The Daily Ittefaq
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৩, ১৭ পৌষ ১৪২০, ২৭ সফর ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা | ৩ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বছরজুড়েই আয়োজন ছিল নির্বাচনের

 সাইদুর রহমান

৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। গেল বছরজুড়েই এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে ছিল রাজনৈতিক উত্তাপ। গত বছর দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক জোটের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির প্রায় পুরোটাই ছিল নির্বাচন নিয়ে। ফলে বছরজুড়েই নির্বাচন কমিশন ছিল আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে। নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণেই ঘোষণা করতে হয়েছে নির্বাচনের তফসিল। সব ভোটার ও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে নির্বাচন আয়োজনের আগ্রহ থাকলেও তা পূরণ হলো না কমিশনের। কারণ নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট বর্জন করেছে নির্বাচন। গত ২৫ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার পর থেকে টানা আন্দোলনরত রয়েছে বিরোধী জোট। নির্বাচনে ১৫৪ জন প্রার্থীর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়া ছিল নির্বাচনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা।

দেশের মোট ভোটার সংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন না। বাকি অর্ধেক ভোটার ওই সুযোগ পেলেও তাদের কত ভাগ ভোটকেন্দ্রে যাবেন তা নিয়ে নির্বাচন কমিশন চিন্তিত। ২০১২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিশন গঠিত। জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি সকল প্রস্তুতি সত্ত্বেও সরকারের আগ্রহ না থাকায় নব-গঠিত ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তফসিল ঘোষণা করতে পারেনি ইসি। ওই করতে না পারায় সমালোচিত হতে হয় কমিশনকে। এরপর জুন-জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত ৫ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কমিশনের ভাবমূর্তি কিছুটা রক্ষা পেলেও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে '১৫৪' অংকটি কমিশনকে বিব্রত করেছে।

নির্বাচনে ৯ কোটি ১৯ লাখ ৬৬ হাজার ২৯০ জন ভোটারের ভোটদানের কথা থাকলেও সেই সুযোগ পাচ্ছেন না তারা। ঘোষিত তফসিলে ভোট অনুষ্ঠানের আগেই ৩শ আসনের মধ্যে ১৫৪ জন সংসদ সদস্য প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে অবশিষ্ট ১৪৬ আসনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পাচ্ছেন ৪ কোটি ৩৬ লাখ ৮৫ হাজার ৬৭০ জন। অর্থাত্ ৪ কোটি ৮৩ লাখ ভোটারের আর ভোট প্রদান করা লাগবে না। জীবনে প্রথম ভোট দেবেন এমন প্রায় ১ কোটি নতুন ভোটারও ভোটারাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আর পাঁচটি জেলায় এবার নির্বাচন করা লাগছে না। নির্বাচনকে নির্বিঘ্ন করতে নির্বাচন কমিশন ৫৯টি জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়ন করেছে।

রেকর্ডময় ১০ম সংসদ নির্বাচন

রেকর্ডময় হয়ে যাচ্ছে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একক প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত প্রার্থীর সংখ্যা, সবচেয়ে কম সংখ্যক প্রার্থী ও দলের অংশগ্রহণ, একক দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে এই নির্বাচন। ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৪টি আসনে একক প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার নতুন রেকর্ড হয়েছে। এর আগে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ৪৯ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারির বাতিল হওয়া নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটের ২৩ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। নবম সংসদের ওই নির্বাচিতরা আর শপথ গ্রহণের সুযোগ পাননি। বহুল আলোচিত ১/১১-এর মাধ্যমে সেনাসমর্থিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর ওই নির্বাচন বাতিল করা হয়। এর আগে ১৯৭৩ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সময় ১১ জন, ১৯৭৯ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সময়ে ১১ জন, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এইচ এম এরশাদের সময়ে ১৮ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তবে ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে একজন প্রার্থীও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হননি। বর্তমান একতরফা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ প্রাথমিকভাবে সর্বাধিক সংখ্যক ১শ'২৭টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। এছাড়া জাতীয় পার্টির (এরশাদ) ২১টি, ওয়ার্কার্স পার্টির দু'টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-ইনু) তিনটি এবং জাতীয় পার্টি (জেপি) (মঞ্জু) একজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলেছেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল ৪১টি রাজনৈতিক দল। এবার অংশ নিচ্ছে ৪১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে ১২টি। তখন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন ১ হাজার ৪শ'৫০ জন প্রার্থী এবং মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ১ হাজার ৯শ' ৮৭ জন প্রার্থী।

হোঁচট খেল ১ কোটি নতুন ভোটার

শুরুতেই হোঁচট খেল ১ কোটির অধিক নতুন ভোটার। জীবনে প্রথমবার পাওয়া ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন না এদের মধ্যে অন্তত ৬১ লক্ষাধিক ভোটার। অন্যদিকে বড় দলগুলোর অংশগ্রহণ না থাকায় নির্বাচনের আসল স্বাদ পাচ্ছেন না আরও অন্তত ৪৭ লক্ষাধিক ভোটার। এ অবস্থায় নতুন ভোটারদের অনেকেই আগামী নির্বাচনে ভোটদান থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত নির্বাচনে সারাদেশে মোট ভোটার ছিল ৮ কোটি ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৩ জন। এবার ভোটার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯ কোটি ১৯ লাখ ৬৬ হাজার ২৯০ জন। নতুন ভোটার বেড়েছে ১ কোটি ৮ লাখ ৮০ হাজার মতো।

আগামী নির্বাচনে হার-জিতের বড় ফ্যাক্টর ধরা হচ্ছিল এই ১ কোটির অধিক নতুন ভোটারকে। যারা গতানুগতিক বুলিসর্বস্ব রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। অতীতের চেয়ে এ প্রজন্ম সচেতন ও চিন্তায় বাস্তবমুখী। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ১৫৪টি আসনে মোট ভোটার ৪ কোটি ৮৩ লাখ ভোটারের মধ্যে ৬১ লাখ ৭১ হাজার ৫৪১ জন নতুন ভোটার, যারা এবার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন না। গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিল ৩ কোটি নতুন ভোটার। দিনবদলের সনদ আর ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়ে তখন তরুণ ভোটারদের মন কাড়া হয়েছিল।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'বিরোধীদল সরকারের বিরুদ্ধে নয়, জনগণের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
2 + 1 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ২২
ফজর৪:৫৯
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৮সূর্যাস্ত - ০৫:১০
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: ittefaq.adsection@yahoo.com, সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: ittefaqpressrelease@gmail.com
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :