The Daily Ittefaq
ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ২ ফাল্গুন ১৪২০, ১৩ রবিউস সানী ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ গোপালগঞ্জে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১৫, আটক ১১ | ২-০ তে সিরিজ জিতল লঙ্কানরা | লন্ডনে বাংলাদেশি নারী খুন, ছেলে গ্রেফতার | যশোরের অভয়নগরে চৈতন্য হত্যার আসামি 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত

সৃষ্টির প্রতি প্রেম প্রসঙ্গে খানবাহাদুর আহছ্ানউল্লাহ

ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ 

ধর্ম সম্বন্ধে খানবাহাদুরের (রহ.) ধারণা স্পষ্টতই উদার ও প্রগতিশীল। তাঁর দৃষ্টিতে ধর্ম নিছক উপাসনা, তপজপ কিংবা পরলোকচর্চা নয়। বিশ্বাস, অনুভুতি ও বিচারবুদ্ধির সমন্বয়ে গঠিত ব্যক্তিসত্তার সামগ্রিক বিকাশই ধর্ম। ধর্মের মূলে যে প্রেরণা তা রূপান্তরিত ও উন্নত করে ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব ও চরিত্রকে। ধর্ম হিসেবে ইসলামের ভূমিকাও তা-ই। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান এবং এর আবির্ভাব ও বিকাশ ঘটেছে মানবতার সার্বিক কল্যাণে। ইসলাম সমান গুরুত্ব আরোপ করে বস্তুগত ও ইহজাগতিক ও পারলৌকিক ব্যাপারাদির ওপর কাউকে ইহলোককে অগ্রাজ্য করার কিংবা পরলোক নিয়ে মেতে থাকার পরামর্শ দেয় না। ইসলামের সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বুনিয়াদ এরকম সুদৃঢ় এবং এর কর্মক্ষেত্র এত বিস্তৃত বলেই অতীতের মুসলমানদের পক্ষে সম্ভব হয়েছিল আধুনিক বিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন, তথা শিল্প, সাহিত্য, দর্শন ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এক গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য রচনা। একথা আজ সুবিদিত যে চৌদ্দ- ষোল শতকের ইউরোপীয় রেনেসাঁ, প্রটেস্টান্ট ধর্ম সংস্কার আন্দোলন ও জ্ঞানালোক আন্দোলনের বীজ নিহিত ছিল আট থেকে তেরো শতকে অর্জিত মুসলিম ধর্মীয়, দার্শনিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে। সেদিনের মুসলমানেরা যে মানবতাবাদী সমাজ বন্ধনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল, তাই কালক্রমে সহায়তা করেছে বিভিন্ন সামাজিক বিপ্লবে এবং পরিণতি লাভ করেছে আধুনিক বিজ্ঞানের প্রায়োগিত পদ্ধতি ও দর্শনের যুক্তিবাদ উদ্ভাবনে। বহু লোক খানবাহাদুর (রহ.)-এর কাছে আসতো উপদেশের জন্য, মানসিক শান্তির জন্য। মুসলমান তো আসতোই, হিন্দুতো আসতো। একজন হিন্দুকে একবার বলছিলাম, "আপনি আপনার আরাধ্য দেবতাকে মন দিয়ে ডাকুন, নিশ্চয়ই তাঁর কাছে থেকে যথার্থ নির্দেশ পাবেন।" কোনও মুসলমান যদি জিজ্ঞেস করতো হুজুর, আমরা তো দেবদেবী মানিনা আপনি তা হলে দেবদেবীর পূজার কথা কিভাবে বলেন? তিনি উত্তর করতেন, " যে যা বোঝে তাকে তার সীমার মধ্যে রেখেই বোঝাতে হয়। একজন হিন্দুকে আল্লাহর কথা বললে সে বুঝবে কি করে। সে যেসব দেবতাকে পূজা করে সেগুলোকে আল্লাহ ভেবেই পূজা করে। সুতরাং তার ভক্তির পাত্রের কথা বলেই তাকে প্রবোধ দিতে হয়।" খানবাহাদুর আহছানউল্লা তার মানবতাবাদ দর্শন ও মানবিক আচরণ সম্পর্কিত ভাবনার স্বরূপ নিজেই তুলে ধরেছেন এভাবে—"আমি মানুষে মানুষে পার্থক্য জানি না। শ্বেতকায় কৃষ্ণকায় প্রভেদ দেখি না, ছোট বড় বুঝি না, সবাই শক্তিমান দয়াময় স্রষ্টার সৃষ্টি। সবারই মধ্যে তার দান, তার নূর, তার এহছান বর্তমান। আমি কাকে ক্ষুদ্র বলবো, কাকে কাফের ডাকবো, কাকে ঘৃণা করবো। হে খোদা, তুমি আমাকে ক্ষুদ্রতম করে রাখো যেন তোমার সৃষ্ট বস্তুতে তোমারই বিভা, তোমারই জ্যোতিঃ তোমারই প্রকাশ দেখতে পাই। কাকেও যেন ঘৃণা বা অস্পৃশ্য মনে করি না। মানুষ সম্পর্কে তাঁর একান্তভাবনা ও বিবেচনার নির্যাস হল 'The heart of mankind is the temple of God' এটা তিনি জানতেন এবং মানতেন বলে তার উক্তি আর উপলদ্ধির মধ্যে সমন্বয় সাধনে থাকতেন সদাসচেতন। আন্তঃধর্মীয় সমপ্রীতির উত্স ও উপায় খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ব্যাখ্যা করেছেন এমনিভাবে— "জগতের বিভিন্ন ধর্ম, প্রত্যেক ধর্মেরই মূলনীতি এক। প্রত্যেক ধর্মই প্রচার করেছে সত্য প্রেম পবিত্রতা, স্রষ্টার এবাদত ও সৃষ্টির সেবা। বৈষ্ণব ধর্ম বলে, জীবে প্রেম করে যেইজন সেইজন সেবিছে ঈশ্বর। ইসলাম ধর্ম বলে, সৃষ্টের সেবাই স্রষ্টার রূহ বিদ্যমান। পার্সিক ধর্ম বলে, পরদুঃখহারী ব্যক্তিই স্রষ্টার পাত্র। খৃষ্ট ধর্ম বলে, যারা সবার শান্তি কামনা করে, তারাই ঈশ্বরের প্রকৃত সন্তান ইত্যাদি। প্রত্যেক ধর্মের মুখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে স্রষ্টার সান্নিধ্য ও সন্তুষ্টি লাভ করতে হলে উপাসনারও প্রয়োজন। প্রায় প্রত্যেক ধর্মে উপাসনার নির্দেশ আছে। কিন্তু উপাসনার ধারা বিভিন্ন ধর্মে বিভিন্ন রকম, কেহ সাকার উপাসনা করেন, কেহ নিরাকার উপাসনা করেন। খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ধর্মকে উদ্ধার করতে চেয়েছেন এই পঙ্কিলতা থেকে এবং সমকালীন মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছেন ধর্মের উদার মানবিক দিকটির প্রতি। তাঁর মতে ধর্মে বিধৃত প্রেম ও মানবতার বাণীকে কাজে লাগাতে হলে চাই শিক্ষা, এমন কার্যকর শিক্ষা যা নিজেকে সীমিত রাখে না আক্ষরিক জ্ঞানের ভুবনে বরং রূপান্তরিত করে ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব ও চরিত্রকে। খানবাহাদুরের ভাষায় ' যে শিক্ষা দ্বারা বান্দা স্বীয় রূহানী শক্তিকে বর্ধিত করে স্রষ্টার নজিদগী লাভ করতে পারে এবং যদ্বারা জাতি নির্বিশেষে আল্লাহর বান্দাকে প্রাণটি দিয়ে খেদমত করতে পারে, সেই শিক্ষাই অন্যতম শিক্ষা'। আরবী 'আহ্ছানউল্লা' এর আভিধানিক অর্থ 'আল্লার সৌন্দর্য।' মানুষের শারীরিক সৌন্দর্য? আল্লাহর আলো মানব প্রেমের উজ্জ্বল দীপ্তি ইত্যাদিতে যাঁর হূদয় আলোকিত তিনিই আসল সৌন্দর্যের অধিকারী এবং আহ্ছানউল্লাও তাই ছিলেন। বলতে দ্বিধা নেই শারীরিক অবয়বেও ছিলেন সৌন্দর্যবান ঠিক সূফী কবি শেখ সাদীর মতো।" আত্মা একটি স্বচ্ছ দর্পন স্বরূপ। পাপ করলে আত্মার স্বাভাবিক নির্মলতা দূরীভূত হয় এবং তাতে কালিমা জন্মে, তখন আর সেখানে ঐশী রশ্মি প্রতিফলিত হয় না। অনুতাপ লজ্জা ও তওবা এর একমাত্র মহৌষধ।' তিনি ছিলেন বিনয়ী, নিরহংকার এবং আল্লাহর বিধানের পাবন্দ। তাঁর বক্তব্য ছিলঃ 'কথাবার্তায় দীনতা এখতেয়ার করা মহত্বের পরিচয়।

লেখক :সাবেক সচিব ও এনবিআরের চেয়ারম্যান

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, 'উপজেলা নির্বাচনেও ভাগ বাটোয়ারার ষড়যন্ত্র করছে আওয়ামী লীগ।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
8 + 4 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
অক্টোবর - ১৮
ফজর৪:৪১
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫২
মাগরিব৫:৩৪
এশা৬:৪৫
সূর্যোদয় - ৫:৫৭সূর্যাস্ত - ০৫:২৯
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :