The Daily Ittefaq
ঢাকা, বুধবার, ২৬ মার্চ ২০১৪, ১২ চৈত্র ১৪২০, ২৪ জমা.আউয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ বাংলাদেশরে মেয়েরাও হারল ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে | শিবগঞ্জে ফুল দেয়ার সময় বিস্ফোরণে নিহত ১ | শিবগঞ্জে ফুল দেয়ার সময় বিস্ফোরণে নিহত ১ | জাতীয় গ্রিডে যোগ হলো আরো ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

গাইল বাঙালি দেখল পৃথিবী

আনিস মণ্ডল

সাবাশ বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়। জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার তবু মাথা নোয়াবার নয়। সুকান্ত ভট্টাচার্য্যের এই বিখ্যাত কবিতা হয়তবা এমন বাংলাদেশের ছবিই এঁকেছিল। যা আজ দেখল পৃথিবী।

বেলা তখন ১১টা ২০ মিনিট। সূর্যটা আস্তে আস্তে উঠে এসেছে মাথার ওপর। কপাল বেয়ে নুয়ে পড়ছে নোনা জল। এই অবস্থায় রাজধানীর প্যারেড গ্রাউন্ডে 'লাখো' কণ্ঠ এক সঙ্গে গেয়ে উঠল 'আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি'। সেই সুর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ল বাংলার পথে-প্রান্তরে। যে যেখানে ছিলেন, সেখানেই ঠাঁই দাঁড়িয়ে গেলেন। তিন লাখ কণ্ঠের সঙ্গে কণ্ঠ মেলালেন কোটি বাঙালি। এরই মধ্য দিয়ে সূচিত হলো অনন্য এক রেকর্ড। প্যারেড গ্রাউন্ডের মেশিন কাউন্ট অনুযায়ী, ২ লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। তবে ৩ লাখের বেশি মানুষ প্যারেড গ্রাউন্ডে উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি অনুষ্ঠান কর্তৃপক্ষের। পৃথিবীর ইতিহাসে এত মানুষ একসঙ্গে কখনো জাতীয় সঙ্গীত গাইনি। এর আগে ২০১৩ সালের ৬ মে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গেয়ে গিনেজ বুকে স্থান করে নিয়েছিল ভারত। ওই আয়োজনে ১ লাখ ২১ হাজার ৬৫৩ জন অংশ নিয়েছিলেন।

ভোরের আলো বাংলাদেশে পড়তে না পড়তেই রাজপথে নেমে এল লাখো বাঙালি। গণমানুষের পদচারণা, আর বাসের ছাদে উচ্ছল তরুণদের কণ্ঠে 'সোনার বাংলা' অন্ধকার ভেদ করে ফুটিয়ে তুলল আলোর রেখা। লাল-সবুজের শাড়ি পড়ে হেঁটে চলেছে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণীসহ গার্মেন্টস কর্মীরাও। সবাই ছুটেছে একই পথে, একই উদ্দেশে। লাখো কণ্ঠে গাইবে 'সোনার বাংলা'।

তবে যানজট ও ট্রাফিক পুলিশের নানা অব্যবস্থাপনায় লক্ষাধিক মানুষ এই অনুষ্ঠানের উদ্দেশে এসেও যোগ দিতে পারেননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফার্মগেট এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, অনেকেই ফিরে আসছেন। জানতে চেয়েছিলাম আপনারা ফিরে যাচ্ছেন কেন? এই প্রশ্নের জবাবে গার্মেন্টস কর্মী ফাতিহা বলেন, 'ভোরে বাসা থাইকা বেরোইছি। কিন্তু তবুও নাকি দেরি হইছে, আমাগো লগে আসা সবাই ফিরতাছে।' এমন অভিযোগ ছিল অনেকেরই। যারা চরম আকাঙ্ক্ষা থাকা সত্বেও পৌঁছাতে পারেননি নির্ধারিত স্থানে।

পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী বেলা ১১টায় জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার কথা থাকলেও এর ২০ মিনিট পর লাখো কণ্ঠে ধ্বনিত হলো জাতীয় সঙ্গীত। শুধু প্যারেড গ্রাউন্ডেই নয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে সারাদেশের মানুষ দাঁড়িয়ে এ জাতীয় সঙ্গীতে অংশ নিয়েছেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে পৌঁছানোর কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি পৌঁছে যান অনুষ্ঠানস্থলে।

অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আমাদের জাতীয়তা বোধ ও দেশপ্রেম বিশ্ববাসী জানবে। গিনেজ বুক ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম উঠবে বাংলাদেশের, সেজন্যেই আমরা এখানে এসেছি। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ জাগ্রত থাকবে, বিশ্বসভায় মাথা উচু করে বাঁচবে।

এই আয়োজনে সম্পৃক্ত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, ভিডিপি, গার্মেন্টকর্মী, নারী-শিশু, সংস্কৃতিকর্মীসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষকে স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবসের শুভেচ্ছা জানান তিনি।

সকালে মাঠের প্রতিটি ফটক দিয়ে আগ্রহীদের প্রবেশ করতে দেয়া হয় গুণে গুণে। অনেকেই মাঠে আসেন গায়ে পতাকা জড়িয়ে, মাথায় পতাকার রঙের ব্যান্ডানা পরে। শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে প্যারেড মাঠের ওই অংশটি ভাগ করা হয় ১৫টি সেক্টরে।

অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককে একটি করে ক্যাপ ও ব্যাগ দেয়া হয়, যাতে জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত ও নিয়মাবলী লেখা সংবলিত একটি কার্ড, পানি, জুস, স্যালাইনসহ তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ওষুধ ছিল। প্রতিটি সেক্টরে একটি করে বড় স্ক্রিনে কিছুক্ষণ পরপরই জানিয়ে দেয়া হচ্ছিল মাঠের পরিস্থিতি আর উপস্থিতি।

মূল পর্বের আগে সকাল ৮টা থেকে শিল্পকলা একাডেমীর পরিবেশনায় দেশবরেণ্য এবং খ্যাতনামা শিল্পীদের অংশগ্রহণে মাঠে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। চূড়ান্ত জাতীয় সংগীত পরিবেশনের আগে পৌনে ১১টায় হয় দুই দফা অনুশীলন। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরাও এতে অংশ নেন।

সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনায় অংশ নেন আব্দুল জব্বার, ফাতেমা তুজ জোহরা, ইন্দ্রমোহন রাজবংশী, মীতা হক, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, তপন মাহমুদ, তিমির নন্দী, বুলবুল মহলানবীশ, শাহীন সামাদ, সুজিত মোস্তফা, ফরিদা পারভীন, চন্দনা মজুমদার এবং ফকির আলমগীরসহ দেশ বরেণ্য শিল্পীরা।

এই বিশাল আয়োজনকে স্বীকৃতি দিতে গিনেজ বুক কর্তৃপক্ষের মনোনীত প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত ছিলেন। প্রতি ৫০ জনে কমপক্ষে একজন প্রতিনিধি উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠান পর্যবেক্ষণ করেন।

ইত্তেফাক অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন জায়গায় আনুষ্ঠানিকভাবেই এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন লাখো মানুষ।

রাজশাহী অফিস জানায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ নগরীর বিভিন্ন শহীদ মিনারে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা 'লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলায়' একযোগে জাতীয় সংগীত গেয়ে ওঠে।

যশোর অফিস জানায়, শহরের টাউন হল ময়দান, পালবাড়ি ভাস্কর্যের মোড়, খাজুরা বাসস্ট্যান্ড, মণিহার চত্বর, মুড়লির মোড় ও চাঁচড়ার মোড়ে বেলা ১১টা জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলার জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে গাওয়া হয়েছে 'সোনার বাংলা'।

বরিশাল অফিস জানায়, বঙ্গবন্ধু উদ্যানে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সর্বশেষ আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
নির্বাচন কমিশনার মো. জাবেদ আলী বলেছেন, 'বাংলাদেশে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নেই।' আপনি কি তার সাথে একমত?
2 + 1 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
অক্টোবর - ২৪
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৮
মাগরিব৫:২৯
এশা৬:৪২
সূর্যোদয় - ৫:৫৯সূর্যাস্ত - ০৫:২৪
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :