The Daily Ittefaq
ঢাকা, বুধবার, ২৬ মার্চ ২০১৪, ১২ চৈত্র ১৪২০, ২৪ জমা.আউয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ বাংলাদেশরে মেয়েরাও হারল ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে | শিবগঞ্জে ফুল দেয়ার সময় বিস্ফোরণে নিহত ১ | শিবগঞ্জে ফুল দেয়ার সময় বিস্ফোরণে নিহত ১ | জাতীয় গ্রিডে যোগ হলো আরো ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

ওষুধে মরছে না মশা!

অতিষ্ঠ রাজধানীবাসী

বারেক কায়সার

গ্যাস-পানি-বিদ্যুত্-যানজটসহ হাজারো সমস্যা নিয়ে বসবাস করছে রাজধানীবাসী। এর সঙ্গে এখন যোগ হয়েছে মশার উত্পাত। বাসা, অফিস—সব জায়গাতেই বেড়েছে মশার যন্ত্রণা। এতে নগরবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। মশার অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে তাদের দৈনন্দিন খরচের তালিকায় যোগ হয়েছে কয়েল কেনার খরচ। অন্যদিকে মশক নিধনে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নগরের পাড়া, মহল্লা এবং নালাগুলোতে মশার ওষুধ ছিটাচ্ছে। তবে তাতে মশা মরছে না, কমছে না মশার অত্যাচারও। এমনটাই অভিযোগ করেছেন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার অধিবাসীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পুরো রাজধানীতেই মশার কামড়ে অতিষ্ঠ নগরবাসী। তবে মোহাম্মদপুর, সায়েদাবাদ, মিরপুর, হাজারীবাগ, কামরাঙ্গীর চর, কুড়িল, গোড়ান, খিলগাঁও এলাকায় মশার উপদ্রব একটু বেশি। এছাড়া নগরীর অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানী, ধানমন্ডিতেও বেড়েছে মশার উপদ্রব। অতিষ্ঠ নগরবাসী এ ব্যাপারে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে বার বার অবহিত করলেও তাতে কোন ফল মিলছে না। মশক নিধনে সিটি করপোরেশনের তত্পরতা কিছুটা বাড়লেও তাদের ছিটানো ওষুধে কাজ হচ্ছে না বলেই জানা গেছে।

হাজারীবাগ এলাকার বাসিন্দা আশিকুর রহমান। সরকারি চাকরি করেন। থাকেন পরিবার নিয়ে। হতাশা নিয়ে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের লোকজন এসে ওষুধ ছিটাচ্ছে এটাতো দেখতে পাচ্ছি। তবে সে ওষুধে আদৌ কোন কাজ হচ্ছে কিনা বোঝা যাচ্ছে না। দিন যত যাচ্ছে মশার উত্পাত বাড়ছেই। ঝামেলায় আছিরে ভাই!

তবে শুধু করপোরেশনের দোষ দিতে নারাজ মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মো. সফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, রাজধানীতে অপরিচ্ছন্ন ডোবা-নালার সংখ্যা এত বেশি যে, মশা নিধন আসলেই কঠিন কাজ। চারপাশের ডোবা-নালা থেকে মশা হাজির হয় রাজধানীতে। যে কারণে এর উপদ্রব থেকে মুক্তি পেতে শুধু সিটি করপোরেশনকে তত্পর হলে চলবে না, নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। পাড়া-মহল্লার ডোবা-নালা পরিষ্কারে নজর দিতে হবে। জনগণের স্বার্থে এসব ব্যাপারে সরকারকেও নিতে হবে জরুরি পদক্ষেপ।

গোড়ানের বাসিন্দা জাহিদ হোসেন বলেন, ঘরে-বাইরে কোথাও মশা কাবু করা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের কোনো উদ্যোগও আমাদের চোখে পড়ছে না। অনেকেই অভিযোগের সুরে জানিয়েছেন, তাদের এলাকায় মশার ওষুধ ছিটানো কর্মীদের কখনো দেখেন নি। এমনি একজন কুড়িলের সীমা মহাজন। তিনি বলেন, মশার যন্ত্রণায় সন্ধ্যার পরই দরজা-জানালা বন্ধ করে ঘরে কয়েল জ্বালাতে হয়। আগে দেখতাম, করপোরেশনের লোকজন আশপাশের নালায় মশার ওষুধ ছিটাত। এখন কাউকে দেখা যায় না।

গুলশানের বাসিন্দা রোকেয়া খানম আলো বলেন, মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। ছোট দুই বাচ্চা নিয়ে আছি মহাবিপদে। সারাদিনই তাদেরকে মশারির মধ্যে রাখতে হয়। মশারির বাইরে বের করলেই মশা কামড়ায়। দিনেও কয়েল জ্বালিয়ে রাখছি। তবুও মশার কামড় থেকে নিস্তার মিলছে না।

করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, মশক নিধনে এ বছর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে সাড়ে ২৩ কোটি টাকা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বরাদ্দ ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং উত্তরের বাজেট নয় কোটি টাকা। এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে রাজস্ব বাজেট থেকে ৮৬ লাখ টাকা ছাড় দেয়া হয়েছে।

মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে করপোরেশনের পাঁচটি অঞ্চলে একযোগে সকাল আটটা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত 'লার্ভিসাইডিং' (লার্ভা নিধন) এবং বিকাল চারটা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত 'ফগিং' (উড়ন্ত মশা নিধন) কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পাঁচটি অঞ্চলে ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে মশা নিধনের জন্য 'লার্ভিসাইডিং' ও 'এডাল্টিসাইডিং'-এর কাজ চলছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মাসুদ হাসান বলেন, মশা মারতে দুই ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হয়। লার্ভা নিধনে ব্যবহার করা হয় 'লার্ভিসাইড', আর উড়ন্ত মশা নিধনে 'অ্যাডাল্টিসাইড' ওষুধ ব্যবহার করা হয়। তবে মশক নিধন কর্মীদের কাছ থেকে 'অ্যাডাল্টিসাইড' ওষুধে কোনো কাজ হচ্ছে না বলে অভিযোগ আসছে। 'লার্ভিসাইডে' কিছুটা কাজ হচ্ছে। এখন মশক নিধন ওষুধ নিয়ে আমরা চিন্তা-ভাবনা করছি। উচ্চ পর্যায়ের কোনো প্রতিষ্ঠানে এসব ওষুধ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানান।

এই কর্মকর্তা আরো বলেন, রাজধানীর মশক নিয়ন্ত্রণে ওষুধের চেয়ে বেশি জরুরি জনসচেতনতা। নগরবাসী যদি সচেতন হয়ে আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিছন্ন রাখেন, তাহলে মশার উপদ্রব অনেকাংশে কমে যাবে।

জানা গেছে, মশক নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর প্রতিটি মহল্লাভিত্তিক মশক নিধন কর্মী রয়েছে। দুই সিটি করপোরেশনে মশক নিধন কর্মী রয়েছে ৬৩৮ জন। উড়ন্ত মশা মারার যন্ত্র বা ফগার মেশিন রয়েছে প্রায় ৫০০টি। ১০টি আঞ্চলিক কার্যালয়ে রয়েছে ১০ স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ প্রায় ১৫ কর্মকর্তা। পর্যাপ্ত বরাদ্দ, জনবল, সরঞ্জামাদি থাকার পরও মশক নিধনে পুরোপুরি ব্যর্থ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল-হারুন বলেন, মশক নিয়ন্ত্রণে আমরা জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। এই মৌসুমে মশার উপদ্রব কিছুটা বাড়ে, এটা জানা কথা। এজন্য আমরা বিশেষ কিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। নানাভাবে মশক নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছি।

'ওষুধে কাজ হচ্ছে না' প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, মশার ওষুধ ক্রয় করার উচ্চ পর্যায়ের কমিটি রয়েছে। তাদের পরামর্শে ক্রয় বিভাগ ওষুধ কিনে থাকে। ওষুধের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো কারণ নেই। তবুও মাঠ থেকে যেহেতু অভিযোগ আসছে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
নির্বাচন কমিশনার মো. জাবেদ আলী বলেছেন, 'বাংলাদেশে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নেই।' আপনি কি তার সাথে একমত?
1 + 1 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ৯
ফজর৫:০৮
যোহর১১:৫১
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩৩
সূর্যোদয় - ৬:২৯সূর্যাস্ত - ০৫:১০
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :