The Daily Ittefaq
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৩, ১৭ পৌষ ১৪২০, ২৭ সফর ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা | ৩ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

থাইল্যান্ডের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত

 তালেব রানা

নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসার দুই বছর পার করতে না করতেই বিরোধীদলের বিক্ষোভের মুখে পতন হলো থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রার সরকারের। গত ৯ ডিসেম্বর পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এর আগের দিন বিরোধীদলের এমপিরা পার্লামেন্ট থেকে পদত্যাগ করলে পার্লামেন্ট বহাল রাখা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। তাই পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে ইংলাক সিনাওয়াত্রা চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনের উদ্দেশ্যে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি আগাম সাধারণ নির্বাচনের ডাক দিয়েছেন। তবে বিরোধীদল এ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। তাদের দাবি ইংলাক সিনাওয়াত্রাকে পদত্যাগ করে একটি অনির্বাচিত সরকারের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে। নির্বাচনের আগে জাতীয় সংস্কার করতে হবে। তবে নির্দলীয় একটি সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করলেও জাতীয় সংস্কার কাউন্সিল গঠন করার কথা জানিয়েছেন ইংলাক। গত ২৫ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, এখন সময় হয়েছে একটি পদ্ধতি তৈরি করার। যা দেশকে অগ্রগতির দিকে নিয়ে যাবে এবং জাতীয় সংস্কার ত্বরান্বিত করবে। এ লক্ষ্য পূরণে ওই কাউন্সিল সংবিধান সংশোধন, অর্থনৈতিক ও আইনি সংস্কার এবং দুর্নীতি রোধের বিষয়ে সুপারিশমালা তৈরি করবে। তবে ইংলাকের পদত্যাগের দাবিতে চলা আন্দোলনের নেতা সুথেপ থাগসুবান তাত্ক্ষণিকভাবে এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, আগে সংস্কার করতে হবে। এরপর নির্বাচন।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রার ভাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা ২০০৬ সালে এক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন। এর পর থেকে দেশটি দফায় দফায় রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে পড়ে। ২০১০ সালে থাইল্যান্ডে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ রাজনৈতিক সংঘাত হয়। এতে অন্তত ৯০ জন প্রাণ হারায়। ২০১১ সালের জুলাইতে ইংলাকের নেতৃত্বে ফিউ থাই পার্টি (পিটিপি) সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় আসে। সর্বশেষ দুই বছর পার হতে না হতেই বিরোধীদল ডেমোক্রেটিক পার্টি সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে বিক্ষোভ শুরু করে। যার ফলে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন ইংলাক। যদিও এর আগে একটি অনাস্থা ভোটে টিকে গিয়েছিল তার সরকার। এবারের বিক্ষোভের মূল কারণ থাকসিনের বোন ইংলাকের ক্ষমতাসীন পিটিপির বিতর্কিত বিল পাসের উদ্যোগ। রাজনৈতিক দায়মুক্তির বিলটি পাস হলে দলটির সাবেক নেতা থাকসিন সিনাওয়াত্রার নির্বাসন থেকে দেশে ফিরে আসার পথ উন্মুক্ত হতো। ওই বিতর্কিত বিলের কারণে বিরোধীদলসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। পরে থাইল্যান্ডের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেট বিলটি প্রত্যাখ্যান করেছে। কিন্তু তার পরও সরকারবিরোধী আন্দোলন থামছে না। তাদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী ইংলাক আসলে তার ভাই থাকসিন সিনাওয়াত্রা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। থাকসিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি আর ক্ষমতার অপব্যবহার করার জন্য মামলা রয়েছে। এই মামলা এবং শাস্তির হাত থেকে রক্ষা পেতে তিনি বর্তমানে দুবাইয়ে স্বেচ্ছানির্বাসনে আছেন। তবে এ ঘটনার পর থাকসিন সিনাওয়াত্রা জানিয়েছেন, তিনি আর রাজনীতিতে ফিরতে চান না। দলের পরামর্শে সবসময়ই পাশে থাকতে চান। সরকারবিরোধী আন্দোলনের মুখপাত্র আকানাত প্রমফানের বক্তব্য হলো, সংস্কারের বিষয়ে ইংলাক মোটেও আন্তরিক নন। তার উচিত পদত্যাগ করে সংস্কার কাজ শুরুর সুযোগ দেওয়া। এ দাবি আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। এদিকে বিরোধীদের প্রতিহত করতে ২৫ ডিসেম্বর ইংলাকের মন্ত্রিসভা বিশেষ নিরাপত্তা আইনের মেয়াদ আরও দুই মাসের জন্য বাড়িয়েছে। ওই আইনে পুলিশ অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করতে পারবে। এছাড়া রাজপথে সক্রিয় আছে সরকার সমর্থকরাও।

এ অবস্থায় সংকটের উত্তরণ কীভাবে হতে পারে? তা বুঝতে একটু ইতিহাস ঘাটতে হবে। ১৯৩২ সালে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর থাইল্যান্ডে এ পর্যন্ত ১৮টি অভ্যুত্থানের উদ্যোগ হয়েছে। যার মধ্যে ১১টি সফল হয়েছে। বর্তমান বিক্ষোভে সেনাবাহিনীর সমর্থনের যৌক্তিক কারণ রয়েছে। ইতোমধ্যেই পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন সেনাপ্রধান। অনেকেই এই পরিস্থিতিতে সেনা অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা দেখছেন। বিক্ষোভকারীরা সেনাবাহিনীর প্রধান সদর দপ্তর ঘেরাও করতে গেলে তাদের সেনাদপ্তরের মূল ফটক খুলে দেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীরা ভেতরে ঢুকে সেনাবাহিনীর সচিবের সাথে দেখা করে তার কাছ থেকে আন্দোলনে সমর্থন চেয়ে একটি অনুরোধপত্র হস্তান্তর করে। গত ৮০ বছরে থাইল্যান্ডে ১৮ বার সংবিধান তৈরি বা সংস্কার করা হয়েছে। পর্দার আড়াল থেকে যে শক্তিগুলো দেশটির ক্ষমতার কলকাঠি নাড়ে সেনাবাহিনী তাদের অন্যতম। পিটিপির বর্তমান সরকারের ২০১৫ সালে নির্বাচন দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এ সরকার মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেনি। গণতান্ত্রিক যাত্রায় ইংলাক সরকার থমকে গেছে। যদিও গত পাঁচটি নির্বাচনেই তাদের দল জয়ী হয়েছে। এখন সময় বলে দেবে কতটা স্থিতিশীল হবে থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক পরিবেশ। গণতন্ত্র নাকি স্বৈরতন্ত্রকে বরণ করবে দেশের জনগণ।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'বিরোধীদল সরকারের বিরুদ্ধে নয়, জনগণের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
3 + 8 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
মে - ১
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:৩০
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৪সূর্যাস্ত - ০৬:২৫
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: ittefaq.adsection@yahoo.com, সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: ittefaqpressrelease@gmail.com
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :