বর :২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটে জেলা জাপার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে নির্বাচনে বিএনপি না গেলে জাপাও অংশ নেবে না বলে ঘোষণা দেন এরশাদ। সিলেট থেকে পরদিন ২৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে ঢাকায় ফিরে বিকেলেই তার কণ্ঠে ভিন্ন সুর। 'বিএনপি নির্বাচনে না এলে আমরাও নির্বাচনে অংশ নেব না, কারণ এ রকম নির্বাচনে অংশ নিলে আমরা দালালে পরিণত হবো, আমরা দালাল হতে চাই না, ধ্বংস হয়ে যাব, তবুও দালাল হবো না।' এই বক্তব্য দেওয়ার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যেই সুর পাল্টে তিনি বলেন, 'নির্বাচন হলে জাতীয় পার্টি অংশ নেবে।'

১৩ নভেম্বর :কয়েকটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, সব দল নির্বাচনে না গেলে তার দলও অংশ নেবে না। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী নির্বাচনকালীন 'সর্বদলীয়' সরকারেও অংশ নেবে না জাপা।

১৬ নভেম্বর :রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় যুব সংহতির কাউন্সিল অনুষ্ঠানে এরশাদ বলেন, 'আমরা আর মহাজোটে নেই। মহাজোটে থেকে নির্বাচন করলে লোকে বেইমান বলবে। বেইমান হয়ে মরতে চাই না। আবার নির্বাচনে অংশ না নিলে দেশের ভবিষ্যত্ অনিশ্চিত। তাই আমরা একটা নির্বাচন করব।'

১৮ নভেম্বর :এদিন নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। বিকেলে শপথ নেন জাপা নেতারাও। এর আগে সকালে সংবাদ সম্মেলনে এরশাদ বলেন, 'হ্যাঁ আমি বলেছিলাম বিএনপি না গেলে জাপা সর্বদলীয় সরকারেও যাবে না, নির্বাচনেও যাবে না, পাতানো নির্বাচনে গেলে জনগণ আমাদের থুথু মারবে, বেইমান বলবে, কিন্তু আমি বেইমান হয়ে মরতে চাই না। কিন্তু এখন বলব, নির্বাচনে না গেলে সরকার পরিবর্তন হবে কীভাবে। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, নির্বাচনে যাব। নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। দেশের যে অবস্থা, তাতে নির্বাচনে না গেলে মানুষ শুধু আমাকেই নয়, সব দলকেই থুথু মারবে, সব রাজনীতিবিদকে ঘৃণা করবে।'

২০ নভেম্বর :নির্বাচন উপলক্ষে রাজধানীর বনানী কার্যালয়ে জাপার মনোনয়ন ফরম বিক্রি উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের এরশাদ বলেন, 'আমি আমার দলের রাজনীতি করি। অন্য কারো রাজনীতি করি না। সুতরাং কে কী বলল তাতে কিছু যায় আসে না। নির্বাচন না করলে দল ও কর্মী থাকে না। আমাকে তো দল টিকিয়ে রাখতে হবে, কর্মীদের সক্রিয় রাখতে হবে। মানুষও ভোটের জন্য প্রস্তুত। তাই নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিএনপিও আসবে বলে এতদিন অপেক্ষা করেছি। আর অপেক্ষা করতে পারলাম না। টাইম অ্যান্ড টাইড ওয়েট ফর নান। আমারও সময় নেই।'

২১ নভেম্বর :এরশাদ তার বনানী কার্যালয়ে জাতীয় ছাত্রসমাজে যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে তার দল ক্ষতিগ্রস্ত হতো। অন্য দলের জন্য তিনি নিজের দলের ক্ষতি করতে পারেন না। সে কারণে মহাজোট ছেড়ে এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাছাড়া গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থেই তিনি নির্বাচনে যাচ্ছেন।

২৩ নভেম্বর :জাতীয় যুবসংহতির উদ্যোগে রাজধানীর বিজয়নগরে জাপার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জাপা চেয়ারম্যান বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, 'আমাকে হুমকি দেবেন না। বোমা মেরে আমাদের অহেতুক ভয় দেখাবেন না। ইট মারলে পাটকেলটি খেতে হয়। সেই পাটকেল মারার শক্তি আমাদের আছে। সাহস থাকলে সামনে আসুন। আমি সেনাপতি ছিলাম, আমি সৈনিক। কাকে ভয় দেখান, কিসের ভয় দেখান। বিএনপিকে নির্বাচনে আসতে হবে। আমার মন বলছে, আসতে তারা বাধ্য হবে। কারণ ক্ষমতায় যেতে হলে নির্বাচন ছাড়া আর কোনো পথ নেই।'

৩ ডিসেম্বর :এদিন ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের পরদিন। এদিন এরশাদ বনানীতে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে অনেকটা আকস্মিকভাবে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, আমি বলেছিলাম সব দল নির্বাচনে না গেলে আমরাও যাব না। সব দল আসেনি। সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো পরিবেশও নেই। তাই আমিও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম। এর মাধ্যমে আমি আমার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলাম। যদি সবাই আসে, তাহলে আমরাও নির্বাচনে যাব।'

৪ ডিসেম্বর (বিকেল) :নিজের বারিধারার বাসায় ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিকেলে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এরশাদ নির্বাচনকালীন সরকারে থাকা দলের ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও একজন উপদেষ্টাকে অবিলম্বে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে ২৪৮টি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী দলীয় প্রার্থীদের দ্রুত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারেরও নির্দেশ দেন তিনি।

৪ ডিসেম্বর (রাত) :এরশাদের বাড়ির চারপাশ ঘিরে রাখে পুলিশ। এর মধ্যে রাত ১১টা ১০ মিনিটে রাজধানীর বারিধারায় 'প্রেসিডেন্ট পার্ক' ভবনের পঞ্চম তলায় নিজের বাসা থেকে নিচে নেমে এসে সাংবাদিকদের উদ্দেশে এরশাদ বলেন, 'সরকার আমার সঙ্গে কোনো চালাকির চেষ্টা করলে, গ্রেপ্তার করা হলে আমি নিজেকে শেষ করে দেবো। আমার চারটি পিস্তল লোড করা আছে। সেগুলো দিয়ে সুইসাইড করব।'

৫ ডিসেম্বর :নির্বাচনকালীন সরকার এবং ঘোষিত তফসিলের নির্বাচন থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আর কোনো সুযোগ নেই বলে আবারও জানান এইচএম এরশাদ। রাত পৌনে ১০টার দিকে বাসার নিচে নেমে এসে সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, 'সরকার থেকে নানা চাপ আসছে। চাপ তো আসবেই। তবুও কিছু করার নেই। প্রয়োজনে মরব, তবু মাথানত করব না। কারণ জাপা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেখান থেকে সরে এলে মৃত্যু ছাড়া কোনো পথ নেই।'

৭ ডিসেম্বর :সৃষ্ট সংকট উত্তরণে জাপার জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য রওশন এরশাদকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, এমন খবরকে 'সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রািন্তিকর' বলে মন্তব্য করেন এরশাদ। তিনি (এরশাদ) বলেছেন, 'আমিই জাপার আসল চেয়ারম্যান। আমি এইচএম এরশাদ জাপার চেয়ারম্যান আছি, থাকব। আমি এখনও জীবিত। যতদিন জীবিত আছি, ততদিন আমিই চেয়ারম্যান।'

৮ ডিসেম্বর :নির্বাচনকালীন সরকারে থাকা জাপার মন্ত্রী-উপদেষ্টাদের পদত্যাগপত্র ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে বলে জানান দলটির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। তিনি সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যোগাযোগ করেও তার সময়সূচি না পাওয়ায় ডাকযোগে পদত্যাগপত্র পাঠানো হয়েছে। এরপর রাত সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে বৈঠক করেন রুহুল আমিন। বঙ্গভবন থেকে বের হয়ে তিনি সাংবাদিকদের জানান, আজ সোমবার অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিসভার বৈঠকেও যাবেন না জাপার মন্ত্রী-উপদেষ্টারা।

১২ ডিসেম্বর :রাত পৌনে ১২টার দিকে র্যাবের গাড়িতে করে সিএমএইচে গিয়ে ভর্তি হন এরশাদ। হাসপাতালে তার সঙ্গে সাক্ষাতের পর ওইদিন রাত ২টার সময় জাপা মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, 'তিনি অসুস্থ, তার চিকিত্সা চলছে।' র্যাবের পক্ষ থেকেও বলা হয়, 'এরশাদ আটক নন, অসুস্থ বোধ করায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।'

১৩ ডিসেম্বর :নিজের বিশেষ উপদেষ্টা ববি হাজ্জাজের মাধ্যমে পাঠানো বিশেষ বার্তায় এরশাদ বলেন, 'আমি অসুস্থ নই। গ্রেপ্তারের জন্য চিকিত্সার নামে আমাকে হাসপাতালে আটকে রাখা হয়েছে।' এদিন সকালে এরশাদের সঙ্গে সিএমএইচ-এ দেখা করার পর তার সহোদর ও জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য জিএম কাদের বলেছেন, নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি (এরশাদ) এখনও অটল রয়েছেন।

এদিকে, গত ২৮ নভেম্বর জাপা চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ ও দলের জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহমদ পরস্পরকে দল থেকে পাল্টাপাল্টি বহিষ্কার করেন। গত ২০ ডিসেম্বর কাউন্সিলের মাধ্যমে কাজী জাফরকে চেয়ারম্যান এবং গোলাম মসীহকে মহাসচিব করে নতুন জাতীয় পার্টি গঠন করা হয়েছে।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'বিরোধীদল সরকারের বিরুদ্ধে নয়, জনগণের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
5 + 9 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
মার্চ - ৩১
ফজর৪:৩৫
যোহর১২:০৩
আসর৪:৩০
মাগরিব৬:১৭
এশা৭:৩০
সূর্যোদয় - ৫:৫২সূর্যাস্ত - ০৬:১২
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: ittefaq.adsection@yahoo.com, সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: ittefaqpressrelease@gmail.com
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :