The Daily Ittefaq
ঢাকা, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ৯ ফাল্গুন ১৪২০, ২০ রবিউস সানী ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ নাটোরে বাস-লেগুনা সংঘর্ষে নিহত ৩ | শাহ আমানতে সাড়ে ১০ কেজি সোনা আটক | একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন

মাতৃভাষা ও শহীদের মর্যাদা অপরিসীম

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

অধ্যাপক মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ 

ভাষার জন্য ভালোবাসা পথপরিক্রমায় লাল-সবুজের আবেশে সমুজ্জ্বল—'আমার সোনার বাংলা'। ইতোমধ্যেই মক্কা-মদিনার সাইনবোর্ডে আরবি, ইংরেজির পাশে 'বাংলা' স্থান করে নিয়েছে। বাংলা 'জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা' হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। কেননা, বাংলা বর্তমান বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম ভাষা, বিশ্বের পঁয়ত্রিশ কোটির বেশি 'বনীআদম' এ ভাষায় কথা বলে। অনেক দেশ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা ও দাপ্তরিক ভাষার স্বীকৃতি দিয়েছে। ইউনেস্কো ১৯৯৯ এর ১৭ নভেম্বর 'একুশ'কে "আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস" ঘোষণা করে, ফলে 'একুশ' এলেই দেশে দেশে ধ্বনিত হয়— "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী/ আমি কি ভুলিতে পারি। / ছেলেহারা শত মায়ের অশ্রু গড়া এ ফেব্রুয়ারী / আমি কি ভুলিতে পারি।/ আমার দেশের সোনার রক্তে জাগালো ফেব্রুয়ারী/ আমি কি ভুলিতে পারি..." —আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী।

ইসলাম মানুষের মুখের ভাষা ও স্বদেশ চেতনাকে বিশেষ মূল্য দেয়। পবিত্র কুরআনের সুরা রূম-২২, আর-রহমান-০১-০৪, দুখান-৫৮, শুরা-০৭, ইউসুফ-০২, মারইয়াম-৯৭, ত্বোয়া-হা-১১৩, যুমার-২৮, নাহল-২৫, নুর-১৫,বালাদ-০৮-১০, ইব্রাহিম-০৪ সহ বহু আয়াত তার প্রমাণ। এমন কি বিভিন্ন আসমানি কিতাব সমসাময়িক মানুষের মাতৃভাষায় অবতীর্ণ হয়। যেমন, যাবুর- ইউনানি, তাওরাত- ইবরানি বা হিব্রু, ইঞ্জিল- সুরিয়ানি বা আরেমীয় ভাষায় অবতীর্ণ হয়। এ ভাষাগুলো মূলতঃ আরবি ভাষারই আদিরূপ এবং পবিত্র কুরআন প্রিয়নবীর (স.) মাতৃভাষা আরবিতে অবতীর্ণ হয়। এমন কি হিব্রু 'মু' অর্থ পানি এবং 'সা' অর্থ কাঁটা শব্দের সন্ধিবদ্ধরূপ 'মুসা'। কেননা, মুসার (আ.) জন্মের পর তাঁর নিরাপত্তার জন্য তাঁকে পানিতে ভাসিয়ে দেবার কাহিনীর সঙ্গে এমন নামকরণের তাত্পর্য নিহিত। আবার গ্রীক 'জসোয়া'র ইংরেজি 'জেসাস' যার আরবি 'ইসা' এবং বাংলারূপ 'যিশু'! ইসলাম প্রচারের সুবিধার জন্য প্রিয়নবীর (স.) উত্সাহে স্বভাব কবি হযরত যায়েদ (রা.) সমসাময়িক সব ভাষায় দ্রুত সমান দক্ষতা অর্জন করেন। ফলে বিদেশী ও বহুভাষী মানুষের কাছে ইসলামের বাণী-বিধান পৌছে যায় সহজে। আমাদের দেশে ইসলাম প্রচার শুরু হয় প্রিয়নবীর (স.) জীবদ্দশায় এবং এদেশে আগত পীর-দরবেশগণ গ্রাম ও বিজন প্রান্তরে বসবাস করে দেশীয় ভাষা শিখে ইসলাম প্রচার-প্রতিষ্ঠা ও গণমানুষের ভাগ্য বদলের প্রচেষ্টায় ভুমিকা রেখে হয়ে যান বাংলা ও বাঙ্গালীর প্রিয়ভাজন। অথচ পাকিস্তানী শাসকগোষ্টী ইসলামের শাশ্বত চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করে। তারা প্রথমেই আমাদের মায়ের ভাষায় আঘাত হানে— এ আঘাতেই ইসলামি সংহতির নামে অর্জিত একটি দেশ ভেঙ্গে খানখান হবার আয়োজন সুসম্পন্ন হয়ে যায়। কিন্তু এ কথা সত্য বাংলা ভাষার আদি পর্বের সূচনা খ্রিঃপূর্ব ৬০০ বছর আগে। তাই তো—"বায়ান্নর একুশ তারিখ দুপুর বেলার ওয়াক্ত / বৃষ্টি পড়ে- বৃষ্টি কোথায়— বরকতেরই রক্ত"। / আল-মাহমুদ বর্ণিত কবিতার রক্তাক্ত পথে যারা পেলেন 'অমরত্ব' ইসলাম তাঁদের উচ্চমর্যাদার সুসংবাদ শোনায়। দেশ, ধর্ম, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মহান আল্লাহর আদেশ, প্রিয়নবীর (স.) আদর্শ অনুসরণ করে আত্মোত্সর্গকারী মু'মিনের মৃত্যু নেই। মহান আল্লাহ্ বলেন "যারা আল্লাহর পথে মারা যায় তোমরা তাদের মৃত বলো না বরং তারা 'চিরঞ্জীব'..."(বাকারা:১৫৪)। মহান আল্লাহ্ আরো বলেন " যারা আল্লাহর পথে মারা যায়, তিনি কখনোই তাদের আমলকে বিনষ্ট হতে দেন না" (মুহাম্মদ:০৪)। অন্যদিকে একমাত্র শহীদগণই মৃত্যু ভয়ে ভীত নন। প্রিয়নবীর (স.) বাণী "এক মাত্র শহিদগণই শাহাদাতের উচ্চমর্যাদা দেখে আবার দুনিয়ায় ফিরে আসবার আকাঙ্ক্ষা করবে যাতে সে দশবার (অসংখ্যবার) শহীদ হতে পারে" (বুখারি-মুসলিম)। বস্তুতঃ বাংলা প্রমিত বানান ও উচ্চারণের যথার্থতার ব্যাপক বিস্তরণ ভাষা হিসেবে বাংলার বিশ্ব মর্যাদায় অভিষিক্ত হওয়ার পূর্বশর্ত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত ও গণমাধ্যমের কথকতায় শুদ্ধ উচ্চারণ অনুশীলনের মাধ্যমে ভাষা শহিদদের ঋণ শোধ করা আমাদের সবার সব সময়ের নৈতিক দায়িত্ব। মায়ের ভাষার প্রতি ভালবাসার কারণে 'উচ্চারণে শুদ্ধতা' হোক এবারের একুশে ফেব্রুয়ারিতে আমাদের অঙ্গিকার। আর শহীদের অমূল্য ত্যাগের শিক্ষায় আমাদের শপথ হোক আমরা দেশকে ভালবাসবো এবং মায়ের ভাষার শ্রেষ্টত্বকে 'বিশ্বভাষা'র মর্যাদায় উচ্চকিত করবো। স্বদেশপ্রেম, মাতৃভাষার প্রতি অনুরাগ ও শহিদের মর্যাদা অভিন্ন বিষয় এবং ইসলামে তা স্বীকৃত। কিন্তু পাকিস্তানী শাসকগোষ্টী এমন একটি চরম সত্যও উপলব্ধি করে নি। পরিশেষে নিবেদন— ভাগলো বৃটিশ সাতচল্লিশে, রয়ে গেল জালেম ও জুলুম / পাকিস্তানী হায়নারা শুরু করল: হালুম-হুলুম ! /'উর্দু হবে রাষ্ট্রভাষা' আটচল্লিশে হুঙ্কার ছাড়ে জিন্নাহ, / বাঙ্গালী গর্জে বলে; জি না জি না !! /রক্ত ঝরাল বায়ান্নর ফেব্রুয়ারি অগণন প্রাণ—এলো 'একুশ' কথা-কবিতার জন্মদিন !!!

লেখক : অধ্যাপক, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, গাজীপুর

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, 'উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি প্রমাণ করেছে শেখ হাসিনার অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
5 + 5 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুন - ৬
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৭
আসর৪:৩৭
মাগরিব৬:৪৬
এশা৮:১০
সূর্যোদয় - ৫:১০সূর্যাস্ত - ০৬:৪১
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :