The Daily Ittefaq
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৩, ১৭ পৌষ ১৪২০, ২৭ সফর ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা | ৩ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

কাদের মোল্লার ফাঁসি

মানবতাবিরোধী বিচার কার্যকর শুরু

 তালেব রানা

বিজয়ের মাসে এক যুদ্ধাপরাধীর সাজা কার্যকর হওয়া বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অনন্য ঘটনা। এই ফাঁসি কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে ৪২ বছরের অতৃপ্তি ঘুচল বাঙালি জাতিরও। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় মধ্য দিয়ে জাতির দায়মুক্তির সূচনা হয়েছে। ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে দেশের স্বাধীনতাপ্রেমী জনগণ ও শহীদ পরিবার। তবে বিক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও তার সমর্থকরা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জামায়াত নেতা কাদের মোল্লাকে ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর যে সহিংসতা ঘটনার সৃষ্টি হয়েছিল ফাঁসি কার্যকরেও তার পুনারাবৃত্তি হয়। এখনও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েকজনের আপিল আবেদন সর্বোচ্চ আদালতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আরও কয়েকজন বিচার চলছে। একজনের মামলার রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ রয়েছে।

যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় আপিল বিভাগ খারিজ করে মুত্যদণ্ড দেওয়ার পর গত ১২ ডিসেম্বর রাত ১০টা এক মিনিটে কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। ওইদিন সকালে আসামিপক্ষের রিভিউ দাখিলের অনুমতির আবেদন খারিজ করে দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর আগে ১০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার রায় কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আপিল বিভাগের চেম্বার জজের কাছে মৃত্যুদণ্ডাদেশের উপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করে কাদের মোল্লার আইনজীবীরা। চেম্বার জজ আদালত স্থগিতাদেশ দিলে পরে দুই দিন শুনানির পর রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ। ফলে ফাঁসি কার্যকরের দ্বার উন্মুক্ত হয়। যার মাধ্যমে একাত্তরের বর্বরতার বিচারহীনতার কলঙ্ক থেকে মুক্তি মিলেছে জাতির। আর দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুদ্ধাপরাধে কারো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। ২০১০ সালের মার্চে একাত্তরে সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচারের উদ্দেশ্যে গঠিত হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর প্রায় সাড়ে তিন পর পর কারো বিচার শেষে রায় কার্যকর হলো।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আবদুল কাদের মোল্লাকে প্রথমে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। পরে এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র এবং আসামিপক্ষ আপিল করে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কাদের মোল্লার আপিল খারিজ করে এবং রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন গ্রহণ করে কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এরপর ৫ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের সেই রায়ের ৯৭০ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশ করা হয়। ৮ ডিসেম্বর কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল।

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং কাদের মোল্লার ফাঁসির রায়ের সঙ্গে তরুণদের আন্দোলনের ঘটনা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পর আরব বসন্তের আন্দোলনের আদলে গড়ে ওঠে গণজাগরণ মঞ্চ। এই গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের মুখে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে উভয়পক্ষের আপিলের সমান সুযোগ দিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩ সংশোধন করে সরকার। ছয় মাসের আইনি লড়াই শেষে ১৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ চূড়ান্ত রায়ে কাদের মোল্লার ফাঁসির আদেশ দেন।

২০১০ সালের ২৫ মার্চ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত মোট নয়টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে তিনটি ও ট্রাইব্যুনাল-২ থেকে ছয়টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় কাদের মোল্লার শাস্তি কার্যকর হয়েছে। বাকিগুলোতে রায়ে জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কৃত রুকন পলাতক আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার, নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং পলাতক চৌধুরী মুঈনুদ্দিন ও আশরাফুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। এ ছাড়া জামায়াতের সাবেক আমীর গোলাম আযমের ৯০ বছর ও বিএনপি নেতা আব্দুল আলীমের আমৃত্যু কারাদণ্ড হয়েছে। এদের মধ্যে বাচ্চু রাজাকার, মুঈনুদ্দিন ও আশরাফুজ্জামান খান ছাড়া বাকি সকলেই এ রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করেছেন। বর্তমানে আপিল বিভাগে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আপিলের শুনানি চলছে। আর ট্রাইব্যুনালে রায় ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামীর। এছাড়া দুই যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঁচজনের বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। ৪২ বছর ধরে যুদ্ধাপরাধীর বিচারের প্রত্যাশায় ছিল বাঙালি জাতি। ২০১৩ সালে সে প্রত্যাশা পূরণের যাত্রা শুরু। তাই এতদিন পর অপরাধীর শাস্তি ছিল চলতি বছরে বাংলাদেশের বিচারিক অঙ্গনের সবচেয়ে বড় ঘটনা।

ছবি সুবীর কুমার

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'বিরোধীদল সরকারের বিরুদ্ধে নয়, জনগণের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
8 + 8 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ২২
ফজর৪:৫৯
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৮সূর্যাস্ত - ০৫:১০
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: ittefaq.adsection@yahoo.com, সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: ittefaqpressrelease@gmail.com
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :