The Daily Ittefaq
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৩, ১৭ পৌষ ১৪২০, ২৭ সফর ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা | ৩ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আর্থিক টানাপোড়নের বছর

 রেজাউল হক কৌশিক

বছরের শুরুটা ভালোই ছিল। মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত অর্থনীতির সূচকগুলোও ছিল ইতিবাচক ধারায়। পরে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক সহিংসতা শুরু হয় তাতে নেতিবাচক হয়ে পড়ে প্রায় সবগুলো সূচক। অর্থনীতিবিদ ও উদ্যোক্তারা বলছেন, স্বাধীনতার পরে অর্থনীতির জন্য এমন দুঃসময় আর আসেনি। গত বছরের খতিয়ান দেখলে দেখা যাবে, বছরজুড়ে পুঁজিবাজারের অব্যাহত দরপতন, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান কমে যাওয়া, রেমিট্যান্স প্রভাবে ভাটা, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে হতাশার পাল্লাই ছিল ভারী। এছাড়া ২০১৩ সালে ব্যাংকিং ব্যবসাসহ সবধরনের ব্যবসায়ে মন্দা, নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান না হওয়া, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে প্রবৃদ্ধি না হওয়ার বেদনাও ছিল। একইসঙ্গে গার্মেন্ট খাতে অস্থিরতা, কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় না হওয়া ছিল গেল বছরের নেতিবাচক দিক। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি না হলে দেশি-বিদেশি কেউ এদেশে বিনিয়োগ করবে না। আর বিনিয়োগ না হলে দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়বে। এমন পরিস্থিতিতে শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা টিকে থাকাকে চ্যালেঞ্জ মনে করছেন। এসব হতাশার মধ্যে গত বছর রফতানি খাতের প্রবৃদ্ধি ভালো হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও অর্থনীতিকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। ২০১৩ সাল কেমন গেল এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, 'সার্বিকভাবে অর্থনৈতিক দৃষ্টিতে গত বছরটা বেশ খারাপ গেছে। অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকের প্রবৃদ্ধি কম হয়েছে। সরকারের রাজস্ব আহরণ ভীষণভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এজন্য বাজেটের নির্ধারিত প্রবৃদ্ধির সাত দশমিক দুই শতাংশ অর্জিত হবে না। অনেকটা পিছিয়ে থাকবে। পাঁচ শতাংশ বা সাড়ে পাঁচ শতাংশ সর্বোচ্চ হলে হতে পারে। এর ফলে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়নও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আর ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যআয়ের দেশ হওয়ার যে স্বপ্ন রয়েছে তা থেকে অনেক দেশ অনেক দূরে সরে যাচ্ছে।'

উত্পাদন ব্যাহত :রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে উত্পাদন ব্যাহত হওয়ায় মোট জাতীয় উত্পাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা সাত দশমিক দুই শতাংশ ধরা হয়েছে। কিন্তু এ সময়ে দেশে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হওয়ার ফলে কাঙ্ক্ষিত উত্পাদনও হয়নি। এজন্য চলতি অর্থবছর শেষে জিডিপি প্রবৃদ্ধি পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ শতাংশে নেমে আসতে পারে। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবি'র মতো উন্নয়ন সহযোগী আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো প্রবৃদ্ধি ছয় শতাংশের নিচে থাকবে বলে ইতোমধ্যেই আশঙ্কা করেছে। কারো কারো হিসাব মতে এ হার বড়জোর সাড়ে ৫ শতাংশ হতে পারে।

তৈরি পোশাক শিল্পের খারাপ সময় :দেশের সবচেয়ে বড় রফতানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পের জন্যও খুব খারাপ সময় ছিল ২০১৩ সাল। রানা প্লাজা ধস, যুক্তরাষ্ট্রে জিএসপি সুবিধা স্থগিত হওয়া, স্মার্ট ও স্ট্যান্ডার্ড গার্মেন্টসে আগুন লাগা এবং এ খাতে ন্যূনতম মজুরি নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ছিল উল্লেখযোগ্য। এসব কারণের সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতায় পোশাক শিল্পের বাজার হাতছাড়া হওয়ার পথে। গার্মেন্টস খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত আড়াই দশকে এ খাতের অর্জন এবং যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল তাতে ২০২২ সালে এ খাত থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয় আসার কথা। কিন্তু গত বছরের এসব বিপদের কারণে এ খাতের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছির তা বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে।

বিনিয়োগে ধস :ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বছরের শুরু থেকেই যথেষ্ট পরিমাণে গ্যাস-বিদ্যুতের সরবরাহ করছিল সরকার। সেসময়ে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে মনোযোগী হচ্ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হওয়ায় নতুন বিনিয়োগ থমকে দাঁড়ায়। দেশি-বিদেশি কোনো উদ্যোক্তাই আর নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী নয়। যা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। বিনিয়োগ বোর্ডের এক হিসাবে দেখা গেছে, ২০১৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত স্থানীয় ও যৌথ বিনিয়োগ আগের বছরের তুলনায় ৬০ শতাংশ কমেছে। আগের অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এক লাখ ১৩ হাজার ১২১ জনের নতুন কর্মসংস্থান হওয়ার প্রস্তাব ছিল। চলতি অর্থবছরে যেসব বিনিয়োগ প্রস্তাবনা এসেছে সেগুলোও বেশিরভাগই বাস্তবায়ন না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কমেছে :নতুন বিনিয়োগ না হওয়ায় শিল্পকারখানা স্থাপনে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিও কম হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় গত বছর মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানিও কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১০-২০১১ অর্থবছরে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হয়েছে ২৩৩ কোটি ডলারের। পরের অর্থবছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ২০০ কোটি ডলার। আর গত অর্থবছর মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি আরও কমেছে। ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হয়েছে ১৮৩ কোটি ডলারের।

ব্যাংকিং ব্যবস্থার দুরবস্থা :গত বছরে নতুন করে বিনিয়োগ করতে পারেনি ব্যাংকগুলো। আর ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতায় বিনিয়োগ করা অর্থও ফেরত পায়নি ব্যাংক। এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের অনুরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক এসএমই খাতের খেলাপিদের ছাড় দিয়েছে। কমিয়ে দেওয়া হয়েছে রফতানি উন্নয়ন তহবিলের সুদহার। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদেরকেও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব কারণে ব্যাংকের আয় তেমন বাড়েনি। ফলে একদিকে ব্যাংকের আয় কমেছে, বেড়েছে খেলাপি ঋণ ও প্রভিশন ঘাটতি। রাজনৈতিক অস্থিরতা, আমদানি কম হওয়া, ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দার পাশাপাশি ঋণ খেলাপি, পুনঃতফসীলিকরণ ও প্রভিশনিং বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সার্কুলারের কারণে ব্যাংকিং ব্যবসা বিপাকে বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেখা গেছে, বর্তমানে ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণের ১২ দশমিক ৭৯ শতাংশ খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে। সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৬ হাজার ৭২০ কোটি টাকায়। এর মধ্যে যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ হাজার ৪৩৮ কোটি টাকা বেশি। এদিকে জুন শেষের হিসাবে দেখা গেছে বেশির ভাগ ব্যাংকের মুনাফা কমেছে। এ মন্দা অবস্থার মাঝেও বর্তমান সরকারের আমলে অনুমোদন পাওয়া ৯টি ব্যাংক ২০১৩ সালে তাদের কার্যক্রম শুরু করে।

শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরেনি :গেল বছরে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন (মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা পৃথকীকরণ) অনুমোদন করা হয়। বর্তমানে তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বছরের শেষ দিকে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য ৯০০ কোটি টাকার তহবিলের প্রথম কিস্তির ৩০০ কোটি টাকা ছাড় করেছে সরকার। তবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এ নিয়ে খুব একটা আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। চলতি বছরের শুরুর দিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন ছিল গড়ে দুইশ' কোটি টাকা। জুন মাসে লেনদেন কিছুটা বাড়লেও অক্টোবরের দিকে ফের লেনদেন নেমে যায় দুইশ' কোটি টাকায়। সূচকের ধারাও একই। নানা অসঙ্গতি দূর করতে ডিএসই'র পুরোনো সূচক বাদ দিয়ে গেল বছরের জানুয়ারিতে নতুন সূচক ডিএসইএক্স চালু করা হয়। জানুয়ারিতে ৪ হাজার ৫৫ পয়েন্ট থেকে যাত্রা শুরু করে ডিএসইএক্স। এপ্রিলে এসে সূচক সাড়ে তিন হাজারের নিচে নেমে যায়। তবে বর্তমানে ৪ হাজার ২০০ পয়েন্টের উপরে অবস্থান করছে ডিএসইএক্স।

ডলারের দাম ছিল পড়তির দিকে :২০১২ সালে মার্কিন ডলারের দাম ৮৪ টাকা ৪৮ পয়সা পর্যন্ত হয়েছিল। ২০১৩ সালের শুরুতেও ডলার ছিল ৮১ টাকা। বছর ধরেই ডলারের দাম ছিল পড়তির দিকে। টাকার মূল্যমান ঠিক রাখতে ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনতে ডলার প্রতি ৭৭ টাকা ব্যয় করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক থেকে এভাবে ডলার না কিনলে প্রতি ডলার ৬৫ টাকায় চলে আসত বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা। তাদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার সমৃদ্ধ হলেও এক্সচেঞ্জ লস বা বিনিময়জনিত ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে অর্থনীতি। প্রকৃত কার্যকর বিনিময় হারের তুলনায় ডলারের দাম বাড়িয়ে রাখা হচ্ছে।

রেমিট্যান্স কমেছে :ডলারের দাম পড়ে যাওয়া ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিনিয়োগের পরিবেশ না থাকায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা রেমিট্যান্স পাঠানোর পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে। এছাড়া যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সম্পর্কের টানাপোড়ন, বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতায় শ্রমিকদের দেশে ফিরে আসা, মধ্যপ্রাচ্যসহ বেশিরভাগ দেশে মানবসম্পদ রফতানি কার্যক্রম বন্ধ প্রভৃতি কারণে রেমিট্যান্স কমে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাস জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্সের পরিমাণ ১০ দশমিক ১৬ শতাংশ কমেছে। আর একক মাস হিসেবে গত নভেম্বরে আগের নভেম্বরের তুলনায় কমেছে পাঁচ শতাংশ।

স্বস্তি ছিল রফতানি আয় ও রিজার্ভে :বছরজুড়েই অর্থনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেও রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল ঈর্ষণীয়। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে রফতানি প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হওয়ার আশঙ্কা করা হলেও প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক হয়েছে। গত বছরে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত জুলাই থেকে নভেম্বর সময় পর্যন্ত আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক দুই শতাংশ রফতানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ সময়ে এক হাজার ১৬২ কোটি ৬৬ লাখ ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এক হাজার ১৯৫ কোটি ৯৬ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। অর্থাত্ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দুই দশমিক ৮৬ শতাংশ বেশি রফতানি হয়েছে। আর একক মাস হিসেবে নভেম্বরে ১৭৬ কোটি ৫০ লাখ ডলারের রফতানি হয়েছে। যা গত অর্থবছরের একই মাসের তুলনায় ২৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি। রফতানি আয় বাড়ার পাশাপাশি আমদানি ব্যয় কমে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে। বছর শেষে রিজার্ভ এক হাজার ৮০০ কোটি (১৮ বিলিয়ন) ডলার ছাড়িয়েছে।

গতি ছিল না রাজস্ব আয়ে :গত বছরটি রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে সুখকর ছিল না। এ সময়ে রাজস্ব আদায় আগের অর্থবছরের তুলনায় বেশি হলেও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশ খানিকটা পিছিয়ে ছিল। অথচ এর আগে টানা তিন বছর রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করতে সমর্থ হয়েছিল। রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে এক লাখ সাত হাজার ৮৬৬ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। ২০১২ সালের একই সময়ে আদায় হয়েছিল ৯১ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা। জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৫ মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায় ৫ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা কম আদায় হয়েছে। আলোচ্য সময়ে ৪৬ হাজার ৯২৫ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৪১ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা। এনবিআরের হিসাবে, পাঁচ মাসের হিসাবে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এত বড় ঘাটতি এর আগে কখনও হয়নি।

গড় মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার উপরে :চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের শুরুতে বাজেটে গড় মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। নভেম্বরে এ হার সাড়ে ৭ শতাংশে রয়েছে। গেল ২০১২-১৩ অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে বেঁধে রাখার লক্ষ্য থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। এ বছর তা সম্ভব না হলেও কাছাকাছি থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গ্রামীণ অর্থনীতি :আর্থিক সেবাভুক্তি, কৃষি ও পল্লী ঋণের প্রসার, প্রত্যন্ত অঞ্চলে উদ্যোক্তা তৈরি, নারীর কর্মসংস্থান প্রভৃতি উদ্যোগের ফলে গত দু বছর যাবত গ্রামীণ অর্থনীতি নতুন গতি পেয়েছিল। এর ফলে দেশের সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়ন তরান্বিত হচ্ছিল। কিন্তু বছরের মাঝামাঝি সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হওয়ায় কারণে অর্থনীতির এ মূল ভিতটি নড়ে ওঠে। এ সময়ে টানা হরতাল ও অবরোধে গ্রামগঞ্জের হাটবাজার থেকে শুরু করে করে দোকানপাট প্রায়ই বন্ধ থেকেছে। কৃষি পণ্য পরিবহন ব্যাহত হয়েছে। যার কারণে কৃষকরা পচনশীল পণ্য নিয়ে চরম বিপাকে পড়ে কৃষকরা। গ্রামীণ অর্থনীতি ফসল উত্পাদন, শ্রম বিক্রি, বিপণন ও পরিবহন—এ চার ধাপে পরিচালিত হয়। কিন্তু রাজনৈতিক সহিংসতায় এ ধারাবাহিকতা নষ্ট হওয়ায় গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'বিরোধীদল সরকারের বিরুদ্ধে নয়, জনগণের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
7 + 9 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
মে - ১
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:৩০
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৪সূর্যাস্ত - ০৬:২৫
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: ittefaq.adsection@yahoo.com, সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: ittefaqpressrelease@gmail.com
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :